সময়→রাত ১টা বেজে ১৫মিনিট......
.
প্রত্যেক রাতের মতো আজও অ্যালার্মের আওয়াজে ঘুম ভাঙ্গে হৃদয়ের।বিছানা ছেড়ে উঠে চোখ ডলতে ডলতে বাথরুমে যায় ফ্রেশ হতে। ফ্রেশ হয়ে এসে বিছানায় রাখা লাল শার্ট, কালো প্যান্ট ও সাদা ঘড়ি পড়ে রেডি হয়।
.
আনুমানিক রাত প্রায় ২টা ....
তিন'টা লাল গোলাপ হাতে নিয়ে হৃদয় ঠিক এই মুহূর্তে একটা শুনশান জায়গার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।শীতের রাত... চারপাশের পরিবেশ কুয়াশাতে ঘেরা, কাছের কয়েকটা ছোটখাটো ল্যাম্পপোস্ট ছাড়া দুর দুরান্তের প্রায় কিছুই স্পষ্ট করে দেখা যাচ্ছেনা।
.
এরকম একটা সময়ে হৃদয় জোরে বলে উঠলো,
--আম্মু আব্বু তোমরা কোথায়?দেখো আমি এসে পড়েছি....তোমাদের ছেলে দেখা করতে চলে এসেছে. .....
কথাটা বলার পর পরই দূরে কোথাও থেকে জোড়ালো কন্ঠের একটা আওয়াজ হৃদয়ের কানে ভেসে এলো,
--তুই এসেছিস বাবা!!....জানিস কতক্ষন ধরে আমরা দুজন তোর অপেক্ষায় ছিলাম?
.
এই কুয়াশা ঘেরা রাতের আধারে... আগর বাতির গন্ধযুক্ত ধোয়া উপেক্ষা করে দূর থেকে দুটো মানুষ একটু একটু করে এগিয়ে আসছে হৃদয়ের দিকে।রাজ্য জয় করা হাসি দিয়ে অধীর আগ্রহে মানুষ দুটো'র কাছে আসা দেখছে হৃদয়।
.
চোখের পলকেই দুজন হাটতে হাটতে হৃদয়ের সামনে এসে দাঁড়ায়।মানুষ দুটো'র চোখে মুখে গাঢ় প্রশান্তির হাসি। প্রতিটাবারের মতো আজও হৃদয় খেয়াল করে দেখলো.. সাদা পাঞ্জাবি- সাদা শাড়িতে ওর আব্বু-আম্মুকে এককথায় অসম্ভব সুন্দর দেখাচ্ছে।উজ্জ্বল আলোর আভা যেন তাদের দুজনের শরিরকে একপ্রকার ঢেকেই রেখেছে।
.
.
সাদা শাড়ি পরা মহিলাটি( হৃদয়ের আম্মু)হৃদয়ের পাশে এসে দাড়ায়। আদর করে নিজের ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। শীতের ঠান্ডা পরিবেশে মায়ের উষ্ঞ হাতের স্পর্শ পেয়ে হৃদয়ের শরির শিউরে(ঝাকি দিয়ে) উঠে ।অন্যদিকে সাদা পাঞ্জাবি পরা লোকটিও (হৃদয়ের আব্বু)ঠিক একইরকম ভাবে হৃদয়ের ভালোমন্দ খোঁজখবর. ... ইত্যাদি নিতে থাকে।
.
এভাবে বেশ কিছুক্ষন কথা বলার পর একপর্যায়ে এসে হৃদয় বলে ,
--আব্বু -আম্মু এই দেখো কি নিয়ে এসেছি...তোমাদের জন্য লাল গোলাপ!(পকেট থেকে বের করে) আমাকে গত এক সপ্তাহ ধরে তোমরা এই ব্যাপারটা নিয়ে বলছিলে । বাট তোমরা তো জানোই এই শীতের টাইমে গোলাপের মতো ফুল খুব কম ফোটে,মিলাই ভার..... খুজতে খুজতে একটা দোকানে পাই তারপর সেখান থেকে অনেক কস্টে ম্যানেজ করে আনি ।"এই নাও" বলে হৃদয় দুইটা গোলাপ দুজনকে দেয়।
.
(হৃদয়ের মা-বাবা একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে থেকে মুচকি হাসতে থাকে)এটা দেখে...
--কি অদ্ভুত..! তোমরা এভাবে হাসছো কেন?
--হৃদয়!!আমরা অতটা বোকা নই,সবই বুঝি।তোকে দুইটা আনতে বলেছিলাম তুইতো দেখি তিনটা এনেছিস।আরেকটা কার জন্যে?নিশ্চয় অন্য কারো জন্যে??
--হৃদয়ের আম্মু কি যে বলো না তুমি....অন্য কারো জন্য হতে যাবে কেন এটা তো আমাদের বৌমা নীলার জন্যে.!!কি রে তাইনা?
.
(কথাটা শুনে ভীষণ লজ্জা পায় হৃদয়।লজ্জা পেয়ে অন্যদিকে মুখ লুকিয়ে নেয়)
--হয়েছে হয়েছে!! আর শরম পেতে হবেনা,আমি আর তোর আব্বু এখানে আশেপাশেই আছি।তুই বরং যা আমার বৌমার সাথে দেখা করে আয়।তুই আসবি আসবি বলে কত লেট করলি!! মেয়েটা অনেকক্ষন ধরে অপেক্ষা করছে তোর জন্য।যা জলদি।
--আচ্ছা আচ্ছা, আম্মু যাচ্ছি।
.
.
.
.
.
.
রাত ৩টা....
হৃদয় আশেপাশে নীলাকে খুজছে।খুজতে খুজতে একটা টাইমে এসে খেয়াল করে... লেকের ধারের বড় বট গাছটার নিচে.... সাদা ড্রেস পড়া কেউ একজন আনমনা হয়ে বসে আছে।বুঝতে বাকি নেই ওখানে কে বসে আছে।আস্তে আস্তে সেদিকটায় যায় হৃদয়।
--সরি?আসতে একটু লেট করে ফেললাম !!(পিছন থেকে দাঁড়িয়ে)
--ইটস ওকে,আমি কিছু মনে করিনি।(নীলা)
--সত্যি বলছো তো??..!!
--হ্নম,এখন পিছনে এভাবে দাঁড়িয়ে না থেকে আমার পাশে এসে বসো।সারাদিনের জমানো অনেক কথা বলার আছে।আর হ্যা বাসা থেকে এখানে আসতে তোমার এত সময় লাগে?
--কি করবো বলো?আজকে অনেক টায়ার্ড ছিলাম তো... তাই একটু বেশি ঘুমিয়ে নিয়েছি।
--ওহ,এখন থেকে একটু আগে আগে ঘুমানোর অভ্যাস করবে বুঝলে? এতোরাতে একা তোমার জন্য এখানে অপেক্ষা করে বসে থাকতে আমার ভয় করেনা বুঝি?
--হেই...আমি এসে গেছি তো!!আচ্ছা ছাড়ো..এই দেখো তোমার জন্য আমি কি নিয়ে এসেছি।
--কি নিয়ে আসছো?
--আগে চোখ বন্ধ করো ....
--চোখ বন্ধ করাটা কি খুব জরুরী?
--প্রশ্ন না করে চুপচাপ চোখ বন্ধ করোতো।
(নীলা চোখ বন্ধ করে ফেলে)
--এই নাও বন্ধ করলাম চোখ. ...
(হৃদয় পকেট থেকে শেষ গোলাপ ফুল টা বের করে নীলার হাতে দেয় )
--এইটা?(হাতে পাপড়ির স্পর্শ পেয়ে)এইটা আমার জন্য?(নীলা)
--হুম আমার সুইট ওয়াইফ এর জন্য এই শীতের রাতে আমার পক্ষ থেকে সামান্য একটা লাল গোলাপের শুভেচ্ছা দিলাম।
--ইশশশ.....আমার সুইট বর থ্যাংক ইউ..! এখন আমার সাথে এখানে বসে চুপচাপ গল্প করো।
--আচ্ছা,ঠিক আছে।
--আর হ্যা জানো হৃদয়?তোমাকে ছাড়া আমার একা অন্ধকারে থাকতে খুব কস্ট হয়।প্রত্যেক রাতে আমি সবসময় এই মুহূর্তটার জন্য অপেক্ষা করি কখন তোমার দেখা পাবো, তোমার সাথে ২-৪টা ভালমন্দ কথা বলবো।
--আমি এসে গেছি তো!এখন তোমাকে আর ভয় পেতে হবেনা।
.
.
আনুমানিক রাত প্রায় ৪টা.....
(সব আলাপ শেষ করার পর )
--নীলা,অনেক টা সময় তো পার করলাম,এখন চলো উঠি।আব্বু-আম্মু বোধহয় আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
--হুম,চলো।
অত:পর হৃদয় নীলাকে নিয়ে উঠে সেই "শুনশান ধোয়া ওয়ালা "জায়গাটির সামনে এসে দাঁড়াল। এসে দেখে বাবা-মা আগে থেকেই ওদের দুজনের জন্য অপেক্ষা করছিলো।
--কি... তোমাদের সব কথা বার্তা শেষ হলো?(আম্মু)
--হুম,মা।(নীলা)
.
চারপাশটা আলোকিত হওয়া শুরু দিয়েছে,এটা লক্ষ্য করে....
--ভোর হয়ে আসছে হৃদয়। আমাদের যাবার সময় চলে এসেছে ।নিজের শরিরের খেয়াল রাখিস।আবারো দেখা হবে।
--আব্বু-আম্মু তোমরা আরেকটু সময় থেকে যাও না প্লিজ।(নি:সংকোচ আবেদন)
--দেখ বাবা,পাগলামি করিসনা।একটু বোঝার চেষ্টা কর, আমরা চাইলেও আর বেশিক্ষণ এখানে থাকতে পারবোনা।এটাই আমাদের নিয়তি। একটা কথা সবসময় মনে রাখবি আমরা সবসময় মন থেকে তোর পাশে আছি এবং থাকবো।নিজেকে কখনো একা ভাববিনা।ভালো থাকবি...নিজের যত্ন নিবি।
(হাত উচু করে কথাটা বলতে বলতে একটু একটু করে পিছুপা হচ্ছে উজ্জ্বল সাদা তিনটি ছায়া।আস্তে আস্তে করে মিশে যাচ্ছে আগর বাতির ধোয়ার ভীতরে এবং একটা সময় ছায়াগুলো মিলিয়ে গেল..... মাটিতে পড়ে রইলো তিনটি মোড়ানো গোলাপ ফুল)
.
.
খুব বেশি না দু'বছর আগের কথা,
বাবা-মা আর সদ্য বিয়ে করা স্ত্রী নীলাকে নিয়ে হৃদয়ের লাইফটা ভালোই কেটে যাচ্ছিল।কোনোকিছুর কমতি ছিলোনা।হাসি-ঠাট্টা যেন পরিবারের মানুষগুলোর মাঝে সবসময় লেগেই রইতো।সবাই বলতো... একটা পারফেক্ট সুখি ফ্যামিলি!!কিন্তু না....পরিবারের মানুষ দের কপালে সেই সুখ বেশিদিন টিকলোনা।একটি রাতে সবকিছু যেন নিমিষেই চেঞ্জ হয়ে যেন।চলে গেল ওরা সবাই একা বেচে রইলো শুধু হৃদয়।
.
.
চারিদিকে ফজরের আযান শুরু হয়ে গেছে,
করিম চাচা টুপি মাথায় নামাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছেন।তিনি দেখছেন, আজও ঘন কুয়াশার মাঝে হৃদয় নামের ছেলেটা কবর তিনটির সামনে একা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। গত দুবছর ধরে তিনি হৃদয়কে ব্যাপারটা বার বার বুঝিয়ে গেছেন কিন্তু ও আজও মানতে নারাজ।চারপাশের লোকগুলো কানাঘুষো করে ছেলেটার মাথায় সমস্যা.... ও একটা সাইকো।!!
.
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে একটা দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে করিম চাচা হৃদয়ের কাছে যান।প্রতিবারের মতো এবারো বোঝানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেন এবং একটা সময় না বুঝতে চাইলে কাধে হাত রেখে সান্তনা দিয়ে "এ ছেলেকে বোঝানোর সাধ্য কারো নেই"বলতে বলতে সেখান থেকে সোঝা নামাজ পরতে চলে যান।
.
সকাল ১০টা.....
গোরস্থানের পাশে মোড়ানো গোলাপ হাতে দাঁড়িয়ে ঝাড়ুদারের ঝাড়ু দেওয়া দেখছে হৃদয়।আর মনে মনে ভাবছে,"কবে আমাদের সমাজ থেকে মানুষ রুপী ময়লা -আবর্জনা গুলো পরিষ্কার হবে....কবে..?!!"
.
লেখকের আইডি→Arnaf Rah Man(হৃদয়ের পাপা)
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻļুāĻ্āϰāĻŦাāϰ, ā§§ā§Ģ āĻĄিāϏেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
3775
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§§ā§§:ā§Ģā§Ļ PM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ