__________'নেই তুমি'__________
.
.
তিন মাস পর আজ নীল কুমোয় থেকে বের হলো।
সে কিছুটা স্বাভাবিক হলেও মাঝে মাঝে কার নাম যেন বলে উঠে অজ্ঞান হয়ে পড়ছে।
নার্সরা খুব চেষ্টা করেছে নীল কে সুস্হ করার জন্য।
মিরপুরের কোন এক রাস্তায় নীল পড়ে ছিলো,কোন এক ভদ্র মহিলা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
তাই সেই ভদ্র মহিলাকে নার্সরা ফোন করে আসতে বলল।
-
;ভদ্র মহিলার পরিচয় হলো।
মেয়েটির নাম নিশাত। বাবার অবর্তমানে নিশাত বাবার ব্যবসা দেখা শুনা করছেন।একদিন অফিস থেকে ফেরার সময় নীল কে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে হসপিটালে নিয়ে আসেন।
আজ তিন মাস ধরে নীল হসপিটালে,নিশাত প্রায় প্রতিদিন নীল কে দেখতে আসে।
নিশাত এর কেমন জানি নীল এর ওপর মায়া জন্মে গেছে।এদিকে নিশাত অনেক চাপের মাঝে আছে,প্রতিদিন তিনটা করে সম্পর্ক আসে।কিন্তু কেন জানি কোন একটা কারনে সবাইকে না করে দেয়।
আজ একটা ভালো সমন্দ এসেছিলো,সবাই অনুরোধ করায় নিশাত হ্যা বলবে এই সময় হসপিটাল থেকে ফোন দেয়।আর সেই শুনে এক দৌড়ে চলে যায় হসপিটালে।
হসপিটালে গিয়ে ডক্টর এর কাছে গিয়ে।
-"ডক্টর নীল এর কন্ডিশন কেমন দেখলেন??
ডক্টর সাহেব চিন্তিত মুখ নিয়ে বল্লেন।
-"কোন একটা মেয়ের নাম বারে বারে নিচ্ছে।হ্যাঁ নিশাত বলে বলে চিৎকার করছিলো,আর বলছিলো নিশাত "আই লাভ ইউ" এমন পেসেন্ট কে মেন্টালই বলে।আর হ্যাঁ তুমি নিশাত কে খুজে আনো, তাকে দেখলে বা তার সাথে কিছুদিন কাটালে সব মনে পড়তে পারে।তিনমাস কুমোয় থাকার পর মাথার প্রবলেম হয়েছে,তাই ভালোভাবে যত্ন করতে হবে।আর নিশাত কে যতো সিঘ্রই আনার ব্যবস্হা করো কেমন?আর কিছু ঔষধ লিখে দিচ্ছি এক দু মাস এর মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে যাাবে।
মনটা কেন জানি মোচর দিলো।ভাবছি নিশাত কে কই পাবো।
-"ওকে।আচ্ছা ডক্টর আমি নীল কে বাসায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারি কি??
-"হুম।আর বাসায় নিয়ে গেলে একটু ভালোই হবে।আর আমাদের এখান থেকে একটা নার্স পাঠিয়ে দিচ্ছি,সময় মতো সব বুঝিয়ে দেবে তোমাকে।
কিছুটা ভালো লাগল ডক্টর এর কথা শুনে।যাক।
-"ধন্যবাদ ডক্টর,আপনি না থাকলে হয়তো নীল কে বাঁচাতে পারতাম না!!
ডক্টর একটু হেসে দিয়ে বলল।
-"দেখো সব ওপর ওলার ইচ্ছা।
-"স্যার অনেক ধন্যবাদ।
-"এটা আমার কতব্য ছিলো!!
.
নীল এর কাছে গেলাম।নীল কে আগের চেয়ে অনেক মায়াবি দেকাচ্ছে,চুল দাড়ি কেটে ফেলেছে নার্সরা।
অসম্ভব সুন্দর লাগছে নীলকে।
নীল কে বাড়িতে নিয়ে গেলাম,সবাই দেখেত অবাক।নীল হাটতে পারে, কিছু মনে নেই তাই কিছুটা অসুস্হ, মাঝে মাঝে নিশাত নামের মেয়েটির কথা মনে পড়লে কেমন জানি হয়ে যায়।
যাইহোক, বাসার সবাইকে অনেক কষ্টে মেনেজ করলাম।
প্রতিদিন অফিস করা হতো না নীল এর জন্য।
নীল সবসময় আমার সাথে গল্প করতে চাইতো।আমিও কখনও রাগ করতাম না,নীল এর সাথে গল্প করতে খুব ভালো লাগতো।নীল অসম্ভব সুন্দর করে কথা বলতো,ও যখন সাতচুন্নির গল্প করতো আমি শুধু ওর দিকে চেয়ে দেখতাম।
খুব হাসিখুশি ভাবে কথা বলতো নীল।
এভাবে....!!
দু মাস চলে গেলো,নীল অনেকটা সুস্হ কিন্তু নীল এর কিছু মনে নেই।
আজ আমরা এক জায়গায় ঘুরতে যাবো,নীল এর ইচ্ছে নেই,তবুও আমার কথা ফেলতে পারে না তাই রাজি হয়েছে।
.
সেখানে গিয়ে নীল খুব খুশি।
নীল হঠাৎ করে বলে উঠলো।
-"এই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ!!
-"কেন?
-"আমাকে নতুন জীবন দেবার জন্য!!
আমি কিছুটা অবাক হয়ে গেলাম।নীল সুস্হ,আর দশটা মানুষের মত কথা বলছে।তাই আমি অবাক গলায় বললাম।
কিহহ।তুমি?তোমার সব কিছু মনে পরে গেছে??
নীল মৃদু হেসে উওর দিলো।
-"হুম,সবকিছু মনে পড়ছে।
-"সত্যিই বলছো নীল?
-"আপনি আমার নাম জানলেন কি করে?
একটু হেসে দিলাম।যার খেয়াল নিচ্ছি।প্রায় দিন দেখছি।কথা বলছি তার নাম জানব না।তবে সে তো অচেনা।তাই প্রশ্নটা করতেই পারে।
-"তোমাকে যেদিন রাস্তার ধারে পেয়েছিলাম,সেই দিনতো তুমি নীল শার্ট পড়ে ছিলে।তাই নাম জানি না বলে, নীল নাম দিয়েছি।
নীল লজ্জা মাখা মুখ নিয়ে বলল।
-"আপনি সত্যিই খুব ভালো,আমাকে নতুন জীবন দান করলেন।কত্ত কষ্ট করেছেন আমার জন্যে।
-"বন্ধুকে কখনও ধন্যবাদ দিতে নাই।
নীল বোধ হয় একটু বেশিই খুশি।তাই মুখটা লজ্জা ভরা নিয়ে বলল।
-"হুম।
দুজন হাত বাড়িয়ে বন্ধু হলাম।তার পর নীল বলে উঠল।
-"এই আপনার নামটা বললেন না কিন্তু বন্ধু?
একটু বিষন্ন গলা নিয়ে নীল কে বললাম।
-"আমার নাম নিশাত।আর বন্ধুকে তুমি করে বলতে হয়,বুঝেছো?
নীল এর মনটা খারাপ হয়ে গেলো।
ধূর কি সব বলে ফেল্লাম।
-"কি হলো নীল কি হইছে?
নীল মুখটা ভারি করে বলল।
-"কিছু না।
এই বলে চলে গেলো।পরে ফোন করে বলছে। -"আমি গাড়িতে বসে আছি তুমি তাড়াতারি আসো,বাড়ি যাবো মাথা ব্যথা করছে খুব।
আমার একটু ভয় করল।কিছু হলো নাতো নীলের।তাই আমি একদৌড়ে চলে গেলাম গাড়ির কাছে।
পড়ে বাসায় গিয়ে রেষ্ট নিয়ে কিছুটা ভালো ফিল করলো নীল।
.
রাতে নীল এর রুমে গেলাম।দরজাটা নক করলাম।নীল ওপাশ থেকে বলে উঠল।
-"কে??
-"আমি।
নীল দরজাটা খুলে দিলো।
-"ও তুমিএতো রাতে,কিছু বলবে?
নীল এর মনটা ভালো করতেই হবে তাই তাকে বল্লাম।
-"হুম বলব।চলো ছাদে গিয়ে কথা বলি, রাতে আমার চাঁদ দেখতে খুব ভালোলাগে।
-"চলো।
.
ছাদে গিয়ে কিছুক্ষন নিশ্চুপ
রইলাম আমি।নীল নীশ্চুপতা কাটিয়ে বলে উঠল।
-"কিছু বলতে চাইছিলে?এখন বলো।
নীল এর চোখের দিকে তাকিয়ে বল্লাম।
-"এখনই বলতে হবে?
-"হুম।এখনই বলো কখন সময় ফুরিয়ে যাবে তখন ইচ্ছা করলেইও বলতে পারবে না।
আমার খুব কষ্ট হলো।কি বলে এসব নীল।তাই একটু অধিকার দেখিয়ে বল্লাম।
-"কি বলো এইসব হুম? মেরে ফেলবো কিন্তু।
নীল নিশ্চুপই রইল।হয়তো মনটা খারাপ।তাকে জিজ্ঞাসা করলাম।
-"আচ্ছা নিশাত কে??
নীল বিষন্ন গলায় বলল।
-"আমার হৃদয়ের স্পন্দন।
-"সে কোথায় এখন?
নীল ওপর দিকে তাকিয়ে বলল।
-"ওইযে চাঁদ দেখছে?তার পাসে একটা তারা আছে সেখানে আছে নিশাত।
আমার কৌতহল বেড়ে গেলো।তাই নীল কে প্রশ্ন করলাম।
-"সব খুলে বলবে নীল?
কিছুক্ষন পর নীল তার জীবনের ঘটে যাওয়া গল্প বলতে শুরু করল।
.
নিশাত আর আমি একই কলেজে পড়াশোনা করি।
আমি একজন মধ্য বিত্ত ঘরের ছেলে।
ইন্টার ১ম বর্ষের কলেজের অনুষ্ঠানে নিশাত কে কিছু ছেলে বিরক্ত করছিলো।সেই সময় আমি কলেজের গেটে দেখি নিশাত কে বিরক্ত করতে।
ওই সময় ছেলেদের কিছু বলতে গেলেই আমাকে কে যেন ছুরি মেরে দেয়।
পরে রক্ত দেখে সবাই পালায়,তখন নিশাত এসে তার রুমাল দিয়ে হাতটা বেধে দেয় আমার।
সেই দিন থেকে, নীল আর নিশাত ভালো বন্ধু।
সারা দিনে নিশাতের সাথে ১০ বার প্রর্যন্ত ঝগরা লাগবে।আবার ১ ঘন্টা পর পর ঠিক হয়ে যাবে।
একদিন ইচ্ছা করে বলেছিলাম যে।
-"নিশাত তুই আমাকে খুব ভালোবাসিস?আচ্ছা আমি যদি চলে যাই তোর কষ্ট হবে না তাই না রে?
নিশাত রেগে লাল বর্ণ।কি যে বলবে।অবসান ঘটিয়ে বলল।
কিহহ্ কইলি কুত্তা?তুই কোথাও যাবি না।আর গেলেও সেইখান থেকেই খুজে বের করব।
এক প্রকার পাগোলের মতো ভালোবাসতো আমাকে,কোন স্বাঃর্থ ছাড়াই।
সবাই স্বাঃর্থর জন্যই ভালোবাসে এই মেয়ে কোন কিছুই চায় না।শুধু একটু ভালোবাসা চায়।
আমাদের মাঝে ভলোবাসি কথাটা বলা হয়নি,তবুও দুজন দুজনকে মারাত্মক ভাবে ভালোবাসি।
একদিন একটা মেয়ে আমাকে প্রপোজ করেছিলো,আর সেই দেখে আমিও একটু দুষ্টামি করে হ্যাঁ বলতে যাবো ওই সময়।মেয়েটাকে এক ঘুসি দিয়ে মাটিতে ফেলে দিলো।আর সাবধান করলো মেয়েটিকে।যেন আমার দিকে না তাকায় দ্বিতীয় বার।
আমি তো ভয় ভয়ে বললাম।
-"নিশাত এমন করো না,সবাই দজ্জাল বলবে এবং সবাই ভাববে তুমি আমাকে সত্যিই ভালোবাসো।এবার রাগের কারনে কলারটা চেপে ধরে বলতে শুরু করল।
-"কি কইলি?আচ্ছা যা আমি তোকে ভালোবাসি না।
এই বলে চলে গেলো নিশাত কাঁদতে কাঁদতে।
পরে ফোন দিলাম ফোন বারে বারে কেটে দিচ্ছে।কলেজও আমার সাথে কথা বলছে না,আমাকে দেখলে সেই জায়গায় থেকে চলে যাচ্ছে।
আমি এইসব সহ্য করতে পারছি না,খুব কষ্ট হচ্ছে।কেন হচ্ছে জানি না,তবে বেশিদিন এমন চললে আমি বাঁচবো না এটা একদম কনর্ফাম।
রাতটা আমার চোখের জলে যাচ্ছে,বুকটা ফেটে যাচ্ছে,মনে হচ্ছে মরুভূমিতে আমি বালিতে পা দিয়েছি।
সকালে ভাবলাম নিশাত এর সাথে রাস্তার পাশে দেখা করব।
সেই উদ্দেশ্য রওনা হয়েছি।দূব থেকে দেখা যাচ্ছে নিশাত আসছে,আজ নিশাতকে উওর দিতেই হবে সে কেন এমন করছে আমার সাথে।
.
একটু এগিয়ে গিয়ে বল্লাম
-"নিশাত কিছু কথা ছিলো?
নিশাত আমাকে না চেনার ভান করে বলছে।
-"কি বলবেন তাড়াতারি বলেন,আমার তারা আছে।
বুকের বাম পাশটা কেমন জানি করে উঠল।বিষন্ন গলা নিয়ে বললাম।
-"সেই দিন থেকে আজ প্রর্যন্ত আমি তোমাকে কতোটা মিস করেছি বোঝাতে পারবো না।
আর এতেই বুঝেছি "আমি তোমাকে ভলোবাসি" আই লাভ ইউ নিশাত।
এসব বলেও কিছু হলো না।অন্য উপায়।তাই এবার হাটু গেড়ে বললাম।
-"তুমি কি আমকে তোমার কষ্টের ভাগ দেবে?
তোমার হাতটা সারাজীবন এইভাবে ধরে থাকতে দেবে?তোমার বাচ্চার বাবা বানাবে আমাকে?
নিশাত এর চোখের কোণে কি যেন টলমল করছে,এইবার কেঁদেই দিলো।
কান্না জরিতো কন্ঠে বলে উঠল।
-"পাগল আমি তোমাকে অনেক অনেক ভলোবাসি।নীল কখনও ছেড়ে যাবে নাতো?তোমায় খুব ভালোবাসি।
সেই দিন যখন বলছিলে আমি কেন মেয়েটাকে থাপ্পর মারলাম?হ্যাঁ তোমাকে ভালোবাসি বলেই থাপ্পরটা মেরেছিলাম।তোমাকে হাড়ানোর ভয় আমাকে কূড়ে কূড়ে খায়।আমি তোমাকে অন্য কারো সাথে দেখতে পারবো না।
একটু উদাসিন মন নিয়ে বললাম।যাতে নিশাত বুঝতে না পারে আমি কতোটা খুশি।
-"আচ্ছা বুঝলাম।
-"কি বুঝলে হুম।
-"তুমি আমাকে তোমার নিজের জীবনের চেয়ে ভালোবাসো।
নিশাত মৃদু হেসে বলল।
-"হুম বাসি।খুব ভালোবাসি।
আমাদের ভালোবাসা ছিলো নীল আঁকাশের মতো।কোন মেঘ জমতো না,যে টুকু মেঘ জমতো, সেটুকু আমাদের পবিত্র ভালোবাসার কারণে সেই মেঘ কেটে যেতো।
একদিন নিশাতকে নিয়ে ঘুরতে বের হলাম।
সেইদিন ছিলো আমাদের ভালোবাসার এক বছর।ভালোবাসতাম দুজন দুজনাকে সেই অনেক আগে থেকেই কিন্তু বলা হয়নি।
.
আজ নিশাতের বাবার সাথে দেখা করতে যেতে হবে,নিশাত আমাদের সম্পর্কের কথা তার বাবা কে বলেছে।আর নিশাত এর বাবা রাজি হয়েছেন আমার সাথে দেখা করতে।
গেলাম আঙ্কেল এর কাছে।
-"কেমন আছেন আঙ্কেল?
আংকেল হেসে উওরটা দিলেন।
-"ভালো, তুমি কেমন আছো?
-"জ্বী আঙ্কেল ভালো।
আংকেল একটু গম্ভীর গলা নিয়ে বল্লেন।
-"আচ্ছা নিশাত কে তুমি কতটা ভালোবাসো?
একটু অবাক হলাম।কি বলে এসব আংকেল।মনে একটু ভাঙন ধরল।
জ্বী আঙ্কেল আাপনার চেয়ে এক ফোটা কম।কারণ আপনি নিশাতের জন্মদাতা পিতা তাকে লালন পালন করেছেন,আদর স্নেহ দিয়ে বড় করেছেন।আপনার মতো নিশাত কে কেমন করে ভালোবাসবো।
তবে হ্যাঁ আমিও নিশাত কে অনেক ভালোবাসি, রোদে ছায়ার মতো,বৃষ্টিতে ছাতার মতো।
আংকেল এবার স্বাভাবিক হয়ে বল্লেন।
-"আচ্ছা বাবা তুমি একটা চাকরি খোজ করো,তাহলেই আমি তোমাদের দু হাত একজায়গায় করে দিতে পারবো।
আর নিশাত কে কখনও কষ্ট দিওনা।মা মরা মেয়েটা তোমাকে ভালোবেসে হাসতে শিখেছে,আগের শুধু মা র কথা ভেবে ভেবে কাঁদতো।
-"আচ্ছা আঙ্কেল আমি নিশাত কে কখনও কষ্ট দিবো না।
আঙ্কেল এর সাথে কথা বলে বাসায় এলাম।
নিশাত ফোন করে সব জেনে নিলো আমাকে থেকে,আর নিশাতকে আমি সব বলি।
নিশাতও আমাকে সব সেয়ার করে।
দু জনের ভালোবাসাটা খুব মধু ময়,বাবুই পাখির বাসার মতো।
যেখানে একটা একটা করে খরকুটো জোগার করে বাসাটা তৈরি করা।
.
আমি আজ একটা চাকরি ইন্টারভিউ দিতে যাবো।
তাই রেডি হচ্ছি নিশাত ফোন করে সব গুছিয়ে নিয়ে যেতে বলল।আর একটা মিষ্টি পাপ্পি দিয়ে দিলো।
আমার চাকরি হয়ে গেছে।
আমি তো খুব খুশি,আর সুখ দুঃখ যার সাথে সেয়ার করি তাকে অফিস থেকে বের হয়ে ফোন দিলাম।
আমি হ্যালো বলতেই কিছুটা অবাক হলাম।কারন কন্ঠটা অচেনা লাগল।
ওপাশ থেকে বলল।
-"জ্বী বলুন!
-"আপনি কে আর নিশাতকে ফোনটা দিন।
-"সরি।উনি একসিডেন্ট করেছেন,আর আপনি কে হন উনির?
আমি এই কথাটি শুনতে মনে হলো আঁকাশ থেকে পড়লাম।
আমতো গলায় বল্লাম।
-"আমি আমি,কোথায় কখন একসিডেন্ট করেছেন?আর নিশাত এর আমি কাজিন।কোন হসপিটাল বলুন আমি এখুনি আসছি।
পরে হসপিটাল এর এড্রেস নিয়ে সেখানে যাই।
সেখানে গিয়ে দেখতে পেলাম আমার হৃদয়ের স্পন্দন টা শুয়ে আছে বেড এর ওপর।
আমি ডাকলাম "এই নিশাত উঠো?এই দেখো আমি না চাকরি পেয়েছি,কাল না তোমাকে বিয়ে করব,এই নিশাত।
কোন কথা বলছে না নিশাত,হয়তো অভীমান করেছে তাই কথা বলছে না।
আবার ডাকলাম,কিন্তু কোন সাড়া নেই,তখন একটা ডাক্টার এসে বলল "উনি আর নেই সরি।
আমি তখন ডক্টর এর কলার চেপে ধরে বলতে শুরু করলাম।
-"এই একটু আগেও কথা বলেছি ও কেন চলে যাবে হুম।
আমার কিছুতেই বিস্বাস হচ্ছে না নিশাত আমাকে একা রেখে চলে যেতে পারে।
আমার চোখের সামনে সব কিছু ঘটে যাচ্ছে আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছি।
এইভাবে আমাকে একা রেখে নিশাত চলে গেলো।
আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।
ধিরে ধিরে আমি কেমন জানি হয়ে গেলাম,খাওয়া দাওয়া করি না।দাড়িগুলো অনেক বড় হয়ে গেছে।পথে পথে শুধু নিশাত কে খুজে বেড়াই কিন্তু পাই না।
একদিন রাতে রাস্তা মধ্যে খানে নিশাতকে দেখতে পাই।তখন খুব জোরে দৌড়ে যাচ্ছিলাম তখন একটা ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খাই।তার পর থেকে কিছু মনে নেই আমার।
আর জ্ঞান ফিরে দেখি এখানে আমি।
জীবনটা বড়ই অদ্ভুদ সব কেড়ে নিলো আমাকে থেকে।আজও নিশাত কে ভালোবাসি।খুব বেশিই।
.
.
নীল এর কখা শুনতে শুনতে আমার অনেক কান্না পাচ্ছে,আর মনে মনে ভাবছি এত্ত ভালোবাসতো নীল নিশাত কে।আসলে সত্যি কারের ভালবাসা অমর হয়ে থাকে চিরদিন।
রাত অনেক হয়েছে,ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি দুইটা বাজে।
নীল কে ঘুমিয়ে পড়তে বললাম।
পরে নীলের রুম থেকে চলে আসার পর কেমন জানি খুব কষ্ট হচ্ছে।রাতে ঘুম আসছে না।মনে মনে ভাবছি নীল এর কথা।ছেলেটা কত্ত সুন্দর।
কেমন জানি লাগছে সবকিছু উলোটপালোট লাগছে।
নীল কে ভালোবেসে ফেললাম নাতো?ধূর কি সব ভাবি।
সকালে উঠে একটু তাড়াতারি অফিস এ গেলাম।কারণ একটা আর্জেন্ট মিটিং ছিলো,তাই নীল কে না বলেই চলে এসেছি।
মিটিং এর সময় আমি নীল কথা ভাবছি।
খেয়াল করিনি তখন একজন বলে উঠলো।
-"ম্যাম কিছু বলুন?
তখন ঘোরটা কাটল।কিছুটা লজ্জাও পেলাম।
-"হ্যা বলছি।
মিটিং শেষ করে বসে আছি।
শুধু নীল এর কথা মনে পড়ছে।
সত্যিই কি নীল কে আমি ভলোবাসি?
মনটা উওর স্বরূপ বলল।
"হুম নীল কে আমি ভালোবেসে ফেলেছি।
নীল এর মায়াবী মূখের প্রেমে পরেছি।
নীল কে আজ আমার মনের সব কথা বলব।হৃদয়ের সব কিছু উজার করে দিবো নীল কে।
এই ভাবতে ভাবতে বাসার দিকে রওনা দিলাম। আর একগাদা গোলাপ ফুল নিলাম।
বাসায় গিয়ে বাসাটা একদম ফাকা লাগছে,কেউ নেই "কাকা কই।
কাকা বলে ডাকতে লাগলাম,কেউ সারা দিচ্ছে না।
ফোনটা তখনই বেজে উঠল।ফোনটা ধরলাম।অচেনা নাম্বার।
-"হ্যালো!
অপর পাশ থেকে কান্না জরিত শব্দে ভেষে আসলো।
-"হ্যালো।
একটু কৌতহল নিয়ে বল্লাম।কারন নীলকে কোথাও দেখতে পাচ্ছি না।
-"কে বলছেন?
-"আমি তোর কাকা রেহ্।
কাকার কান্নার সব্দে আমার বুকটা কেমন জানি হয়ে গেলো।তাই কাকে বল্লাম।
-"কি হয়েছে কাকা কাঁদছো কেন,কি হয়েছে?
-"একটু হসপিটালে আসবি নীল!
এই বলে ফোনটা কেটে গেলো।কাকা নীল এর কথা বল্লো।কিছু হয়নিতো নীলের?
মাথায় আঁকাশ ভেঙে পড়ল,এক নিমিষেই সাগরে ঢেউ প্রবল বইতে শুরু করল।
তারাতারি করে গাড়ি বের করে হসপিটালে পৌছে গেলাম।
হসপিটালে পৌছে দেখি কাকা দাড়িয়ে আছে।কাকার কাছে গিয়ে বল্লাম।
-"কাকা নীল কোথায়?
কাকা কোন কথা বলছে না চুপটি করে আছে।
আমি অপারেশন থিয়েটার থেকে একটা বেড নিয়ে আসতে দেখলাম নার্সদের।
সেখানে শুয়ে আছে চুপটি করে নীল।
অবাক হয়ে চোখটি স্তব্ধ হয়ে গেলো।নীল চুপটি করে শুয়ে আছে।কোন কথা বলছে না।
আমি তো নীল কে এক পলক দেখে অজ্ঞান হয়ে গেলাম।
.
জ্ঞান ফিরল তিন দিন পর আমার।
নীল একটা চিরকুট রেখে গিয়েছিলো।
তাতে লেখা ছিলো→
"চিঠিটা যখন হাতে পাবে তখন হয়তো আমি এই পৃথীবিতে থাকব না। নিশাত আমি জানি তুমি আমাকে অনেকটা ভালোবেসে ফেলেছো।কিন্তু আমার সবটা জুরে আছে নিশাত(আগের নিশাত)।তাকে আমি আমার নিজের জীবনের চেয়ে ভালোবাসি,তার জায়গায় আমি কাউকে কখনও বসাতে পারবে না।
আর ডক্টর বলেছে আমি বেশি দিন বাঁচবো না,আমার বেন্ড টিউমার।আমি বেশিদিন বাঁচবো না।
ডক্টর তোমাকে জানাতে চেয়েছিলো কিন্তু আমি জানাতে দেইনি,কারন তুমি কষ্ট পাবে বলে।
তাই চলে গেলাম দূর নীল আঁকাশের নীড় এ।
ভালে থেকে,আর আমায় ভেবে তোমার নতুন জীবন নষ্ট করো না।
তুমি খুব ভালো একটা মেয়ে,তেমার জীবনের ভালোবাসায় ভরে যাক।
-------নীল
আমার চোঁখের পানি এবার আর আটকাতে পারলাম না,খুব কাঁদছি।চিৎকার করে কাঁদছি।
সারা রাত কি হয়েছে আমার বালিশটাই শুধু জানে।
নীল এর কথা শুধু মনে পরে,ছেলেটা খুব সুন্দর মনের মানুষ ছিলো।
কিছুতেই ভূলতে পারছি না নীল কে।
কেমন জানি খুব ভলোবেসেছিলাম।
এভাবেই....!!
দু বছর কেটে গেলো,নীলের চিরকুট টা আজ পড়ছি।
আর মাঝে মঝে মনে হয় নীল আমার আশে পাশেই আছে।
.
-
✍ToriYo Ahmed Neel(শঙ্খনীল)
-
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŦৃāĻšāϏ্āĻĒāϤিāĻŦাāϰ, ā§§ā§Ē āĻĄিāϏেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
3717
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§Ž:ā§Ļā§Ģ PM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ