নিস্তব্দ প্রহর,কুয়াশা মোড়া সকাল আর তাদের সাথে
বেড়ে ওঠা একটি বাউন্ডুলে ছেলে। যার প্রতিটা
দিন কাটে সিগারেটের ধোঁয়া আর কিছু পাগলামির মধ্য
দিয়ে। আর আজকের গল্পটা সেই বাউন্ডুলে
ছেলেটাকে নিয়ে.....
.
সেই বাউন্ডুলে ছেলেটার নাম আকাশ।
অনেক ছোট বেলায়ই আকাশের বাবা-মা তাকে
ছেড়ে অনেক দূরে চলে যায়।
যেখান থেকে কখনও ফিরে আসা সম্ভব না।
তারপর থেকে শুরু হয় আকাশের সামনে এক
মহাযুদ্ধ। যে যুদ্ধে তাকে নিজের সাথেই লড়াই
করতে হবে।অতিক্রম করতে হবে এক অন্ধকার
পথ।
তবে এই বাউন্ডুলের অন্ধকার পথেও যে কেউ
একজন মশাল হাতে নিয়ে আলোকিত করতে
আসবে তা কখনো কল্পনাতেও ভাবতে পারে নি।
আর এই মশাল হাতে নিয়ে দাড়িয়ে থাকা মেয়েটার
নাম হল নিধি।
নিধি একটা উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে। মা নেই, বাবাই
তার সব। ঢাকায় একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়াশুনা
করে। ঈদুল-আযহা উপলক্ষে ভার্সিটি ছুটি। আর তাই
সে তার বাবার সাথে গ্রামের বাড়ি বরিশালে ঈদ
উদযাপন করতে চলে আসে।
নিধির সৌন্দর্যের বর্ননা দেওয়ার মত কিছুই নেই। শুধু
এইটুকু বলে রাখি, তাকে দেখলে যে কোনো
ছেলের কল্পনাতে তাকে না এনে পারবে না।
আজকে সকালে নিধি এসেছে।
ক্লান্ত থাকার কারনে নিজের রুমে বিশ্রাম নিচ্ছে।
বিকেলে নিধির চাচার মেয়ে সামিরা তাকে ডাকতে
আসে।
সামিরাকে দেখে নিধি বলল,
> আরে সামিরা এখানে এসে বসো। (নিধি)
>হুমম, চলো আপু ঘুরতে বের হই । (সামিরা)
> হুমমম,চল(একটু সময় চুপ থেকে কথাটা বলল)
তারপর তারা দুজনে ঘুরতে বের হয়। গ্রামের পাশ
দিয়ে বয়ে চলা নদীর পারের রাস্তা ধরে তারা
হাঁটছে।
আর এদিকে আকাশ একটা নিরব জায়গায় বসে
সিগারেটের ধোয়ায় নিজেকে উত্তপ্ত করছে।
অবশেষে নিধি ও সামিরা হাঁটতে হাঁটতে সেই নিরব
জায়গায় চলে গেল। যেখানে আকাশ বসে আছে।
নিধি আকাশকে দেখে অন্যদিকে চলে যায়। কারন
সিগারেট খাওয়া ছেলেদের সে একদম সহ্য
করতে পারেনা। সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরাঘুরি করে নিধি ও
সামিরা বাসায় চলে যায়।
রাতে নিধি ও সামিরা বসে বসে গল্প করছে। আর
ওদিকে আকাশ তার স্বপ্নের রানীকে নিয়ে
স্বপ্নজাল বুনছে। আর সেই রানী হল নিধি।
আসলে বিকেলে যখন নিধি ও সামিরা হাঁটছিল ঠিক
তখনই আকাশ নিধিকে দেখছিল। আর সাথে সাথে
নিধির প্রেমে পরে যায়।
এখন সমস্যা হল আকাশ কিভাবে নিধিকে বলবে যে,
আমি তোমাকে ভালবাসি।
আর সে জন্য ভিবিন্ন ধরনের প্লানিং করছে আকাশ।
এই প্রথমবার কোনো মেয়েকে ভালবাসি বলবে
সে জন্য আকাশ অনেক উত্তেজিত।
পরেরদিন আকাশ নিজেকে একটু গুছিয়ে নেয়ায়
ব্যস্ত হয়ে পরেছে। কারন সে আজকে
নিধিকে তার ভালবাসার কথা জানাবে।
অতঃপর আকাশ সেই নদীর কাছে চলে যায়।
যেখানে বসে সে নিধিকে দেখছিল।
অনেকক্ষন হয়ে গেল নিধি আসছে না।
তাই আকাশ একটা সিগারেট ধরিয়ে টানছে।
কিছুক্ষন পর নিধি আসল। এসে আবার সেই একই
জায়গায় বসে আকাশকে সিগারেট টানতে দেখে।
এবারে রাগী চেহারা নিয়ে আকাশের দিকে চলে
আসে নিধি।
এসেই আকাশকে বলে,
> এই যে, শুনছেন । (নিধি)
> আকাশ নিচের দিকে তাকিয়ে সিগারেট টানছিল।
যেই মেয়েলি কন্ঠ শুনে উপরের দিকে তাকায়।
দেখে নিধি তার সামনে রাগী চেহারা নিয়ে দাড়িয়ে
আছে। সাথে সাথে আকাশ সিগারেটটা হাত থেকে
ফেলে দেয়।
আর নিধির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
> এই যে, আমি আপনাকে একটা কথা বলছি শুনছেন?
(নিধি)
> হ্যাঁ বলুন ! কি বলবেন! (আকাশ)
> আসলে আমি বলছিলাম আপনি যে এই সিগারেট খান।
তা শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকারক তা আপনি
জানেন? আমি কালকেও দেখছি আজকেও দেখছি
আপনি একই ভাবে সিগারেট খেয়ে যাচ্ছেন।
আসলে এগুলো না খাওয়াটাই বেশি ভাল। (নিধি)
> হুমমম, বুঝলাম । (বাধ্য ছেলের মত নিধির দিকে
তাকিয়ে উত্তরটা দিল আকাশ)
তারপর নিধি চলে যায়।
আকাশ বসে বসে ভাবতে থাকে, যেখানে
আজকে সে নিধিকে প্রপোজ করবে,
সেখানে নিধি তাকে এতগুলা জ্ঞান দিয়ে গেল।
তবে হ্যাঁ, মেয়েটার কথাগুলো ঠিক। আর যখন নিধি
কথা বলছিল। তখন এই বাউন্ডুলেটা নিধির মুখের দিকে
একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। আসলে ভালবাসার মানুষের
বলা প্রতিটা বাক্যই মধুর শুনায়। অতঃপর আকাশ সিদ্ধান্ত
নিলো সে আর সিগারেট খাবে না। কারন নিধি যে
এগুলো পছন্দ করে না। প্রিয় মানুষটার জন্য সবকিছুই
করা সম্ভব। সেখানে এটা তো মাত্র সিগারেট।
রাতে আকাশ নিধির কথা ভাবছে আর তাকে নিয়ে
রঙিন স্বপ্ন বুনছে। আজকে নিধিকে সে তার
ভালবাসার কথা জানাতে পারেনি। তবে এই ভেবে খুব
ভাল লাগছে যে, আকাশ আজকে নিধির সাথে কথা
বলছে।
পরেরদিন আকাশ সেই একই জায়গায় চলে যায়।
তবে আজকে হাতে কোনো সিগারেট নেই।
অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পরও যখন নিধি আসেনি
তখন সে চলে যায়। খুব খারাপ লাগছে আকাশের।
তাই একটা সিগারেট হাতে নিয়েছে। তবে সে
প্রতিজ্ঞা করছে আর সিগারেট খাবে না। তাই
সিগারেটটা আবার ফেলে দেয়। বিকেলে নিধি ও
সামিরা আবার ঘুরতে বের হয়। আকাশও নিধিকে
দেখার জন্য বের হয়। আকাশ কিছুদূর যাওয়ার পরই
নিধিকে দেখতে পায়। তারপর দৌরে নিধির কাছে
ছুটে যায়। গিয়ে নিধির সামনে হাঁপাতে থাকে। তারপর
নিধি বলল,
> কি হল আপনি হাঁপাচ্ছেন কেন? (নিধি)
> কিছু না, আসলে তোমার সাথে কিছু কথা আছে।
(আকাশ)
> হুমমম,বলুন ! (নিধি)
> আগে চলো ঐখানে বসি। (আকাশ)
তারপর তারা একজায়গায় বসে। কিছুক্ষন চুপ থাকার পর
আকাশ বলে,
> ধন্যবাদ (আকাশ)
> কেন? (অবাক হয়ে নিধি জিজ্ঞেস করে)
> আসলে তুমি সেদিন যা বললে আসলে ঠিকই।
সিগারেট খাওয়া খুবই খারাপ। আর তাই আমি এই খারাপ
কাজটা ছেড়ে দিয়েছি। আর এই সবকিছুর পিছনে শুধু
তুমি। তাই তোমাকে ধন্যবাদ জানালাম। আর একটা কথা
ছিল তোমার সাথে। (আকাশ)
হঠাৎ নিধির ফোনে একটা কল আসায় আকাশের
শেষ কথাটা না শুনেই সে চলে যায়।
আজকেও কথাটা বলতে পারেনি আকাশ।
তাই খুব কষ্ট হচ্ছে। অতঃপর আকাশ বাসায় চলে যায়।
রাতে নিজের অজান্তেই নিধির জন্য চোখ দিয়ে
অশ্রু ঝরে পরে আকাশের।
একটা বাউন্ডুলে ছেলে কারও জন্য কাঁন্না করছে,
এটা সত্যিই অবাক বিষয়।
পরেরদিন আবার আকাশ নিধির কাছে যায়।
গিয়ে দেখে নিধি বসে আছে।
আকাশকে দেখে নিধি বলে,
> এত দেরি করলে কেন? (নিধি)
> মানে? (আকাশ)
> আসলে অনেকক্ষণ ধরে তোমার জন্য এই
গাছের নিচে বসে অপেক্ষা করছি। (নিধি)
> কেন? (আকাশ)
> ভুলে গেলে? কালকেই তো বলছিলে কি
যেন বলবে। (নিধি)
> ও হ্যাঁ, মনে পরেছে। আচ্ছা নিধি তুমি কি কাউকে
কখনো ভালবেসেছ? (আকাশ)
> না, হঠাৎ এ প্রশ্ন কেন? (নিধি)
> আচ্ছা কেউ যদি কারও জন্য নিজের চোখের
অশ্রু ফেলে তাহলে কি সে তাকে ভালবাসে?
(আকাশ)
> হয়তো! তবে এগুলো আমাকে বলছো
কেন? (নিধি)
> আসলে আমি একজনকে ভালবেসে ফেলেছি।
তাকে হারানোর ভয় সর্বদা আমাকে কুড়েকুড়ে
খায়। নিজের অজান্তেই তার জন্য কাঁন্না চলে
আসে। (আকাশ)
> আচ্ছা, তা সে কে? (নিধি)
> তুমি (আকাশ)
কথাটা শোনার পর নিধি হতভম্ব হয়ে যায়। কি বলবে
কিছুই বুঝতে পারছে না। সে শুধু আকাশের দিকে
তাকিয়ে আছে।
> আসলে আমি বুঝতে পারছি যে, আমার মত একটা
বাউন্ডুলেকে ভালবাসা তোমার পক্ষে সম্ভব না।
আসলে কি করব বলো? বাবা-মা সেই ছোট বেলায়
মারা গেছে। তারপর থেকে নিজের সাথে অনেক
যুদ্ধ করে বড় হয়েছি। মায়ের আদরটা কি তাও
ভালভাবে বুঝতে পারিনি। একটা এতিমখানায় থেকেছি।
ভালভাবে অনেক সময় খেতেও পারিনি। অনেক
কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। আর তাই হয়তো
এরকম বখাটে তৈরি হয়েছি। তবে তোমাকে
যেদিন প্রথম দেখি, তখন এই বাউন্ডুলেটার
জীবনে সুপ্ত অবস্থায় থাকা ভালবাসাটা আবার জাগ্রত
হয়েছে। তারপর তুমি যখন আমাকে সিগারেট
খেতে বারন করলে, তখন তোমাকে ভালবাসার
ইচ্ছেটা আরও বেড়ে
যায়। আসলে কখনও কেউ এভাবে শাষন করেনি
তো তাই। পরে সিগারেট খাওয়া বাদ দিয়ে নিজেকে
একটু পরিপাটি করার ইচ্ছাটা জেগে উঠল। তাই তোমার
জন্য নিজেকে পরিবর্তন করেছি। আমি তোমাকে
অনেক ভালবাসবো। কখনও কষ্ট পেতে দিবো
না। সবসময় আমার ভালবাসা দিয়ে আগলে রাখব।
তারপরও তুমি যদি আমাকে ভাল নাও বাসো তাতেও
আমার কোনো অসুবিধা নেই। তবে আমাকে একটু
ভালবাসতে দিও। (আকাশ)
কথাগুলো বলতে বলতে কখন যে আকাশে
চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে পরছে তা আর খেয়াল
করে নি।
আর নিধিও কিছু না বলে চলে গেছে।
তারপর বাসায় এসে আকাশ অনেক কাঁন্না করে। কারন
সে সত্যিই নিধিকে অনেক ভালবেসে
ফেলেছে। আর ওদিকে নিধিও আকাশকে নিয়ে
ভাবতে থাকে।
.
দুইদিন পর.....
আজকে ঈদ। সবাই আনন্দে মেতে উঠেছে।
শুধু আকাশের মনে কোনো আনন্দ নেই।
বিকেলে আকাশ নদীর তীরে সবুজ ঘাসের
উপর বসে আছে। কিছুক্ষন পর তার পাশে কারও
উপস্থিতি বুঝতে পেরে পাশে তাকায়। দেখে নিধি
এসে বসেছে।
> তুমি? (আকাশ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে)
> হ্যাঁ আমি, আসলে অনেক ভেবে দেখলাম
বুঝছো, এই বাউন্ডুলেটাকে ছাড়া বেঁচে থাকতে
খুব কষ্ট হবে। তাই সোজা বাউন্ডুলেটার কাছে
চলে আসলাম। (নিধি)
কথাটা শুনে আকাশের চোখের পানি আর ধরে
রাখতে পারেনি। সাথে
সাথে নিধিকে জড়িয়ে ধরে আকাশ। নিধিও আকাশের
চোখের পানিটা মুছে দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে।
আকাশ মনে মনে এই ভেবে খুব খুশি হয় যে,
তাহলে এই বাউন্ডুলেটার জীবনেও আলোর
মশাল হাতে কেউ একজন এসেছে।
এখন তারা দুজনে বসে আছে সেই নদীর
তীরে। নিধি আকাশের কাধের উপর মাথা রেখে
নীল দিগন্তের দিকে তাকিয়ে আছে। বিকেলের
লাল আভায় তাদের দুজনকে খুব অদ্ভুত লাগছে।
তাদের দেখে মনে হচ্ছে রংতুলিতে আঁকা এক
ভালবাসার চিত্র !
.
.
( বিঃ দ্রঃ : ঈদুল আযহা উপলক্ষে এটা আপনাদের জন্য
লেখা নতুন গল্প। দোয়া করি সবার ঈদ ভাল কাটুক।
সকলকে ঈদুল আযহার অনেক শুভেচ্ছা ও
অভিনন্দন।
" ঈদ মোবারক "
ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
---ধন্যবাদ )
.
.
.
লেখক : তানিমুল ইসলাম রাব্বি [ একাকী পথচারী ]
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻļāύিāĻŦাāϰ, ⧍ āϏেāĻĒ্āĻেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
714
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
⧝:ā§Šā§Ŧ PM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ