āĻŦুāϧāĻŦাāϰ, ⧍⧧ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4642


গল্পঃ "ডালিয়া ফুল"
লিখাঃ আমিম এহসান
.
.
বাড়ির সামনে আমার ছোট একটা ফুলের বাগান। নিজ হাতে যত্ন করে লাগানো ফুলের গাছগুলো রাস্তা দিয়ে চলা মানুষের নজর কাড়ে প্রতিটা সময়। তবে ফুল দেখে অনেকের চোখ জুড়ালেও কিছু দুষ্ট ছেলে মেয়েদের মন জুড়ায় আমার ফুল চুরি করে। ছোট ছেলে মেয়েরা মালা বানানো আর ফুল নষ্ট করাতেই সীমাবদ্ধ কিন্তু কিছু বড় ছেলে মেয়েরা আমার ফুল চুরি করে তাদের প্রিয় মানুষের মন চুরি করতে। বাগানটা  কয়েকটা গোলাপ, কসমস, গাদা আর বেশিরভাগ ডালিয়া ফুলের গাছ দিয়ে পরিপূর্ণ।
.
একদিন গোধূলি লগ্নে বাইরে বের হলাম বাগান দেখতে। সাথে সাথে চোখ চলে গেলো বাগানের উত্তর দিকের সবচেয়ে বড় ডালিয়া ফুলটার দিকে। কেননা ফুলটা ধরা ছিল একটা মেয়ের হাতে। মেয়েটাকে আমি অল্প অল্প চিনি, রাস্তা দিয়ে যেতে দেখেছি অনেক, চোখাচোখিও হয়েছিল বহুবার। তবে তেমন কিছুনা, ভাল লাগতো এই আরকি। তবে রাঙা হাতে ফুল চোর ধরে তো আমি মহাখুশি। আমার বাঁশের গেট খুলে বাগানের ভেতর ঢুকে আমার সবচেয়ে প্রিয় ডালিয়া ফুল চুরি তাও আবার সবচেয়ে বড়টা, যেটা কয়েকদিন ধরে বাগানে রাজার মতন দাঁড়িয়ে ছিল। এ কি মানা যায়!
.
কাছে যেতেই, মেয়েটা আমতা আমতা করে বলে উঠলো, "না মানে, ফুলটা তো বেশিদিন থাকবেনা গাছে, আমি না হয় অন্যজন নিয়ে যাবে না হয় গাছেই পঁচবে।"
আমি চুপ কিছু না বলে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। তার অপরাধী চেহেরাটা আমার দারুণ লাগছিলো। মেয়েটা গোলাপ পাপড়ি ঠোটে আবার বলে উঠলো, "ফুলটা নেই?"
.
আমি ফুলের দিকে হাত বাড়ালাম, মেয়েটা তার নিজের হাত সরিয়ে নিলো। আমি বললাম, "তোমার নাম কি?"
মেয়েটা নাম না বলে বললো, "নাম বললে ফুলটা কি দিবেন?"
আমি হেসে বললাম, "হ্যা দিবো তবে নামটা সুন্দর আর আমার পছন্দ হতে হবে।"
মেয়েটা চট করে বলল, "আমার নাম জারিন রাইসা, অনেক সুন্দর নাম, বুঝলেন?"
নামটা আমার পছন্দ না হলেও চলতো। কৌতুহল বশত জিজ্ঞেস করলাম, "কিসে পড়ো?"
রাইসা উত্তর দিলো, "সামনের বার এইচ এস সি দিবো। আচ্ছা আপনি ফুলটা দিবেন নাকি জেরা করতেই থাকবেন?"
আমি বললাম, "প্রাইমারি কিংবা হাইস্কুলে পড়লে তোমাকে মাফ করে দিতাম।  কিন্তু বলো তো, তুমি ফুল কি করবা? কাকে দিবা?"
রাইসা এবার আমার ফুলটার দিকে হাত বাড়াতে বাড়াতে বলল, "এই যে মিস্টার শুনেন, কাউকে দিতে হলে গোলাপ ছিড়তাম, ডালিয়া তে হাত দিতাম না , আর ডালিয়া ফুল আমার খুব প্রিয়। তাই লোভ সামলাতে পারিনি।"
.
নিজ হাতে ফুলটা ছিড়ে রাইসার দিকে এগিয়ে দিলাম। মনে মনে ভাবলাম, ফোন নাম্বারটা নিয়ে  ফুলটা দিলে বুঝি ভাল হতো। কিন্তু ভাগ্যের কি সুখকর পরিহাস রাইসা নিজ থেকে বলে উঠলো, "ভাবছিলাম ফোন নাম্বারও চাইবেন।" এই বলে দিলো দৌড়। আমি অবাক হচ্ছিলাম, না না গভীরভাবে বুঝি প্রেমেই পড়ছিলাম।
.
ছোটখাটো এই রাস্তাটা দিয়ে এলাকার সবাই স্কুলে, কলেজে, বাজারে যাওয়া আসা করে। পরদিন থেকে বাগানে ইচ্ছে করে বেশি সময় ধরে থাকতাম, দরকার নেই তবুও গাছে পানি স্প্রে করতাম, পরিষ্কার বাগান অযথা নিড়ানি দিতাম। এরকম করে ভাগ্যক্রমে রাইসার সাথে দেখাও হয়ে যেত। মিষ্টি হাসি দিয়ে আর বাগানের ফুল দেখে সে চলে যেত, কথা হতো দু একটা। খুশিতে মনটা ভরে যেত। প্রতিদিন রাইসাকে দেখার আশায় ফুলের গাছে পানি স্প্রে করতে করতে কয়েকটা গাছের সর্দি ধরিয়ে দিলাম। আর তাই রাগ করে কয়েকটা গাছ সুইসাইড পর্যন্তও করে ফেললো।
.
একদিন বাগানে আরো কিছু নতুন চারা লাগাচ্ছিলাম, পিছন থেকে কেউ একজন বলে উঠলো, "আমি কি আপনাকে হেল্প করতে পারি মালি সাহেব?"
কন্ঠটা পরিচিত, ঘুরে দেখি রাইসা দাঁড়িয়ে। আমি বললাম, "আমি এই বাগানের মালিক, মালি নই, বুঝলে?"
"শর্ট করে বলেছি, রাগ করেন কেনো?" এই বলে কাজে লেগে পড়লো।
আমি বললাম, "আমার বুঝি নাম নেই? যদিও আর মানুষের নামের মত সুন্দর না, তবুও নাম তো।"
রাইসা মুচকি হাসি দিয়ে বলল, "আপনি আমার সিনিয়র, কি করে নাম ধরে ডাকি!"
.
আমি তো ভুল করে বলেই ফেলতে চাইলাম, "তো ভাইয়া বলে ডাকবা।"
কিন্তু পঞ্চইন্দ্রিয় আমাকে সতর্ক করে বলে দিলো আমি যেনো নিজের পায়ে নিজে কুড়াল না মারি।
.
.
রাইসার সাথে দেখা করা আর কথা বলাটা নেশার মত হয়ে গেলো। ভাবতে থাকতাম তাকে প্রতিটা সময়। আচ্ছা, নিউটনের ৩য় সুত্রের মত রাইসাও আমার কথা ভাবছে নাকি! এইটার উত্তর খুব জানতে ইচ্ছে করছিলো। তাই প্লান করে একদিন আমার বাড়ি থেকে একটু দূরে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকলাম। রাইসার কলেজ থেকে ফেরার সময় হয়েছে। দেখছি রাইসা আসছে। প্রথমে সে বাগানের দিকে দেখলো ,  বাগানটার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে বাড়ির দিকে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিলো, আমাকে খুঁজছিলো। আমার প্রশ্নের উত্তর আমি পেয়ে গেলাম তবুও ইচ্ছে করে আরোও একটু লুকিয়ে থাকলাম। দেখি, রাইসা বাগানের ভেতর ঢুকে প্রথমে ডালিয়া ফুল গুলো হাত দিয়ে ছুঁয়ে দিলো। কিন্তু পরক্ষণেই গোলাপ গাছ গুলোর কাছে গিয়ে গোলাপ গুলোকে পরম মমতায় আলতো করে  ছুঁয়ে দিচ্ছিলো। এ যে দেখি আমার প্রশ্নের উত্তর ব্যাখাসহ প্রকৃতি প্রমাণ করছে।
.
রাইসার পিছনে গিয়ে দাড়ালাম। রাইসা একটু  চমকে গিয়ে বললো, "তু, তুমি? না মানে আ, আপনি?"
আমি বললাম, "তুমি শুনতেই তো ভাল লাগছিলো। তুমি করেই বলো।"
রাইসা একরাশ লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করলো। আমি দেরী করলাম না, বাগানের সবচেয়ে বড় গোলাপটা ছিড়লাম, বাড়িয়ে দিলাম রাইসার দিকে। রাইসা গোলাপের দিকে দেখে আমার দিকে তাকালো। আমি সাহস করে বলে দিলাম, "আমার বাগানের মালকিন হবে রাইসা?"
রাইসার হাসি আর লজ্জা মাখা মুখটাতে ভালবাসার যে একটা আশ্চর্য চিত্রপট দেখা যাচ্ছিলো সেটা দেখে আছি নিষ্পলক নয়নে। রাইসা হাত বাড়িয়ে ফুলটা নিয়ে বললো, "এখন আর ফুল ছিঁড়াছিঁড়ির দরকার নেই, বুঝলা? আর হ্যা ওই পাশের কয়েকটা গাছের কি অবস্থা হয়েছে খেয়াল করেছো? আর যে ফুলগুলো গাছেই নষ্ট হয়ে যাবে সেগুলো আলাদা করে রেখেছো তো?"
.
এত প্রশ্ন! 
উত্তর না দিয়ে মুচকি মুচকি হাসছি আর রাইসাকে দেখছি আর তার মুখ নিঃসৃত অমৃত বাণী শ্রবণ করছি। রাইসা একটু লজ্জা পেয়ে বলে উঠলো' "কি দেখো?"
আমি উত্তর না দিয়ে উলটা প্রশ্ন করলাম, "তুমি কি দেখো?"
রাইসা চালাকি করে বললো, "বলবোনা।"
.
যদিও বিয়ের পর রাইসার লিখা ডায়েরীতে দেখেছিলাম এই দিনটার কথা, যে,  "আমি সেদিন তার চোখে দেখেছিলাম আমার বৃদ্ধা প্রতিচ্ছবি। যদিও মুখে বলা হয়নি ভালবাসি কিন্তু চোখে ছিল অজস্র ভালবাসাবাসি।"
.
আমি বললাম, "আচ্ছা বলতে হবেনা, তোমার হাতটা ধরতে দিবে একটু? "
রাস্তার মানুষ দেখতে পাবে এই ভয়ে রাইসা আমাকে তার হাত ধরতে দিয়েছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য। কিন্তু তাতেই আমি নিয়েছিলাম চিরদিন সাথে থাকার প্রতিজ্ঞা।
.
তার ডায়েরীতে এই দিনটার কথা আরোও লিখা ছিল যে,"তার স্পর্শে ছিল আমার ভবিষ্যৎ এর ঝলকানি।"
.
.
দু বছর পর বিয়ের রাতে রাইসা বলছিলো, "ইস, সেদিন যদি ফুলটা ছিড়তে না আসতাম, তাহলে তোমাকে কোনোদিনই এভাবে পেতাম না। ভালবাসি অনেক তোমাকে।"
কিছুক্ষণ মনে মনে হেসে রাইসা বলে উঠলো,
-"আচ্ছা তুমি নাক ডাকো নাতো?"
আমি জ্ঞানীর মতন ভাব করে উত্তর দিলাম,
-"আগে ডাকতাম না, কিন্তু এখন থেকে ডাকবো।"
রাইসা চটপট করে বলল,
-"মানে কি? কি বলছো?"
আমি রাইসার হাতটা আমার বুকের কাছে নিয়ে বললাম,
-"আরে, এতদিন তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছি অনেক, নাক ডাকার সময় পেয়েছি কোথায় বলো? কিন্তু এখন তো তুমি আমার বুকের কাছে তোমাকে নিয়ে আর স্বপ্ন দেখার কোনো দরকার নেই, নিশ্চিন্তে নাক ডেকে ঘুমাবো এখন।"
মুচকি হেসে রাইসা দুষ্টামি করে জবাব দিলো,
-"হইছে থাক, ফেলে দিবো বিছানা থেকে...।"
.
ফেলে দিতে চাইলেই কি কেউ স্বামীকে বিছানা থেকে ফেলে দিতে পারে? পারেনা। তাই রাইসাও পারেনি।
.
.
.
~সমাপ্ত~

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ