āĻŦুāϧāĻŦাāϰ, ⧍⧧ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4653

"আমি কি কেমেস্ট্রি পারিনা নাকি? নিহাকে আমিই পড়াবো। অযথা বাইরের টিচার নিয়ে এসে ঘরের পয়সা পরকে দেওয়ার দরকার কি?"- এই বলে উঠে যেতে ধরলাম। আম্মু আটকালো। বললো- "আমি জানি তুই অনেক ব্রিলিয়ান্ট, কিন্তু তুই নিহাকে কখনও পড়াতে বসিয়েছিস? কিছুদিন পর ওর এসএসসি পরীক্ষা, এখন যদি ঠিকমত গাইড না পায় তখন তো রেজাল্ট খারাপ করবে, তখন তুই কি নিহাকে কোনো কিছু বলা বাকি রাখবি?"
.
নিহা আমার ছোটবোন। সব সাবজেক্ট অনেক ভালই পারে কিন্তু কেমেস্ট্রি নাকি কম বুঝে। আমি মাঝে মাঝে বুঝিয়ে দিতে চাইলেও নিজের পড়া আর আড্ডার জন্য ওকে নিয়ে বসতে পারিনা। তাই মা-মেয়ে মিলে জিদ ধরেছে কেমেস্ট্রি টিউশনি নিবে। আমি রাজি হলাম। বললাম- "টিচার কি আমাকেই খুঁজে দিতে হবে?"
.
নিহা চোট করে উত্তর দিলো- "না ভাইয়া, টিচার খুঁজাই আছে, আমাদের দু বাড়ি পরে লাবণ্য আপু, ওই যে কেমেস্ট্রি নিয়ে অনার্স করছে। তুমি তো চেনো বুঝি। উনিই পড়াতে চেয়েছেন।"
.
বুকটা ধ্বক করে উঠলো। লাবণ্যকে চিনিনা মানে! খুব ভাল করেই চিনি। লাবণ্য এ বাসায় এসে পড়ানোটা আমার মনে কেমন একটা খটকা দিলো। আমি বলে উঠলাম- "মেয়ে মানুষ আর ভাল পড়াতে পারে নাকি? আমি ভাল টিচার ম্যানেজ করে আনবো।"
.
নিহা আবার পটপট করে বলা শুরু করলো- "আম্মু উনাকে আজ ভাল করে ডেকেছেন। আপু তো আজকে সন্ধাতেই পড়াতে আসবেন। এখন কি আর না করে দেওয়া যায়। আর উনি অনেক ভাল পড়ান, আমার এক বান্ধবীও উনার কাছে পড়ে। "
.
কি আর করার। "আচ্ছা  ঠিক আছে" বলে বাড়ি থেকে বের হলাম। মাথা চক্কর দিতে লাগলো লাবণ্যের কথা ভেবে। দুই বছর আগে ভালই পরিচয় ছিল লাবণ্যের সাথে। আমি তার এক বছরের সিনিয়র ছিলাম। খুব ভাল লাগতো মেয়েটাকে। হারিয়ে যাবে ভেবে প্রেমের প্রস্তাব দিতে দেরী করিনি। কিন্তু তবুও হারিয়ে গেছে। সে আজকালকার এসব প্রিপেইড প্রেমে বিশ্বাসী না। তাই আর কি! প্রেম করা হয়ে উঠেনি। আমার প্রপোজাল রিজেক্ট হওয়ার দুই মাস পরে দ্বিতীয় বারের মত আবার আদা জল খেয়ে তার পিছনে ঘুরেছিলাম। কিন্তু কাজ হয়নি। একি এলাকার আমরা, লোকজন জানলে বড় ধরনের কেলেংকারি হয়ে যাবে তাই লাবণ্য দ্বিতীয় বারেও রাজি হয়নি।
.
অনেক ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেও ভুলতে পারিনি। কেননা রাস্তাঘাটে প্রায় প্রায় দেখা হতো। আবার আমার কলেজেই এডমিশন নিলো। তাই কথা না হলেও চোখাচোখি হতো, গভীর চোখাচোখি! কি করে তাই ভুলে যাই!
.
ভাবতে লাগলাম লাবণ্য কি করে নিহাকে পড়াতে রাজি হলো! সে কি জানেনা নিহা আমার বোন। আজব তো!
.
.
আম্মু ফোন দিয়েছে। রিসিভ করলাম।
-"অমি তাড়াতাড়ি বাড়িতে আয়। খুব দরকার।"
.
ব্যস্ত আছি বলে ফোন কেটে দিলাম। আব্বুও ফোন দেওয়া শুরু করলো। বাধ্য হয়ে বাড়িতে আসলাম। নিহার ঘর থেকে লাবণ্যের আওয়াজ আসছে। খুব পরিচিত কন্ঠস্বর। ফোনে ওর গাওয়া ছোট একটা গানের রেকর্ডিংও আছে আমার কাছে। প্রায় প্রায় শুনি।
.
বসার ঘরে বসে আছি। কিন্তু আম্মু আব্বু আমাকে কিছুই বলছেনা। ব্যাপার কি! ফোন করে জরুরি ভিত্তিতে আনালো আর এখন কেউ আমার খোঁজই করছেনা। আজব তো! বাসায় লাবণ্য আছে তাই চিৎকার চেঁচামেচিও করতে পারছিনা।
.
নিহার পড়া শেষ হলো। লাবণ্য বেড়িয়ে আসলো। আম্মুও আসলো আব্বুও আসলো। আম্মু বললো- "লাবণ্যকে একটু ওদের বাড়িতে এগিয়ে দিয়ে আয় তো।"
আমি আকাশ থেকে পড়লাম। বললাম- "কি!!!???আমি পারবনা।"
লাবণ্য অস্বস্তি বোধ করলো। তার থেকে বেশি অস্বস্তি বোধ করলো আব্বু আম্মু। লাবণ্য বললো- "থাক আন্টি, আমি একাই যেতে পারবো।  বেশিদূর তো না। আসি আজকে। আসসালামু আলাইকুম।"
.
আব্বু আম্মু দুজনেই চোখ রাঙ্গালো। বাধ্য হয়ে রাজি হলাম। আম্মু লাবণ্যকে বললো- "তা কি আর হয় মা? অমিই তোমাকে এগিয়ে দিয়ে আসবে "
.
বাড়ি থেকে বের হলাম দুজনে। লাবণ্যের সামনে হাটবো নাকি পিছন পিছন হাটবো বুঝতে পারলাম না। কিন্তু লাবণ্য বুঝতে পারলো। পাশাপাশি হাটতে শুরু করলো। হেটে যেতে সাত আট মিনিট লাগবে আর দৌড়ে প্রায় তিন মিনিটের কম। অভিজ্ঞতা থেকেই জানি।
.
ইচ্ছে করে নাকি সাহস করে! কেউ কোনো কথা না বলেই লাবণ্যদের বাড়ির সামনে চলে আসলাম। ও বললো-"ভেতরে আসেন, চা খেয়ে যান।"
.
"অন্য একদিন"- বলে দৌড়ে বাড়িতে আসলাম।
.
.
ছটফট করছি আর ঘামছি। আজ লাবণ্য আর আমি পাশাপাশি হেটেছি। কতদিনের ইচ্ছে আজ পূরণ হয়েছে। খুশিতে তো আমি আত্মহারা।
.
লাবণ্য, একদিন পর একদিন আসতো নিহাকে পড়াতে। তাকে এগিয়ে দিতাম তার বাড়ি পর্যন্ত। সাত মিনিটের মত পাশাপাশি হাটতাম। রাত নয়টার মত বাজতো, রাস্তার আলোতে হাটতে দারুণ লাগতো। কিন্তু বেশ কিছুদিন হয়ে গেলো লাবণ্যের সাথে একদিনও হাটতে হাটতে কোনো কথা বলিনি।
.
একদিন লাবণ্যই বললো- "কি ব্যাপার কথা বলেন না কেনো?"
আমি সেদিনও কিছু বলিনি। পরের দিন লাবণ্য জোর করে কথা বলালো। কথা না বলেও পারছিলাম না। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে বলতে শুরু করলো- "ভাল করে কথা না বললে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকবো।"
কি আর করার। "এই না না, কি করছো? আজব তো, কথা শোনো।" ইত্যাদি ইত্যাদি বলতে বলতে টুকটাক কথা বলাবলি শুরু।
.
টুকটাক কথা দুজনের অজান্তেই কখন যে বেশি বেশি কথায় পরিণত হয়েছে তা বুঝতেই পারিনি। এখনও লাবণ্যকে এগিয়ে দিয়ে আসি, কিন্তু সময় বেশি লাগে, অনেক ধীরে চলি তাই। তাড়াতাড়ি হাটলে তো আর দুজন বেশিক্ষণ পাশাপাশি থাকতে পারবনা, তাই আর কি!
.
আজকে লাবণ্য আমাকে বার বার 'তুমি' বলছে। আমি এ ব্যাপারে কিছু বলছিনা বলে সে আরো বেশি করে আমাকে 'তুমি তুমি' বলা শুরু করলো।। কিছু বলা দরকার না হলে আবার 'তুমি তুমি' করতে অজ্ঞান হয়ে যাবে। জিজ্ঞেস করলাম,
-"লাবণ্য?"
-"বলো.."
-"চাইলে তুমি দু বছর আগেও আমাকে এমন করে 'তুমি' ডাকতে পারতে।"
-"হুম জানি। ইচ্ছে করেই তখন না বলেছিলাম। তুমি ভাল করেই জানতে আমার  কিছুদিন পর এইচ এস সি পরীক্ষা ছিলো। তখন যদি তোমার সাথে প্রেমে জড়াতাম তাহলে আমার পড়াশুনার বারোটা বাজতো।"
-"এই কথাটা তো তখনও বলতে পারতে, আমি একটু হলেও স্বান্তনা পেতাম।"
-"আমি যে তোমাকে পছন্দ করতাম না তা কি কখনও বলেছি? শুধু প্রেম করতে রাজি হয়নি। আমি তোমাকে,  তোমার পরিবারকে ভাল করেই চিনি। তুমি আমার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে দেখো, আমি এক মুহূর্তেই রাজি হয়ে যাবো।"
-"ও আচ্ছা ম্যাডাম। আর এর মধ্যে যদি আমি অন্য মেয়ের সাথে..."
.
লাবণ্য আমার মুখ চেপে ধরে বললো-"তা কখনই হতে দিতাম না, কেননা নিহার কাছে আমি ভাল করে তোমার খোঁজ খবর নিতাম। আর তুমি নাকি রাতে দুইদিন কোন বান্ধবীর সাথে কথা বলেছো ফোনে!  সেটা নিহা আমাকে বলেছে আর তখুনি তো নিহাকে পড়ানোর প্লান করলাম।"
.
আমি লাবণ্যের দিকে তাকিয়ে হাসছি, মুচকি মুচকি হাসি। আত্মতৃপ্তির হাসি। আপন করে পাওয়ার আনন্দে আমি তো আত্মহারা  লাবণ্যের কাছে গেলাম খুব কাছে। তাকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে হলো খুব। লাবণ্য বুঝতে পারলো , লজ্জা পেলো। হাতটা বাড়িয়ে ধরতেই ফোন বাজতে শুরু করলো। ধ্যাৎ।
.
নিহার ফোন।
-"ভাইয়া, ভাবিকে রেখে আসতে এত সময় লাগে?"
-"ফাযিল! বাড়িতে গিয়ে তোর খবর করছি।"
-"খবর!!! বড় বাজেট না পেলে ক্লিকবাজি করবো বুঝবা তখন"
.
.
লাবণ্যদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছি। দুজনই হাসছি, সুখের হাসি, ভালবাসার হাসি। কিছু বুঝে না উঠার আগেই আমার গালে ছোট একটা চুমু দিয়ে লাবণ্য গেটের দিকে দৌড় দিলো। গালে হাত দিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম।
.
ফোনের ভাইব্রেশনে সম্বিত ফিরে পেলাম। নিহা আবার ফোন করেছে। দিলাম দৌড়। বাড়িতে ঢুকেই নিহা গার্জিয়ানের মত বলতে লাগলো- "রাস্তাঘাটে রাতের বেলায় প্রেম করাটা কি ঠিক? এলাকার লোকজন দেখলে কি হবে সেটা ভেবেছো একবারও।"
.
নিহার কথার উত্তর দিতে যাবো এর মধ্যেই লাবণ্যের ফোন। ফোন রিসিভ করলাম। নিহা চিৎকার করে বলতে লাগলো- "কি করলাম আমি! ছোট বোনের প্রশ্নের উত্তর দেবারও এখন আআর সময় নাই। আম্মু আম্মু ও আম্মু দেখে যাও তোমার ছেলে আমার টিচারের সাথে....।"
.
দৌড়ে গিয়ে নিহার মুখ চেপে ধরলাম। চুপ হলো। তবে আমার মানিব্যাগ এর স্বাস্থ অনেক খারাপ করে।
.
.
গল্পঃ "নিহার ভাবি লাবণ্য"
.
লিখাঃ আমিম এহসান...
.

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ