গল্পের নামঃ সৌন্দর্য।
.
একটা বড় পুরাতন গাছের নিচে বসে আছে ঊর্মি ও জাহেদ। গাছের নামটা তারা জানে না। বহু পুরাতন গাছ। গাছটি শাখা প্রশাখা ছড়িয়ে এক বিশাল মাঠকে ছায়া দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঊর্মির খুব প্রিয় স্থান এটা। নাম ছায়াতল। সে সবসময়ই এখানে আসে। প্রিয় স্থানের কিছু কারণ আছে। খোলা মাঠে বাতাস ভালোই প্রবাহিত হয়। গাছটি তার ছায়া দিয়ে পুরো মাঠ আগলে রেখেছে। তাই এখানে খুব একটা গরম লাগে না। এছাড়াও এলাকাটি জুড়ে পুলিশের টহল থাকায় কোনো রকম অপকর্ম ঘটে না। এসব কারণে ঊর্মির খুব পছন্দের জায়গা এটি। প্রায়শই জাহেদকে নিয়ে এখানে আসে। দুজন মিলে গল্প গুজব করে।
.
দুজনের মধ্যে খুব সমঝোতা রয়েছে। ঊর্মি রাগী টাইপের মেয়ে, জাহেদ শান্ত টাইপের ছেলে। জাহেদ সেক্রিফাইসিং করতে জানে না, ঊর্মি সবসময়ই সেক্রিফাইস করতে জানে। ঊর্মি বেশি কথা বলে, জাহেদ কম। এসব কারণে তাদের ঝগড়া বিবাদ খুব একটা হয় না। মাঝেমাঝে টুকিটাকি জিনিস নিয়ে ঝগড়া হয়। তবে ওটা দীর্ঘসময়ের জন্য নয়। ঊর্মিই শুরু করে আবার ঊর্মিই শেষ করে। জাহেদকে কিছুই করতে হয় না। সে শুধু সময়ের অপেক্ষা করে।
.
গাছটির নিচে বসে দুজনে বেশ কিছুক্ষণ ধরে গল্প করছে। গল্পের মাঝে হঠাৎই ঊর্মি উঠে বলল,
> চলো উঠি।
- কি হল হঠাৎ?
> আমার ভাল লাগছে না। মাথাটা ঘুরাচ্ছে।
সাধারণত আমরা যখন আমাদের আপন মানুষের অসুস্থতার কথা জানতে পারি তখন বিচলিত হয়ে পড়ি। কিন্তু জাহেদের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না। হঠাৎ উঠতে বলায় চেহারায় যে বিস্ময়ের ভাব ছিল এখন সেটাও নেই। বেশ শান্তভাবেই বসে আছে জাহেদ। যাতে কিছুই হয়নি। তা দেখে ঊর্মি বেশ অবাক হয়ে গেল। জাহেদের হাত টেনে বলতে লাগল,
> কি হল উঠবে না তুমি?
জাহেদ বেশ শান্ত গলায় বলল,
- আমার জন্য এখন তুমিই সব।
.
ঊর্মি চুপচাপ বসে পড়লো। বারবার আড়চোখে জাহেদের দিকে তাকাচ্ছে। জাহেদ তার দিকেই তাকিয়ে আছে। অথচ কিছুক্ষণ আগে দুজন শুধু সামনের দিকে তাকিয়ে কথা বলছিল।
> এভাবে তাকিয়ে আছ কেন?
- যখন তুমি আড়চোখে তাকাও তখন তোমাকে অসম্ভব সুন্দর লাগে।
> সান্ত্বনা দিতে হবে না। আমি জানি আমি সুন্দর নই।
কথাটা বলে ঊর্মি অপরপাশে তাকিয়ে রইলো। মোবাইলের স্ক্রিনে নিজের চেহারা দেখতে লাগল। তার চোখ দুটো মায়াবী নয়, চেহারা কিউট নয়, গালে টোল পড়ে না, চেহারা ফর্সা নয়, লম্বা কেশ নেই। কিছুই তো নেই যা সুন্দরী বলে আখ্যায়িত করবে। কিন্তু পুষ্পার সবই আছে। চেহারায় মায়া ভাব আছে, চোখ দুটো অসম্ভব আকর্ষণীয়, লম্বা কেশ আছে। মোটকথা অসম্ভব সুন্দরী।
.
পুষ্পাকে দেখেই ঊর্মি উঠে যেতে চেয়েছিল। মেয়েটার তাদের দিকেই এগিয়ে আসছে। ঊর্মি চারপাশ বিষণ্ণতায় ভরে উঠছে। পুষ্পার তুলনায় নিজেকে অত্যন্ত তুচ্ছ মনে হচ্ছে। ঊর্মির ইচ্ছে করছে জাহেদকে নিয়ে দূর কোথাও হারিয়ে যাক। যেখানে শুধুমাত্র সে আর জাহেদ থাকবে। ধীরে ধীরে পুষ্পা তাদের দিকে আসছে। ঊর্মি জাহেদের দিকে তাকালো। জাহেদ তার দিকেই তাকিয়ে আছে। ঊর্মি তাকাতেই জাহেদ বলল,
"তোমার ঐ চোখে লজ্জা নয়,
গর্ব দেখতে চাই।"
ঊর্মি কোনো জবাব দিল। অন্য সময় ঊর্মিই অনবরত কথা বলে যায়। কিন্তু এখন নিশ্চুপ হয়ে আছে।
.
~ হাই তোমরা এখানে? (পুষ্পা)
ঊর্মি চুপ করে আছে। মনের মধ্যে আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। জাহেদ জবাব দিল,
- এইতো একটু ঘুরতে এসেছি।
~ আমরাও ঘুরতে এসেছি।
পুষ্পার পাশে একটা ছেলে আছে।
~ আমরা পাশে বসতে পারি?
- হ্যাঁ অবশ্যই।
পুষ্পা তার সাথের ছেলেটাকে নিয়ে জাহেদের পাশে বসে পড়লো।
.
ঊর্মি মাথা নিচু করে বসে আছে। পুষ্পা হল জাহেদের প্রাক্তন গার্লফ্রেন্ড। ছয় মাসের মত তাদের রিলেশন ছিল। পুষ্পাই ভেংগে দিয়েছে। তার নাকি ব্রেক দরকার। জাহেদ অনেক বুঝিয়েছিল কিন্তু পুষ্পা মানেনি। পুষ্পাকে অনেক ভালবাসত জাহেদ। পুষ্পা চলে যাওয়ার পর প্রায় ২মাস জাহেদ পড়ালেখা, বন্ধুবান্ধব সবকিছু থেকে দূরে সরে যায়। জাহেদের বন্ধু সোহেল তার এই অবস্থা দেখে বেশ কষ্ট পায়। কোনো এক মনীষী বলেছেন, নারীর কষ্ট নারীই নিবারণ করতে পারে। তাই সোহেল ঊর্মির সাথে জাহেদের সম্পর্ক করিয়ে দেয়। যাতে পুষ্পার দেয়া কষ্ট অতিক্রম করে জাহেদ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে।
.
ঊর্মিকে সোহেল ছোট থেকেই চিনে। ঊর্মি হল সোহেলের কাজিন। ঊর্মি তখন সবেমাত্র এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তি হয়েছিল। প্রেম করার জন্য পাগল হয়ে উঠেছিল। সবসময় এসে সোহেলকে বিরক্ত করত। বলত, "তোর ক্লাসের কিংবা সিনিয়র কোনো পরিচিত ভাল ছেলের সাথে আমার প্রেম করিয়ে দে না।" তা শুনে সোহেল হেসে হেসে বলত, "তোর ক্লাসে ভাল কেউ নেই?" ঊর্মি বলত, "আমি সেইম এইজ রিলেশনে বিশ্বাসী নই। সেইম এইজে ছেলে প্রতিষ্ঠিত হতে হতে মেয়ের সন্তান মামা ডাকাও শিখে যায়।"
.
প্রেমের প্রতি অতি আগ্রহী এসব মেয়েরা বিপদে বেশি পড়ে। তাই সোহেল জাহেদের সাথে ঊর্মি সম্পর্ক করিয়ে দেয়। যাতে ঊর্মি কোনো বিপদে না পড়ে আবার জাহেদও যেন পুষ্পাকে ভুলতে পারে। এক ঢিলে দুই পাখি। সোহেল ঊর্মিকে জাহেদের সম্পর্কে সবই বলে দেয়। রিলেশন করানোর সময় সোহেল ঊর্মিকে বলেছে, "এমনিতেই ও(জাহেদ) অনেক কষ্ট পেয়েছে। আর কষ্ট দিস না।"
.
আজ প্রায় আট মাস হয়ে গেছে তাদের সম্পর্কের। শুরুতেই জাহেদ পুষ্পার সম্পর্কে সব বলে দিয়েছিল। যদিও সে জানত। তবে জাহেদের মুখ থেকে শুনে বুঝল যে জাহেদ সত্যি ভাল ছেলে। নয়তো কেউ শুরুতেই এসব বলে না। পুষ্পার একটা ছবি জাহেদের মানিব্যাগে ছিল। শত হলেও তার প্রথম ভালবাসা। শুরুতে ঊর্মি জাহেদকে মন সময়ের সাথে ঊর্মি সাথে সম্পর্কের তিন মাসের মাথায় জাহেদ সেই ছবিটা পুড়িয়ে ফেলে। কারণ সে বুঝেছে ঊর্মি এই ছবিটা দেখলে কষ্ট পায়। আর কাউকে বিনা দোষে কষ্ট দেয়া অনুচিত। সেদিন থেকে তাদের সম্পর্কটা নতুন মোড়ে ঘুরেছে। জাহেদের একটা কথা আজও ঊর্মির কানে বাজে। সম্পর্কের শুরুতেই জাহেদ বলেছিল, "কাউকে ভালবাসার আগে তাকে বুঝতে চেষ্টা কর, তার কষ্টগুলো অনুভব করার চেষ্টা কর।" ঊর্মিও জাহেদকে যথাসাধ্য বুঝার চেষ্টা করে, তার কষ্টগুলো অনুভব করে। তাইতো জাহেদকে কখনো কষ্ট দিতে চায় না।
.
পুষ্পা তাদের পাশে বসে আছে। কিছুক্ষণ পরপর জাহেদের সাথে কথাও বলছে। ঊর্মি মাথা নিচু করে চুপ করে বসে আছে। জাহেদ ঊর্মির সাথে কথা বলছে। ঊর্মি শুধু হু হা করে জবাব দিচ্ছে। জাহেদ কারণটা বুঝেছে। কিছুক্ষণ পর জাহেদ ঊর্মিকে নিয়ে চলে গেল। পথ ধরে হাটছে দুজন। ঊর্মি এখনো মনমরা হয়ে আছে।
- কি হইছে তোমার?
> কিই! কিছু নাতো।
- তাহলে চুপ করে আছ কেন?
> এমনিই।
- আমি কিন্তু বুঝি সব।
> আমিও বুঝি সব। পুষ্পা ছায়াতলে ঢুকতেই তো তোমার চোখে পড়েছে তাই না?
- বাহ তোতাপাখির মুখ ফুটেছে তাহলে। এসব রাগ-ভালবাসা ওর সামনে দেখাতে পারলে না?
.
ঊর্মি আবার চুপ হয়ে গেল। একটু থেমে নিচু স্বরে বলল,
> পুষ্পা খুব সুন্দরী তাই না?
জাহেদ এবার বুঝল ঊর্মির মূল সমস্যা কোথায়। ঊর্মি নিজেকে পুষ্পার তুলনায় ছোট ভাবছে। জাহেদ ঊর্মির হাতটা ধরে বলল,
- তুমি ওর থেকে অনেক্কক্কক্কক্কক্ক বেশি সুন্দরী। যা চোখে নয়, মনে। তোমার সাথে ওর তুলনা হয় না। তবে হ্যাঁ, নিজের উপর কনফিডেন্ট রাখবা। তুমি যদি নিজেকে ছোট ভাবো তবে আমার ভালবাসাকে ছোট ভাবা হবে।
ঊর্মি কোনো উত্তর দিল না। নীরবে হাটতে লাগল। তারপর জাহেদ ঊর্মিকে তার এলাকায় পৌছে দিয়ে নিজের বাসায় চলে এলো।
.
সারারাত ধরে ঊর্মি জাহেদের শেষ কথাগুলো নিয়ে ভাবতে লাগল। নিজেকে ছোট ভাবা মানে ভালবাসাকে ছোট ভাবা। জাহেদ তাকে ভালবাসে তাই তো কথাগুলো বলল। ঊর্মি নিজেকে ভাগ্যবতী ভাবে জাহেদকে পেয়ে।
.
ঊর্মি জাহেদের জন্য ক্যাম্পাসের মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর জাহেদ এলো।
> এত দেরি কেন?
- সত্য বললে রাগ করবা নাতো?
> মিথ্যা বললে তুমি নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে।
- পুষ্পার সাথে দেখা হয়েছিল।
> দেখা হয়েছে তো কি হয়েছে?
জাহেদ ঊর্মির চোখে কোনো রকম অস্থিরতা দেখতে পেল না। জাহেদ এটাই চায়। জাহেদ বলল,
- পুষ্পাকে তো তুমি ভয় পাও তাই বলতে চাচ্ছিলাম না।
> কেন? ভয় পাব কেন?
- সেদিন তো দেখেছি পুষ্পা আসার পর তুমি একেবারে চুপসে গিয়েছিলে।
> হইছে আর বলতে হবে না।
.
জাহেদ চুপ হয়ে গেল। মুহূর্তেই জাহেদের মুখে গম্ভীর ভাব ফুটে উঠলো। ঊর্মি কিছুটা অবাক হল। ঊর্মি কিছু বলার আগেই জাহেদ শান্ত স্বরে বলল,
- তোমার জন্য আজ পুষ্পার কাছে অপমানিত হয়েছি।
ঊর্মি তো আকাশ থেকে পড়লো। আমি আবার কি করলাম যে পুষ্পা অপমান করলো? ঊর্মি বলল,
> আমি কি করেছি?
- আজ পুষ্পা জিজ্ঞেস করলো তুমি আমার কি হও? আমি বললাম আমার ভালবাসা। ও হাসাহাসি শুরু করলো। বলল, "গার্লফ্রেন্ড হলে সেদিন ওতো চুপচাপ ছিল কেন? আমার তো মনে হয়েছিল কিডন্যাপ করে এনেছিলে। তাই ভয়ে চুপচাপ ছিল।"
জাহেদের চোখমুখ বিষন্নতায় ভরে উঠলো। ঊর্মি কি বললে বুঝে উঠতে পারছে না। দোষ যে তারই।
.
নদীর পাশে কাশবনে ঘেরা স্থানটি। জাহেদ ঊর্মিকে নিয়ে ঘুরতে এসেছে। বেশ মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
> আজ হঠাৎ এখানে আনলে কেন?
- পরিবেশটা কি ভাল না?
> ভাল। তবে ছায়াতল বেস্ট। এখানে একটাও পুলিশ দেখছি না। সেইফটি কি?
- আমি আছি না?
ঊর্মি হেসে উঠলো। জাহেদ তাকিয়ে রইলো।
> চোখ নামাও।
- সে তো সরতে চাচ্ছে না।
> হইছে আর বলতে হবে না।
.
ঊর্মি ও জাহেদ কাশবনের মাঝে হাটতে লাগল। ঊর্মি আজ সারাদিন কি কি করলো তা বলে যাচ্ছে আর হেসে যাচ্ছে। জাহেদ শুধু শুনে যাচ্ছে। কথা বলতে বলতে রাস্তার পাশে এলো। সরু রাস্তা, দু পাশে কাশবন। হঠাৎ ঊর্মি পুষ্পাকে দেখলো। সাথে একটা ছেলেও আছে। তবে অন্য এক ছেলে। ঊর্মি জাহেদের দিকে তাকালো। জাহেদ আগ থেকেই জানত যে পুষ্পা এখানে আছে। ফেসবুকের পোস্ট দেখেছে। তাই জাহেদ ঊর্মিকে এখানে নিয়ে এসেছে। ঊর্মির রিয়েকশন দেখার জন্য। ঊর্মি যখন জাহেদের দিকে তাকালো। জাহেদ এমন ভাব করে হাটতে লাগল যেন সে পুষ্পাকে দেখেনি।
.
পুষ্পার চোখ তাদের দিকে পরতেই পুষ্পা ইশারায় ডাক দিল। ঊর্মি জাহেদকে ইশারা দিয়ে দেখিয়ে বলল,
> ঐ দেখ।
জাহেদ স্বাভাবিক ভাবে বলল,
- তো কি হয়েছে?
> আমাদেরকে ডাকছে। চল।
এতক্ষণ জাহেদ আস্তে আস্তে হাটছিল। কিন্তু ঊর্মির কথা শুনে থমকে দাঁড়ালো। ঊর্মি নিজে এগিয়ে এসে জাহেদকে টানতে টানতে নিয়ে যেতে লাগল। জাহেদ শুধু দেখে যাচ্ছে ঊর্মি কি করছে। ঊর্মি জাহেদকে নিয়ে পুষ্পার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সামনে যেতে যেতে ঊর্মি জাহেদের বাহুতে হাত দিয়ে হাটতে লাগল।
.
পুষ্পার সামনে এসে ঊর্মি বলল,
> হাই কেমন আছেন?
~ এইতো বেশ। তোমরা?
> আলহামদুলিল্লাহ ভাল।
~ তুমি কি জাহেদের ফ্রেন্ড? ছায়াতলেও দেখেছিলাম সেদিন।
জাহেদ কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু ঊর্মি সুযোগ না দিয়ে নিজে বলতে লাগল,
> হাজব্যান্ড ওয়াইফ।
জাহেদ চুপ করে সব দেখে যাচ্ছে। পুষ্পা অবাক হয়ে বলল,
~ কি বল! জাহেদ তো সেদিন বলেনি।
> এইতো কিছুদিন হল বিয়ের। আপনারা কি বন্ধু?
~ না। ও আমার বফ।
> ও! আমি ভেবেছিলাম ছায়াতলের সে ………
আংশিক বলেই ঊর্মি থেমে গেল। তার এই আংশিক কথা সবার মুভমেন্ট ঘুরিয়ে দিল। জাহেদ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল, পুষ্পা বিচলিত হয়ে পড়লো, পুষ্পার বফ পুষ্পার দিকে অবাক দৃষ্টিতে রইলো। ঊর্মি "আসি" বলে জাহেদের বাহুতে হাত রেখে কেটে পড়লো।
.
কিছুদূর যেতেই ঊর্মি হেসে উঠলো। জাহেদ বলল,
- এটা কিন্তু ঠিক করনি।
> চুপ। একদম ঠিক করেছি।
- কারও অপকার হোক এমন কাজ করতে নেই।
ঊর্মি জাহেদের দিকে তাকিয়ে আছে। ছেলেটা এত ভাল কেন? যারা আমাদেরকে ধোকা দেয় তাদের ওপর আমাদের একটা রাগ থাকে। কিন্তু পুষ্পার ওপর জাহেদের কোনো রাগ নেই।
- শুন, ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবে না।
ঊর্মি মাথা দুলিয়ে, "আচ্ছা" বলে জাহেদের হাত ধরে হাটতে শুরু করল।
.
ঊর্মি জাহেদের সাথে হাটছে আর জাহেদের কিছু কথা ভাবছে। জাহেদ মাঝেমাঝে বলে, মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার মনের মধ্যে থাকে, চেহারায় নয়। সেই তুলনায় ঊর্মি থেকে জাহেদ অনেক বেশি সুন্দর। এমন সুন্দর মনের মানুষ আজকাল পাওয়া যায় নাকি? ঊর্মি জাহেদের হাট ধরে মনের সুখে হাটছে। ঊর্মির এই রূপ দেখে জাহেদেরও ভাল লাগছে। মেয়েটা এখন নিজেকে তুচ্ছ ভাবে না। ভালবাসায় যে একটা শক্তি, আত্নসম্মান আছে তা এখন ঊর্মির মাঝে চলে এসেছে। আর জাহেদ এটাই চায়। ঊর্মি ও জাহেদ উদ্দেশ্যহীনভাবে হাটছে অজানা গন্তব্যে।
(সমাপ্ত)
.
আল্লাহ সবাইকেই সুন্দরভাবে সৃষ্টি করেছন। তবে সেটা সবাই বুঝে না বা সবার চোখে পড়ে না। আল্লাহর দেয়া সেই সৌন্দর্য আমরা আমাদের অপকর্ম দ্বারা নষ্ট করে ফেলি। যে মেয়ে/ছেলেকে দেখে আপনি নাক ছিটকান, সেই মেয়ে/ছেলের জন্য অন্য কেউ পাগল। সৌন্দর্য সবার চোখে এক নয়।
.
লিখাঃ Nishi Chowdhuri (রাত্রির আম্মু)
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āϏোāĻŽāĻŦাāϰ, ā§Ģ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž
4043
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
⧧⧍:ā§Ļ⧍ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ