________'নীল শার্ট'_______
-
✍ToriYo Ahmed Neel(অসম্পুর্ণ-বৃত্ত)
-
অনেক চেষ্টার পরএ আজ একটা ট্যুর এ কোন এ পাহাড়ে দু'দিন কাটাব।আমি,রিহান ভাইয়া,আবিদ ভাইয়া,হেদায়েতুল,সোয়াইব ভাইয়া,গালিব স্যারএবং মুন্না স্যার।এদের অনেক কষ্টে মানিয়েছি,তারা অনেক ব্যাস্ত মানুষ,তবুও অনেক বার বলার পর তাদের দু'দিন সময় হয়েছে।তাই আজ একটা পাহাড়ে যাবো সবাই মিলে,পাহাড়টা শুনেছি অনেক সুন্দর,রিহান ভাইয়া পাহাড়টার বেপারে ভালো জানে,তাই রিহান ভাইয়াকে আমি বলেছিলাম কোন একটা ভালো জায়গার খোজ নিতে।পাহাড়টার নাম 'কাশফুল' হু নামটি যেমন সুন্দর তেমনি পাহাড়টাও খুব সুন্দর,রিহান ভাইয়ার কাছে থেকে আরো শুনলাম,পাহাড়টা নাকি কাশফুল,সবুজ ছায়ায় ঘেড়া,পাহাড়ের একপাশে রয়েছে একটি ছোট্ট গ্রাম,গ্রামটির নাম 'মেঘমালা'।
-
সকাল ৭:২৬ মিনিট,আমরা রওনা হব,৮:৫০ এর দিকে।
রিহান ভাইয়া ফোন দিল..!
--হ্যালো.!-(রিহান ভাই)
--হ্যাঁ ভাইয়া আমি আসছি.!!-(তোরিয়)
--আরে এখনও ত সময় হয়নি,আর গাড়ি তোকে বাসায় থেকে নিয়ে আসবে,আর হ্যাঁ হেদায়েতুল কে ফোন করে তোর বাসায় ডেকে নে?-(রিহান ভাই)
--আচ্ছা ভাইয়া.!!-(তোরিয়)-
অতঃপর হেদায়েতুল কে বাসায় ডেকে নিলাম,হেদায়েতুল ত ফযরের নামায় পড়েই রেডি হয়ে আছে,তাই ফোন করার সঙ্গে সঙ্গে চলে আসল,আর হেদায়েতুল এর বাসা আমার বাসা থেকে ১কিঃমিঃ হবে।
-
অতঃপর হাইস এর হর্ণ শুনতে পেলাম,হেদায়েতুল কে বললাম..!
--সব নিয়েছিস ত মনে করে?-(তোরিয়)-
--হুম নিছি চল!-(হেদায়েতুল)-
গাড়িতে উঠে বসলাম।
অতঃপর মিরপুর এ গেলাম,ওখানে আবিদ ভাইয়া,রিহান ভাইয়া,সবাই আছে।
অতঃপর সবাই গাড়িতে উঠল,আমি রিহান ভাইয়া,আবিদ ভাইয়া,হেদায়েতুল,সোয়াইব ভাইয়া একসারি বসলাম।আমি জানালার পাশে,এবং আমার পাশে রিহান ভাইয়া,তার পর আবিদ ভাইয়া,তার পর হেদায়েতুল,তার পর সোয়াইব ভাইয়া।গালিব স্যার,মুন্না স্যার সামনের সিটএ।
-
পিছনের সিটগুলাতে চাল ডাল,মানে খাবার জন্য সব কিছু নেয়া আছে,দু'দিন থাকব এর জন্য সব কিছু নিয়ে যাওয়া,আর সবাই মিলেই রান্না করব।
অতঃপর আড্ডা দিতে দিতে সেই 'কাশফুল' নামক পাহাড়ের দাড়গড়ায় এসে পৌছালাম।
গাড়ি থেকে র্তিরপল গুলা বের করা শুরু করলাম,তার পর সবাই মিলে তিনটা ক্যাম্প তৈরি করলাম রাতে থাকার জন্য।তার পর সবাই যার যায় জিনিস পত্র বের করলাম।এখন ক্যাম্প ত তিনটা,মানুষ ৭ জন,কে কোন ক্যাম্প এবং কে কে থাকবে।
আমি সবার আগে বলে দিলাম, আমি,রিহান ভাই,আবিদ ভাই থাকব,আপনারা এখন সিলেক্ট করুন?
মুন্না স্যার এবং গালিব স্যার থাকবেন।এখন আর বাকি রইল,সোয়াইব ভাইয়া আর হেদায়েতুল,কি আর করার তারাও থাকতে রাজি।
-
অতঃপর সবাই যার যার ক্যাম্পএ যার যার জিনিস পত্র নিয়ে ভেতরে রাখল।অনেকটা পথ জার্নি হয়েছে,সবাই ক্লান্ত।সেই সকাল ৮:৫০ রওনা দিয়েছে,এখন দুপুর ২ টা বাজে।তবে সবার খুদা লাগছে,তাই রান্না বসাতে হবে,আমি সবাইকে ডেকে, একটি গর্ত খনন করতে শুরু করলাম,কারন ছসমিন বসানোর জন্য একটা গর্ত খনন করতেই হবে।
-
অতঃপর গর্ত খনন করার পর ছসমিনটা সেখানে বসানো হলো।এসব কাজ আমি,আবিদ ভাই এবং রিহান ভাই করলাম।অতঃপর সোয়াইব ভাই আর হেদায়েতুল কে ডাকলাম,এদিকে রিহান ভাই মুন্না স্যার এবং গালিব স্যার কে ডেকে তুললেন।
দুপুর ৩ টা বেজে ১০মিনিট।
সবার খুদার পরিমান অনেক বেড়ে গেছে,খিচুরি রান্না করছি সবাই,কারন সময় কম কিছুত অনন্ত খেতে হবে,আর খিচুরি হতে ১ ঘন্টা লাগবে,মানে ৪:০০ টা বাজবে।কিন্তু খিদের পরিমান বহুল।অতঃপর মনে পরল সেই ছোট্ট গ্রামটির কথা.!!
--রিহান ভাই শুনেন??-(তোরিয়)-
--কি তোরিয়?-(রিহান ভাই)
--আরে শুনেন না,কানে কানে.!-(তোরিয়)-
--হু বল.!!-(রিহান ভাই)-
--ভাই চলুন সেই ছোট্ট গ্রামে যাই,যদি কিছু পাই(কানে কানে).!(তোরিয়)-
--ও এই বেপার,এটা সবার সামনেই ত বল্লে হয়.!!(রিহান ভাই)
--কিরে রিহান,তোরিয় কি বলে,তাও কানে কানে?-(মুন্না স্যার)
--ও বলছে..(রিহান ভাই)
--ভাই সিক্রেট কথা তো,আচ্ছা আমিই বলি,হয়েছে কি স্যার,আমি,রিহান ভাই,এবং আবিদ ভাই ওইদিকটায় একটু যাব.!!(তোরিয়)
--ও এই বেপার,যাও তাহলে,কি বলো গালিব?হু.!!-(গালিব,মুন্না স্যার)
--আমরাও যাবো তাহলে?-(সোয়াইব,
হেদায়েতুল)
--স্যার সোয়াইব ভাই,আর হেদায়েতুল কে এখানে রেখে দিন,আপনারা দু'জন সব কাজ করতে পারবেন না.!"(তোরিয়)
--হু,ওকে রিহান,আবিদ,তোরিয় এরা যাক,আর সোয়াইব,হেদায়েতুল এরা থাক.!"(মুন্না স্যার)
-
অতঃপর তিন জন ছুটলাম,আবিদ ভাই কে পরে রহস্যের কথা বলে দিলাম।অতঃপর গ্রামের সিমানায় পা দিলাম,গ্রামটা সত্যই অনেক সুন্দর,ছোট্ট ছোট্ট বাড়ি,কি অপূর্ব।গ্রামেত এলাম, খাবার খুজতে,কিন্তু এখানে দোকান বা বাজার ত দেখতে পাচ্ছি না।ওইত ওনাকে জিজ্ঞাসা করি..!
--এই যে শুনুন?-(আমি)-
--জ্বি বলুন.!!-(একটা বয়স্ক লোক)
--আচ্ছা এখানে কোন বাজার বা কোন -------দোকান আছে?-(আমি)-
--হ বাবা আছে,ঐ যে রাস্তা দেখতে পাচ্ছ,তার বাদিক ঘুরে কিছুটা পথ গেলেই একটা বাজার পাবে.!!-(বয়স্ক লোক)
--ধন্যবাদ আপনাকে.!!(আমি)
-
অতঃপর তিনজন রওনা হলাম,১০মিনিট হাটবার পর বাজারটির দেখা পেলাম,বাজার গিয়ে কিছু রুটি,কেক এবং মিনারেল ওয়াটার কিনলাম।
অতঃপর রওনা দিলাম,সেখানে একটা ঘোড়ার গাড়ি ছিলো,রিহান ভাইকে বলার সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলো।
উঠে পরলাম তিনজন ঘোড়ার গাড়িতে,সবাই ফাষ্ট টাইম,খুব মজা লাগছে..!
-
একটা মোর পেরুতেই কে যেন ডাকছে মনে হচ্ছে,পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখিয়ে একটা মেয়ে ডাকছে আমাদের,ড্রায়ভার কে বললাম..
--ঘোড়ার গাড়িটা একটু থামান?-(আমি)
--কেন রে,থামাবে কেন?-(রিহান ভাই)
--কি হয়েছে তোরিয়?-(আবিদ ভাই)
--কে যেন ডাকছে.নীল শার্ট বলে!!-(আমি)
--ও,তোকে না আমাকে?[দুজন এর গায়ে নীল শার্ট]-(রিহান ভাই)
--কি জানি,দাড়াতে বলেন ভাই?-(আমি)
--এই দাড়ান?-(রিহান ভাই)
অতঃপর গাড়ি থেকে নেমে দাড়ালাম।মেয়েটি হাপাইতে হাপাইতে কাছে আসল..!
--এই যে নীল শার্ট?-(মেয়েটি)
--কাকে বলছেন,দু'জন এর পড়নেই ত নীল শার্ট.?(রিহান ভাই)
--এনাকে(মানে আমি)..!-(মেয়েটি)
--আর হ্যাঁ নীল শার্ট নয়,আমি তোরিয়,ইনি রিহান ভাই,আর ইনি আবিদ ভাই,এবার বলুন কি বলবেন?-(আমি)-
--আপনি যখন দোকান থেকে এসব কিনছিলেন,তখন আপনার হাত থেকে আপনার ঘড়িটা ছিড়ে পড়ে গিয়েছিলো,এই নিন আপনার ঘড়ি.!!-(মেয়েটি)-
--হাতের দিক তাকিয়ে দেকি ঘড়ি নাই,
ওহ্ সরি আমি টের পাইনি,ধন্যবাদ.!!(আমি)
--হুহ,আপনাদের নতুন মনে হচ্ছে?-(মেয়ে)
--হু,বেড়াতে আসছি,পাহাড়ের ওই পাসটায় ক্যাম্প করেছি।(আমি)
--ও,আচ্ছা ঠিক আছে.!!
-
অতঃপর সেখান থেকে চলে এলাম,রিহান ভাইত বলল,কেরে তোরিয় ক্রাঁশ খাইলি নাকি?লজ্জায় কিছুই বলি নাই,আবিদ ভাইত কাতুকুতু দিয়ে সত্যিটা বের করেই ছাড়ল।
মুচকি হাসাটা ভূলই হয়ে গেলো,সত্যিটা লিক হয়ে গেলো,যা এই ফাষ্ট টাইম কাউকে দেখে ক্রাঁশ খেলাম,তাও আবিদ ভাই বুঝে গেলো,সিক্রেট রাখা আর হলো না।
অতঃপর ক্যাম্পে আসলাম,এসে দেখি খিচুরি এখনও হয় নাই।
সবাইকে ডেকে নিলাম,সবাই সবুজ দূর্বা ঘাসের ওপর বসে বাজার থেকে আনা খাবারগুলো খেতে শুরু করলাম।
মুন্না ভাই বলে উঠল...!
--তোরিয় তুমি ত ভালোই আমাদের কথা ভাবো.!(মুন্না স্যার)
--ভাববেই ত, বাজারে ক্রাঁশ খাওয়ার মানুষ থাকলে তোরিয় কত জনের কথা ভাবে,তা আর বলতে.!!-(আবিদ ভাই)-
--কি বলিস না আবিদ,না কয় মুন্না ভাই,তোরিয় আমাদের জন্যই খাবার আনতে গিয়েছিলো,ভেবেছিলো সারপ্রাইজ দিবে.!-(রিহান ভাই)-
--ও,ভালো করছো,যাই উঠি,দেখি রান্নার কি খবর,হেদায়েতুল একা বসে রয়েছে.!!-(মুন্না স্যার)-
--ও..তাইত বলি কে যেন নাই,হুজুর ভাইটা আগুনএ থেকে কালা হয়ে যাই গা..!(সোয়াইব ভাই)
--না ভাই,রান্না করে অভ্যাস আছে,চেল্লায় গেলে আমি বেশি রান্না করি.!!-(হেদায়েতুল)
অতঃপর সবার খাওয়া শেষ।
রান্নাও প্রায় শেষের দিকে,পানির ব্যাবস্হা করতে হবে,মিনারল ওয়াটার ত শেষ।সবাইকে বলে পানি আনতে বের হলাম, আমি আর রিহান ভাই।
-
পানি কই পাই,হ্যাঁ,সেই গ্রামে যাওয়ার প্লেন।রিহান ভাই তো যেতে চাইল না,কারন পানি আনতে অনেক কষ্ট হবে,রিহান ভাইকে শান্তনা দিয়ে বললাম,আমি থাকতে আপনার কোন কষ্টই করতে হবে না।
হাটছি দুজন পথিক,কিন্তু পানির ব্যাবস্হা করতে পারছি না।টিউওবয়েল ও নাই,এদিকে কারো বাড়ি ঢুকতেও ভয় করছে,অচেনা জায়গা যদি কেউ কিছু বলে,হাইরে কপাল....!
--এই যে নীল শার্ট শুনছেন?-(মেয়েলি কন্ঠে পিছন থেকে কে যেন ডেকে উঠল)
--জ্বি(পিছন তাকিয়ে)আপনি.!-(তোরিয়)
--হুম আমি,আর আমার নাম আছে,আপনি নয়.!(মেয়ে)
--কি নাম আপনার,আর....!(তোরিয়)
--তিথি,আর কি..!(তিথি)
--কিছু না,নামটা কিন্তু আপনার মতই কিউট(আাস্তে আস্তে)..!(তোরিয়)-
--জ্বি কিছু বললেন..?-(তিথি)-
--নাহ্।আচ্ছা পানি নিতে এসেছি,কিন্তু টিউওবয়েল খুজে পাচ্ছি না..!(তোরিয়)
--ও এই বেপার,দিন আমি এনে দিচ্ছি.!!(তিথি)
অতঃপর তিথি নামের মেয়েটি পানি আনতে গেলো।আহ্ কি সুন্দর চেহারা,মায়া ভরা।
--কিরে তোরিয় কি ভাবিস?(রিহান ভাই)
--নাহ্ কিছু না ভাইয়া.!(আমি)
--আমি বুঝি বুজলি.!(রিহান ভাই)
--একটু হেল্প করলেইত পারেন তাহলে...!(আমি)
--বাদ দেতো,তিথি আসছে.!!(রিহান ভাই)
--আচ্ছা চুপ..!(আমি)
অতঃপর পানি নিয়ে চলে এলাম,আসবার সময় মনে হচ্ছিলো আরেকটু থেকে কথা বলি,রিহান ভাই জোর করেই টেনে নিয়ে এলো,যখন রিহান ভাই টেনে আনছিলো, মেয়েটি লজ্জা পেয়েছিলো,মুখটা তখন লালবর্ণ ধারন করেছিলো,আহা কি সুন্দর ওই মায়াবী মুখটা।
-
অতঃপর ক্যাম্পে গেলাম,গিয়ে দেখি খিচুরি রান্না শেষ,সন্ধা হয়ে আসাতে খিচুরি খাইনি,সন্ধার আযান দিলো,সবাই নামায় পরতে গেলাম।
নামায পরে সবাই ক্যাম্পে ফিরলাম,তার পরর একটু রেষ্ট নিলাম।তখন রাত ৪:১০,অতঃপর খেতে বসলাম, খিচুরিটা অনেক স্বাদ হয়েছে,আসলে মুন্না স্যার আর গালিব স্যার তাদের সবর্চ্চ প্রতিভা দিয়ে রান্নাটা করেছে,স্বাদ না হয়ে পারে।
সবাই প্রশংসা করল মুন্না স্যার আর গালিব স্যার এর,সোয়াইব ভাইয়া তো বলছে,দু'মাস পর আবার এখানে এসে খিচুরি রান্না করে খায়াতে হবে মুন্না স্যার কে।
মুন্না স্যারও রাজি হয়ে গেলো,গালিব স্যারতো মুন্না স্যার না আসলেও জোর করে নিয়ে আসবে।
-
খাওয়া শেষ করলাম, রাত তখন ৯য় টা বাজে,সবাই খুব ক্লান্ত,তাই সবাই ঘুমাতে গেলো..!
রিহান ভাই তো সবার আগে খেয়ে ক্যাম্পে চলে গেছে,আবিদ ভাইয়া আর আমি সবার শেষে খেয়ে উঠলাম।
তার পর আবিদ ভাই আর আমি ক্যাম্প এর ভেতর গেলাম,ভেতরে গিয়ে দেখি রিহান ভাই নেই,আবিদ ভাইকে বললাম,আবিদ ভাইতো বলল,হয়ত আশে পাশে আছে।
অতঃপর আবিদ ভাই ঘুমিয়ে পড়ল,কারন সেও খুব ক্লান্ত।
-
আমি বাইরে বের হলাম,নীল আঁকাশটা আজ চাঁদের আলোয় আলোকিত,খুব সুন্দর একটি রাত।
সামনের দিকে তাকেতেই রিহান ভাই কে দেখতে পেলাম,দূর্বা ঘাসের ওপর বসে বসে চাঁদ দেখছে,আর নিকোটিন নামক বস্তুটি দ্বারা ধূয়াগুলা বাস্পিয় করছে,ধিরে ধিরে পা হেটে,রিহান ভাই এর পাশে গিয়ে বসলাম,রিহান ভাই আমার দিকে তাকাল,এবং বলল...!
--কি রে তোরিয় তুই?ঘুমাসনি কেন?(রিহান ভাই)
--আপনিও তো ঘুমাননি.!!(আমি)
--তাই বলে তুইও ঘুমাবি না,পাগল ছেলে একটা.!(রিহান ভাই)
--আচ্ছা ভাই আপনি সিগারেট খান কেন?(আমি)
--বুজবি না,বড় হ.!(রিহান ভাই)
ও!
ওপাসটায় চেয়ে দেখি গিটার,ভাই কে জিজ্ঞাসা করলাম..!
--একটা গান শুনাবেন ভাইয়া?-(আমি)-
--নারে মনটা খুব খারাপ,অন্য একদিন শুনাব,আচ্ছা তোরিয় তোর মা মারা গেছে কিভাবে?(রিহান ভাই)
--আমি তখন খুব ছোট ছিলাম,তখন আমি আমার নানু বাড়ি ছিলাম,জানেন এখন সব কিছু স্বপ্ন মনে হয়.!(আমি)
--কাঁদছিস কেন পাগল,সবাই তো একদিন চলে যাবেই,আমাকেও তোকেও।(রিহান ভাই)
অতঃপর রিহান ভাইয়ের কোলে মাথা রাখলাম,রিহান ভাই আমাকে খুব ভালোবাসে,তাই আমিও রিহান ভাইকে খুব ভালোবাসি।
-
রিহান ভাই আর আমি দূর্বা ঘাসের ওপর শুয়ে চাঁদ দেখছি,দু'জন নিশ্চুপ।
চাঁদ দেখতে দেখতে কখন যে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছি নিজেই জানি না,ঘুম ভাঙার পর দেখি ক্যাম্পে,রিহান ভাই আমার পাশে,হয়তো রাতে ভাই আমাকে এখানে এনেছে।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সকাল ৭:১৩।
সবাইকে ডেকে তুললাম,রিহান ভাইকে ডাকিনি,কারন কতো রাত পর্যন্ত জেগে ছিলো আমি নিজিই জানি না।
-
সকাল সকাল খাবার এর মেনু সিলেক্ট করলাম সবাই মিলে।আজ বিরআানি,এবং ছাগলের গোস্ত।ভাবতেই জিব্বাহতে পানি চলে আসছে।
অথঃপর খাবার তুলে দিলাম চুলায়,রিহান ভাই উঠল,এবং আবিদ ভাই এবং রিহান ভাই আর আমি,গেলাম সুমুদ্দুর এর কিনারায়,কাউকে বল্লাম না,আমিই অবশ্য রিহান,আবিদ ভাইকে বারন করেছিলাম,কারন তিথিকে ঐদিকে যেতে দেখেছি।
অতঃপর একটু তারাতারিই পায়ে হেটে গেলাম,রিহান ভাইত বারে বারে আমার দিকে তাকাচ্ছে,আমিতো দেখেই না দেখার ভান করে চলছি।
-
অতঃপর সুমুদ্দুর তীরে পৌছালাম,চেয়ে দেখি তিথি নুপুর পায়ে সুমুদ্দুর তীরে খালি পায়ে হাটছে,আমি আটকে যাওয়া ভাবে সেই দৃশ্যপট দেখছি,রিহান ভাই এর ধাক্কায় বাস্তবে ফিরলাম...!
--কিরে তোরিয়,তাহলে এটাই মতলব হু?(রিহান ভাই)
--রিহান চল,এসব এর মধ্যে নেই আমি.!(আবিদ ভাই)
--ভাইয়া প্লিজ, আমি.!!(আমি)
--কি আমি হু.?(রিহান,আবিদ ভাই)
--আমি মেয়েটাকে ভালোবেসে ফেলেছি(লজ্জা ভরা মুখ নিয়ে)
--কিহ্,কবে ভালোবাসলি?(রিহান,আবিদ ভাই)
--প্রথম দিন থেকেই.!!(আমি)
অতঃপর রিহান,আবিদ ভাই সুমুদ্দুর এর শুস্ক জায়গায় বসলাম।
রিহান ভাই বলতে শুরু করল....!
--তোরিয় তুই সবে মাত্র কলেজ লাইফে পা দিয়েছিস,জীবনটা এখনও অনেক বাকি,নিজের পায়ে আগে দাড়া,তার পর কাউকে ভালোবাসিস..!(রিহান ভাই)
--আচ্ছা মেয়েটাকে তো তুই তোর মনের কথা বলে দিবি?সে হয়তো রাজিও হয়ে যাবে!এখন কিছু মাস/বছর সম্পর্কটা চলল,তার পর মেয়েটির বাসা থেকে বিয়ের জন্য মেয়েটাকে চাপ দিলো,মেয়েটি তখন তোকে বলল,তুই কি করবি?এখন তুইতো বেকার,আচ্ছা সাপস ধর বিয়ে করলি,তারপর খাওয়াবি কি?আরো কতো কি.!!(আবিদ ভাই)
--মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো,আমি জানি রিহান,আবিদ ভাই আমাকে কখনও ভূল সাজেশন দেবে না,হু এটাও ঠিক,বিয়ে করলে খাওয়াবো কি.!
আচ্ছা তোরিয় তুই নিজের পায়ে দাড়া,তার পর তোর তিথি যদি তোকে ভালোবেসে থাকে,তাহলে আমরা কথা দিলাম,তোদের দু হাত একজায়গায় আমরা করে দিবো,তবে আগে নিজের পায়ে দাড়া,তার পর..!(রিহান ভাই)
তখন আমি কাঁদতে কাঁদতে চলে গিয়েছিলাম।
আমি শুধু রিহান ভাই আর আবিদ ভাই এর কথার ওপর নির্ভর ছিলাম,তবে ভালোবাসলাম কাউকে ফাষ্ট টাইম,কিন্তু বলতে পারলাম না,প্রতিটি রাত তিথি আমার রঙিন সব স্বপ্নে চলে আসতো।
-
অতঃপর আমি ক্যাম্পে এসে শুয়ে পরলাম,তার একটু পর রিহান ভাই আর আবিদ ভাই ক্যাম্পের ভেতর ঢুকল,আমি মন খারাপ করে শুয়ে ছিলাম,তাই ক্যাম্পে ঢুকলো না,কিছুক্ষন পর খাবার কন্য ডাকল,সবার খেয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম নাইটে আজ রওনা দিব।
আমি হ্যাঁ না কিছুই বললাম না,মুন্নার স্যার বলে উঠল...!
--তোরিয় তোমার কি কিছু হয়েছে?মন খারাপ?(মুন্না স্যার)
--না স্যার,আচ্ছা নাইটেই তাহলে আমরা রওনা দিচ্ছি.!!
এই বলে সেখান থেকে এসে,ক্যাম্পে ঢুকে একটা ঘুম দিলাম।
অতঃপর রিহান ভাই এর ডাকে ঘুমটা ভাঙল..!
--তোরিয় উঠ,সব কিছু গাড়িতে নেয়া হয়েছে!!(রিহান ভাই)
চোখ মুছতে মুছতে গাড়িতে গিয়ে বসলাম,কিজানি গাড়িতেও কখন ঘুমিয়ে পড়ছি নিজেই জানি না,ঘুম ভেঙে দেখি রিহান ভাই এর বাসায়।
-হায়রে..ঘুম!!
--কি তোরিয় আহমেদ ঘুম ভাঙল তাহলে?(রিহান ভাই)
--হুম!!(ঘুমো অবস্হায়)
--আরে পাগল এখন মন খারাপ করে আছিস,নিজের পায়ে দাড়া,তার পর তোর তিথি তোরই সারা জীবনের জন্য হয়ে যাবে..!(রিহান ভাই)
--সত্যিই ভাইয়া,আমি তিথিকে পাবো তো?[হাসি মাখা মুখ নিয়ে!]-(আমি)
--হুম,কিন্তু আগে নিজের পায়ে দাড়াতে হবে.!!(রিহান ভাই)
তার পর থেকে শুরু হলো আমার নতুন পথ চলা,খুব ভালো ভাবে পড়াশোনা করলাম,এবং তার ভালো ফলও পেলাম,তবে এর পিছনে ক্রেডিটটা রিহান,আবিদ ভাই,তাদের কথা মনে একটা যুদ্ধ বুকে নিয়ে জীবনটা অতিবাহিত করছিলাম।
-
৬ বছর পার হয়ে গেলো,প্রায় রাত আঁকাশের দিকে তিথিকে খুজতাম।
এখন একটা প্রায়ভেট কোম্পানিতে জব করছি।আজ সেই দিন,যে দিনে তিথিকে আমার হৃদয়ের স্পন্দন এর কথা বলতে পারিনি..!
রিহান ভাই আর আবিদ ভাই ফোন করেছে,তাই সেখানেই যাচ্ছি,হ্যাঁ নীল শার্টটা পড়ে যেতে বলেছে,হুম আজ নীল শার্টটা পড়েছি।
-
অতঃপর সেখানে গেলাম,সেখানে একটা প্রায়ভেট কার দাড় করানো ছিলো,তার পাশে দাড়িয়ে ছিলো রিহান,আবিদ ভাই।
অতঃপর সেখানে গেলাম,সেখানে যেতেই রিহান ভাই গাড়িতে উঠতে বলল,আমি উঠলাম,গাড়িটা ষ্টার্ট দিলো,অতঃপর গাড়িটা সেই 'কাশফুল'পাহাড়ের সেই জায়গাটায় দাড় করালো,আমি শুধু রিহান ভাই আর আবিদ ভাই এর দিকে চেয়ে আছি।
তিন জনই গাড়ি থেকে নামলাম,রিহান ভাই হাত দিয়ে দেখিয়ে দিলো..!
আমি তাকিয়ে দেখে একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে,খুব চেনা লাগছে,ড্রেস,চুল সবই মনে হয় আগে দেখেছি।ধির পায়ে হেটে গেলাম সেখানে..!!
--আচ্ছা আপনার নাম কি তিথি?(তোরিয়)
--হুম,কিন্তু আপনি চিনলেন কিভাবে?[মাথা নিচু করে]_(তিথি)
--আমি চিনব নাতো কে চিনবে.!!(তোরিয়)
-৬ বছর,২ মাস,৩ ঘন্টা,১৫ মিনিট,এতটি বছর সেকেন্ড পর আমাকে দেখছেন?কিভাবে চিনলেন,আমিতো বড় হয়ে গেছি.!!(তিথি)
--হুম, তবে আমার কাছে সেই তিথিই আছো,যাকে আমি..!(তোরিয়)
--আমি কি বলুন?(তিথি)
--পর মানুষকে বলব কেন,আপনি করে বলছেন.!(তোরিয়)
--আমি কি বলো?![মাথা নিচু করে]_(তিথি)
হাত দিয়ে মুখটা উচু করলাম,আহ্ কি মায়াবী মুখ,এবার তিথি আমার চোখের দিকে তাকাল..!
আই লাভ ইউ-আমি তোমাকে ভালোবাসি,ওই আঁকাশের চেয়ে বেশি,ভালোবাসি আমি তোমাকে ওই সারগরের চেয়ে বেশি.!!
অতঃপর তিথি আমাকে জোরিয়ে ধরল।
পিছন থেকে রিহান,আবিদ ভাই একটু শব্দ করল,লজ্জা পেয়ে তিথি আমাকে ছেড়ে দিলো.!!
রিহান ভাই একটা নীল খামের কার্ড দিয়ে গেলো,কার্ড খুলে দেখি,আমার আর তিথির বিয়ের কার্ড।
--কিরে কথা রেখেছিতো?(রিহান,আবিদ ভাই)
ভাইকে জরিয়ে ধরলাম,!!
--সত্যই অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।(আমি)
--এটা আমাদের উপহার..!(রিহান ভাই)
অতঃপর জানতে পারলাম,সেদিন আমি চলে আসার পর রিহান,আবিদ ভাই তিথিকে সব বলে,তিথি তার বাবা মা'র কাছে নিয়ে যায়,এবং কথা বার্তা বলে আসে,আমি কোন ভালো চাকরি পেলে,আমার আর তিথির হাত একজায়গায় করে দেবে।
সামনের মাসের ৬তারিখে আমাদের বিয়ে,দোয়া করবেন সবাই আমার আর তিথির জন্য.!!
এবং সবার দাওয়াত রইল।
রিহান ভাই আর আবিদ ভাইকে এর জন্যই আমি এত্তগুলা ভালেবাসি,লাভ ইউ রিহান,আবিদ ভাই..!!
-
[ভূল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন]
-
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŦৃāĻšāϏ্āĻĒāϤিāĻŦাāϰ, ā§§ā§Ē āĻĄিāϏেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
3721
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§Ž:ā§§ā§Ļ PM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ