āĻļāύিāĻŦাāϰ, ⧍ āϏেāĻĒ্āϟেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

735

মিতুর আরেকবার ফোনটা কানে লাগালো । জানে এর ফলাফল কি হবে তবুও গত কয়েক ঘন্টা ধরে সে এই কাজটা করে যাচ্ছে । সুমনের ফোনটা বন্ধ জেনেও কিছু সময় পরপর কল করে যাচ্ছে । বারবার মনে হচ্ছে কখন চালু করবে ফোনটা ও ।
মোবাইলের সময়টা দেখে নিল । নয়টা বাজতে গেলে । সুমনের এখনও দেখা নেই । সুমনের ঠান্ডা একদম সহ্য হয় না । শীত কালে তাই যত দ্রুত সম্ভব সে বাসায় ফিরে আসে কিন্তু আজকে রাত নয়টা বাজতে গেলে তবুও তার দেখার নেই । এই তীব্র শীতের রাতে ছেলেটা কোথায় একা একা বসে আছে কে জানে । মিতুর আবার কান্না আসতে লাগলো ।
ঘরের আলো অনেক আগেই নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে । ঘর অন্ধকার করে বসে আছে সেই ঘন্টা দুয়েক হল । যদিও বাসায় কেউ নেই তবুও মিতু তার চোখের পানি আলোর ভেতরে ফেলতে চাচ্ছে না । মনে হচ্ছে ঘরের অন্ধকারের ভেতরে ওর চোখের পানি ফেললে কেউ দেখবে না । যদিও দেখার কেউ নেইও ।
মিতুর বারবার মনে হচ্ছে ও কাজটা কেন করতে গেল ? একটা ফোন করলে কি এমন ক্ষতি হয়ে যেত ! আরেকটু কেয়ার কি ওর দেওয়া উচিৎ ছিল না ?
ওদের বিয়ের শুরু থেকে সুমন ওকে সব দিক থেকে সব সহযোগিতা করে এসেছে । ওদের বাসা থেকে মিতুর চাকরি করাটা পছন্দ ছিল না কিন্তু সুমন এটাতে মোটেই আপত্তি করে করে নি । বিয়ের পরেও যেখানে অন্যান্য হাজব্যান্ডরা বউদের বাইরে ঘোরাঘুর কিংবা বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোটা পছন্দ করে না সেখানে সুমন এসবে কোন আপত্তি করি নি কোন দিন ।
কেবল ওর একটা জিনিসে সমস্যা ছিল । সেটা হচ্ছে মিতুর ছেলেদের সাথে ঘোরাঘুরি !
যেদিন ওদের মাঝে এই বিষয়টা নিয়ে কথা হয় সেদিনের কথা মিতু প্রায়ই ভাবে । সুমন অনেক টাই অস্বস্থি নিয়ে কথাটা বলেছিলো ওকে ।
মিতু বলল
-তার মানে তুমি চাচ্ছো যে আমি কোন ছেলের সাথে মিশবো না ?
-আরে না না !
সুমন হাসলো কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে । তারপর বলল
-আমি সেই কথা বলি নি । আসলে আমি ছোট বেলা থেকেই একটু ঈর্ষা পরায়ন ছেলে !
-হিংশুক ?
-হুম ! বলতে পারো । তবে সব দিকে না, কিছু কিছু দিকে । আমার কাছের মানুষ, আমার ভালবাসার মানুষটা যদি অন্য কোন ছেলের সাথে কথা বলে কিংবা একটু হাসা হাসি, ঘোরাঘুরি করে এটা আমি ঠিক সহ্য করতে পারি না । আগে তো একদম পারতাম না । খুব রেগে যেতাম ।
-কিন্তু এটা তো ঠিক না ।
-আমি জানি এটা ঠিক না । রেগে যাওয়া ঠিক না । কিন্তু সব মানুষের কিছু চারিত্রিক লিমিটেশন থাকে । আমি যেহেতু মানুষ আমারও আছে । এটাই সেটা ।
কথাটা বলে সুমন কিছুটা সময় চুপ করে রইলো । মিতুর মনে হল সত্যিই তো । সবারই কিছু না কিছু এমন ব্যাপার থাকে । যেমন রাতের বেলা ও কারো নাক ডাকা একদম সহ্য করতে পারে না । ওর দিকে কেউ যদি একটু অমনযোগি হয়ে সেটাও মিতু সহ্য করতে পারে না । আর ও নিজেও যদি তার স্বামীকে অন্য কোন মেয়ের সাথে হাসাহাসি করতে দেখে তাহলে নিজের কাছে সেটা খারাপ লাগবে ।
সুমন বলল
-দেখো আমি তোমাকে বলবো না তুমি অন্য কোন ছেলের সাথে মিশো না কিংবা কথা বল না । কেবল একটা অনুরোধ করি যে যখন এমন কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে তোমার কারো সাথে বাইরে যাওয়ার দরকার পরবে তখন আমাকে একটু জানাবে । এটুকুই । আমি যেন অন্য কারো কাছ থেকে এটা না জানতে পারি ।
-আচ্ছা । মনে থাকবে আমার ।
তারপরেও মাঝে এমন অনেক টা সময় গেছে যে যেখানে মিতু অফিস কিংবা বন্ধুদের সাথে বাইরে গেছে কিন্তু সুমনকে জানাই নি । কিংবা জানাতে ভুলে গেছে । মাঝে মাঝে যে জানাই নি তা নয় । কিন্তু ঘটনা টা যে এমন ভাবে হবে সেটা মিতু ভাবতেই পারে নি ।
আজকের দুপুরের কথা । অফিসের এক কলিগের সাথেই কাজে বের হয়েছিলো মতিঝিলের দিকে । কাজ অফিসের কাজে ছিল এই জন্যই ওর এতো কিছু মনে হয় নি । কাজ যখন প্রায় শেষ তখন তখনই ওর ফোনে সুমনের ফোন এসে হাজির ।
নিয়মিত যেমন ফোন করে তেমন ফোন মনে করেই মিতু ফোনটা ধরলো ।
-কোথায় তুমি ?
প্রথম প্রশ্নটা শুনেই মিতু একটু থতমত খেয়ে গেল । ঠিক তখনই তার মনে হল যে সুমন ওকে দেখতে পেয়েছে কোথা থেকে ।
-সুমন শোন প্লিজ আমি আসলে কাজে বের হয়েছি রফিক ভাইয়ের সাথে !
ওপাশ থেকে কোন আওয়াজ এল না !
-হ্যালো শুনছো ? হ্যালো !
কোন জবাব নেই । তারপর ফোনটা রেখে দেওয়ার আওয়াজ হল । প্রায় সাথে সাথেই ফোন ব্যাক করলো । কিন্তু ফোন বন্ধ । মিতুর আর কোন সন্দেহই রইলো না যে সুমন ওকে দেখতে পেয়েছে । আর দেখতে পেয়ে ওর মাথা খারাপ হয়ে গেছে ।
মিতু কাজ শেষ করে অফিস না গিয়ে সুমনের অফিসে গিয়ে হাজির হল । সেখানে গিয়ে জানতে পারলো যে সুমনও কাজে মতিঝিলের দিকে গিয়েছিল । একটু আগে নাকি ড্রাইভার ফিরে এসেছে সব কাগজ পত্র নিয়ে । সুমন নাকি রাস্তার মাঝে নেমে গেছে ।
মিতুও আর অফিসে যায় নি । ভেবেছিলো হয়তো সুমন নিজেও বাসায় চলে আসবে কিন্তু আসে নি । তারপর থেকে সারাটা সময় মিতুর কেবল অস্থির সময় কেটেছে । পরিচিত সবার কাছে ফোন দিয়ে জানতে চেয়েছে যে সুমন ওখানে গেছে কি না । কিন্তু না সে যায় নি । সবার থেকে যখন না শুনা শেষ হল তখন বেড রুমে গিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করলো । বারবার মনে হচ্ছিলো যে একবার একটা ফোন করলে কি এমন ক্ষতি হত ওর । কিংবা একটা মেসেজ দিয়ে রাখলে ।
-------
রাত ১০ টার কিছু পরে যখন কলিংবেল বেজে উঠলো মিতু যেন একেবারে দৌড় দিয়ে দরজার কাছে চলে গেল । দরজা খুলে দেখে সুমন দাড়িয়ে আছে । চেহারা দেখেই মনে হচ্ছে বিমর্ষ । কিছু সময় কেবল তাকিয়ে রইলো ওর দিকে । তার পর দরজা খুলা অবস্থায়ই ওকে জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে । এট আগে মিতু সুমন কে এতো জোরে জড়িয়ে ধরেছে কি না ওর জানা নেই । চোখ দিয়ে পানি পরতে লাগলো নিরবে ।
কতক্ষন ওকে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলো মিতু জানে না সুমনের ডাকে ।
-দরজাটা বন্ধ করি । মানুষজন দেখলে কি বলবে ?
-বলুক যা ইচ্ছে । আমার স্বামীকে আমি জড়িয়ে ধরেছি । কার কি !
-আরে বাবা ঠিক আছে ।
-না আগে বল তুমি রাগ করে নেই আমার উপর ।
-আরে আমি কেন রাগ করে থাকবো তোমার উপর ?
-না আমি জানি তুমি রাগ করে আছো ? আমার কিছু একটা করা উচিৎ হয় নি কিন্তু আমি করেছি ।
সুমন ওকে নিজের কাছ থেকে ছাড়িয়ে মুখোখুখি এনে বলল
-আমি তোমার উপর রাগ করি নি । তবে একটু মন খারাপ হয়েছে অবশ্য । তোমার সাথে ঐ লোকটা কে দেখে আমার মোটেি ভাল লাগে নি ।
সুমন দেখলো মিতুর চোখের পানি আবার পড়তে শুরু করলো । সুমন এটা দেখে বলল
-আচ্ছা বাবা এই দেখো আমি হাসছি । ঠিক আছে । তুমি কান্না কাটি করো না প্লিজ !
সুমন মিতুকে পাশে সরিয়ে রেখে দরজা বন্ধ করতে গেলে দেখলো মিতু এবার ওকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেছে । পিঠের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ধরে রইলো কিছুটা সময় । এইকাজ টা ও প্রায়ই করে । ওর হাত টা সামনে ওর বুকের কাছে চলে এসেছে । সেখানে তাকিয়ে দেখে মিতুর হাতে তাজা মেহেদী দেওয়া । হাত ভর্তি কাঁচের চুড়ি ।
এতো সময় সুমন লক্ষ্য করে নি এবার আবারও মিতুর দিকে তাকিয়ে দেখে মিতু হালকা আকাশী নীল রংয়ের শাড়িটা পরে আছে । এটাতে মিতুকে সব থেকে সুন্দর লাগে । মাঝে মাঝেই সুমন ওকে এই শাড়িটা পরতে বলে ।
সুমন কিছুটা সময় মিতুর দিকে তাকিয়ে থেকে বলল
-তুমি কি আজকে ভুনা খিচুরী রান্না করেছো ?
মিতু জবাব না দিয়ে কেবল মাথা ঝাকালো ।
-বুদ্ধি ভালই পেয়েছো !
মিতু তাকিয়ে দেখলো সুমন ওর দিকে তাকিয়ে হাসছে । আকাশী নীল রংয়ের শাড়ি, হাতে মেহেদী ভুনা খুচুরী, কাঁচের চুড়ি এসব সুমনের খুব পছন্দের । প্রিয় মানুষটার রাগ ভাঙ্গাতে প্রিয় জিনিস গুলোর কোন বিকল্প নেই । মিতু সুমনকে আরও একটাবার জড়িয়ে ধরলো । তারপর বলল
-আই প্রমিজ ইউ, আর কোন দিন এরকম টা হবে না । কোন দিন না ।
-আচ্ছা ঠিক আছে ঠিক আছে । এখন খেতে দাও জলদি । দুপুর থেকে কিছু খাই নি । আর জড়িয়ে ধরার জন্য পুরো শীতের রাত পরে আছে ।
.
লিখাঃ অপু তানভীর

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ