,,,,,,,,,, ,""" রুপকথার গল্প,,"""
,
,মরিচকলি,,
,
,
,
,,,পর্ব-1
,
সিয়াম আহমেদ।
.
এক বনে দুই বুলবুল পাখি ছিল । তারা সারাদিন গান গাইত,
আর নাচত,
আনন্দে সারা বন ভরে রাখত। একদিন বুলবুল-বউ
বলল:- “ওগো, আমার বড্ড কাঁচালঙ্কা
খেতে ইচ্ছে করছে। কোথায় ভাল কাঁচালঙ্কা পাওয়া
যায় বলোতো? (টিয়া, চন্দনা,বুলবুল-
এরা খুব লংকা খেতে ভালোবাসে জানো বধহয়?
ওদের ঝাল লাগে না) বুলবুল-বর তো তক্ষুনি উড়ে
চলল কাঁচালঙ্কার খোজে।
উড়তে, উড়তে,উড়তে- লংকাবাগান আর খুজে পায় না।
সারা জঙ্গলে একটা লংকা গাছও নেই। কাছাকাছি গাঁয়ে
কেউ লংকাখেত করেনি।
তারা মিষ্টি খেতে ভালোবাসে। যদি বা কোথাও
উটকো একটা লংকাগাছ দেখতে পায়, হয় সব লংকা
পেকে লাল টুকটুক করছে, নয় মোটে ফলই
ধরেনি;
ছোট সাদা সাদা তারাফুল ধরেছে ।
শেষে ক্লান্ত হয়ে বুলবুল-বর একটা খুর উচু পাঁচিল
দেখতে পেয়ে তার উপর বসল । পাঁচিলের ভেতর
চেয়ে দেখে, আরে! কী সুন্দর বাগান ।
কত ফল, কত ফুল, কী সুন্দর পাহাড়, তাতে নীল ঝরনা
বইছে আর ফুলের গন্ধে ম-ম করছে বাতাস । কিন্তু
জনপ্রাণী নেই। পাখি জাকছে না।
প্রজাপতি উড়ছে না। মৌমাছি গুনগুন করছে না। এমনকী
একটা পিঁপরের পর্যন্ত দেখা নেই।
এ কি রকম বাগান রে বাবা? বুলবুল তো অবাক! এটা
করেছেই বা কে? সেই মানুষরাই বা গেল কোথায়?
ভাবছে ভাবছে, এমন সময় হঠাৎ দেখে, বাগানের
মধ্যিখানে, বাঃ চমৎকার একটা লংকাচারা, ঝলমল করছে
রোদে!
কী সুন্দর পাতা তার । আর একটি মস্তবড় কচি সবুজ
কাঁচালঙ্কা বাতাসে দুলছে, সবচেয়ে ওপরের ডাল
থেকে ।
তার গা-টি যেমন চকচকে তেমন মোটাসোটা ।
তেমনই তাজা-টাটকা।
কাঁচালঙ্কাটি এমন নিখুঁত, কেউ যেন তাকে ধুয়ে-মুছে
পালিশ করে সাজিয়ে রেখেছে । ওটা দেখেই
বুলবুলের সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেল ।
সে একমিনিটেই বউয়ের কাছে পৌঁছে গিয়ে
বউকে সঙ্গে করে নিয়ে এল বাগানে । দুজনে
মিলে পেট পুরে খেয়েও লংকাটি ফুরোলো না।
ওরা প্রায়ই উড়ে আসে, আর কাঁচালঙ্কাটি একটু একটু
করে খেয়ে যায়। কেউ কিছু বলে না। খেয়ে-
দেয়ে বুলবুল-বউ খুব খুশি।
গাছকে ধন্যবাদ জানাতে একটি অপূর্ব সবুজ পান্নার
মতো দেখতে ডিম পেড়ে লংকাগাছের নিচে
রেখে দিয়ে
দুই বুলবুল উড়ে ফিরে গেল নিজের বনে।
এদিকে হয়েছে কী, বাগানটা ছিল এক জিন-এর ।
জিনদের কথা জানো তো ?
দানো আর কী। ঠিক ভূতও নয়, আবার ঠিক দৈত্যও নয়।
মাঝামাঝি মতন। এই জিন ঠিক বারো বছর ঘুমোয় আর
বারো বছর জেগে থাকে। যখন জেগে থাকে
তখন সে মন দিয়ে বাগান করে। কিন্তু কোন জ্যান্ত
প্রাণী ভয়ে
তার বাগানে ঢোকে না । জিন তো জীবজন্তু খায়?
তা ছাড়া যাদুর খেলা জনে, যদি কোনও ক্ষতি করে
দেয়?
বুলবুলরা না জেনে ঢুকেছিল। বুলবুলরা তো
লংকাখেয়ে ডিম পেড়ে চলে গেছে, এমন সময়
জিন-দানোর ঘুম ভেঙেছে।
সে বিরাট হাই তুলে আড়মোড়া ভেঙে তার বাগানের
খবরদারি করতে বার হল।
অত আহ্লাদের পোষা লঙ্কাগাছের কাছে গিয়ে
দেখে লংকাফলটি ছিন্নভিন্ন, , কে তাকে খেয়ে
গেছে।
জিনের খুব মন খারাপ হয়ে গেল। কে খেল ? কে
খেল ? কেউ তো নেই । কেউ তো আসে না।
হঠাৎ দেখে
গাছের তলায় ঠিক হিরে-পান্নার মতো একটা পাখির ডিম
ঝলমল করছে। কী সুন্দর! জিন ডিমটা দেখে মুগ্ধ।
তাড়াতাড়ি তুলে যত্ন করে তুলোয় মুড়ে কুলুঙ্গিতে
রাখল। ডিমটা পেয়ে সে তার লংকার দুঃখ ভূলে গেল।
রোজ সে ডিমটার দেখাশোনা করে।
একদিন সকালে দেখে কী..ডিম ফেটে দুখানা
হয়েছে। আর কুলুঙ্গির মধ্যে বসে আছে
জগতের সবচেয়ে
রুপসী ছোট্ট মেয়েটি। কী রুপ, কী রুপ। গারা
গায়ে সবুজ পান্নার গয়না, পরনে রেশমি সবুজ ঘাঘররা ।
সবুজ ওড়না, সবুজ চোখের তারা । আর তার তলায় একটি
মস্ত পান্নার লকেট, ঠিক সেই কাঁচালঙ্কাটির মত
দেখতে ।
মানূষখেকো হলে হবে কী, জিন আসলে
বাচ্চাদের খুব ভালবাসত। খুদে এই মেয়েটাকে
দেখে তার আর
আনন্দ ধরে না। সে তার নাম রাখল মরিচকলি। কাঁচালঙ্কার
নামে তার নাম।
মরিচকলিরি যখন বারো বছর বয়স হয়, জিনের মনে খুব
ভাবনা হল, এবার তো সে ঘুমিয়ে পড়বে, তার
আদরের মরিচকলিকে কে দেখবে?
বারো বছর কী করে বাঁচবে সে !!
ঠিক সেই দিনেই সে দেশের রাজা আর
মনন্ত্রীমশাই বনে এসেছেন মৃগয়া করতে। উঁচু-
পাঁচিল ঘেরা বাগান দেখে এত
কৌতুহল হল তাদের যে , ঘোড়া বাইরে রেখে পাঁচিল
ডিঙিয়ে তারা ভিতরে ঢুকল। ঢুকেই দেখেন
লংকাগাছের পাশে মরিচকলি
বসে বসে মালা গাঁথছে।
রাজা বললেন ,:- মন্ত্রী একেই তো রানি করতে
হবে।
মন্ত্রী বললেন”- বেশ, বেশ।
মনের আনন্দে তখন মরিচকলিকে সেই কথা গিয়ে
জানালেন তারা।
এদিকে মারিচকলি তো কখনো মানুষ দেখেনি ।
সেও রাজার রুপ দেখে মোহিত, মুগ্ধ। কিন্তু সে
বলল,
আমি তো কিছু বলতে পারব না, আমার বাবা জিন যাকে
বলবেন আমি তাকেই বিয়ে করব।
এমন সময় জিনের পয়ের ধুপধাপ শব্দ পেয়ে
মরিচকলি তাড়াতাড়ি রাজামশাইদের ঝোপের আড়ালে
লুকিয়ে ফেলল ।
জিনমশাই এসেই বললেন, ”হাউমাউখাউ, মানুষের গন্ধ
পাউ!! “
মরিচকলি বললেন , “তাহলে আমাকেই খাও।”
জিন বললেন , “তা কখনো পারি মামণি? তোমাকে
খেয়ে ফেললে তো চুকেই যেত আমার ভাবনা।
এই যে আমি ঘুমিয়ে পড়ব, বাারো বছর ধরে কে
তোমাকে দেখবে?
মরিচকলি বললেন, “এক কাজ করো না বাবা, আমার বরং
একটা বিয়ে দাও। তা হলে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা
দেখবে!”
জিন বললেন , “দেব তো বিয়ে, কিন্তু পাত্র পাই
কোথায়? তোমার যোগ্য পাত্র কি রাজবাড়িতে ছাড়া
মিলবে?”
তখন মরিচকলি বলল, “ যদি তোমার কাছে রাজবাড়ির
পাত্র এনে দিই, তুমি তার সঙ্গে আমার বিয়ে দেবে
তো? কথা দিচ্ছ?”
ঘটাং করে ঘাড় নেড়ে জিন কথা দিয়ে দিল তক্ষুনি ।্
মরিচকলি হেসে উঠে অমনি হাততালি দিল, আর
ঝোপের আড়াল থেকে
বেরিয়ে এল রাজামশাই । মাথায় মুকুট, গলায় গজমোতির
মালা, কোমরে তলোয়ার। সঙ্গে মন্ত্রী।
জিন তো মনেরর মতো পাত্র দেখে মহা খুশি ।
তক্ষুনি হইহই করে সম্প্র্রদান করে ফেলল।
আনন্দে সে কী তারর হেঁড়ে গালায় গান!
মেয়ের বিয়ে-টিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে জিন তার
গাছতলায় গিয়ে শুয়ে পড়ল।
আ-হ্ । বারো বছেরের মতন এখন একটানা
ঘুমোনোর কথা তার। কিন্তু হল কি? মেয়ে শ্বশুরবাড়ি
চলে যাচ্ছে, এই দুঃখে
মানুষখেকো জিনেরও বুকের মধ্যেটা কেমন
তোলপাড় করছে। জিন তো ঘুমোচ্ছে না? শুয়ে
শুয়ে কত কোটি কোটি
ভেড়া, কত হাতি ভাল্লুক গণ্ডার গুনে ফেলল, তবু ঘুমই
আসছে না চোখে।মেয়ের জন্য ভেবে
ভেবে মন এতই অস্থির হয়ে
পড়ল যে, শেষটায় “ধুত্তোর” বলে জিন উঠেই
পড়ল। আর থাকতে না পেরে, একটা সাদা পায়রা
সেজে উড়েই গেল
মেয়ের পিছন-পিছন। কেঁদে কেঁদে তখন তার
চোখদুটি ফুলে লাল!
অত উচু থেকে মেয়ের মুখখানি আর দেখতেই
পায় না। কী করে?
তখন জিন বুদ্ধি করে নেজেকে পয়রা থেকে
ঈগল পাখিতে বদলে নিল।
কেন না চিল, ঈগল এদের চোখের দৃষ্টি খুপ
তীক্ষ্ন, অনেক দূর থেকে দেখতে পায়।
এবার সে দেখতে পেল, মেয়ে হেসে
হেসে রাজার সঙ্গে গল্প করতে করতে ঘোড়ায়
চড়ে মস্ত এক প্রাসাদের মধ্যে ঢুকে পড়ল।
পাশে পাশে মন্ত্রীমশাই। এবার সে নিশ্চিন্ত হয়ে
ফিরে এসে বারো বছরের মত ঘুমিয়ে পড়ল।
এদিকে রাজার বাড়িতে একগাদা হিংসুটে বুড়ি থাকত। তারা
মরিচকলিকে একদম পছন্দ করত না। কেমন করে
ওকে তাড়ানো যায় তাই
ভাবতে লাগল তারা।
,
একদিন ......
# রূপকথার গল্প
,
মরিচকলি
,
পর্ব-2, (শেষ)
সিয়াম আহমেদ
একদিন মরিচকলির কোলে খুব সুন্দর ফুটফুটে সাদা
নোটন-পয়রার মতন একটি রাজপুত্র জন্মাল।
তার রুপে রাজপুরীতে যেন হাজার-হাজার বতি
জ্বলে
উঠল, রাজপুত্তুর এমনই রুপবান। রাজামশাই খুব খুশি।
মরিচকলিকে আরও আদরযত্ন করতে লাগলেন।।
দেশসুদ্ধু লোক আনন্দ করছে--কেবল রাজবাড়ির
হিংসুটে বুড়িরা ছাড়া । তারা মা-ছেলে দুজনকেই হিংসে
করতে শুরু করে দিল।
হিংসে করলে হবে কী, মরিচকলিরর গলায় যে
মরিচমানিক রক্ষাকবচ ঝোলে, তারই জন্যে ওরা
মরিচকলির কিছুতেই কোনও ক্ষতি
করতে পারে না। কাঁচালঙ্কার মতন দেখতে সেই
যে ওর গলার পান্নার লকেট, সেইটেই হচ্ছে
মরিচমানিক রক্ষাকবচ ।
একদিন হল কী, মরিচকলি স্নান করতে গিয়ে গলার
হারটা খুলে কলঘরে ফেলে এসছে। হিংসুটে বুড়িরা
তক্ষুনি সেটা চুরি করে নিয়ে নিল।
তারপর গভীর রাত্তিরে মরিচকলির শোবার ঘরের
মধ্যে একটা মস্ত বটি হাতে করে পা টিপে টিপে
ঢুকে পড়ল।
ঢুকে দেখে, সোনার প্রদীপে ঘিয়ের
সলতেটি
নিবু নিবু, ছোট্ট রাজপুত্রকে নিয়ে মরিচকলি ঘুমিয়ে
আছে।
কোনও আড় নেই, সাড় নেই। বুড়িরা তখন রাজপুত্তুর
কে বটি দিয়ে কেটে কুচি কুচি করে, মরিচকলির কচি
ঠোটে
অনেকটা আলতা মাখিয়ে দিয়ে যেমন চুপি চুপি
এসেছিল, তেমনি চুপি চুপি চলে গেল।
পরদিন সুয্যি ওঠার আগেই তারা গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে
রাজাকে ঠেলে তুলল। -- ও রাজামশাই উঠুন উঠুন
সব্বোনাশ হয়েছে!
হাউমাউ কান্না শুনে রাজা বললেন, কী হয়েছে?
কী হয়েছে?
আর কী হয়েছে? দানো-জিনের চেয়ে
কখনও
মানুষ হয়? সেও জিন দানো। দেখুন গিয়ে যান
নিজের চোখে।
নিজের ছেলেকে নিজেই খেয়ে
ফেলেছে-
মাঝরাত্তির ঘুমের মধ্যে,কচমচিয়ে। ঠোটে রক্ত
একনও লেগে আছে।
রাজা তো শুনেই দৌড়ে গেল। মরিচকলি তখনও
অঘোর ঘুমুচ্ছে। কাক ডাকেনি, আলো
ফোটেনি।
রাজা ঘরের দৃশ্য দেখেই মনের দুঃখে
কেঁদে ফেললেন। একেই তো অমন সুন্দর
রাজপুত্তুর এই দশা। তার ওপরে অমন যে মিষ্টি
মেয়ে মরিচকলি, আসলে তার এই রুপ?
হায় দৈব!!! সোজা সভায় এসে রাজা বললেন ,
“কোটাল, রানিকে এক্ষুনি বনের মধ্যে নিয়ে
গিয়ে
কোতল করে ফেল।
কী সর্বনাশ!! জিন দানো নিয়ে তো রাজ্য চলবে
না। প্রজাদের ক্ষতি হবে।
রাজা যতই বউকে ভালবাসুক, সে তো মানুষ নয় ।
মানুষ
খেকো! কোটাল মশাই আর কী করেন ?
ব্যাপারটা
তার বিশ্বাস হচ্ছিল না, তবু রাাজাার
আদেশ বলে কথা। চোখের জল চাপতে চাপতে
কোটাল মশাই মরিচকলিকে শেকল পরিয়ে সেই
বনের মধ্যে নিয়ে গিয়ে কোতল করে ফেলল।
ছেলের দুঃখে মরিচকলি এতই কাঁদছিল যে, সে
কিছুই
বলল না। মরিচকলির কোনও কথা কেউ শুনল না।
তার মরিচমানিক রক্ষাকবচ তো বুড়িরা বিশ বাঁও জলের
তলায় ছুড়ে ফেলে দিয়েছে, কে আর রক্ষা
করবে?
মরিচকলিকে যেই না কোতল করা, অমনি বনের
মধ্যে ঘটতে লাগল আশ্চর্ সব ঘটনা । মরিচকলিরর
ফরসা শরীরটুকু একটা উচু শ্বেতপাথরে পাঁচিলল
হয়ে
গেল,
তার জলভরা চোখদুটি হল টলমলে সরোবর, তার
সবুজ ঘাঘরা হল সবুজ ঘাস, সবুজ ওড়না হল নরম লতাপাতা,
তার লাল টুকটুকে ঠোঁটদুটি হল গোলাপফুল, তার
দাতগুলি ধবধবে জুইফুল ।
এই অপূরব বাগানটিতে মরিচকলির প্রাণ একজোড়া
বুলবুল পাখি হয়ে বাসা বেধে রেইল। এই বুলবুল
পখিরা
সারাদিন মরিচকলির
দুঃখের কাহিনি গাইত, ছোট্ট রাজপুত্রের শোকে
কাঁদত। আর রাজার নাম ধরে ডাকত।
রাজামশাই এদিকে মরিচকলিকে শাস্তি দিলেও, তারই
শোকে পাগলের মতো হয়ে ঘুরেন বনে
বনে। একদিন বনের মধ্যে এই উঁচু
শ্বেতপাথরের
দেওয়ালটা
দেখতে পেলেন। তার মনে পড়ল, এমনি একদিন
এক পাঁচিল ডিঙিয়ে তিনি মরিচকলিকে পেয়েছিলেন।
এটাও কী ভেবে ডিঙিয়ে তিনি বাগানের মধ্যে
ঢুকলেন।
না এখানে কোনও লংকাগাছ নেই। কিন্তু নরম সবুজ
ঘাস, ঝলমলে লতাপাতা, বংচঙে গোলাপ, গন্ধভরা জুই,
জলটলমলে সরোবরের ঠান্ডা
বাতাস রাজার শরীর মন সব জুড়িয়ে দিল। বাগানের
বাতাস
যেন রাজার নাম ধরে আদর করে ডাকছে। তারপর
তিনি
বুলবুল পাখির গান শুনতে পেলেন।
ছোট্ট রাজপুত্রের শোকে তার মা আকুল হয়ে
কাঁদছে। শুনতে পেলেন একটি বুলবুল পাখি বলছে,
“রাজা কি অন্ধ? রাজা কি কালা? রাজার কি মন নেই?
এ কেমন রাজা? হায় মরিচকলি রাজা তোমাকে
পেয়েও পেল না।”
তার উত্তরে বুলবুল-বউ বলছে, “রাজা যে খুব
অন্যায়
করে ফেলেছেন। এখন তিনি যদি বিশ-বাও জলের
নীচে ডুব দিয়ে মরিচমানিক উদ্ধার করে এনে
আমাদের দুজনকে বুকে ঠেকিয়ে দিতে পারেন,
তাহলেই ছেলে-বউকে ফিরে পাবেন । হিংসুটে
বুড়িরা ওর ছেলেকে মারার আগে ওটা রাজবাড়ির
দিঘিতে
ফেলে দিয়েছে।
বুলবুলিদের সব কথা শুনে সব বুঝতে পারলেন রাজা।
তার দুঃখ দুগুন বেড়ে গেল । তিনি তক্ষুনি ছুটে
গিয়ে
রাজবাড়ির দিঘিতে ঝাপ দিয়ে পড়ে
বিশ-বাও জলের নীচে থেকে মরিচমানিক তুলে
আনলেন। তারপর ছুটতে ছুটতে সেই বাগানে
ফিরে
গেলেন।
এবার রাজাকে দেখেই বুলবুল পাখিরা উড়ে এসে
তার
হাতে বসল। তাদের বুকে মরিচমানিক ঠেকিয়ে
দিতেই রাজা দেখেন জ্যান্ত
রাজপুত্র কোলে করে জ্যান্ত মরিচকলি তারর
সাামনে
হাসিমুখে দাড়িয়ে আছে। রু প যেন ফেটে
পড়ছে।
বাগানের সব কুড়িগুলো ফুল হয়ে ফুটে উঠল।
রাজা মরিচকলির কাছে মাফ চাইলেন। মরিচকলি বলল,
এখন ওসব কথা থাক।
এমন সময়ে জিনমশায়ের ঘুম ভাঙল। ঠিক বারো বছর
কেটেছে। সে তক্ষুনি ঈগল-পাখি সেজে
মেয়ের খোজে আকাশে ডানা মেলল।
রাজবাড়ির কছে এসে দেখল বনের মধ্যে নতুন
একটি বাগান। তার মধ্যে রাজার কোলে মরিচকলি,
মরিচকলির কোলে রাজপুত্র,
তিনজনের মুখেই হাসি ধরে না। আর পাচিলের
বাইরে
একগাদা হিংসুটে বুড়ি জরো হয়ে গুজগুজ ফুসফুস
ষড়যন্ত করছে।
অমনি , ‘হাউ মাউ খাউ হিংসুটের গন্ধ পাউ” বলে জিন
বাবাজি
সবকটা বুড়িকে খেয়ে ফেলল।তারপর বিরাট এক
ঢেকুর তুলে,
পাঁচিল টপকে বাগনে ঢুকল মেয়ে-জামাই -নাতিকে
আশীরবাদ করতে।
এতবড় ঘটনাটা যে ঘটে গেল, ছোট্ট রাজপুত্র
কিন্তু কিছুই জানতে পারল না। সে যেমনটি মায়ের
কোলে ঘুমিয়ে পড়েছিল, তেমনি
মায়ের কোলে জেগে উঠেছে। এত কান্ড
সে
বেচারি জানবে কেমন করে?
(সমাপ্ত)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ