--------প্রণয়ের আবেদন-------
আমি স্বভাবতই বন্ধুদের ছাড়া কোথাও তেমন একটা যায়না। কলেজ হলে তো একদমি না। তবে সেদিন কলেজে গিয়েছিলাম।।কৃষি শিক্ষা প্র্যাকটিক্যাল খাতা নেওয়ায় ছিলো মূলত কলেজে আসার মূল কারণ। ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পরলাম। ক্লাসে এসে ব্যাগটা রেখে আশেপাশে তাকিয়ে দেখি কোনো প্রাণের চিহ্ন নেই।একবার নিজের হাতঘড়িটার দিকে তাকালাম দেখি ৯টা ১৪।আরো প্রায় ৪৫ মিনিট পর ক্লাসে স্যার আসবে ভেবে মেজাজ কিছুটা খারাপ হয়।তারপর ভাবলাম লাইব্রেরিতে গিয়ে কিছুটা সময় কাটানো যায়। যেই ভাবা সেই কাজ লাইব্রেরিতে এসে কবিতার বই খুজঁতে লাগলাম। কিছু সময় খোঁজার পর একটা পেয়েও গেলাম। মনে মনে একটু খুশি হলাম। আমার আবার গল্পের বই ভীষণ পছন্দ। একটার পর একটা কবিতা পড়তে পড়তে কখন যে অন্য জগতে হারিয়ে গিয়েছি নিজেও জানিনা। বাস্তবে ফিরলাম কোনো নারীর কন্ঠ শুনে।সেই নারীর দিকে তাকাতেই বড় রখমের ধাক্কা খেলাম।চোখে হালকা কাঁজল,হালকা মেকআপ, সাদা এপ্রোনে তাকে সাক্ষাৎ পরীর মত লাগছিল।আমি রূপকথার পরী কখনো দেখিনি তবে মনে হচ্ছে এই মেয়ে সেই পরীদেরও হার মানাবে তার নিজ সৌন্দর্য্যে।(তার দিকে তাকিয়েই আমি কথাগুলো ভাবছিলাম) ঘোর কাটলো তার ডাকে।
ঃআগে কোনোদিন মেয়ে দেখেননি? ক্লাসে যাবেন না?
ঃহ্যাঁ যাব।
ঃ কয়টা বাজে দেখছেন
ঃ(ঘড়ির দিকে একবার তাকিয়ে নিলাম দেখি ১০:৬) সর্বনাশ! ক্লাস তো শুরু হয়ে গেছে।আপনি ক্লাস করবেননা? নাকি এখানেই থাকবেন?
ঃ হু যাব।
ঃতাইলে চলেন তারাতারি।
ঃহু চলেন।
ক্লাসে ঢুকা পর্যন্ত আমাদের টুকটাক কথা হয়।কথার ফাঁকে তার নামটাও জানতে পারি।তার নাম আরশি।ক্লাসে বেশ কয়েকবার আমাদের চোখাচোখি হয়। ক্লাস শেষ করে প্র্যাকটিক্যাল খাতাটা নিয়ে বাসায় চলে আসলাম সেদিন।পরদিন ইব্রাহিম স্যারের প্রাইভেট শেষ করে আবার কলেজে চলে আসলাম।কেন আসলাম নিজেও জানিনা।আসার সময় বন্ধুরা বলছিলো "দোস্ত কোনো মেয়ে টেয়ে পাইলি নাকি"?উওরে আমি বলেছিলাম "না..রে দোস্ত এমনি যাচ্ছি।অতঃপর বন্ধুদের বিদায় দিয়ে কলেজে প্রবেশ করলাম।সেদিন আরশির সাথে আমার অনেক কথা হয়।
পরপর ৭দিন কলেজ যাইনি।৭দিন পর আজ কলেজে ঢুকতেই দেখি গেইটের পাশে আরশি তার একটা বান্ধবির সাথে কথা বলতেছে আমাকে দেখা মাত্রই বান্ধবিটাকে পাশ কাটিয়ে আমার পাশে চলে আসল।ব্যাপারটা কেমন জানি আমার কিছুটা ভালো লাগল।সেদিন আমাদের অনেক কথার মাঝে মোবাইল নাম্বার আদান-প্রদান হয় রাতে কল দিব কিনা ভেবে পাচ্ছিলামনা।তবুও সাহস করে কল দিই। দেখি রিং পরার সাথে সাথেই কল রিসিভ হয়ে যায়।হয়ত মোবাইল হাতেই ছিলো। সেদিন ৫মিনিটের মত কথা বলে কল কেটে দিলাম।সময়ের সাথে সাথে আমাদের কথা বলার মাত্রাটাও বাড়তে থাকে।আমরা কলেজের বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় দেখা করতে থাকি।দেখতে দেখতে আমাদের বন্ধুত্ব ৬মাস পূর্ণ হল।এখন আমি আরশির প্রতি নিজের দূর্বলতা বুঝতে পারি। তার বসবাস আমার সমস্ত কল্পনা জুড়ে এইটা আমি এখন ভালোই অনুভব করতে পারি। নিজের মনের কথাগুলো কখনো আরশিকে বলতে পারিনি বন্ধুত্ব হারিয়ে ফেলার ভয়ে।তবে বিভিন্নভাবে আমি তাকে আমার মনের কথা বলতে চেষ্টা করতাম।একবার কথার ফাঁকে বলেছিলাম-
"ভালোবেসে প্রিয়ো যদি হাতে রাখো হাত,
কথা দিলাম ছাড়বোনা আসুক যতই আঘাত।
থাকতে চাইনা আর বন্ধু হয়ে,
বাধঁতে চাই এইবার নতুন প্রণয়ে।"
আরশি মৃদু হেসে বলল"এখনকার ছেলেদের একদম বিশ্বাস করা যায়না। সব ছেলে খারাপ।" আমি আবার বলে উঠলাম-
"ভালো আমাই নাই বাসো প্রিয়ো কভু করবোনা জোর,
তুমিতো প্রিয়ো ভালোই জানো নই আমি চোর।"
আরশি এইবার একটু জোরেই হাসল।হাসি শেষ করে বলল "হইছে কবি সাহেব এইবার কাব্যিক কথা বার্তা বাদ দাও।"
বেশ কিছুদিন যাবত দাঁড়ি গোঁফ না কাটার ফলে সেগুলো কিছুটা লম্বা হয়ে যায়।তাই পরদিন ক্লিন সেইব করে কলেজে যায়।আমাকে দেখার সাথে সাথেই আরশি বলে উঠল-
"চাকা সুন্দর গাড়িতে,
তুমি সুন্দর দাঁড়িতে।"
আমি হালকা হাসলাম।হাসি থামিয়ে বললাম-"ভালোই তো ছন্দ মিলাও দেখি"। আরশি মৃদু হেসে বলে উঠল "কার সাথে বন্ধুত্ব করছি দেখতে হবেনা"।আমি আর কিছু বলিনি সেইদিন।এই মেয়ের সাথে আমি কথায় পেরে উঠতে পারিনা। এখন আমি আরশিকে নিয়ে প্রতিরাতে নিত্য নতুন স্বপ্ন বুনতে থাকি।বার্ষিক পরিক্ষা নিকটে চলে আসছে তাই লেখাপড়ায় মন দিলাম।মাঝে মাঝে আমি তাকে মেসেজ করতাম কিন্ত কোনো সাড়া পেতাম না।ভাবলাম মন দিয়ে পড়তেছে তাই হয়তো রিপ্লাই দিচ্ছেনা। দেখতে দেখতে সব পরিক্ষা শেষ হয়ে গেল।এখনো আমি আমি আরশির কোনো মেসেজ/কল পাচ্ছিনা।আমি মেসেজ দিলেও রিপ্লাই দিতনা। তাই একদিন ঠিক এইরখম একটা মেসেজ লিখে পাঠালাম-
"দুরে গেলে বাড়ে দূরত্ব,আর বাড়ে হতাশা,,
সময় দিলে বাড়ে প্রেম,বেড়ে যায় ভালোবাসা।"
সাথে সাথে রিপ্লাই পেলাম "আজকে আমার সাথে দেখা করো "। জায়গার নাম আর সময় বলে দিলো।আমি সময়মত সেখানে চলে আসলাম।এসে দেখি আরশি বসে আছে চোখে মুখে রাগ আর চিন্তার ছাপ।আমি আস্তে করে তার পাশে গিয়ে বসে পরলাম।আরশি প্রথমে বলে উঠল-
আরশিঃসেতু তুমি আমার সাথে আর যোগাযোগ রাখবানা।
আমিঃকেন? আমার দোষটা কি?
আরশিঃ বাবা রাজশাহীতে বদলি হয়ে গেছে। তাই কাল সকালে আমরা সবাই চলে যাচ্ছি।
আমিঃ ও। যোগাযোগ তো রাখা যায়!
আরশিঃ না।আমি তোমার সাথে আর কোনো যোগাযোগ রাখতে চাচ্ছিনা।এইটা নিয়ে আর কিছু বলোনা প্লিজ।ভালো থেকো। মন দিয়ে পড়ো কেমন?
আমিঃ আমি শুধু নির্লিপ্তভাবে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ালাম।
আরশি কখন চলে গেছে দেখতে পাইনি।সে কথাগুলো যখন বলছিলো আমি তখন কেমন জানি বাকরূদ্ধ হয়ে যায়।পুরো পৃথিবী ওলটপালট লাগছিলো।চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসছিলো।তারপর আমি সেখান থেকে বাসায় এসে শুয়ে পরি।পরপর ৫টা দিন কিভাবে কাটাইছি আমার মনে নেই।৫ দিন পর আজ কলেজে আসলাম।কলেজে এসে আমার কেমন জানি নিজেকে শূণ্য শূণ্য লাগছিলো। তার এক বান্ধবির কাছে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি আরশি সত্যি সত্যিই রাজশাহীতে চলে গেছে।রাতে কল দিয়ে দেখি মোবাইলটাও বন্ধ।
মনের কথাটা অব্যক্ত রয়ে গেল। হয়ত আর বলাও হবেনা কোনোদিন।
"বুকে জমা কষ্ট রাশি রাশি
অকারণে হাসি,
হোকনা জেল কিংবা ফাঁসি
তবুও তোমাই ভালোবাসি আরশি।"
সারাদিন ব্যস্ততার মাঝে কাটালেও রাতের আঁধার আমাকে ঠিকি তোমার কথা মনে করিয়ে দেয়।আমি কান্না করে বালিশ ভেজায় কেউ দেখেনা। আমি দুষ্টুমি করে যখন তোমাই পাগলি বলে ডাকতাম তখন তুমি আমাকে পঁচা ছেলে বলতে। তাই এখন আমি পাগলির পঁচা। তোমার অপেক্ষায় রইলাম...
"ঠোঁটে দিইনি নিকোটিন,উড়াইনি তার ধোঁয়া!
ভালোবেসেছি তোমাই চাইনা দ্বিতীয় প্রেমের ছোঁয়া।
আসবে বলে ফিরে পথ চেয়ে থাকি,
বসন্তের কোকিল হয়ে তোমাই শুধু ডাকি"।
সেতুজিৎ মিত্র
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ