#ঈদ_স্পেশাল
.
.
১.
রহিম তার পুরাতন বন্ধু রিয়াদ থেকে একটা ঈদকার্ড পেলো। কিন্তু দরিদ্রতার নির্মম কষাঘাতে নিষ্পেষিত রহিম কি করবে এই দু'পৃষ্ঠার শক্ত কাগজ দিয়ে?
মনে মনে ভাবছে রিয়াদ যদি এই কার্ডটা না দিয়ে তার দামটা আমার হাতে তুলে দিয়ে বলতো ইচ্ছেমত প্রয়োজনীয় কিছু কিনে নাও,তাহলেই হতো এই দুঃসময়ে প্রকৃত বন্ধুর পরিচয়।
তবুও ঈদ উপলক্ষে সহপাঠী পুরাতন বন্ধু থেকে একটি কিছু পেয়েছে সে জন্যই সন্তুষ্ট রহিম।
সমাজ তো শুধু সামাজিকতা বোঝে, অসহায় দরিদ্রের ব্যাথা কি করো বুঝবে? পিতার প্রথম সন্তান সে। তারপর আছে আরো এক ভাই এক বোন।শৈশবেই পিতা মারা গেলেও অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র হিসেবে দরিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করতে করতে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত পড়েছিলো কিন্তু পিতার মুত্যুর পর হতে সংসার যেন আর চলেনা।অনাহারে অর্ধাহারে ভাইবোনদের শরীর জীর্ণশীর্ণ, উপবাসে মায়ের শরীর হাড্ডিসার।মা লোকের বাড়ি দু'বেলা কাজ করেও যখন চার সন্তানের মুখে দু'মুঠো ভাত জুটাতে পারতেননা তখন লেখাপড়ার খরচ চলে আর কি করে।লেখাপড়া সে পর্যন্তই শেষ।
কোনমতে চার সদস্যের সংসার চলতে থাকে তাদের। কিন্তু হঠাৎ করে কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে তার মা।দিশেহারা হয়ে পড়ে সে,দিনরাত অবিরত মায়ের সেবা করতে পারলেও মায়ের খাদ্য আর পথ্য জুটাতে পারেনি।চিকিৎসার অভাবে মায়ের রোগ ক্রমাগত বেড়েই চলছিলো।একসময় জীবন প্রদীপ নিভে যায় তার।
মায়ের মৃত্যুর মধ্য দিয়েই জীবন সংগ্রাম শুরু হয় তার।শুরু করে চাষাবাদ,নিজেদের সামান্য জমি চাষ করে কোনমতে দুইভাই বোন নিয়ে সংসার চলতে থাকে।
দিনের পর দিন পরিবারের অবস্থা আরো শোচনীয় হয়ে আসে। ছোটবোন জমিলার শরীরের বাসা বাধে কঠিন অসুখ কিছুতেই সারছেনা,বহুদিন অপেক্ষা করার পর অবস্থা খারাপ দেখে গ্রামের এক লোক থেকে ৫০০ টাকা ধার নিয়ে বোনকে নিয়ে যায় শহরের হাসপাতালে।'দরিদ্র সেবা হাসপাতাল ' নামটা দরিদ্র সেবা হলেও দরিদ্রের প্রতি সামান্য সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়না এখানে।বোনকে নিয়ে যখন হাসপাতালেরর গেটে সে দাড়ালো, ভিতর থেকে কেউ একটা কর্কশ ভাষা বেড়িয়ো এলো,কি চাও এখানে?
আমার বোনটা অসুস্থ,সুদুর গ্রাম থেকে এসে ছিলাম একটু চিকিৎসার জন্য,অত্যন্ত করুন সুরে বলল রহিম।কিন্তু তাতে সামান্য কোমল হলনা সেই কর্কশ কন্ঠস্বর,বললো এখানে রোগী ভর্তি করতে লাগবে একহাজার টাকা।
দিতে পারবা? অনেক অনুনয় করে রহিম বললো মা-বাবা নেই আমার,অনেক কষ্ট করে পাঁচশ টাকা এনেছি,দয়া করে আমার এতিম বোনটার একটু চিকিৎসা করুন।কিন্তু তাহাতেও নরম হলোনা পাষাণ হৃদয়।দরিদ্র জীবন আর বাস্তবতার ভয়াবহতা দেখে অনেকটা ভেঙে পড়ে রহিম।অবশেষে ব্যার্থ হয়ে যখন ফিরে যাবে তখনই অলৌকিকভাবে একটি লোক এগিয়ে এলো।
রহিমের পিতামাতার মুত্যু আর সংসারের দুরাবস্থার কথা শুনে অত্যন্ত ব্যাথিত হন লোকটি অভয় দিল সে তোমার বোনের চিকিৎসার সব খরচ আমি দিবো।এই দিনে এরকম একজন তাদের পাশে দাড়াবে তা কল্পনাও ভাবেনি রহিম।চিকিৎসা এবং ঔষধ সব কিছুর ব্যাবস্থা লোকটিই করলো।অল্পতেই সুস্থ হয়ে উঠল জমিলা।
পরশু ঈদ জমিলা পুরোপুরি সুস্থ, কিন্তু রোগসয্যায় ভাইয়ের কাছে একটি নতুন আবদার করেছে। কিন্তু তাহাকে দেবার মতো সামর্থ্য যে এখন তার নাই।পকেটে হাত দিয়ে দেখে তার কাছে থাকা পাঁচশত টাকার ৪১১ টাকা আছে।সে ভাইকে জমিলার কাছে রেখে তারাহুরো করে বের হয় হাসপাতাল থেকে। তারপর একজন পাইকার থেকে বাদাম সংগ্রহ করে বিকাল ও রাতে বিক্রি করতে থাকে রহিম।বিক্রি করা শেষে টাকা গুনে দেখে প্রায় ১০০৫ টাকা হয়।সে একটা সাধারন দোকান থেকে সুন্দর দেখে একটা জামা কিনেন ৩০০ টাকা দিয়ে।
আর ভাইয়ের জন্য অল্প দামে একটা পায়জামা কিনে হাসপাতাল চলে আসেন।দুজনকেই উপহারগুলো দেখানোর সাথে সাথেই খুশিতে আত্মাহারা হয়ে পড়ে।
আজ তাদের হাসপাতাল থেকে মুক্ত করে দিবে।রহিম অনেক্ষন ধরে ভাবলো কি করবে শহরে থেকেই বা কি হবে তাছাড়া শহরেতো তেমন আপন কেউ নাই যে তাকে সাহায্য করবে।
২.
১০ বছর পর
আজ রহিম গরুর হাটে এসেছে গরু কিনবে বলে। আজ আর রহিম সেই আগের রহিমে বিদ্যমান নেই কেননা সে আজ প্রতিষ্ঠিত।সে এখন সম্পুর্ণ একটি মুরগির খামারের মালিক।আর ভাই একটা ব্যাংকে চাকরি পেয়েছে আর বোনটা তাদের সাথেই আছে।
হাসপাতাল থেকে তারা গ্রামের উদ্যেশ্যে রওয়ানা করে তখনই সেই অলৌকিক লোকটার সাথে দেখা হয় তিনি রহিমকে ২০০০ টাকা পকেটে পুরে দেন।পরে রহিম জানতে পারে লোকটির কেউ নেই এক সড়ক দূর্ঘটনায় তার পরিবারের সবার জীবন প্রদীপ নিভে যায়। অনেক টাকাপয়সার মালিক তিনি কিন্তু তাহাকে দেখে সাধারন মানুষের মতোই মনে হয়। মানুষকে সাহায্য করেই তাহার দিন পার হয়।
টাকা নিয়ে বাসায় চলে আসে ঈদের দিন সকালে।কিছুক্ষন পর রিয়াদসহ অন্যান্য বন্ধুরা তার বাসায় উপস্থিত হয়।
তাদের আপ্যায়ন করানো হয়।
সব বন্ধুরা তার বিপদে তার পাশে থাকার আশ্বাস দেয়।পরে সব বন্ধুরা মিলে কৃষিকর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করে মুরগির খামার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়।
বন্ধুদের থেকে পাওয়া ঋণ আর লোকটার টাকা দিয়ে শুরু হয় ব্যাবসা।শ্রম আর তার মেধার দাড়া আস্তে আস্তে সফলতার মুখ দেখে রহিম।ভাইবোনদের স্কুলে ভর্তি করে দেন।
ভাই লেখাপড়া শেষ করে একটা ব্যাংকে চাকরি পেয়েছে বোনটা এখনও লেখাপড়া করতেছে।
আজ ১০ বছর পর সে এখন প্রতিষ্ঠিত।
৩.
সকাল বেলা আল্লাহর নামে গরু কুরবানি করলেন।নিজেরা অল্প পরিমান গোস্ত রেখে সবটুকু বিলিয়ে দিলেন গরিবদের মাঝে।এতে যেনো বিশ্বজয়ের হাসি ফুটলো রহিমের মুখে।১০ বছর আগে অনেকের ধারে ধারে ঘুরেছিলেন কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করেনি আজ তার সবই হয়েছে তবে সে তাদের মতো আচরন করবেনা।
রহিম তার ভাইবোনদের মুখে কুরবানির গোস্ত তুলে দিয়ে অজান্তেই কেদে ফেললেন আজ তাদের বাবা মা থাকলে কতোইনা খুশি হতেন ভেবে।
রাতে সব বন্ধুরা এলো রহিমের বাসায় দাওয়াত খেতে।সবাই খুশি হলো কিন্তু রহিম লক্ষ করলো তাহার বন্ধু সজিব মন খারাপ করে বসে আছে।সজিবকে আড়ালে ডেকে নিয়ে তাহার বিপদের কথা শুনে।শুনে অত্যন্ত ব্যাথিত হয় রহিম।
তবে তাহার বিপদে পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন।
.
.
..............
গল্পটা শেষদিকটা অনেক খারাপ হইইছে সবার কাছে তাই ক্ষমাপ্রার্থী তবে এই গল্পটাকে পূনরায় লিখবো আশা রাখতে পারেন।
সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা
♥♥♥♥♥♥
Collected
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ