#অদৃশ্য_ডেভিল
অংশঃ০১
লেখকঃ মনজুরুল করিম
# ১ম পর্ব
বেশ কিছুদিন ধরে খুবই খারাপ সময় যাচ্ছে,, দীপুর। রাতে ঘুম হয়না ঠিক মত। কেমন জানি ভয় ভয় লাগে তার। সবসময়ই মনে হয় রুমে অন্য কেউ আছে। বিছানায় ঘুমুতে গেলে মনে হয়, বাথরুমে কেউ গোসল করছে,, পানির শব্দ শুনা যাচ্ছে.. নতুবা রান্নাঘরে ঝনঝন শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। কিন্তু বিছানা থেকে উঠে,,, বাথরুম ও রান্নাঘরে কারো উপস্থিতি পাওয়া যায়না।
এই নিয়ে বেশ চিন্তায় আছে সে। লজ্জায় কারো সাথে কথা বলেনা... সবাই তাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে এই ভয়ে। তবে তার রাত গুলো মোটেও ভালো যাচ্ছে না। কয়েকদিন ধরে কোন রাতেই ঘুম হচ্ছেনা তার।তার রুমে অন্য কে আছে তার কিছুও জানে না সে।
গতকাল দীপু তার মায়ের সাথে ঘটনাগুলি নিয়ে আলোচনা করে।দীপুর আম্মু কিছুতেই তার বলা কথাগুলো বিশ্বাস করেননি...এসব কিছু হলে তারাও টের পেতেন। শুধু সে কেনো টের পাবে যে তাদের বাসায় অন্য কেউ আছে??
দীপু আর কোন কথাই ভাবতে পারেনা। সত্যিই তো এমন কিছু হলে শুধু সে না.. বাসার সকলেই টের পেতো!প্রতিদিনের মত দীপু খেয়েদেয়ে বিছানায় এসেছে। বালিশে মাথা লাগিয়েই পাশ থেকে মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখতে পায় রাত ১২ টা হবার ০৭ মিনিট বাকি।
কোনকিছু না ভেবেই ঘুমিয়ে যায় সে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ঘুম ভেঙে যায়। ঘুমুবার সময় রুমের লাইট অন করে ঘুমিয়েছিল ঠিকই কিন্তু এখন লাইট টা জ্বলছেনা। চারিদিকে অন্ধকার। বালিশের পাশে হাত দিয়ে মোবাইলটা হাতে নেয়।
কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে ব্যাটারি লো এর আবদার করে মোবাইলটা মূহুর্তের মধ্যে অফ হয়ে যায়। বেশ ভয় পায় সে!! বাথরুমে পানি ঢেলে গোসল করার শব্দটা স্পষ্ট শুনা যাচ্ছে। রান্নাঘরের আওয়াজটাও ক্রমশ বাড়ছে। এমন অবস্থায় তার কি করা উচিত তা কিছুতেই বুঝতে পারছেনা,, দীপু।
পরেরদিন সকালে দীপুর আম্মু তার রুমের দরজার সামনে এসে অনবরত ডাকতেছেন। কিন্তু এসব ডাকের কিছুই শুনতে পাচ্ছেনা,, দীপু। তার আব্বুও এসে ডাকতেছেন। কিন্তু ভিতর থেকে দীপুর কোন জবাব নেই... শেষমেশ অনেক সাধের দরজাটা ভেঙেই দীপুর রুমে ঢুকলেন তারা...
বেশ অবাক হন সবাই! দীপু মেঝেতে পড়ে আছে।তাকে বেহুশ মনে হচ্ছে। তবে এখনো তার শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে। বেশি কিছু হয়নি তার। মুখে পানি ছিটিয়ে দিতেই তড়িঘড়ি করে উঠে বসে সে।নিজে থেকেই অবাক হয় "দীপু"। তাকে ঘিরে বাসার সবাই এভাবে বসে আছে কেনো? সবাই দীপুর দিকে হা হয়ে থাকিয়ে আছে দেখে সে নিজেই প্রশ্ন করে,, " কি হয়েছে আমার?"
তার এই প্রশ্নে সবাই অবাক। এ ছেলে কেমন ছেলে নিজের কি হয়েছে নিজেই জানেনা... আস্তে আস্তে গতরাতের কথা মনে হতে থাকে দীপুর।বাথরুমে কে গোসল করছে এটা দেখতেই বিছানা থেকে নেমেছিল সে। আস্তে আস্তে পা বাড়াচ্ছিল বাথরুমের দিকে। ঠিক তখনই কাঁদের উপর একটা শীতল হাতের স্পর্শ পায় সে। পিছনে ফিরে থাকাতেই ভয়ে তার হিসু করে দেবার মত অবস্থা। অন্ধকারে কাউকেই দেখতে পায়নি.. শুধু একটা উষ্ণ শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ অনুভব করতে পেরেছিল সে। তার পর তার সাথে কি হয়েছে এর কিছুই বুঝতে পারেনি....
তার এই ঘটনা পরিবারের যাকেই বলেছে সেই বানোয়াট বলে বিশ্বাস করেনি। "দীপু" ভাবছিল তার এই কাহিনীগুলো বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবে। কিন্তু যেখানে পরিবারের লোকজন এটা বানোয়াট বলে হাসাহাসি করে সেখানে বন্ধুরা কি এসব বিশ্বাস করবে?উল্টো তারা আরো বেশি হাসাহাসি করবে। তাই বন্ধুদের সাথেও এই কথা গুলো শেয়ার করা হয়নি...
তবে প্রতিদিন রাতেই তার সাথে এরকম ঘটনা ঘটে। কিন্তু পরিবারের কেউই এসব বিশ্বাস করতো না। কারণ বানিয়ে বানিয়ে কথা বলা ফাহিমের অনেক পুরনো স্বভাব। এজন্য পরিবারে তার আলাদা একটা নিকনেম ছিলো,,"বিশ্ব বেঈমান"। অবশ্য সেটা সবাই আদর করেই বলতো... তাই তার সত্য কথাগুলোও কেউ বিশ্বাস করে না।
পরিবারের কেউই যখন দীপুর কথায় বিশ্বাসী না তখন দীপু বাধ্য হয়েই বন্ধুদের কাছে তার সাথে হয়ে যাওয়া কাহিনী গুলো শেয়ার করে...
দীপুর বন্ধু বলতেই,, "ফাহিম", "ইশান" "তানভির", "রিমু" "হাসান","অহনা" এরাই ছিল। তারা সকলেই খুব কাছের বন্ধু ছিলো। একজনকে ছাড়া অন্য জনের চলেই না এমন অবস্থা!!
দীপু যখন বন্ধু মহলে তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিলো তখন সাথে সাথেই "অহনা" আর "রিমু" হেসে উঠে। কারণ এরা দুজনেই ভূতে বিশ্বাসী না।তাছাড়া ভৌতিক কোন গল্প শুনলে এদের ভয়ের চেয়ে হাসিই বেশি পায়।
এরা দুজন হাসলেও,, ফাহিম, ইশান,, তানভির,, হাসান এদের কারো মুখে কোন হাসি নেই। "দীপু" বেশ অবাক হয়। এখানে তো এই চারজনের হাসাহাসির কথা বেশি ছিলো কিন্তু তারা হাসছে না কেনো??
কলেজের সব ক্লাশই শেষ। রিমু আর অহনা এখন লাইব্রেরীতে আছে। তানভিত,, ইশান,, ফাহিম,, হাসান আর দীপুরা মিলে ক্যাম্পাসে আড্ডা দিচ্ছে...
- দোস্ত,,, তোর সাথে কি সত্যিই এমন হয়?(তানভির)
- হ্যা% দোস্ত এমনই হয় প্রতিরাতে।(দীপু)
- কি বলিস?? আমার সাথেও এমন হয়। (তানভির)
- আরে!! আমার সাথেও তো এমন হয়। (ইশান)
হাসান আর ফাহিমের ও একই জবাব আমাদের সাথেও এমন হয়। প্রতিরাতেই রুমে অন্য কারো উপস্থিতি টের পাই!!!
সকলেই খুব ভয় পেয়ে যায়। তাদের সকলের সাথে একই ধরনের ঘটনা একসাথে কেমনে হয়??
# ২য় পর্ব
ফাহিম,, তানভির,, ইশান,, হাসান,, দীপু সবাই খুবই অবাক হয়!! তাদের সবার সাথে একই ঘটনা কেমনে ঘটে?? এর কিছুই বুঝতে পারেনা কেউই। তবে একই ঘটনা সবার সাথে ঘটে ঠিক আছে... একই সময়ে কেমনে সম্ভব??
সবাই বেশ চিন্তিত। ততক্ষণে "অহনা" এবং "রিমু" লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে আসে।তারা আসার পরেই সবার বাসার দিকে রওয়ানা দেয়। অহনা আর রিমুর মুখে হাসি থাকলেও বাকি সবার চেহারায় কোন হাসি নেই।কারো মুখে কোন কথাই নেয়। দীপু কথা বলতে চাইলেও অহনা আর রিমু হাসাহাসি করবে বলে আর কোন কথাই বলা হয়নি।
বিকেলে খেলার মাঠে দেখা হয় সবার। বেশ টানটান উত্তেজনা সকলের মাঝেই।এলাকার সব ছেলেই খেলতেছে কিন্তু তারা ০৫ বন্ধুর খেলার প্রতি কোন আকর্ষণই নেই আজ। অন্যান্য দিনগুলোতে সকলের আগে তারাই খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতো। কিন্তু আজ কেনো জানি খেলার প্রতি কারোর মন নেই...
সকলের নিরবতা ভেঙে ফাহিম কথা বলতে শুরু করে ,
- আচ্চা,, আমাদের সাথে এমন হয় কেনো? (ফাহিম)
- সেটা যদি জানতাম তাহলে কি এম্পন হতে দিতাম?(তানভির)
- তাও ঠিক। কিন্তু কেনো এমন হচ্ছে এর পিছনে নিশ্চয় কোন কারণ আছে.. ( ইশান)
- ব্লা,, কারণ টা কি সেটাই কেউ জানোনা। (দীপু)
-আমার মনে হয় এটা নিশ্চয়ই কোন প্রেতাত্মারর কাজ হবে। (হাসান)
হাসানের এ কথা শুনে সবাই হেসে উঠে। এই যুগেও সে প্রেতাত্মায় বিশ্বাস করে! সবাই যখন হাসাহাসি করছে তখন "দীপুর" মনে অন্য চিন্তা!! হাসানের কথা সত্যিও তো হতে পারে.... সূর্য্যটা রক্তিম রঙ ধারন করতে শুরু করেছে ইতিমধ্যে। অন্যান্য দিনগুলোতে কখনো কখনো রাত ১১/১২ টা পর্যন্ত সবাই আড্ডা দিতো। কিন্তু এখন সবার মনে অজানা ভয় জড়ো হয়ে গিয়েছে।তাই সন্ধ্যা নেমে আসার আগেই সবাই বাড়ি ফিরে যায়.....
বাড়িতে গিয়েই দীপু রুমের দরজা টা খুলে রাখে। অন্যান্য দিন গুলোতে সে তার রুমের দরজা/জানালা সব বন্ধ করেই রুমে পড়তে বসতো। কিন্তু আজ আর রুমের দরজা/জানালা কিছুই বন্ধ করেনি। টেবিলে বসে রসায়ন ২য় পত্র বইটা হাতে নেয়। কিন্তু ভয়ের কারণে কিছুই মাথা দিয়ে ঢুকে না তার।
বাধ্য হয়েই বাংলা বই হাতে নিয়ে ১৮ বছর বয়স কবিতা টা বার বার পড়তে শুরু করে "দীপু"। কবিতা টা পড়লে মনে অন্যরকম সাহস পাওয়া যায় বলেই হয়তো আজ বার বার একই কবিতা পড়ছে সে...এমনিই বাংলা সাহিত্যে তার এলার্জি,, মাইকেলের উগ্র শব্দে লিখা কবিতাগুলো পড়ে মাথা ছানাবড়া হয়ে যায়। মনে হয় এই কবিতা গুলোর চেয়ে পদার্থ আর রসায়নই অনেক ভালো.......
কিছুক্ষণের মধ্যেই আম্মু চা নিয়ে আসেন তার জন্য। চা-বিস্কিট খেয়ে আবার পড়তে মন দেয় দীপু। বেশিক্ষণ পড়তে পারেনি সে। মাথায় কেমন জানি ব্যথ্যা করছে তার। দু-হাত নিচে দিয়ে তার উপরে মাথা রেখেই টেবিলে ঘুমিয়ে পড়ে সে....
বেশকিছুক্ষণ পরে ঘুম ভাঙে তার। নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করে সে।
মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখতে পায় রাত ১২ টা বেজে ১২ মিনিট। অনেকটা মাথা ব্যথ্যা কমেছে তার। তবুও কেমন জানি তার মনে ভয় কাজ করছে।টেবিলে ঘুমিয়েছিল কিন্তু বিছানায় আসলো কিভাবে? হয়তো আম্মু অথবা আব্বু টেবিল থেকে উঠিয়ে বিছানায় নিয়ে এসেছেন ভেবেই মন কে সান্ত্বনা দেয় সে...
পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা! রাতে খাওয়া হয়নি.. কিন্তু এখন রুম থেকে বের হয়ে খেয়ে আসতে মন চাইছে না। কোন রকমে বিছানা থেকে উঠে রুমের লাইট টা জ্বালাতেই অবাক হয় দীপু !!
তার জন্য টেবিলেই খাবার রাখা আছে,,, তাও আবার বেশ সুন্দর করে সাজানো আছে। আম্মু খাবারটা টেবিলে রাখলেও এতো সুন্দর করে সাজিয়ে রাখতেন না। এটা নিশ্চয়ই ছোট বোনের কাজ.....
পেটে ক্ষুধা নিয়ে কিছুটা খুশি হয়েই টেবিলে রাখা খাবার গুলো গলাধঃকরণ করে সে। কিন্তু তার খুশি বেশিক্ষণ ঠিকলো না। খাওয়ার পরেই হাত ধুতে হবে। তাছাড়া অনেক আগের রেখে যাওয়া খাবার খেয়ে পেটেও গুড়গুড় শব্দ আসছে,,,, তার মানে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে এখন তাকে অতি তাড়াতাড়ি বাথরুমে যেতে হবে....
বাথরুমের কথা মনে হতেই সেই শব্দ গুলা তার মনে হতে থাকলো। এতক্ষণ বাথরুমের কথা মাথায় আসেনি তাই কোন শব্দও শুনতে পায়নি। কিন্তু এখন বাথরুম থেকে পানি টালার শব্দটাও স্পষ্ট শুনা যাচ্ছে।
কিন্তু এখন ভয় পেলে চলবে না প্রচন্ড চাপ পেটে,,,, তাই মনে কিছুটা সাহস নিয়েই সে বাথরুমের দিকে পা বাড়ায় সে। যতই বাথরুমের দিকে যাচ্ছে ততই শব্দটা বাড়ছে...
বাথরুমের দরজা খুলতেই দীপু দেখতে পায় কে যেনো শাওয়ার টা ছেড়ে দিয়েছে,,,, নিচে একটা বালতি রাখা উপর থেকে বালতিতে পানি পড়ছে আর তাতেই শব্দ হচ্ছে। শাওয়ার টা বন্ধ করতেই শব্দটাও উদাও হয়ে যায়। দীপু তার কাজ শেষ করে রুমে ঢুকবে তখনি লক্ষ্য করে যে বাথটাব টা পানি ভর্তি....
স্বভাবত সে কখনো বাথটাবে গোসল করে না।তাছাড়া তার বাথরুমে অন্য কেউ আসে না।কে এত রাতে গোসল করবে এখানে?? ভাবতেই আবার ভয় লাগে দীপুর। ভয়ে ততড়িঘড়ি করে সে বাথরুম থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলো সে... কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও বাথরুমের দরজা খুলছেনা। কে যেনো রুমের ভিতর থেকেই দরজা টা লাগিয়ে রেখেছে।বাথরুমের লাইট টাও অফ হয়ে গিয়েছে হঠাৎ। অনেক্ষণ চেষ্টা করেও দরজাটা খুলতে পারেনি সে...
তাই বাধ্য হয়েই আম্মু-আব্বু বলে চিৎকার করতে শুরু করে সে।
দীপুর চিৎকার শুনে তার আম্মুর ঘুম ভাঙে। পাশের রুম থেকে তিনি যখন আসলেন ততক্ষণে দীপু বাথরুমের ভেতর বেহুঁশ হয়ে পড়েগিয়েছে।তিনি এসে বাথরুমের দরজা টা খুলাই পেলেন..
# ৩য় পর্ব
দীপুর কি হয়েছে তা কেউই বুঝতে পারেনা। কেনই বা হয়েছে সেটাও জানা নেই কারো। পরিবারের সবাই দীপুর এমন অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে যান। এই নিয়ে দু'বার দীপুর সাথে এমন ঘটনা ঘটেছে।
পরের দিন সকালে সাধারণ ভাবেই জ্ঞান ফিরে দীপুর।গতরাতের কথা জানতে চাইলেই দীপু কিছু বলতে পারেনা।ভয়ে তার মুখ থেকে কোন আওয়াজ আসেনা। শুধু "ভূত" বলেই থেমে যায় সে...
দীপুর অবস্থা এখন অনেকটাই ভালো। কিন্তু বন্ধুদের কার কি অবস্থা সেটা সে জানে না। মোবাইলটা হাতে নিয়েই ফোন দেয় "ফাহিমের"কাছে। তার অবস্থাও দীপুর মতোন। বাকিদের কাছে ফোন দিলে সকলের একই উত্তর... "আমাদের সাথেও গত রাতে অদ্ভুত কাণ্ড ঘটেছে। "
কিন্তু হাসানের মোবাইলে ফোন দিলেও ধরছে না। বিষয়টা বেশ চিন্তায় ফেলে দেয় দীপুদের। দীপু,, ফাহিম, ইশান, তানভির মিলে হাসানের বাসায় যায়।বাসায় কেউ নেই।দরজায় একটা ঝুলন্ত তালা দেখতে পাওয়া যায়। পাশের বাসার লোকদের জিজ্ঞাসা করে তারা বলেন,,, পরিবারের ছোট ছেলেকে সকালে তার রুমে বেহুঁশ অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে,, তাই সবাই তাকে ডাক্তারে নিয়ে গেছে। ""
পরিবারের ছোট ছেলে?? হাসানরা দুই ভাই। সেই ছোট। তার মানে হাসানকে গতরাতে তার রুমে বেহুঁশ অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। পাশের বাসার চাচার কাছ থেকে হাসপাতালের ঠিকানা নিয়ে সবাই হাসানকে দেখতে চলে যায়।
হাসানের আম্মু দীপুদের দেখেই কান্না ধরলেন। তার ছেলের সাথে এসব কি হচ্ছে তিনি কিছুই জানেন না। আজ সকালেই হাসানকে তার রুমের ভিতর বেহুঁশ অবস্থায় দেখতে পান তিনি।তার বিছানা আর বইপত্র সবই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা ছিল আর হাসান মেঝেতে পড়ে আছে.... অনেক চেষ্টা করেও যখন তার জ্ঞান ফিরেনি তখন তারা বাধ্যে হয়েই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
দীপুরা হাসপাতালে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই হাসানের জ্ঞান ফিরে। তার মুখে কোন কথা নেই,,, শুধু "ডেভিল" বলে ছোট্ট করে একটা আওয়াজ দিতে শুনা গেলো।
"ডেভিল" শব্দটা শুনে কেউই তেমন অবাক হয়নি। কয়েকদিন আগে কলেজে তার সব বন্ধু মিলে "ডেভিল" নিয়ে কিছু গবেষণা করেছিল। তাদের দলে,,, দীপু, হাসান, ফাহিম, তানভির, ইশান, রিমু ও অহনা ছাড়াও আরো একটা বন্ধু ছিল। তবে সেই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে কয়েকদিন আগেই।যার মৃত্যু হয়েছে সেই ছেলেটির নাম ছিলো,, "রবিন"।
কিছুক্ষণের মধ্যে "হাসান" পুরোপুরিভাবে কথা বলতে শুরু করে। তার আম্মু দীপুদের হাসপাতালে রেখে বাসায় চলে যান। হাসানের আম্মু চলে গেলে সবাই মিলে হাসানকে উঠিয়ে বেডে বসিয়ে রাখে। তার পর সবাই মিলেই সে বেডে বসেই গল্প শুরু করে। বন্ধুদের পেয়ে হাসান এখন অনেকটা সুস্থবোধ করছে।
হাসানের জন্য তার আম্মু টিফিনে করে অনেক খাবার ও ফলমূল নিয়ে এসেছিলেন। সেগুলোই সবাই ভাগ করে খাচ্ছে। তবে হাসানের ভাগ্যে খাবারের কানাকড়িও মিলে নি। যেখানে সে রোগী সেখানে তার খাবারই অন্যরা মিলে খাচ্ছে অথচ তাকেই খাওয়াচ্চেনা...
দুপুরেই হাসপাতাল থেকে হাসানকে বাসায় নিয়ে আসে সবাই। বিকেলে খেলার মাঠে দেখা করবে বলে হাসানের বাসা থেকে বিদায় নেয়,, দীপুরা। আজ আর কলেজে যাওয়া হয়নি.....
বিকেলে সবাই খেলার মাঠেই একসাথে বসে আড্ডা দিতে আরম্ভ করে। আজ কারোর মুখে বেশি কথা নেই।সবাই কেমন জানি নিশ্চুপ। অন্যকোন দিন যদি তারা এভাবে আড্ডা দিতে বসতো তবে তাদের চিৎকারে মাঠে অন্যরা খেলতেই পারতো না। আজ সবাই একটু বেশিই নিরব!
সকলের নিরবতা ভেঙে "ফাহিম" কথা বলতে শুরু করে,,
- আমাদের সাথে প্রতিদিন এভাবে একটা করে অদ্ভুত কান্ড ঘটতে দেওয়া যায় না। এর একটা বিহিত করতেই হবে।(ফাহিম)
- কি করবো শুনি?(দীপু)
- আমাদের সাথে এমন কেনই বা হচ্ছে তা খুঁজে বের করতে হবে আগে..(ফাহিম)
- শুনেছি যদি কাউকে খুন করা হয় তবে তার আত্মা এসে প্রতিশোধ নেয়। ( তানভির)
- ধুর!! আমরা আবার খুন করলাম কোথায়??(ফাহিম)
- "রবিনের" মৃত্যু কি খুন ছিলনা??( ইশান)
- হ্যা% তার মৃত্যুর জন্য আমরাই তো দায়ী। তবে সেটা আমরা ছাড়া কেউই জানে না। ( তানভির)
- তাহলে কি "রবিনের" আত্মা আমাদের সাথে তার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিচ্ছে??(দীপু)
দীপুর কথায় সকলের মুখে কিঞ্চিত হাসি দেখা যায়। শতহোক তারা আত্মায় অন্তত বিশ্বাস করবে না। কারণ তারা সবাই জানে যে আত্মা বলে কিছু হয়না। তাছাড়া আত্মা বলে কিছু হলেও তা রবিনের আত্মা হতে যাবে কেনো?? আর আত্মার প্রতিশোধ নেয়া সেটাতো এ যুগে নাটকীয় ঘটনা।
মুখে হাসি থাকলেও ভিতরে ভিতরে সবাই ভয় পাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু সেটা বাহিরে প্রকাশ করছে না কেউই।সন্ধ্যা নেমে আসায় সবাই যার যার বাসায় ফিরে যায়। তবে আজ সকলেরই কেমন জানি পুরনো দিনের কথা গুলো মনে হচ্ছে বারবার। তাছাড়া রবিনের কথাও মনে হচ্ছে সকলের।
রবিন,, তাদেরই বন্ধু ছিলো। ছেলেটা যেমন লেখাপড়ায় ভালো ছিল তেমনি অন্যান্য বিষয় গুলোতেও ভালো ছিল। রহস্য, গোয়েন্দা, আর ভৌতিক বিষয় গুলোতে "রবিনের" অন্যরকম আকর্ষণ ছিলো।
কয়েকদিন আগে দীপুরা ডেভিল নিয়ে যে গবেষণা করেছিল সেটার শুরুই হয়েছিল "রবিনের" হাত ধরে। কিন্তু মাঝখানে রহস্যময়ভাবে "রবিনের" মৃত্যু হয়ে যায়। রবিনের মৃত্যু সকলের কাছে আজও রহস্য হয়ে আছে। তবে দীপু, ফাহিম, ইশান, তানভির আর হাসান তার মৃত্যুর পুরো রহস্যটাই জানে....
বলতে গেলে তারাই "রবিন" কে খুন করেছিল.....
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ