যাদুকারী রাজকুমারী
পর্ব-৫
.সিয়াম আহমেদ।
রাজপুত্র একবার এপাশ একবার ওপাশ করে।কিছুতেই
ওর চোখে ঘুম আসে না।ব্যাঙরূপী যাদুকরী
রাজকন্যা চীনাংশুকের বালিশে মাথা দিয়ে শুয়ে মিটমিট
করে দেখে,
কখন ঘুমে চোখ বুজে আসে ইরাবানের। মাঝরাত
প্রায় নিঘুমে পার হয় দেখে শেষে ভানুমতী
নিদ্রা-যাদু প্রয়োগ করে।
এবার আর কি করে না ঘুমিয়ে পড়ে জেগে
থাকবে ইরাবান? ও ঘুমোলেই ছদ্মরূপ ছেড়ে
ভানুমতী নিজের রূপ ধরে ঘুমিয়ে পড়ে।
এইভাবে দিন যায়,রাত কাটে।চাঁদ ক্ষয় হতে হতে
একদিন মিলিয়ে যায়, অমাবস্যার আকাশে তারা ফুটফুট
করে।
যাদুতে ঘুমে অচেতন ইরাবানের পাশে জেগে
বসে থাকে যাদুকরী। জানালা দিয়ে আকাশের
ছায়াপথের দিকে চেয়ে চেয়ে তার চোখ
জলে ভরে যায়।
কতকাল সে নিজের মাকে বাবাকে দেখতে পায় নি!
সেই যাদুরাজ্যের রাজপ্রাসাদ, সখাসখীরা, শোভন-
উদ্যান,সভাগৃহ-স্বপ্নের মতো মনে পড়ে তার।
আসে শুক্লপক্ষ। রাজপুত্তুরের ছট-ফটানি বাড়ে।
এখন যাদুপ্রয়োগেও ওকে ঘুমপাড়াতে বেশ কষ্ট
হয় ভানুর। চতুর্থীর রাতে সম্পূর্ন ভেঙে পড়ে
ইরাবান।
পরদিন যে তার ব্যাঙ বৌকে রাজসভায় গিয়ে
আদবকায়দায় পরীক্ষা দিতে হবে! এদিন আর না
বলে পারলো না ইরাবান।
কিন্তু শেষে বললো,"যদি ওরা তোমায় অপমান
করে বৌ, তাহলে আমি তক্ষুণি তোমায় নিয়ে এই
রাজ্য ছেড়ে চলে যাবো।"
ব্যাঙ ওকে বলে,"তুমি চিন্তা কোরো না রাজপুত্র।
সেসব কিছু হবে না।তুমি রাজপুত্র, তুমি
সেজেগুজে আগে একা যাবে। ওরা জিজ্ঞেস
করলে বলবে,
বৌ পরে আসবে। জানেই সবাই যে মেয়েদের
সাজতেগুজতে একটু বেশী সময় লাগে। পরে
যখন কড় কড়াৎ করে শব্দ হবে খুব জোরে, সবাই
ভয় পেয়ে যাবে,
তখব বোলো,"ও কিছু নয়, আমার ব্যাঙ বৌ এলো
কৌটোয় চড়ে।" পারবে তো বলতে?
রাজপুত্তুর ঘাড় হেলিয়ে বলে, "হ্যা, পারবো।"
ধীরে ধীরে লোকজন আসতে আরম্ভ
করলো। প্রথমে বড়ো রাজপুত্র তার স্ত্রীকে
নিয়ে,তারপরে মেজো রাজপুত্র তার বৌকে
নিয়ে,তারপরে গুটি গুটি পায়ে ইরাবান,নতমুখ।
"সে কি রে,তোর বৌকে আনলি না?"বড়দা জিজ্ঞাসা
করলো।
"সে আসছে,একটু পরে।"কোনোরকমে
বললো ইরাবান।
দেখতে দেখতে ঘন্টা কেটে গেল,এরপর
রাজার আদেশে বড়ো টেবিলে খাবার পরিবেশন
যেই শুরু হয়েছে, সকলে পানীয়ের গ্লাসে
চুমুক দিয়েছে মাত্র,
এমন সময় ঘড় ঘড়াম ঘড়াম্ম্ম করে ভীষন
আওয়াজে সকলে কেঁপে ওঠে। রাজামশাইএর ভুরু
কুঁচকে ওঠে। "কিসের আওয়াজ?"
ইরাবান আস্তে আস্তে আস্তে ভয়ে ভয়ে
বলে,"ও কিছু না,আমার ব্যাঙ বৌ বুঝি এলো কৌটোয়
চড়ে।"
রাজসভাগৃহের সমস্ত সোনারূপাহীরাজহর
তের ঝালকানিকে নিষ্পভ্র করে দিয়ে দুয়ার
ঠেলে প্রবেশ করে এক অপরূপা রাজকন্যা।
আকাশের মতো নীল তার শাড়ী,তাতে অসংখ্য
তারার চুমকি বসানো।
তার চুলে পম্পাসরোবরের ঢেউ,তার
মধ্যরাত্রিনীল দুচোখের তারায় উজ্বল আলোর
কারুকাজ।তার দুইটি বাহু পুষ্পিত লতার মতো, তার চলা
উর্মিল।
সকালবেলাকার শ্বেতপদ্মের মতো সুন্দর তার মুখ,
তাতে আনন্দের জ্যোতি।
রাজকন্যা এসে রাজামশাইকে প্রণাম করে
বলে,"পিতা, আমি আপনার কনিষ্ঠা পুত্রবধূ। আপনার
আশীর্বাদ চাই।
" অতি মধুর সুরেলা তার কন্ঠস্বর। রাজামশাই ভারী
খুশী হয়ে আশীর্বাদ করেন।
এরপর রাজকন্যা তার ডানহাত নড়ায়, নীলশাড়ীর আঁচল
ওড়ে, সভার ডানপাশে দেখা দেয় আশ্চর্য সুন্দর
এক সরোবর। তাতে কলহংসেরা খেলা করে
বেড়ায়।
রাজকন্যা তাঁর বাঁহাত নাড়ায় , সভার বাঁপাশে সৃষ্টি হয় এক
তুষারাবৃত পর্বত, তাতে ঝর্ণারা স্তব্ধ হয়ে আছে।
হাতে তালি দিতেই ঝর্ণাগুলি প্রাণ পেয়ে ঝরঝর
করে ঝরে পড়তে থাকে সে যাদুপাহড়
বেয়ে,নদী হয়ে বয়ে যায়-যাদুসরোবরে এসে
মেশে।
রাজারানী খুব খুশী,অন্যরাও খুশী,শুধু ইরাবানের দুই
দাদা আর তার বৌরা খুশী নয়। রাজারানী তাদের এই
যাদুকরী পুত্রবধূকে আদর করে নিমন্ত্রণ
খাওয়াচ্ছেন,
এমন সময় দেখা গেল ইরাবান সভায় নেই।
চমকে উঠে ভানুমতী রাজার অনুমতি নিয়ে প্রায়
দৌড়ে এলো তার মহলে। এসে দেখে যা সর্বনাশ
হওয়ার তা হয়ে গেছে।
ইরাবান ভানুমতীর রেখে যাওয়া ব্যাঙের ছালটা
পুড়িয়ে দিয়েছে। সে বুঝতেই পারেনি কি করে
বসেছে।সে ভাবছে বেশ বাহাদুরির কাজ
করেছে।
ভানু কপাল চাপড়ে মাটিতে পড়ে কাঁদতে লাগলো
একেবারে একটা বাচ্চা মেয়ের মতো। ইরাবান
বিস্মিত।
একটু পরে ভানুমতী বললো,"এ কী করলে
রাজপুত্র? এক বছর এইভাবে ব্যাঙ সেজে থাকতে
পারলেই আমার অভিশাপের মুক্তি হতো।
তুমি সেটুকু ধৈর্য ধরতে পারলে না ইরাবান? তোমার
প্রাসাদে তোমার রানী হয়ে সারাজীবন আমি
সুখে থাকতে পারতাম।কিন্তু এখন? আর উপায় নেই।
এখুনি আমাকে নিয়ে যাবে অমর। সে আমাকে
বন্দী করে রাখবে। সে বড়ো নিষ্ঠুর। আর
আমার মুক্তি হবে না।"
ইরাবান এসে জড়িয়ে ধরলে রাজকন্যাকে।
বললো, "কে তোমাকে নিয়ে যাবে
রাজকুমারী? কেউ নিয়ে যেতে পারবে না।মিথ্যে
তুমি ভয় পাচ্ছো ভানুমতী।
দেখো, এই তো আমি। চোখ মোছো। কেন
তুমি কাঁদছো?"
কিন্তু তখনি একটা দারুণ ঝড় এলো,তার মধ্যে
থেকে হা হা হা হা করে একটা বিকট হাসি ভেসে
এলো। ঝড়ের ধাক্কায় উল্টে পড়ে গেলো ওরা
দুজন।
বিদ্যুত্ চমকে উঠলো আকাশে, ভীষন বজ্রের
ধ্বনি কানে তালা লাগিয়ে দিলো প্রায়। ভয়ে ইরাবান
চোখ বন্ধ করলো। ঝড় থামলে যখন রাজপুত্র
উঠে বসলো,
তখন ঘরে সে একা।রাজকুমারী ভানুমতী আর
কোথাও নেই।
ইরাবান দৌড়ে গেলো বাগানে। না সেখানো কেউ
নেই। ছুটে গেল, কহ্লারসরোবরের
ধারে,সেখানেও কেউ নেই।ছুটে গেল তার
প্রাসাদের ঘরে ঘরে,
না ভানুমতী কোথাও নেই। এবার কাপাল চাপড়ে
মাটিতে পড়ে নিজেই কাঁদতে লাগলো সে।কেন
সে না জেনে বোকার মতো---
কিন্তু সেই রাত্রির পরে ভোর হলো। ইরাবান
যোদ্ধার পোশাকে তার প্রিয় ঘোড়া তুরীয়ানের
পিঠে বসে বেরিয়ে এলো বাইরে।
রাজপ্রাসাদে গিয়ে সব বললো বাবামাকে। তারপরে
বাবার অনুমতি নিয়ে বেরিয়ে পড়লো। হারিয়ে যাওয়া
ভানুমতীকে উদ্ধার করে আনার জন্য।
সে জানে এ কাজ কঠিন, খুবই কঠিন। তবু সে এও
জানে, যে একাজ না করে তার আর কোনো উপায়
নেই।
দিনের পর দিন সে চলে আর চলে আর চলে।
কোথায় যাবে, কিভাবে খুঁজবে,কাকে জিজ্ঞাসা
করবে,কিচ্ছু জানেনা।তবু চলে।
তার তুরীয়ানকে ছুটিয়ে নিয়ে চলে রাজ্য থেকে
রাজ্যান্তরে। সকাল থেকে সন্ধ্যা হয়, সূর্য অস্তে
নামে, ক্লান্তি এসে ইরাবানকে আর তার
তুরীয়ানকে আচ্ছন্ন করে।
তারা থামে, পথের ধারের কোনো সরাইখানায়
আশ্রয় নেয়। রাত্রিটা সেখানে কাটিয়ে আবার পরদিন
ভোরে চলা শুরু করে।
এইভাবে পার হয়ে যায় অনেকদিন।একদিন দুপুরবেলা
এক নদীর ধারে ইরাবান দেখে একজন
জটাজূটধারী সাধু বসে আছেন।
সেদিন খুব গ্রীষ্ম, ইরাবান অত্যন্ত ক্লান্ত ও
তৃষার্ত বোধ করছিল। তুরীয়ানেরও মুখে ফেনা
উঠে গেছিল। নদীর ধারে থেমে নদীর জল
পান করে দুজনেই একটু সুস্থ হলো।
এবার রাজপুত্তুর সাধুর কাছে গিয়ে তাঁকে প্রণাম
করে মাটিতে বসলো একটু বিশ্রাম করবে বলে।
সাধু নিজে থেকেই বললেন, "কী চাও তুমি বত্স?"
রাজপুত্র মুখ তুলে খুব ক্লান্ত গলায় বললো,"আমি
একজনকে খুঁজছি। বহুদিন ধরে। আমি কি সফল
হবো?"
সাধু হেসে বললেন,"জানি তুমি কাকে খুঁজছো।"
রাজপুত্র দারুণ অবাক হয়ে গেছে, বললো,"আপনি
জানেন? কাকে খুঁজছি?"
সাধু বললেন,"তুমি খুঁজছো তোমার স্ত্রী,
যাদুকরী রাজকুমারী ভানুমতীকে। কী, আমি ঠিক
বলেছি?"
ইরাবান সাধুর পায়ে লুটিয়ে পড়ে বললো," আপনি
আমায় দয়া করুন। আমারই ভুলে আমি তাকে হারিয়েছি।
বলুন কি করলে তাকে ফিরে পাবো?"
সাধু বললেন,"তুমি সব কথা জানোনা। জানো কি
যাদুকরী ভানুমতী জন্মেছিল তার বাবা যাদুসম্রাটের
চেয়েও বেশী যাদুজ্ঞান নিয়ে? তাই তার বাবাই
তাকে অভিশাপ দেন।
সে ব্যাঙ হয়ে যায়। পরে তা থেকে মুক্তির উপায়ও
একটা ঠিক হয়। সেই পথেই সব চলছিল।কিন্তু তুমি ওর
ছদ্মবেশ আগে ভাগে পুড়িয়ে দিয়ে গন্ডগোল
করে ফেলেছ।
এখন তাকে নিয়ে গেছে অমর কাশ্যপ। সে
ওকে বন্দী করে রেখেছে অত্যন্ত সুরক্ষিত
জায়গায়। সেখানে পৌঁছনো অত্যন্ত কঠিন, প্রায়
অসম্ভব।"
কঠিন প্রতিজ্ঞার গলায় ইরাবান বলে,"যতো কঠিনই
হোক, আমাকে সেখানে যেতেই হবে।দয়া
করুন সাধুবাবা।পথ বলে দিন।আমাকে প্রায়শ্চিত্ত
করতে দিন।"
ইরাবান এত কাতরভাবে অনুনয় করছে দেখে
সাধুবাবার মন গলে জল। তিনি ওকে পথ বলে দিলেন
অমর কাশ্যপের সুরক্ষিত পুরীতে পৌঁছনোর।
আরো বলে দিলেন,"শোনো রাজপুত্তুর। মন
দিয়ে শুনে নাও। অমর কাশ্যপের প্রাণ আছে
ছোট্টো এক সোনার সূচের ডগায়। সেই সূচ
আছে এক ডিমের ভিতর।
সেই ডিম আছে এক হাঁসের পেটে। সেই হাঁস
আছে এক খরগোসের পেটে আর সেই
খরগোস আছে এক বিরাট বটগাছের কোটরে।
সেই গাছ নিত্যদিন পাহারা দেয় অমর,তার চোখের
মণির মতো।যদি সেই দুরূহ সূচ উদ্ধার করে তার ডগাটা
ভেঙে ফেলতে পারো তবেই কাশ্যপ মরবে।
একমাত্র তাহলেই ভানুমতীর মুক্তি।"
.
চলবে।
যাদুকারী রাজকুমারী
৬ শেষ পর্ব
সিয়াম আহমেদ।.
.
শুনে ইরাবানের মনটা একটু দমে গেল।পারবে কি
এত সাংঘাতিক কঠিন শর্ত পালন করে উদ্ধার করে
আনতে তাকে?
তবু সে মনে মনে সাহস সঞ্চয় করে
বললো,"আশীর্বাদ করুন, যেন সফল হই।"
সাধুবাবা দুহাত তুলে আশীর্বাদ করলেন তাকে।
রাজপুত্র ঘোড়া চড়ে রওয়ানা হলো রাজকন্যা
উদ্ধারে।
পথে প্রথমে পড়লো কনকনে ঠান্ডা তুষারের
নদী। সেই ঠান্ডা সহ্য করে ওপারে পৌঁছে
পড়লো এক গহন জঙ্গল।
অসংখ্য হিংস্র বন্যজন্তু সমাকীর্ন সে জঙ্গল পার
হয়ে পড়লো এক বিশাল উঁচু পাহাড়।
সেই পাহাড়ের পাদদেশে বসে ইরাবান যখন বিশ্রাম
নিচ্ছে তখন ধেয়ে এলো এক বিরাট ভল্লুক।
তাকে মারতে যখন ইরাবান অস্ত্র তুলেছে,
সে কাতর অনুনয় করে বললো,"মেরো না
মেরো না রাজপুত্তুর। হয়তো কখনো আমি
তোমার কোনো উপকার করতেও পারি বা।"
রাজপুত্রের দয়া হলো।
সে ভল্লুককে চলে যেতে দিলো।
এবার ঘোড়া নিয়ে এগোতে এগোতে পথে
পড়লো এক খরগোস।তাকে মারতে গেলেও
সে মানুষের গলায় বললো,"মেরো না মেরো
না রাজপুত্তুর।
হয়তো আমি কোনোদিন তোমার কোনো
উপকার করতে পারি।" রাজপুত্তুর তাকেও ছেড়ে
দিলো।
সেইদিন সন্ধেবেলা এক বিরাট উপত্যকার কাছে
পৌঁছে রাজপুত্র দেখলো, আকাশে অনেক হাঁস
উড়ছে।
খিদেও পেয়েছিল খুব রাজপুত্রের, ধারে কাছে
দোকানপাটও কিছু ছিলনা। তাই রাজপুত্তুর
ভাবলো,"একটা হাঁস মেরে রোস্ট করে খেলে
কেমন হয়?"
ভেবে যেই না তীর ধনুক তুলেছে হাঁস মারবে
বলে,অমা এক হাঁস অমনি মানুষের গলায় বলে কিনা,
" রাজপুত্তুর যদি তুমি হাঁস না মারো,তাহলে
কোনোদিন আমি তোমার কোনো বড়ো
উপকার করবো।" ইরাবান অবাক হয়ে তীর ধনু
নামিয়ে ফেললো,
মাটিতে উষ্ণীষের শয্যা পেতে শুয়ে সেই
রাতে অনাহারেই সে নিদ্রা গেলো।
পরদিন আবার ঘোড়া চড়ে সে চললো। চলে আর
চলে, চলে আর চলে। অবশেষে পৌঁছলো
সমুদ্রতীরে। সেখানে এক বিরাট পাইক মাছ শুয়ে
ছিল সমুদ্রতীরের বালিতে।
ক্ষুধার্ত রাজপুত্র যেই না তাকে মারতে গেছে
অমনি সে বললো,"মেরো না গো,
ভালোমানুষের ছেলে। কি জানি হয়তো
কোনোদিন আমি তোমার কোনো উপকার
করবো।
" দয়ালু রাজপুত্র তাকে জলে ছেড়ে দিলো।
আরো বহুদিন অনেক পথ চলে সে অবশেষে
পৌঁছালো কাশ্যপের পুরীতে। দূর থেকেই
দেখতে পাচ্ছিল সেই বিরাট বটগাছ।
কিকরে সে গাছের কোটর থেকে
খরগোসকে বার করবে ভেবে ভেবে মাথা
কুটছে, এমন সময় কোথথকে এসে উদয় হলো
সেই ভল্লুক।
সে তিনলাফে গাছের কাছে পৌঁছে কোটরের
ভিতরে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে বার করে আনলো
খরগোসটাকে। কিন্তু খরগোস ভল্লুকের মুঠো
ছাড়িয়ে ছুট দিলো খুব জোরে।
রাজপুত্র হায় হায় করছে, অমনি সেই পুরানো বন্ধু
খরগোস এসে ছুটে পিছু নিল পলাতক
খরগোসের। সেই গিয়ে ঘাড়ে কামড়ে ধরলো
খরগোসটার।
রাজপুত্র যেই গিয়ে তলোয়ার দিয়ে
খরগোসটাকে কেটেছেন অমনি তার পেট
থেকে হাঁস বেরিয়ে উড়ে গেলো আকাশে।
এবার আকাশের দিকে তাকিয়ে রাজপুত্র কপাল
চাপড়াচ্ছেন, অমনি রাজপুত্রের সেই বন্ধু হাঁস এসে
এই হাঁসের পিছু নিল।
বন্ধু হাঁস যেইনা গিয়ে এই পলাতক হাঁসের ঘাড়ে
পড়েছে, অমনি এই হাসের পেট থেকে ডিম
খসে পড়লো নীচে সমুদ্রে।জলে ডুবে
গেলো তা।
এবার আর কোনো আশা নেই ভেবে রাজপুত্র
জলের ধারে বসে কাঁদছেন অমনি জল থেকে
মাথা তুললো সেই পাইক মাছ। ডিমটা তার মুখে ধরা।
রাজপুত্র তো আহ্লাদে আটখানা। অনেক ধন্যবাদ
দিয়ে ডিমখানা নিয়ে পাথরে ঠুকে ভাঙলো
রাজপুত্তুর। সেই ছোট্টো সূচখানা জ্বলজ্বল
করে উঠলো আলোয়।
রাজপুত্র ডগাটা ভেঙে ফেলে পাথরের টুকরো
দিয়ে ঘষে ঘষে চূর্ণ করে ফেল্লেন। তার
সঙ্গে ধ্বংস হলো অমর কাশ্যপ।
এবার রাজপুত্র চললেন কাশ্যপের পুরীতে।
সেখান থেকে বন্দিনী রাজকন্যা ভানুমতীকে
উদ্ধার করে নিয়ে চললেন নিজ রাজ্যে।
যেদিন তারা রাজারানী হিসাবে অভিষিক্ত হলো,
সেইদিন রাজ্যের সমস্ত লোকতো নিমন্ত্রিত
হয়েছিলই, তাদের সঙ্গে খুশীভরা মনে যোগ
দিয়েছিল সেই বন্ধু ভালুক,
হাঁস, খরগোস আর পাইক মাছ।
তারপরে? তারা সুখে শান্তিতে সংসার করেছিল বহু বহু
বছর।
.সমাপ্ত,
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ