āĻļāύিāĻŦাāϰ, ⧍ āϏেāĻĒ্āϟেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

717

✔পিউর লাভ✔
•••••••••🌷•••••••••
লেখকঃ-RB Raj
....
গ্রীষ্মকালের এক মধ্যদুপুর।
অন্যান্য দিন এ সময় কাঠফাটা রোদ থাকে।
মানুষজন খুব একটা কাজ না থাকলে
বের হতে চায় না।
আজ দিনটা তেমন না।
রোদ নেই, আছে মেঘ। বৃষ্টি হবে হবে,
কিন্তু হচ্ছে না। রাজ জানে আজ
বৃষ্টি হবে না। বৃষ্টি ‘হবে হবে’ এমন
অবস্থার ১ ঘণ্টার মাঝে বৃষ্টি না হলে
আর বৃষ্টি হয় না, নিয়ম নেই। মানুষ
নিয়ম ভঙ্গ করে, প্রকৃতি নয়।

রাজ চায় না আজ বৃষ্টি হোক। আজ
স্নিগ্ধা আসবে বলেছে, ওর নাকি কি
কাজ আছে, রাজকে সাথে সাথে
থাকতে হবে। রাজ জিজ্ঞেস করেনি
কি কাজ, জানে বলবে না। এই মেয়েটা
যতক্ষণ না নিজে চাইবে কিছু বলবে না।
অনুরোধে কাজ হয় না, অনেক সময়
বিনা অনুরোধেও স্নিগ্ধা হড়বড় করে
অনেক কিছু বলে দেয়, রাজ তাকিয়ে
থাকে। আবার হুট করেই চুপ করে
যায়, রাজের হাজার চেষ্টা তখন এই
মৌনতা ভাঙতে পারে না।

রাজ অপেক্ষা করে আছে স্নিগ্ধার।
ওর আসার কথা বারটায়। এখন সারে
দশটা বাজে। এখনও অনেকক্ষণ
বাকি। কিন্তু স্নিগ্ধার জন্য অপেক্ষা
করতে ওর ভাল লাগে। টানা নয় বছর
শুধু অপেক্ষাই করে যাচ্ছে, মাঝে মাঝে
মনে হয় এর কোন শেষ নেই। রাজ হাসল,
আসলেই কি শেষ নেই? না ও হতে দিচ্ছে না?
অপেক্ষা জিনিষ টা কষ্টের, কিন্তু রাজের
ভাল লাগে। এই একটা জিনিসই তো
আছে ওর, একান্ত নিজের, যার জন্য
কারও অনুমতি নিতে হয় না, ও ছাড়বে কেন?

রাজ ঘড়ি দেখল, মাত্র পাঁচ মিনিট হয়েছে।
দশ টা পঁয়ত্রিশ। সময় এগোচ্ছে না।
এই নয়টা বছর কি এমনই মন্থর গতিতে
গেছে? না খুব দ্রুতই চলে গেল সময়
গুলো? রাজ চোখ বন্ধ করল, সামনে
ভেসে উঠল সেই নয় বছর আগের রাজকে।
কিছুটা গম্ভীর, কিছুটা চঞ্চল।
সারাদিন টো টো কোম্পানির ম্যনেজারগিরি
করে রাতে বাসায় ফিরে ঠিকই বই
নিয়ে বসা, আর পরদিন লাজুক লাজুক
হেসে বন্ধুদের কাছে এসে বলা, দোস্ত
লাইফ অফ অ্যা পাই দেখছস? ভাবখানা
এমন যেন রাত
জেগে সে লাইফ অফ অ্যা পাই ই দেখসে...

আর স্নিগ্ধা? দুরন্ত আর চঞ্চলতার জ্বলন্ত
উদাহরণ। একদণ্ড স্থির হয়ে থাকতে
পারে না, ক্লাসের সব সহপাঠীর নাড়ি
নক্ষত্র তার মুখস্ত। সবাইকে ঝাড়ির
উপর রাখাটাকে পবিত্র দায়িত্ব বলেই
মনে করে সে। দুপুরে খাস নাই কেন?
জড় নিয়ে ক্লাসে আসলি কেনও?
পরশু পরীক্ষা আর তুই শপিং এ?
এক্ষন বাসায় যা... (কেউ বলার নেই
পরশু পরীক্ষা হলে সে এখানে কি করছে?)
এমন অসংখ্য খবরদারি...

রাজ আড়ালে পড়ার ব্যপারটিও তার
অজানা নয়। থাকার কোন কারণও
নেই অবশ্য। ওরা ছিল বেস্ট ফ্রেন্ড।
একজনকে ছাড়া আরেকজনের
চলত না এমন নয়, কিন্তু ওরা একজন
আরেকজনকে ছাড়া কিছুই করত না!

বন্ধুরা ক্ষেপাত, দুজনের কেউ দেরী করে
আসলে জিজ্ঞেস করত, কিরে তোর
বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড আসে নাই? রাজ
শুনে হাসত, আর স্নিগ্ধা খুব খেপে যেত।

-কিরে? তুই ওদের কিছু বলস না কেন?

-কি বলব?

-দাঁত না কেলিয়ে সোজা সাপটা বলে
দিতে পারিস না ফাজলামো না করতে???

-ফাজলামোই করতেসে যখন বুঝতেছিস
তাইলে এত চেত্তেছিস কেন?

এই ছিল  স্নিগ্ধা আর রাজ ৷ ছোটবেলার
ফ্রেন্ড। একসাথেই বেড়ে ওঠা। দুজনই
দুজনকে যেন খোলা বই এর মত পড়তে পারে!

এই স্নিগ্ধা কেন যেন হঠাৎ করেই বদলে
যায়! কারও সাথে বেশি কথা বলে
না, এমনকি রাজের সাথেও না। হাজার
প্রশ্নের নিরুত্তর চাহনি! হাসে, কিন্তু
সে হাসি স্নিগ্ধার নয়, কথা বলে কিন্তু
তা স্নিগ্ধার গলার আওয়াজ নয়!

একটা উচ্ছল প্রাণবন্ত মেয়ে যেন হুট
করেই নিষ্প্রাণ হয়ে গেল...

রাজ চোখ খুলল, চোখ টা কি জ্বলছে?
রাজ আকাশের দিকে তাকাল।

আকাশ টা এখনও ছিঁচকাঁদুনে ভাব নিয়ে
বসে আছে, হাসছেও না কাদছেও না!
আচ্ছা সেদিনও কি এমনই ছিল
আকাশ? নাহ। সেদিন বৃষ্টি হয়েছিল,
ঝুম বৃষ্টি!

রাজ উঠে দাঁড়াল। হাঁটতে শুরু করল।
আজ এমন কেন হচ্ছে? নয় বছর
আগের প্রতিটি জিনিসের অস্তিত্ব
সে অনুভব করতে পারছে। বৃষ্টির
বড় বড় ফোঁটাগুলো তার গায়ে এসে
বিঁধছে, এই তো স্নিগ্ধার বাসা! সে তো
এখান থেকেই হন হন করে মাত্র বের হয়ে
এসেছে!

“রাজ আমি একজনকে খুব ভালবাসি রে”
রাজের হাঁটুতে মাথা রেখে বলেছিল স্নিগ্ধা।
ওর চোখের পানিতে ভিজে যাচ্ছিল
রাজের হাঁটুর জায়গাটা। কিন্তু রাজ
কিছু টের পাচ্ছিল না। স্নিগ্ধার কথাগুল
ওকে অসাড় করে দিচ্ছিল। ওদের
অস্তিত্ব কি আলাদা?স্নিগ্ধা অন্য কাউকে
ভালবাসতে পারে? বিশ্বাস হচ্ছিল না
রাজের! কেন যেন রাগ হচ্ছিল খুব।

স্নিগ্ধা তার ভালবাসার মানুষকে হারিয়েছিল।
কেন, কিভাবে তার সবটা সে রাজকে
বলেছিল, কিন্তু রাজ কি আর এ জগতে
আছে? সবটাই কানে গেছে, হৃদয়ে
পৌঁছায়নি কিছুই! শুধু মনে আছে
‘হারিয়েছে’ শুনে তার অমানুষিক আনন্দ হয়েছিল!

সেদিন খুব কেঁদেছিল স্নিগ্ধা, সেই কান্না
রাজ কে স্পর্শ করেনি। কোন শান্তনা
দেয়নি সে স্নিগ্ধাকে, বের হয়ে এসেছিল
ওদের বাসা থেকে।




রাগ হোক আর অভিমানই হোক সেই একদিন
হয়েছিল রাজের, স্নিগ্ধার উপর। বাকিটা
সময় ও স্নিগ্ধার পাশে পাশেই থেকেছে
সবসময়। খুব ভেঙ্গে পড়েছিল মেয়েটা,
সবাই ভেবেছিল কদিন যেতেই সব ঠিক
হয়ে যাবে। কিন্তু কিছুই ঠিক হয়নি,
বিষণ্ণতার যে একটা পাকাপাকি ছাপ
স্নিগ্ধার উপর পরেছিল তা আর সরে নি।
রাজ ছাড়া আর কোন বন্ধুর সাথে
যোগাযোগ ছিল না স্নিগ্ধার। রাজও
সবকিছু ছেড়ে শুধু স্নিগ্ধাকে নিয়েই পড়েছিল।

হাসি পেল রাজের। কত ছেলেমানুষিই
না করেছে সে।স্নিগ্ধাকে তার ভালবাসার
মানুষের কাছে পৌঁছানোর কতই না
চেষ্টা! বন্ধুত্ব আর প্রেমিকস্বত্বা দুটোই
কাজ করছিল রাজের মাঝে। মহৎ
হওয়ার একটু ইচ্ছাও কি ছিল? হয়ত!

রাজ স্নিগ্ধাকে ভালবেসেছিল। সে
ভালবাসার উৎপত্তি ওদের ছেলেবেলার
বন্ধুত্ব থেকে নয়, তার জন্ম হয়েছে
স্নিগ্ধার ভালবাসা থেকে! সত্যিই তাই,
রাজ স্নিগ্ধার ভালবাসার প্রেমে
পড়েছিল! এত ভালবাসতে জানে
মেয়েটা? কেমন করে পারে সে?
সেই ছেলেবেলায় কবে কাকে ভালবেসেছে,
তার কোন খোঁজ নেই কিন্তু ভালবাসাটা
স্নিগ্ধা নিজের মাঝেই বাঁচিয়ে রেখেছে,
রাজের কাছেও তা প্রকাশ করে না,
কিন্তু রাজ বুঝতে পারে।

পকেট থেকে মুঠোফোনের ভাইব্রেট
এ ধ্যান ভাঙল রাজের।

-হ্যালো

-কই তুই?

রাজ চারপাশে তাকাল। হাটতে হাটতে
বেশ অনেকটা দূর চলে এসেছে সে।

-তুই দাড়া আমি দুই মিনিটে আসছি

স্নিগ্ধাকে কিছু আর বলার সুযোগ না দিয়েই
ফোন টা কেটে দিল রাজ। আজ মনে
হচ্ছে মেঘ টা না আসলেই ভাল ছিল।
কেন যেন আজ ‘শুধুই বন্ধুত্বের’
ভণ্ডামিটা করতে ইচ্ছা হচ্ছে না! নয়
বছরের সাধনা টা আজ চুরমার করে
দিতে ইচ্ছা করছে।

“ভালবাসা তোমার ঘরে বৃষ্টি হয়ে নেমে
আসুক”... কত অসংখ্য বার সে শুনিয়েছে
স্নিগ্ধাকে এই গান টা, সেই বৃষ্টিতে
স্নিগ্ধার হাত ধরে যে সেও ভিজতে
চায় এটা কবে বলবে রাজ?

স্নিগ্ধা আজ শাড়ি পরে এসেছে। নীল
রঙের। অনেকদিন পর সুন্দর করে
সেজেছে, কপালে টিপ চোখে কাজল।
আর হাতে বিশাল সাইজের ঝোলা।

-বাসা থেকে ভাগার প্লান করে এসেছিস
নাকি? ঝোলার মধ্যে কি আবার?

মুখ টিপে হাসল স্নিগ্ধা।

-চল লেকের পাড়ে গিয়ে বসি।

দুজন হাটতে হাটতে লেকের পাড়ে সিঁড়ির
উপর গিয়ে বসলো। ঝোলাটা রাজের
দিকে এগিয়ে দিল স্নিগ্ধা। কিছু কার্ড,
শুকনো ফুল, আর কিছু বই আছে
সেখানে। জিজ্ঞাসু চোখে তাকাল রাজ।

রাজের দিকে না তাকিয়েই বলতে শুরু
করল স্নিগ্ধা, ওর মুখটাও দেখতে পাচ্ছিল
না রাজ।

“জানিস রাজ, ভালবাসা কি ব্যপার টা
আমি কোনদিন বুঝিনি, না বুঝেই
ভালবেসেছিলাম। মানুষটা চলে গিয়েছিল,
তার দেয়া কার্ড আর ফুলগুলোকে
আঁকড়ে ধরেছিলাম, ভেবেছি এটাই
ভালবাসা... চারপাশের মানুষগুলোর
এত দ্রুত প্রেমে পড়া আর তার থেকেও
দ্রুত ‘প্রেম থেকে পড়া’ দেখে আস্তে
আস্তে অহংকারি হয়ে যাচ্ছিলাম। মনে
হচ্ছিল আমি সবার থেকে আলাদা,
কেউ আমার মত ভালবাসতে জানেনা।

সত্যিই তাই... এইযে দেখ না... কয়েকটি
জড়পদার্থ নিয়ে বসে ছিলাম এতগুল
বছর আর একটা রক্তমাংসের মানুষের
ভালবাসাই বুঝলাম না? একজন মানুষ
হাজারবার ভালবাসি বলেও সেই
ভালবাসাকেই পায়ে ঠেলে চলে গেল,
আর আরেকজন মুখে একবারও
ভালবাসি না বলেও আজীবন তার প্রমাণ
দিয়ে গেল, আর আমি কিনা সেই পায়ে
ঠেলা ভালবাসার স্মৃতিই বয়ে বেরাচ্ছি
এতকাল ধরে... কি বোকা আমি দেখেছিস???

আমি ভালবেসেছিলাম রাজ, কিন্তু তার
পূর্ণতা পেয়েছে তোর হাত ধরে।

আজকে এই জড়পদার্থগুলো কেন যেন
একেবারেই মূল্যহীন মনে হচ্ছে, তোর
সাথে কাটানো মুহূর্তই বার বার মনে
পড়ছে... কেন এমন হচ্ছে বল তো?”

স্নিগ্ধা ভেজা চোখ নিয়ে রাজের দিকে
তাকাল। সে তার হাত টা বাড়িয়ে দিল...

“রাজ, তুই কি আমার হাত টা একটু ধরবি?
প্লিজ?”

রাজ স্নিগ্ধার বাড়ানো হাতটি ধরল,
পাগলী একটা... তোর না বাড়িয়ে
দেয়া হাতটাই তো সেই কবে ধরেছিলাম
আমি, সে তো ছাড়ার জন্য নয়! কিন্তু
মুখে সে কিছুই বলতে পারল না,
বরাবরের মতই!

অন্য হাত দিয়ে স্নিগ্ধার চোখ মুছিয়ে
দিল। মনে মনে বলল,

“মেয়েরে...

তুমি আমার জন্য দুফোটা চোখের জল
ফেলেছো!
তার প্রতিদানে আমি, জনম জনম কাঁদিব।"
Writer•••••••••Raj

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ