#গুন্ডী_মেয়ে
।
পর্বঃ নবম (৯ম)
।
।
।
---কি হয়েছে শ্র্যাবণীর । (নাসির)
---শ্রাবণী.. (ছনিয়া)
---আরে আপনি কাঁদছেন কেন আর শ্রাবণীর কি হয়েছে বলেন ।
---শ্রাবণী সুইসাইড করেছে ।
কথাটা শুনে ফ্লোরে ধপ করে বসে পরলাম এটা কি হলো কেনো এটা করলো শ্রাবণী ।
আমি চোখের পানি আটকে রাখতে পারছিনা ।
---হ্যালো ভাইয়া শুনতে পাচ্ছেন কি ।
---জ্বী ।
---আরে ভাইয়া কথা বলেন ।
।
আমি কি বলবো বুঝে উঠে পারছিনা ।
---ভাইয়া আপনি কি ঠিক আছেন ।
---হুম আর শ্রাবণী কোন হসপিটালে আছে এখন ।
---আপনি এরকম ভাবে কথা বলছেন কেন আপনি তো ঠিক আছেন ভাইয়া ।
---হ্যা আগে বলেন শ্রাবণী এখন কোন হসপিটালে আছে ।
---শ্রাবণী আপনাকে বলতে না নিষেধ করেছে ।
---আরে বলেন তো শ্রাবণী এখন কোথায় আছে ।
---ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে আছে আর শ্রাবণী অনেক সিরিয়াস ।
---কি বলেন এই সব কখন সুইসাইড করেছে ।
---আজকে সকালে ।
---কি বলেন বাসায় কেউ ছিলো না ।
---ছিল দেখাই তো বেঁচে গেলো না হলে...
---চুপ এই কথা বলবেন না আর শ্রাবণীর কখনো কিছু হবে না আল্লাহুর কাছে দোয়া করেন আমি আসছি ।
।
বলেই পিছনে তাকালাম দেখি মামনি আর মিম এসে হাজির তখনি চোখটা মুছে ফেললাম ।
।
---কি রে পরে গেলি কেনো । ( মামনি )
---পা পিছলে পরে গেছি । (নাসির)
---ব্যথা পেলি নাকি আর তোর চোখে পানি কেন এরকম করে কথা বলছিস কেন আজ ।
---না মানে কই এমন করে কথা বলছি মামনি পরে গিয়ে একটু লেগেছে তো তাই এই জন্য ।
---ও থাক আমি ওষুধ এনে দিচ্ছি ।
---না মামনি কিছু লাগবে না আর আমি বাহিরে যাবোতো মেডিসিন এর দোকানে আমি মেডিসিন লাগিয়ে নিব ।
---আরে বাহিরে যেতে হবে না প্রথমে বাধা পরেছে না জানি কি হয় ।
---আরে টেনশন করো না কিছু হবে না আর জরুরি যেতে হবে মামনি প্লিজ যেতে দাও ।
---টেনশন যে কেনো করি তুই বুঝবি না ।
---মিম মামনিকে রুমে নিয়ে যাতো ।
---হুম নিয়ে যাচ্ছি , আন্টি চলেন রুমে যাই নাসিরের কিছু হবে না ।
---দেখে যাস বাবা আর একটু তারাতারি আসবি ।
---নিয়ে যা মিম মামনিকে ।
---চলেন আন্টি ।
---চল মা ।
।
মামনিকে নিয়ে যাওয়ার সময় মিম পিছনে তাকিয়ে চোখের ভাষায় বললো কি হয়েছে ।
আমিও ইশারায় বললাম পরে বলবো ।
মিম মামনিকে নিয়ে গেলো আমি তারাতারি রেডি হয়ে রুম থেকে বের হলাম ।
আর যাওয়ার সময় বললাম ,
---মামনি আসতে একটু লেট হতে পারে আপনি চিন্তা করেন না জেনো ।
।
এটা বলেই তারাতারি করে বাসা থেকে বের হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হসপিটালের দিকে রওনা হলাম ।
আজকে গাড়িও পাচ্ছি না ।
বিপদ যখন হয় তখন সব কিছু সময় মতো পাওয়া যায় না । কি করা হেঁটেই রওনা দিলাম বাস স্টানের দিকে ।
পুরো বিশ মিনিট হেঁটে তার পর বাস স্টেশনে পোঁছে গেলাম ।
বাসের জন্য অপেক্ষা করছি সময় মতো কিছু পাচ্ছি না আর শ্রাবণীর কি হলো বুঝতে পারছিনা কেন এরকম করলো ।
ভালোবেসে এরকম করা কোন মানে হয়না এটা বোকামি ।
।
এখান থেকে সরাসরি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে যাওয়া যায় না ভেঙ্গে ভেঙ্গে যেতে হয় তাই বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে ।
।
অতঃপর
।
বাসে উঠে বসে আছি ।
আবার জ্যামের মধ্যে আটকা পরলাম কি যে করি মাথায় কাজ করছেনা কিছুখন পর আবার গাড়ি চলা শুরু করলো ।
প্রায় আধঘন্টা পর বাস থেকে নামলাম ।
।
অতঃপর
।
হসপিটালের কাছে এসে ছনিয়াকে ফোন দিলাম ।
।
---হ্যালো । ( ছনিয়া )
---এখন শ্রাবণী কোথায় । ( নাসির )
---আই সি ইউ তে আছে ।
।
ফোনটা কেটে আই সি ইউ এর দিকে গেলাম ।
।
---ছনিয়া কি খবর শ্রাবণীর ।
---এখনো ডাক্তার বের হয়নি তাই কিছু বলা যাচ্ছে না ।
---আচ্ছা কি ভাবে শ্রাবণী এতো পাগলামী করেছে ।
---রেজওয়ান ভাইয়া বলছে যে কাল সন্ধ্যার সময় কোথায় থেকে এসে ঘরের কিছু জিনিস ভেঙ্গে ফেলে আর অনেক পাগলামী শুরু করে পরে আঙ্কেল আর রেজওয়ান ভাইয়া এসে অনেক কষ্টে শান্ত করে ফেলে কিন্তু তার পর শ্রাবণী তার নানুর বাসায় চলে যায় ।
---ওহ্ নো তারপর ।
---তার পর শ্রাবণীর নানু আমাকে ফোন দিয়ে বলে শ্রাবণী সব কিছু ভেঙ্গে ফেলে তার হাত কেটে অনেক রক্ত ঝরে আর শ্রাবণীর অব্যস্থা খুব খারাপ তখন শ্রাবণীকে হসপিটালে আনা হয়েছে তাই ভাবলাম আপনাকে ফোন দেই অবশ্য শ্রাবণী আগে বলেই ছিল শ্রাবণীর কোন ব্যাপার আপনাকে না বলতে তবুও বললাম ।
---এতো পাগলামী করে কেনো সুস্থ হোক দেখাবো মজা ।
।
এর মাঝে শ্রাবণীর ভাই রেজওয়ান আসে আর বলে ,
---তুমি নাসির না । ( রেজওয়ান )
---জ্বী হ্যা । ( নাসির )
---শ্রাবণী আর তোমার মাঝে কিছু হয়েছে ।
।
কথাটা শুনে ভয় পেয়ে গেলাম কি বলবো বুঝে উঠে পারছিনা ।
।
---কি হলো বল ।
---না মানে কাল সন্ধ্যার...
।
এর মাঝে এক নার্স এসে বললো ,
---রেজওয়ান কে । ( নার্স )
---আমি । ( রেজওয়ান )
---দুই ব্যাগ রক্ত লাগবে তারাতারি জোগার করেন ।
---আচ্ছা আমি চেষ্টা করছি ।
---আচ্ছা যা করার তারাতারি করেন ।
।
এটা বলেই নার্স চলে গেল রুমে ।
।
---আচ্ছা পরে কথা হবে এখন রক্ত জোগার করতে হবে ।
---আচ্ছা ভাইয়া পরে কথা হবে ।
।
রেজওয়ান ভাইয়া চলে গেলো ।
আমিও আর কিছু বলছি না । কয়েক বার কে যেন ফোন দিয়েছিল তখন আর ধরি নাই ।
আল্লাহুর কাছে শ্রাবণীর জন্য দোয়া করলাম ।
।
অতঃপর
।
রেজওয়ান ভাই এক ব্যাগ রক্ত জোগার করে এনেছে কিন্তু আর এক ব্যাগ রক্ত জোগার করতে পারে নাই ।
হসপিটালে রক্ত নাই শ্রাবণীর গুরুপের যা ছিল দুই জনকে দিয়ে দিছে তাই আর নেই এখন কি করা যায় ভাবতেছি ।
।
---আচ্ছা তোমার রক্তের গুরুপ কি । ( রেজওয়ান )
---কে । ( নাসির )
---আরে আমি ।
---ও সরি ।
---তোমার রক্তের গুরুপ কি ।
---A নেগেটিভ কেন ।
---ইস্ ।
---কেন শ্রাবণীর রক্তের গুরুপ কি ।
---O নেগিটিভ ।
---সো সাড ।
।
আচ্ছা মিমের রক্তের গুরুপ কি তাহলে ফোন দেই । ফোনটা বের করে দেখি মিম পাঁচ বার ফোন দিয়েছিল ।
।
---হ্যালো । ( নাসির )
---কি রে কয় বার ফোন দিলাম রিসিভ করলি না ক্যা । ( মিম )
---আরে অনেক ঝামেলার মাঝে আছি ।
---কি হয়েছে ।
---শ্রাবণী সুইসাইড করছে ।
---কি বলিস ।
---হ্যা রে সত্যি বলছি ।
---আন্টি কথা বলবো কথা বল ।
---হ্যা মামনি বলো ।
---তুই এখন কোথায় রে বাবা ।
---আছি আছি ।
---আছি আছি কি বলছিস হ্যা বল কোথায় আছিস ।
---না মানে শপিং করতে আসছি মামনি ।
---ও তাই বল একটু তারাতারি আস বাবা কেমন জানি মনটা ভালো লাগছে না ।
---আচ্ছা মামনি আপনি কোনো টেনশন করবেন না আমি যত তারাতারি আসতে পারি আসবো মিমের কাছে ফোনটা দেনতো ।
---হুম বল ।
---মামনির কাছ থেকে একটু দূরে সরে যা তো ।
---হুম দূরে সরে আসছি বল ।
---তোর রক্তের গুরুপ কি ।
---o নেগেটিভ কেন ।
---সত্যি বলছিস ।
---হ্যা কেনো কি হয়ছে ।
---শ্রাবণীর জন্য রক্ত দরকার এক ব্যাগ জোগার হয়েছে কিন্তু আর এক ব্যাগ লাগবে তা হসপিটালে নাই ।
---না মানে ।
---প্লিজ মানে মানে বলিস না তোকে হাত জোর করে বলছি প্লিজ ।
---আরে আমি আসছি আর আন্টি ।
---মামনির কাছে দে ।
---কি বলবি বাবা ।
---মামনি শপিং করবো কিন্তু চয়েস হচ্ছে না যদি আপনি মিমকে বলতেন তাহলে মিম চয়েস করে কিনে দিতো ।
---আচ্ছা আমি মিমকে বলে দিচ্ছি ।
।
---মা নাসির না শপিং মলে আছে তাই তুই একটু গিয়ে চয়েস মতো কিছু কিনে দিবি ।
---জ্বী আন্টি আমি যাবো ।
।
---নাসির মিম যাবে বলছে তুই কথা ক মিমের সাথে ।
---আচ্ছা দেন ওকে ।
---কোথায় আসবো ।
---ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে আয় আধঘন্টার মধ্যে আয় ।
---আচ্ছা আমি আসছি ।
---একটু তারাতারি আয় ।
।
।
---আর এক ব্যাগ রক্ত লাগবে । (নার্স)
এটা বলেই রুমে গেলো ।
।
---কি রে রক্ত পাইলি । (রজওয়ান)
---না ভাই এই হসপিটালে ও রক্ত নাই । (লোকটি)
---তাহলে অন্য হসপিটালে যা আধঘন্টার মধ্যে রক্ত লাগবো আর না হলে বাঁচানো সম্ভব না ।
---জ্বী ভাই আমি অন্য হসপিটালে যাচ্ছি ।
।
---ভাইয়া । (নাসির)
---হ্যা বল । (রেজওয়ান)
---টেনশন করবেন না ।
---আরে আর এক ব্যাগ রক্ত কোথায় পাবো ।
---মানে রক্তের জোগার করেছি ।
---কোথায় ।
---মানে আমার এক বোনের রক্তের গুরুপ এক তাই ওকে ফোন করে দিয়েছি সে আসতেছে ।
---সত্যি বলছো তো ।
---হ্যা ।
---আল্লাহুর কাছে লাখ লাখ শুকুরিয়া ।
।
অতঃপর
।
মিমের রক্ত পরীক্ষা করে । মিমের রক্ত নেওয়া হলো ।
এখন সবাই শান্ত ডাক্তার বলেছে ভয়ের কোন কারণ নেই এখন সুস্থ আছে ।
তাই আমি আর মিম রুমের ভেতর গেলাম ।
দেখি শ্রাবণী শুয়ে আছে আর আমাদের দেখে শ্রাবণী বললো ,
---তুই এখানে কেনো যা এখান থেকে । (শ্রাবণী)
---না মানে তোমাকে দেখতে এসেছি । (নাসির)
---কিহ্ আমাকে দেখতে এসেছিস হ্যা নাকি আমাকে এই করুণা করতে এসেছিস ।
---আরে তুমি ভুল বুঝতেছো ।
---আরে কীসের ভুল হ্যা কালকে পর থেকে আমি ওকে ভুলে গেছি ।
---এইসব কি বলছো আসলে..
---আমি ঠিকই বলছি আঙ্কেল ওদের চলে যেতে বলো না হলে আবার আমি কিন্তু...
---না মা আমি ওদের চলে যেতে বলছি ।
---তারাতারি যেতে বল ।
---প্লিজ আপনারা আমার সাথে আসুন ।
।
কিছু বললাম না ভয় হচ্ছে মিমকে নিয়ে আমি আবার ডেকে এনে অপমান করলাম ওতো বাসায় যাবে না ।
।
---বাবা কিছু মনে করো না মা মরা মেয়েটা আমার এরকম । হয়তো আমার নিজের মেয়ে না কিন্তু আমি ওকে নিজের মেয়ে মনে করি তাই বাবা হয়ে বলছি এখন ভিতরে যেওনা প্লিজ । (শ্র্যাবণীর চাচা)
---আচ্ছা আঙ্কেল আমি ভিতরে যাবো না । (নাসির)
।
শ্রাবণীর আঙ্কেল মিমের কাছে গেলো ।
।
মিম একটু দূরে গেলো হয়তো রাগ করেছে আর রাগ করা সাভাবিক আমি তাকে এনে অপমান করেছে ।
।
---মা কিছু মনে করো না মা । মা মরা মেয়ে আমার হয়তো আমার নিজের মেয়ে না কিন্তু আমি ওকে নিজের মেয়ে মনে করি তাই বাবা হয়ে তোমার কাছে হাত জোর করে ক্ষমা চাইছি প্লিজ ক্ষমা করে দিও ।
---আরে আঙ্কেল কি করছেন বাবা হয়ে মেয়ের কাছে মাফ চাওয়া লাগেনা আর আমি কিছু মনে করিনি কারণ শ্রাবণী হয়তো সত্যিটা জানে না তাই । (শ্র্যাবণীর চাচা)
---হুম । (মিম)
---আচ্ছা আঙ্কেল তাহলে আমরা আসি ।
---আচ্ছা মা যাও ।
।
এই বলে বাসার দিকে রওনা দিলাম ।
বাসায় গিয়ে মামনির নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিল মিম ।
পরের দিন আবার চলে গেলাম হসপিটালে ।
গিয়ে জানালা দিয়ে দেখে আসতাম ।
রুমে যাইনা বাহিরে থেকে দেখা যায় ।
এভাবে প্রতিদিন একবার করে দেখে যাই শ্রাবণীকে ।
এভাবে কাটতে থাকে দিন ।
কয়েক দিন পর শ্রাবণীকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে ।
তাই আর দেখতে যাই না ।
।
এভাবে আরও দুই দিন চলে গেলো ।
।
।
---আজকে না তোকে দেখতে আসবে মারিয়ার দাদা কালকে আমরা দেখে আসার সময় বলে দিয়েছে । (আম্মু)
---মামনি ছেলেকে এতো বারে বারে দেখে নাকি । (নাসির)
---না মানে মারিয়ার দাদু আগে তোকে দেখবে তাই ।
---ও ।
---কোথাও জেনো যাস না বিকালে ।
---হুম ।
।
মেজাজটা খারাপ করে দিল ধ্যাত আমি কি বিয়ে করছি নাকি ওই পক্ষের ছেলে বিয়ে করাইতেছে বুঝতে পারছিনা ।
।
দুপুরের খাবার খেয়ে শুয়ে আছি ।
এর মধ্যে ফোনে ম্যাসেজ আসলো আনকমন নাম্বার ,
বিকেল ৪টা রাস্তার মোড়ে দেখা করবে ।
বেশি দেরি করোনা ।
।
আমি উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।।।
তার পর চলে গেলাম সেখানে ।
।
---কি রে নাসির কোথায় মিম মারিয়ার দাদু এসে গেছে । (আম্মু)
---আমি দেখি ওর রুমে আছে কিনা। (মিম)
---একটু তারাতারি দেখ রুমে আছে কিনা।
---ওকে আন্টি।
।
---আন্টি নাসিরকে তো দেখছিনা ।
---কি বলিস।
---হ্যা আন্টি সত্যি বলছি।
---ওর বন্দুদের ফোন দে দেখ ওখানে আছে কিননা।।
---জ্বী আন্টি দিচ্ছি ।।
।
---হ্যালো । (মিম)
---জ্বী বলেন। (সায়েম)
---নাসির কি তোমাদের ওখানে আছে।
---না আর নাসিরের কি হয়ছে।।
---জানি না আজ দুপুর থেকে খুঁজে পাচ্ছি না।
---ও।
---আচ্ছা বাই।
।
---আন্টি বন্দুর বাসায় যাই নাই।
---তাহলে গেল কোথায়।
---আচ্ছা আর এক জায়গায় ফোন দেই।
---আচ্ছা দে মা তারাতারি।
।
---হ্যালো। (মিম)
---আপনি মিম না। (শ্র্যাবণী)
---হ্যা ।
---আপনি ফোন দিছেন ক্যা হ্যা আপনার কি লজ্জা করে না এতো অপমান কররছি তাও আবার ফোন দিছেন।
আর কি জন্যে ফোন দিয়েছেন।
---না মানে নাসিরকে দুপুর থেকে পাওয়া যাচ্ছে না।
---কি বলেন আপনি কোথায় গেছে বলতে পারেন না ।
---হ্যা সত্যি বলছি।
---ও সরি আমাদের এখানে নাই।
---ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
।
।
---আন্টি ওখানেও নেই।
---তা হলে গেলো কোথায়।
।
।
।
চলবে পরবর্তী পর্বে।।।
।
।
।
পরবর্তী পর্ব পড়তের গল্পরে সাথে থাকুন।।।
।
।
লেখকঃ নাসির ইসলাম মাহিম ( মাহাদির আব্বু )
।
।
।
★★★আল্লাহ হাফেজ★★★
#গুন্ডী_মেয়ে
।
পর্বঃ দশম ( ১০ ম )
।
।
।
---আচ্ছা তোর আব্বুর কাছে ফোন দেতো । ( আম্মু )
---জ্বী আন্টি দিচ্ছি । ( মিম )
।
---রিং হচ্ছে ধরছে না ।
---আর এক বার ট্রাই কর ।
---আচ্ছা আর এক বার দিচ্ছি ।
।
---হ্যালো আব্বু । ( মিম )
---হ্যা বল । ( মিমের আব্বু )
---আচ্ছা নাসির কি তোমাদের ওখানে আছে ।
---না কেন , আর নাসিরের কি হয়েছে ।
---না মানে দুপুর থেকে ওকে পাওয়া যাচ্ছেনা তো তাই আন্টি ফোন দিতে বললো ।
---ও আর নাসির হয়তো ওর বন্ধুর বাসায় গেছে ঠিক চলে আসবে আর তোর আন্টিকে টেনশন করতে না কর ।
---আচ্ছা আব্বু তাহলে রাখি আমি ।
।
---কি রে কি বললো ।
---আন্টি নাসির আমাদের বাসায় যায় নাই ।
---তাহলে কোথায় গেলো সব জায়গায় খোঁজ করেছি কিন্তু সবাই বলে জানি না আসে নাই ।
---আরে আন্টি এতো টেনশন করবেন না ঠিক চলে আসবে হয়তো কোন জরুরি কাজে আটকে পরেছে ।
---আচ্ছা ওর তো কিছু হয়নি তো ।
---আরে আন্টি আপনি উল্টা পাল্টা কি ভাবছেন ওর কিছু হয়নি ।
আপনি শান্ত হন আমি আরও বন্ধুদের কাছে খোঁজ নিয়ে দেখি ।
---হুম নি আমি রুমে যাচ্ছি ।
---আচ্ছা যান আর টেনশন করবেন না দেখুন ঠিক চলে আসবে ।
।
।
---শ্রাবণী আমি কি ভিতরে আসতে পারি । ( রেজওয়ান )
---এসো ভাইয়া । ( শ্রাবণী )
---এখন কি অবস্থা ।
---এখন মোটামুটি ভালো আছি ।
---আচ্ছা তোকে আজ একটা সারপ্রাইজ দিবো ।
---কি সারপ্রাইজ ভাইয়া ।
---তা বলবো না আগে আমার সাথে চল ।
---কোথায় প্লিজ বলোনা ভাইয়া সারপ্রাইজটা কি ।
---আগে আমার সাথে চল গেলি বুঝবি ।
---কোথায় যাবো ।
---আমাদের সামনের পুরোনো বাড়ি ।
---কেনো ।
---গেলেও বুঝতে পারবি চল চল ।
---আচ্ছা চল ভাই ।
।
এই বলে শ্রাবণী আর তার ভাইয়া রেজওয়ান তাদের পুরোনো বাড়ির দিকে যায় ।
অতঃপর
।
তাদের পুরোনো বাড়ি চলে আসে ।
শ্রাবণী তার ভাইকে গাড়ির ভেতর কয়েক বার জিঙ্গেস করেছিল কি সারপ্রাইজ কিন্তু তার ভাই একটাই কথা পরেছিল গেলেই বুঝতে পারবি ।
।
---কি রে থেমে গেলি কেন আয় । ( রেজওয়ান )
---না মানে আসছি । ( শ্রাবণী )
---আচ্ছা তুই আমার পিছনে পিছনে আয় ।
---আচ্ছা তুমি যাও আমি আমি আসছি ।
।
শ্রাবণীর মনে খটকা লাগছে ওর ভাই হঠাৎ করে সারপ্রাইজ দিতে এখানে কেন আসছে নাকি নাসিরকে এখানে ধরে এনেছে ।
আর কেমনে বুঝবে যে ওর জন্য আমি এগুলি করেছি মানে সুইসাইড করেছিলাম ।
নাকি ছনিয়া ভাইয়াকে সব বলেছে ।
---কি রে কি চিন্তা করছিস ভিতরে আয় ।
---ওহ্ হ্যা চল ।
শ্রাবণী ভিতরে গিয়ে অবাক হয় । কারণ শ্রাবণী যেটাই মনে মনে ভেবেছিল সেটাই হয়েছে এটা আর কেউ না সে হচ্ছে নাসির ।
নাসিরকে চেয়ারের সাথে বেঁধে রেখেছে ।
শ্রাবণী কি বলবে বুঝে উঠতে পারছেনা ।
---কি রে সারপ্রাইজটী কেমন লাগলো রে । ( রেজওয়ান )
---(নিশ্চুপ) ( শ্রাবণী )
---কি রে কেমন দিলাম আমি যখন ছনিয়ার কাছে শুনলাম যে তুই ওকে ভালোবাসিস তখন আমার বুঝতে বাকি ছিলোনা যে তুই নাসির জন্য সুইসাইড করেছিলি তাই এ জন্য তোকে সারপ্রাইজ দিলাম ।
---(শ্রাবণী নিশ্চুপ)
---কি রে শ্রাবণী খুশি না ওহ্ হ্যা ওকে তো বেঁধে রেখেছি খুলে দেই নি আচ্ছা খুলে দিচ্ছি ।
এই বলে শ্রাবণীর ভাই রেজওয়ান নাসিরকে ছেড়ে দেয় ।
---ও হ্যা আর একটা কথা বলতে ভুলে গেছি আজকেই তোদের বিয়ে হবে কাজী সাহেবকে নিয়ে আসছে ।
---না মানে ।
---আরে কিছু ভাবতে হবে না আমি নাসিরের আব্বু ও আম্মুকে আর আমাদের আব্বু আর আঙ্কেলকে ম্যানেজ করবো ।
।
নাসির দাড়িয়ে শ্রাবণী আর তার ভাইয়ের রেজওয়ানের কথা শুনছে ।
আর শেষের কথাটা শুনে নাসির বললো ,
---বাহ্ শ্রাবণী খুব ভালো নাটক করতে পারো তো ।
---কিহ্ বলো এগুলি আমি তো কিছুই জানি না ।
---বাহ্ দেখি সত্যি সত্যি নাটক করতে পারো ।
---আরে আমি সত্যি বল...
---শ্রাবণী চুপ আমি জানি এটা তোমার নাটকের কাহিনী ।
---তুমি কিন্তু...
---কি সত্যিটা জেনে গেছি আমি তাই তো হ্যা আমি সত্যিটা জেনে গেছি এটা তোমার আর তোমার ভাইয়ের একটা নাটকের প্যালান তাই না । আর এই কাজটা অথাৎ নাটকটা করে ভালো করনি ভালো থেকো গুড বাই ।
।
এটা বলে নাসির চলে যেতে লাগলো ।
।
শ্রাবণী কি বলবে বুঝতে পারছেনা কারণ নাসির তো ওর কোন কথা শুনছে না ।
।
নাসির একটু খানি গিয়ে আবার ফিরে এসে শ্রাবণীকে বললো ..
---শোন জোর করে ভালোবাসা হয়না আর জোর করে কখনো ভালোবাসা আদায় করা যায় না ।
আগে ভালোবাসতে শেখো তার পর কাউকে ভালোবাসো তা ছাড়া কখনো গুন্ডামি করে আর মাস্তানী করে ভালোবাসা পাওয়া যায় না বুঝলে ভালোবাসতে সুন্দর মন লাগে আর সেটা তোমার মাঝে নাই ।
আর তুমিতো গুন্ডী ।
আর তবুও আমি তোমাকে ভালোবেসে ছিলাম কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি তুমি এতো নীচ ।
তাই আমি তোমাকে ঘৃণা করি আই হেট ইউ ।
।
শ্রাবণীর দিকে তাকালাম দেখি কাঁদতেছে ।
।
নাসির এটা বলেই চলে যাচ্ছে তখনি শ্রাবণীর ভাই এসে বাধা দিতে চাইলো তখনি শ্রাবণী বললো ,
।
---ভাইয়া ওকে যেতে দাও ।
---আরে ।
---ভাইয়া যে আমাকে ঘৃণা করে ভালোবাসে না তাকে আমি চাই না ।
আমি তো ভালোবাসার যোগ্য না তাই আর কোন লাভ নেই ।
যে আমার চোখের ভাষা আর চোখের পানি দেখে বোঝে না কোনটা নাটক আর কোনটা সত্যি ।
ভাইয়া ওকে যেতে দাও ।
।
এটা শোনে নাসির শ্রাবণীর প্রতি দুর্বল হলো না ।
তারপর নাসির বাসার দিকে যাচ্ছে ।
।
অতঃপর
।
---আরে কাঁদতেছিস কেন আর কোন টেনশন করিস না শ্রাবণী আবার নাসিরকে তোর কাছে এনে দিব । ( রেজওয়ান )
---না ভাইয়া তা আর লাগবে না । ( শ্রাবণী )
---মানে ।
---আমি পেয়ে গেছি ।
---কি পেয়ে গেছিস কিছুই বুঝতে পারছিনা ।
---মানে আমার ভালোবাসার উত্তর পেয়ে গেছি ও আমাকে ভালোবাসে না আমাকে ঘৃণা করে আর আমাকে দেখতে চায় না তাই আমি আর এই ইট গাঁথা শহরে আর থাকতে চাই না আমি ।
---কোথায় যাবি ।
---দাদুর কাছে ।
---মানে গ্রামে যাবি । তুই তো আগে পছন্দ করতি না আর এখন বলছিস যাবি ।
---না ভাইয়া এই ইট দালান কোঠা আর আমার সহ্য হচ্ছে না প্লিজ আমাকে কাল দিয়ে আসবে ।
---আচ্ছা তুই যেটা ভালো মনে করিস সেটাই হবে ।
।
সেখান থেকে শ্রাবণী আর তার ভাই রেজওয়ান বাসায় চলে যায় ।
।
আর এদিকে নাসির বাসায় চলে যায় ।
।
অতঃপর
।
কলিং বেল বাজাতে না বাজাতে মামনি দরজা খুলে দিল আর বললো ,
---কই ছিলি সারাদিন ।
---আগে বাসায় যেতে দাও ।
---আচ্ছা আয় ,
আচ্ছা এখন বল কই ছিলি ।
---এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম ।
---মিথ্যে বলছিস ক্যা ।
---কই মিথ্যে বললাম ।
---আমি তোর সব বন্ধুদের ও সব জায়গায় ফোন করেছি কোথাও নাই আর তুই বলছিস বন্ধুদের বাসায় ছিলি এই তোকে শিখিয়েছি আর মিথ্যে বলতে শিখিয়েছি ।
---না মানে ।
---কি ।
এখন কি বলি বুঝতে পারছিনা ।
---কি রে মিথ্যে বলার চেষ্টা করছিস ।
---না মানে ।
---শোন মিথ্যে বলতে হলে সব কিছু ঠিক রেখে বলতে হয় না হলে সব ফাঁস হয় আর সত্যি বলতে কিছু ঠিক ঠাক করতে হয়না ।
---না মানে গুন্ডী মেয়ে ।
বলেই মুখ চেপে ধরলাম । এটা কি বললাম ।
---গুন্ডী মানে ওই মেয়ে তা কি হয়েছে তোকে কিছু করেছিল ।
---না মানে ।
---না মানে না মানে কি বলছিস ঠিক করে বলতো ।
---আন্টি আমি বলছি ।
---ওই চুপ কি বলবি হ্যা মামনি ও কিন্তু মিথ্যে বলবে ।
---তুই চুপ কর । মিম তুই কি বলতে চাইলি ।
---মানে ওই মেয়েকে মানে শ্রাবণীকে নাসির ভালোবাসে ।
---কি বলছে মিম সেটা কি সত্য ।
---মাথাটা দিয়ে হ্যা বললাম ।
---আপনি আর আঙ্কেল কষ্ট পাবেন বলে আপনাদের জন্য রাজি হয়েছে ।
মিমের এই কথাটা শুনে মামনি ধপ করে বসে গেল ।
আমি কি বলবো বুঝে উঠেছে পারছিনা ।
মামনি উঠে রুমের দিকে যাচ্ছে ।
কয়েক বার ডাক দিলাম কিন্তু না শুনে রুমে গিয়ে দরজা দিল ।
আমি দরজার কাছে গিয়ে অনেক ডাক লাম কিন্তু ভেতর থেকে কোন আওয়াজ আসলো না ।
তাই আর না ডেকে রুমে চলে আসলাম ।
মিমের উপর অনেক রাগ হচ্ছে কেন যে সব বলে দিল ।
আমারি ভুল ছিল তখন মুখ ফোঁসকে কেন বের হলো ।
আজ রাতে না খেয়ে শুয়ে পরলাম আর ভাবতে লাগলাম মামনি সত্যি অনেক কষ্ট পাইছে ।
আমাকে দিয়ে এটা আশা করেনি আর আমি কি করলাম ।
সাত পাঁচ ভেবে ঘুমিয়ে পরেছি কখন মনে নেই ।
।
শেষ রাতে ঘুমটা ভেঙ্গে যায় ঘড়িতে তাকালাম দেখি ৪ টা বাজে আজান দিতে অনেক দেরি আছে আবার ঘুমাতে চেষ্টা করলাম কিন্তু ব্যর্থ ।
আবার সেই মামনিকে নিয়ে চিন্তা হচ্ছে সকালে কি হবে আর মামনির সামনে ধারাবো কেমনে ।
কিছুখন পর ফজরের আজান হলো তাই নামাজ পড়তে গেলাম ।
।
নামাজ পড়ে এসে আবার ঘুমালাম ।
।
---ওই নাসির ওঠ । ( মিম )
---ঘুমাতে দেতো । ( নাসির )
---ওই উঠে খেয়েনি ।
---মামনি কোথায় ।
---রুমে আছে ।
---সকালে খেয়েছে ।
---না ।
---আব্বু আজ অফিসে যায় নি ।
---না ।
---মামনিকে খেতে বল ।
---হুম তুই ।
---খাবো না আর আমাকে ঘুমাতে দে প্লিজ ।
---আচ্ছা ঘুমা ।
।
আমি আবার ঘুমালাম ।
।
ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে মামনির রুমের দিকে গেলাম ।
দরজার কাছে গেলাম দেখি মিম মামনি আর আব্বু কথা বসতেছিল যখনি আমার বাজ পেয়ে চুপ হয়ে গেলো ।
আমি আর গেলাম না রুমে আবার আমার রুমে আসবো আবার তখন আবার কথা বলা শুরু করলো তখন আবার মামনির রুমে দিকে গেলাম আবার চুপ হয়ে গেলো তখন রাগ করে রুমে দিকে গেলাম আসার সময় শুনতে পেলাম হাসি তিন জন এক সাথে হেসে উঠলো তাই আর দেরি না করে রুমে গিয়ে শুয়ে পরলাম ।
এভাবে কেটে গেলো দিনটা ঘুমের মাধ্যমে ।
।
অতঃপর
।
আজকে নামাজ পড়ে এসে বাসায় গেলাম ।
আজকে বাসায় কি হয়েছে আর সবাই আজকে খুশি কেন কিছুই বুঝতে পারলাম না তাই রুমে গেলাম ।
রুমে বসে আছি হঠাৎ চোখটা আটকে যায় ,
ওটা কে....
।
।
।
চলবে পরবর্তী পর্ব ও শেষ পর্ব ।।।
।
।
।
পরবর্তী পর্ব পড়তের গল্পরে সাথে থাকুন।।।
।
।
লেখকঃ নাসির ইসলাম মাহিম ( মাহাদির আব্বু )
।
।
।
★★★আল্লাহ হাফেজ★★★
#গুন্ডী_মেয়ে
।
পর্বঃ একাদশ ও শেষ ( ১১ )
।
।
।
ওটা কে আর হলুদ শাড়ী পরে আছে ।
এতো সকালে আমাদের বাসায় কে আসতে পারে ।
একটু খানি ঘুরে ধারালো ।
আর একটু ঘুরে ধারাও না প্লিজ আর একটু আল্লাহ আর একটু ইস্ আর একটু ঘুরে ধারালে তো দেখা যায় ।
আজকে কি ঘুম হবে না নাকি এই অপ্সরী দেখতে এতো পাগল হচ্ছি কেন আমি কি ওনার উপর ক্র্যাস খাচ্ছি না ক্র্যাস খাওয়া যাবে না কারণ এখনো তো শ্রাবণীকে ভালোবাসি আর শ্রাবণী ছাড়া দ্বিতীয় জনকে না এটা হতে পারে না । নাসির নিজেকে তুই কন্ট্রোল কর তা না হলে এর মতো করে শ্রাবণীকে দেখতে পারবিনা ।
।
আচ্ছা ওখানে দাড়িয়ে কি দেখে বুঝতে পারছিনা এখানে তো তেমন দেখার কিছু নেই নাকি আমাকে তার উপর দুর্বল করছে না এটা হতে পারে না ভাই নাসির এটা কি রে তুই তো শ্রাবণী ছাড়া কাউকে এরকম চোখে দেখতে নাই তাইলে শ্রাবণী থেকে ভালোবাসা কমে যাবে আর এই অপ্সরীর উপর ক্র্যাস খাইবে তখন আর শ্রাবণীকে ভালো লাগবে না দূর মিঞা কি যে বল না শুধু দেখবো যাও তো দিষ্টাব করো না দেখতে দাও । ( মনে মনে মনের সাথে বললাম )
।
আরে ওটা তো শ্রাবণী মতো দেখতে কিন্তু শ্রাবণীর তো অনেক বড় চুল ছিলনা নাহ্ আমি এতো উল্টা পাল্টা ভাবতেছি কেন যেই হোক আমাকে দেখতে হবে তা না হলে এখন ঘুম হবে না ।
ডাক দিবকি না এটা ঠিক হবে না থাক যদি তাকায় তখন দেখবো আর নাহলে না ।
যেই তাকাবে তখনি মামনি ডাক দিল ,
---মা এদিকে আয় তো । ( মামনি )
---জ্বী আম্মা আসছি । ( ওই অপ্সরী )
।
এটা বলে আমার দিকে না তাকিয়ে মামনির দিকে গেলো ।
এমা এই মেয়ে কি বলে মামনিকে আম্মা বলে কেন নাকি এটা আম্মুর বান্ধবীর মেয়ে ।
নাহ্ এটা হতে পারে না কারণ আমি শুনেছি মামনির বান্ধবীর মেয়ের নাকি ছোট ছোট চুল ।
তাহলে কে হতে পারে ।
দূর যেই হোক আর দেখা লাগবে না মনটাই নষ্ট করে দিল ।
তাই পুরোনো অভ্যাস ঘুম তাই ঘুমালাম আর একটু টাইম দেখি ৭ টা বেজে ৪৫ মিনিট ধ্যাত আধঘন্টা ঘুম পারতে হবে তাই ঘুমালাম ।
।
ঘুমের মাঝে কে যেন মাথায় হাত বিলিয়ে দিয়ে ডাকছে ,
---এই যে উঠুন । ( শ্রাবণী )
---ঘুম পারতে দেতো মিম । [ ঘুম ঘুম চোখে বললাম ] ( নাসির )
---আরে কি বলছো ওঠোতো ।
কন্ঠটা শুনে ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো এটা তো শ্রাবণীর কন্ঠ নাকি ভুল শুনছি ।
---কি হলো উঠেন না ক্যা ।
আবার কন্ঠটা শুনে এ পাশ হতে দেখে অবাক হলাম আর বিশ্বাস করতে পারছি না আর শ্রাবণীর রূপ ধরে নাই তো ভূত চিৎকার দিবো না দিবো বুঝে উঠে পারছিনা না আগে ভূতের সাথে কথা বলি ।
---কি দেখছো ।
---তামাকে দেখছি ।
শ্রাবণী একটু লজ্জা পেল আরে শ্রাবণী কি তাও জানি না ।
---কি যে বলোনা ।
---হুম সত্যি বলছি কখনো তো তোমাকে শাড়ী পড়া দেখি নাই শুধু প্যান্ট আর শ্যার্টে দেখেছি তো তাই ।
---আমি শাড়ী পরতে পারি না আম্মা আর মিম পরিয়ে দিছে ।
---আচ্ছা একটা কথা বলতে পারি ।
---তুমি কি সত্যি শ্রাবণী নাকি ভূত ।
---হুম ভূত ।
---কি কি তু তুমি ভূত ।
---হাহাহা ।
আরে ভূত তো এরকম ভাবে হাসে না এটাই শ্রাবণী ।
---আচ্ছা তোমাকে কি ছুঁতে পারি ।
---হাহাহা হুম এই নাও । হাতটা এগিয়ে
আমি হাতে চিমটি কাটলাম ।
---ওহ্ ।
---ব্যথা লেগেছে ।
---আরে গাধা চিমটি কাটলে ব্যথা লাগেনা হুম ।
---সরি বিশ্বাস হয়নি কারণ তোমাকে তো অপমান করেছি ।
---হুম জানি কিন্তু আমার বিশ্বাস ছিলো তুমি আমাকে ভালোবাসো আমাকে ঘৃণা কর না তুমি ভুল বুঝে বলেছিলে মনে করেছিলে আমি নাটক করছি কিন্তু সত্যি আমি জানি না ।
---হুম কিন্তু আমার মন বারে বারে বলেছিল এটা তুমি করতে পারো না কিন্তু এভাবে নিয়ে যাওয়াতে প্রচুর রাগ হয় নাই ।
---আচ্ছা আম্মা ডাকছে ।
---কিহ্ আম্মা কে ।
---কেন তোমার আম্মু ।
---আরে আম্মা কেন আন্টি ।
---কিহ্ শাশুরিকে কেউ আন্টি বলে নাকি ।
আরে এই মেয়ে কি বলে আমি কখন বিয়ে করলাম শ্রাবণী হায়রে আল্লাহ কি দিয়ে কি হচ্ছে বুঝতে পারছিনা আচ্ছা এটা কি কোন শ্রাবণীর প্যালান নাকি যে কালকে ওই ব্যাপারের জন্য ।
---কি হলো কি ভাবছো ।
---কি কিছু বলি নাই ।
---আরে আমি কি বলছি কিছু বলেছো ।
---না মানে ।
---হাহাহা ।
বাহ্ হাসলে তো শ্রাবণীকে ভালো লাগে আগে কখনো শ্রাবণীকে হাসতে দেখি নাই ।
---আরে কি ভাবছো ।
---কিছু না ।
---আচ্ছা উঠে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নাও আমি বাড়িতে যাই ।
---কি বলছো যাবে কেনো তুমি তো আমার ব...।
---আরে মশাই বউ না কাল থেকে ।
---কাল থেকে মানে ।
---মানে মানে বুঝতে হবে উঠে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নিন আমি চলে গেলাম ।
এটা বলে চলে গেলো ।
।
আমি ভাবতেছি কাল মানে আর এগুলি কি হচ্ছে বুঝতে পারছিনা ।
আবার মিম আসলো ,
---কি রে এখনো উঠিস নাই আর তোর বউ কিছু দিয়ে গেলো নাকি । ( হেসেহেসে )
---কিহ্ আর বউ পাইবো কই ।
---মিথ্যে বলিস না বল ।
---কি ।
---তোর বউ কি কি দিল ।
---দ্বারা তোরে ..
এটা বলতে না বলতে মিম দৌড়ে চলে গেলো ।
আমি উঠে ফ্রেশ হয়ে খেতে গেলাম ।
।
আমি খাচ্ছি তখন মামনি বললো ,
---তোর যদি কিছু শপিং করা লাগে তাহলে আজ করে নি । ( মামনি )
---শপিং মানে কি বলছো বুঝতে পারছি না । ( নাসির )
---তোর আর শ্রাবণীর কালকে বিয়ে ।
কথাটা শুনে বুঝতে পারলাম শ্রাবণীর সেই কথা ।
---কি বলছেন এগুলি আপনি যে আপনার বান্ধবীর মে...
---আমি তাদেরকে বলে দিয়েছি আমার ছেলে বিয়ে করবে না ।
---যদি ...
---শুনলে শুনুক তাতে কি আমি মিম সব না বললে তো আমি অনেক ভুল করতে যাচ্ছিলাম জানি বিয়েটা হতো ঠিকি কিন্তু সে স্বামীর ভালোবাসা পেতো না আর বিশেষ করে দুটি জীবন নষ্ট হতো তাই তোর আব্বু আর আমি এবং মিম মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি কাল তোদের বিয়ে আর বিয়ের পর পড়াশোনা করবি ।
।
মামনির কথাটা শুনে কি বলবো বুঝতে পারছিনা না একটু মিমের দিকে তাকালাম মিম তখনি চোখ টিপ দিয়ে বললো ,
---কি রে বুঝলি কিছু আমি কি করলাম ।
---হুম জানি ডাইনি ।
---কিহ্ আমি ডাইনি ।
আমি তারাতারি খেয়ে হাত না মুছে বললাম ,
---ডাইনি ডাইনি ডাইনি ।
বলেই দিলাম দৌড় ।
আসার সময় মামনি বললো বিকালে মিমকে নিয়ে শপিং করেনিস ।
।
।
বিকালে আমি আর মিম কিছু শপিং করে নিয়ে আসলাম ।
।
বাসায় এসে খেয়ে শুয়ে পরলাম আর তখন হঠাৎ করে মনে পরে গেলো মামনি কি বিয়েটা কি না আমি যেন কষ্ট না পাই সেজন্য কি মামনি এগুলি করেছে আর মামনি তো তার বান্ধবীর কাছে ছোট হবে না এটা হবে না আমি শ্রাবণীকে বিয়ে করবো না আমি চাই মামনি যেন না কষ্ট পায় । আমাকে মামনিকে বলতে হবে ।
তাই মামনির কাছে গেলাম ।
---আসতে পারি মামনি । ( নাসির )
---আরে আমার ঘরে আসতে তোর কি পারমিশন নিতে হয় । ( মামনি )
---না মানে ।
---কি রে দাড়িয়ে কেন আয় আর আমার কাছে আয় ।
আমি দৌড়ে মামনির পা ধরে কেঁদে কেঁদে বললাম ,
---মামনি আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেন আমি অনেক ভুল করেছি । ( মামনির পা ধরে )
---আরে তুই কি করছিস পা ছেড়ে দে বাবা আর কি ভুল করেছি বাবা বুঝতে পারছিনা ।
---না মামনি আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেন আমি তো ইচ্ছে করে এগুলি করি নাই মামনি সত্যি বলছি মামনি আমি জানতাম না আপনি এতো কষ্ট পাবেন জানি আপনাকে কত ছোট করেছি আমি আমি ইচ্ছে করে করিনি মামনি , কেমন করে সব ঘটে গেছে আমি জানি না মামনি , আমি জানি এই বিয়েটা আপনি ইচ্ছে করে দিচ্ছেন না আমাকে সুখে রাখতে এই বিয়ে রাজি হয়ছি মামনি ,
মামনি আমি আপনার বান্ধবীর মেয়েকে বিয়ে করবো , আমি আপনাকে কষ্ট দিতে পারবো না আমি আপনার সব কথা শুনে চলব ।
আমি ইচ্ছে করে আমি আপনাকে কষ্ট দিতে চাই নি , আপনি যার সাথে বিয়ে করতে তার সাথে আমার বিয়ে হবে ।
আমি তো ইচ্ছে করে ভালোবাসিনি কেমন করে শ্রাবণীকে ভালো লেগে যায় আর ভালোবেসে ফেলেছি ।
আমি ইচ্ছে করে আপনাকে কষ্ট দিতে চাই না সত্যি বলছি ।
আমি শ্রাবণীকে ভুলে যাবো আমি আপনার বান্ধবীর মেয়েকে বিয়ে করবো ।
আমি শ্রাবণীকে চাই না আমি আপনাকে কষ্ট দিতে পারবো না মামনি ।
আমি আমার সুখের জন্য শ্রাবণীকে চাই না আমি আপনাকে সুখে দেখতে চাই ।
মামনি আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেন মামনি মাফ করে দেন আর যে শাস্তি দিবেন আমি সেই শাস্তি মাথা পেতে নিব ।
আমাকে ক্ষমা করে দেন মামনি । ( পা ধরে কেঁদে কেঁদে বললাম )
মামনি কেঁদে দেয় আর আর আমার চোখের পপানি মুছে দেয় আর আমাকে বুকে জড়িয়ে নেয় আর বলে ,
---খুব বড় হয়ে গেছিস তাই না হ্যা অনেক পাকা পাকা কথা শিখে ফেলেছিস হ্যা আমি আপনাকে কষ্ট দিতে চাইনি মামনি , আমি শ্রাবণীকে চাই না আমি আপনার বান্ধবীর মেয়েকে বিয়ে করবো ।
অনেক কথা শিখে গেছিস হুম ।
আর শোন ছেলে কখনো মা বাবার কাছে কোন অপরাধ করে না গাধা । ( কেঁদে কেঁদে )
---তাহলে সেদিন আপনি কথাটা শুনে ঘরে দরজা দিলেন কেনো আমি অনেক ডেকেছি কিন্তু কথা বলেন নাই কেনো । ( কেঁদে কেঁদে )
---আমি ওটা শুনে নিজেকে কনট্রোল করতে পারিনি ।
আর যখন তোর আব্বু বললো হয়তো নাসির বিয়েটা করবে কিন্তু সুখী হতে পারবে না তাই সিদ্ধান্ত নিলাম বিয়ে ক্যানসেল শ্রাবণীর সাথে বিয়ে হবে ।
আর ভুল তো আমাদের ছিলো আমাদের উচিত ছিলো তোকে জিঙ্গেস করা যে তোর পছন্দের কেউ আছে কিনা কিন্তু না শুনে আমরা পাত্রী ঠিক করি ।
আর শোন বিয়ে শ্রাবণীর সাথে হবে ।
।
আমি মামনির চোখের পানি মুছে দিলাম ,
---আর বললাম আমি শাস্তি দিবো আপনাকে ।
---কি শাস্তি বাবা বল আমি সেটা মেনে নিব ।
---আজকে আমি আপনার সাথে শুয়ে থাকবো আপনি আমার সাথে শুয়ে থাকতে হবে আর মাথা বিলিয়ে দিয়ে গল্প বলে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে ।
।
এবার মামনি একটু হাসলো এটা সেই হাসি যেটা কখনো কিন্তে পাওয়া যাবে না ।
আর তখন আব্বু বললো ,
---আমি তাহলে কোথায় শুয়ে থাকবো বাবা এর চাইতে তুই তোর ঘরে গিয়ে শুয়ে থাক আমি তো কখনো তোর মামনিকে ছাড়া থাকি নাই বাবা ।
---কিহ্ তুমি আমার সাথে শুয়ে থাকবে মানে খোকা কি বললো শুনতে পেলে না আমাকে শাস্তি দিছে এটা যাও অন্য রুমে গিয়ে শুয়ে থাকো । চোখটা বড় করে গরম হয়ে
---না মানে ।
---কিহ্ ।
---যাচ্ছি ।
---মামনি আব্বুকে আমাদের সাথে রাখো না ।
হুম রাখো না গো ।
---না ।
---কেনো মামনি ।
---যদি সে বেশি ভালোবাসে আর আমার ভালোবাসা যদি কোম হয় ।
---না মামনি আপনাদের দুজনের ভালোবাসা কারও চাইতে কারও কমতি নাই ।
--তাইলে শুয়ে থাকতে বল আর বলে দে আমি আগে গল্প বলবো তার পর সে। ( মুখটা বাঁকা করে )
---আমি আগে বলবো।
---কিহ্ তাহলে ঘর থেকে বের হয়ে যাও।
---মামনি আপনারা দুজনে এক সাথে গল্প বলবে আর অর্ধেক মাথা আপনি বিলিয়ে দিবেন আর অর্ধেক আব্বু
---ওকে তুই বললি দেইখা দিতে দিলাম না হলে দিতাম না এ দেখো আমার দেখা দেখি ভালোবাসা দিবে ।
---ছেলে কি তোমার একলা হ্যা ছেলে আমারও ।
---আমি আমার ছেলেকে ভাগ দিবো না ।
---মামনি তোমরা ঝগড়া করলে আমি চলে যাবো আমার ঘুম ধরেছে আর দেখো ডাইনি মুখ ফুলে দাড়িয়ে আছে ।
---কিহ্ আমি ডাইনি হ্যা ধারা ।
---আরে এমনি বলেছি ।
---আমিও ভালোবাসা ভাগ নিতে এসেছি ।
---আমি দিমু না ।
---কিহ্ না দিলে তোর বউ এর মাথা ফাটামু ।
---ডাই...
---কিহ্।
---ডাকাত ।
---আমি চলে যাবো ।
---কি রে রাগ করলি নাকি ।
---হুম ।
---আচ্ছা যা আব্বু তোকে গল্প বলবে আর মাথা বিলিয়ে দিবে আর মামনি আমাকে ।
---ওকে ডান কিন্তু আন্টি আমাকে দিতে হবে ।
---যা তোকে দিবো এবার খুশি তো ।
---হ্যা ।
।
অতঃপর
।
মামনি আমাকে আর আব্বু মিমকে ।
।
এভাবে কেটে গেল রাতটা ।
।
অতঃপর
।
বাসর ঘরে বউ আছে মানে শ্রাবণী বাসর ঘরে বসে আছে আর আমি ছাঁদে দাড়িয়ে আছি ।
---কি রে তোকে কখন থেকে খুঁজতেছি । ( মিম )
---কেন । ( নাসির )
---কেন মানে শ্রাবণী একা একা বসে আছে যা বাসর ঘরে যা একা একা ভয় পাবে ।
---তুই যা আজকে কাল থেকে আমি থাকবো । ( একটু দুষ্টুমি করে )
---কিহ্ গাধা কয় কি আজকে বাসর রাত আর আমাকে বলে তুই যা ।
---হুম তুই যা ।
---চল তো চল ।
টেনে নিয়ে বাসর ঘরে ঢুকিয়ে দেয় জোর করে ।
আমি ঘরে গিয়ে অবাক হলাম কারণ বউ কই ।
---ওই ছেমরা কি খুঁজতেছিস । ( শ্রাবণী )
---তোমাকে । ( নাসির )
---কি বললি তুই আমাকে তুমি বলছিস ক্যা ।
---কেনো তুমি আমার বউ ।
---কিহ্ আমি তোর বউ এটা স্বপ্নেও ভাবিস না । আর তোকে বিয়ে করেছি কারণ তুই সেদিন আমাদের অপমান করেছিলি না হ্যা সেই অপমানের বদলা নিতে বিয়ে করেছি আর তোর মতো ছেলেকে বিয়ে করবো হ্যা ।
---কিহ্ তাহলে এসব নাটক ছিলো মামনি আর আমার সাথে এটা ভালো করনি ।
---আরে কোনটা ভালো কোনটা খারাপ এটা তোর কাছ থেকে শিখতে হবে নাকি শোন আমি তো তোকে বিয়ে করেছি প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আর ভুলে আমাকে বউ আর আমার অনুমতি ছাড়া টাচ করবি না বলে দিলাম ।
।
আমি কি বলবো বুঝতে পারছিনা এটা কি বলে শ্রাবণী এটা করতে পারলো ।
---ওই কই যান ।
---শুয়ে পরবো ।
---কিহ্ নামাজ কে পড়বে তোর দাদু ।
---ওহ্ ভুলে গেছি ।
---আচ্ছা আমি ওযু করে আসি তুই ওযু করে আয় ।
।
এটা বলে ওয়াশ রুমে গেলাম ওযু করতে ।
তারপর ওযু করে এসে শ্রাবণী আর আমি নামাজ পড়ে নিলাম ।
তারপর দোয়া করলাম ।
।
অতঃপর
।
দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে খাটের দিকে যাচ্ছি তখন শ্যার্টের কলার ধরে শ্রাবণী বলে ,
---ওই ছেমরা কই যাস ।
---ঘুমাতে ।
---কিহ্ ঘুমাতে । ( চোখটা বড় বড় করে )
---আমাকে ছাড়া ঘুমাতে যাস মানে ।
---এই আমাকে ছাড়েন না হলে টাচ লেগে যাবে ।
---লাগলে লাগুক সমস্যা কি ।
---না মানে যদি...
---চুপ সালা তুই আমার চোখের ভাষা বুঝিস না আমি কি চাই সেটাও তুই বুঝিস না সালা ।
যেদিন তোকে প্রথম দেখেছিলাম তখন তোর চোখের পানে চেয়ে আমি তোর মাঝে হারিয়ে যায় ।
যেদিন শুনেছিলাম তোর বিয়ে কথা হচ্ছে তখন অনেক কষ্ট হচ্ছিল তখন মনে করি সুইসাইড করি না তখন করি নাই যখন সেদিন নিজের চোখে দেখি সেদিন সহ্য করতে না পেরে কিছু না শুনে তোকে চড় দিয়েছিলাম তুই কিছুই বলিস নি কিন্তু ।
তুই সেদিন যখন জোর করে বলতে পারলি না সালা এটা মিথ্যে ও আমার মামাতো বোন হয় । ( শ্রাবণীর মুখটা আমার মুখের সামনে নিয়ে বললো কথা গুলি )
---বলতে তো চেয়ে ছিলাম কিন্তু বলতে পারি নাই ।
---সালা তোর জন্য আমার অনেক কষ্ট হলো হাত কেটে আজ তোকে মেরে ফেলবো সালা ।
---কি বলছেন বাসর রাতে স্বামীকে মেরে বিধবা হবেন নাকি ।
---কিহ্ আপনি সালা তুমি বলতে পারিশ না সালা ।
---আপনি তো ।
---কিহ্ ।
---তুমি তো বললে ।
---সালা আমি বললে বলতে হবে তোর একটু জোর নেই ।
---হুম আছে ।
---আজকে প্রতিশোধ নিব ।
---কীসের প্রতিশোধ ।
---আরে সালা হাত কেটেছি কান্না করেছি অনেক কষ্ট হয়েছে না আমার তার প্রতিশোধ ।
---বাসর রাতে প্র প্রতিশোধ নিবে তাই ।
---হুম প্রতিশোধ ।
এটা বলেই শ্যার্টের কলার ছেড়ে বিছানায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় ।
তারপর আমার উপরে শ্রাবণী শুয়ে পরে ।
যখনি কিছু বলতে যাবো তখনি শ্রাবণীর ঠোঁট দুটি আমার ঠোঁট এক হয়ে গেছে ।
।
দুই মিনিট পর
ছাড়ো আমাকে পাঠক/পাঠিকা শুনছে ।
কিহ্ পাঠক/পাঠিকা শুনছে মানে ওই ভাইয়া/আপ্পি আপনাদের কি সরম বলতে কিছু নাই বাসর রাতের কি হচ্ছে সব শুনতে হবে নাকি ।
আমি কিন্তু গুন্ডী মেয়ে গুলি করে ফুটা করে দিবো হ্যা।
আরে ভয় পেলেন নাকি ।
যান কাল আপনাদের বউ ভাতের দাওয়াত দিলাম আসবেন ।
এখন আমাদের ইয়ে মানে বলতে লজ্জা লাগছে ।
।
তারপর শ্রাবণী আর আমি ভালোবাসার সাগরে হারিয়ে যাই ।
।
।
।
সমাপ্ত ।।।
।
।
।
লেখকঃ নাসির ইসলাম মাহিম ( মাহাদির আব্বু )
।
।
।
★★★আল্লাহ হাফেজ★★★
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ