✔ছুঁয়ে জোছনার ছায়া✔
••••••••••🍀🌷🍀••••••••••
লেখকঃ-RB Raj
....
মরিয়ম বেগম পান খাচ্ছেন | এসময়টা
তার দিনের মধ্যে একটা
অমূল্য সময় বলা যায় | যে পরিমাণে পান
খায়,তাতে যা মনেহয়
মাসে ৩০০০ টাকা
খরচই হয় তার পানসামগ্রীর পিছনে |
যদিও তার টাকার কোন চিন্তা নেই |
দরজা ঠেলে রাজের উকি দেয়া মাথাটা
দেখে একটু বিরক্তিস্বরে বললেন,কিছু চাও?
- আম্মা আমি কি ভিতরে আসব?
- বাইরে দাড়াইয়া কথা বলা আমার অপছন্দ,
জানোনা?
রাজ দরজাটা আগের মত চাপা দিয়ে
এসে মায়ের পায়ে কয়েকবার সালাম করে
হেসে দিল |
- হাসো কেন,কি ঘটনা?
- আম্মা আমার একটা চাকরি হইছে,তবে
ততটা সুবিধার না | যেকোন সময় ছেড়ে
দিতে পারি |
- শুরুর আগেই ছাড়াছাড়ির কথা বলতেছ
কেন,গাধা কোথাকার ! বাপের মত হইছ !
রাজ হাসিটা এখনো থামায়নি,ভালই
লাগছে হাসতে |
- বোকা ছেলে,খালি হাসে | আমার
এইপাশে পা উঠাইয়া ভালমত বস |
কথামত রাজ তাইই করল | মায়ের গা
ঘেষে একটু আদুরে ভঙ্গিতে |
- পান খাবা আব্বা? নতুন এক মশলা
আনাইছি,খুব মজা | দাড়াও একবার
খাও,তাইলেই মজা বুঝবা |
রাজ কেবল মাথা দুলিয়ে চলেছে |
ওর খুব জানতে ইচ্ছে করছে,কতদিন
পর মা ওকে 'আব্বা' বলে ডেকেছে |
ডাকটা শুনলেনা গলা কেমন ভার হয়ে
আসে | অতি আবেগেই হয়ত |
- রাজ,তোমার দু'ভাইদের খবর কি,তারা
কেমন আছে?
- আম্মা আপনি সারাদিন বাসায় থেকে
আমাকে এই প্রশ্ন করতেছেন কেন |
- তারা তো আমার সামনেই আসে না |
চাকরি বাকরি,বউ পোলাপান নিয়ে ভারি
ব্যস্ত | আমার কাছে আসার সময় কই?
তুমিও কি বাসায় থাকো না?
- আগামী ৭ দিন মানে ১ সপ্তাহ ধরে
আমি বাসায় আসি নাই | কারণ এইরকম
বাজারের মত বাসায় থাকতে একদম
ভাল্লাগেনা |
- ও,ভাল বলছ |
- আম্মা আমার টিউশনি আছে,গেলাম |
- পানটা খাবা না?
- জ্বি দেন,খেতে খেতে যাই |
টিউশনি করাতে গিয়ে রাজ পুরো হা
হয়ে চারি দিক দেখছে ৷
শুধুমাত্র বসার ঘরটাই এত্ত সুন্দর করে
কেউ সাজাতে পারে বিশ্বাস করাই কষ্টকর |
বাব্বাহ্,এইনা হল বড়লোকি বাসা |
টানা কয়েক মাসেও এই রুমের উপর
একটুও বিস্ময় কমেনি রাজের | পড়াতে
এলেই মনে ওলটপালট লেগে যায় রুমের
প্রতিটা বস্তু দেখে |
তবে টাশকি খাওয়া কথা হল,বড়লোক
সাহেবের একমাত্র সন্তান এবং মেয়ে মানে
স্নিগ্ধা | এই মেয়ের কথাবার্তা,চালচলন
তো পুরাই উল্টা |
ক্লাস টেন পড়ুয়া এই মেয়ের সাথে চললে
কে বুঝবে,এযে বিরাট রাজার একমাত্র
রাজকন্যা | তবে রাজের অতটা টাশকি
খেতে হয়নি |
কারণটা ওর স্বভাবের | ওর খালি ঐ
বড়ো চাকচিক্যের প্রতিই মনোযোগ
অত্যধিক | চাকচিক্যের ভেতরের জীবদের
নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই |
"স্যার বসে আছেন কেন,রুমে আসেন"
স্নিগ্ধার ডাকে ঘোর ভাঙল রাজের,হ্যা
আসছি |
স্নিগ্ধাকে দেখে রাজ এক নিরব ঝামেলায়
পড়ে গেছে |
ঝামেলার কথাটা তো আর সরাসরি বলা
যাবেনা,চুপ করে থাকাই নিরাপদ | তাই
একে নিরব ঝামেলাই আখ্যা দিয়ে
ফেলল রাজ |
আজ হঠাৎ এরকম কেন হয়ে গেল কে
জানে | আসোলেই চোখ সামাল দেয়ার
মত কঠিন কাজ,পৃথিবীতে খুব কমই
আছে | ধ্যত্তরি যত্তসব !
- স্যার আপনার কি কিছু হয়েছে?
একটু চমকে রাজ বলল,নাহ্ কি হবে?
কিছু না |
ইচ্ছেকৃত হাসিটা দিতে গিয়েই ভালই
ধরা খেল বেচারা |
- স্যার মিথ্যা বলা মহাপাপ জানেন না?
আচ্ছা,আমি বলি আপনার কি হয়েছে?
- বল
- আমি আজ শাড়ি পড়েছি,আপনার
প্রিয় রঙের | চোখে কাজল দিয়েছি খুব
যত্ন করে,এটাও আপনার পছন্দমত |
আর এতে আমাকে খুব সুন্দর লাগছে
তাই আপনি চোখ নামাতে পারছেন না |
ছাত্রীর মুখে এই কথা শুনে
রাজের মুখ মিডিয়াম হা হয়ে গেছে |
এত নরম ভাবে চরম ধরা জীবনে এই
ফাস্ট | ও খোদা,এইটা কি মেয়ে না মহিলা
ফেরেশতা !
২.
হামিদ সাহেব রুমে ঘুরেঘুরে কথা
বলছেন |(রাজের আব্বু)
একা একা,নিজের সাথে | যখন ভীষন
একা মনেহয় এই পৃথিবীতে,তখনি তিনি
এরকম করতে থাকেন |
ফলাফল,তিনি একটু একাকিত্বের মাঝেই
সান্ত্বনা খুজে পান |
দরজায় খটখট শব্দ হতেই কথা থামিয়ে
দিলেন | তিনি মোটামুটি অবাক আর কি |
আমার কাছে কি কারো আসার কথা ছিল,
কে আসবে?
আরেকবার শব্দ হল,খট খট খট ! হামিদ
সাহেব তড়িঘড়ি করে দরজার ছিটকিনি
খুলে ফেললেন |
- আব্বা কেমন আছেন?
হামিদ সাহেব যেন বিশ্বাসই করতে
পারছেন না রাজ এসেছে |
- এতদিন পর বাপের কথা মনে হল তোর |
রাজ টুপ করে ঘরের মধ্যে ঢুকে একদম
সটাং হয়ে শুয়ে পড়ল বিছানায় | খুব ঘুম
পাচ্ছে ওর |
- কিরে বেটা অসুস্থ নাকি?
- নাহ্
- তবে শুয়ে পড়লি যে? আচ্ছা শুয়ে
থাক,তোর জন্য লেবু চা করে নিয়ে
আসি | আজ সকালে বাজার থেকে
কিনেছি,একদম টাটকা লেবু |
হামিদ সাহেবের ভীষন আনন্দ লাগছে |
বাড়ি ছাড়ার পর একমাত্র এই ছোট
ছেলেটাই তার খোজখবর রাখে | একদম
ভালমত রাখে,কি লক্ষী একটা |
চায়ের কাপে টানা দু'চুমুক দিয়ে রাজ
বলল,আব্বা আপনি না একা থেকে ভালই
আছেন | আমিও আর থাকব না ভাবতেছি |
- তাইলে থাকবি কই?
- খালিদের বাসায় | কয়েকদিন ধরে তো
ওর বাসাতেই আছি | আমার বন্ধুরা তো
আর আমার মত বোকা না আব্বা | ওরা
সবাই যে যার মত টাকা পয়সা কামিয়ে
একদম পেটফোলা বড়লোক |
- বাদ দে ! তুই যেমন আছিস খুব ভাল
আছিস | সততাই সবকিছুর আগে |
তারপরের কয়েকমিনিট কেটে গেল
অস্বাভাবিক নিরবতায় | হামিদ সাহেব
গভীর মনোযোগে ছেলেকে দেখছেন |
চেহারায় কার যেন ছায়া আছে |
কার হতে পারে? মরিয়মের নাকি ওর
দাদির?
যার মতই হোক,রাজটা দেখতে খুব সুন্দর
হয়েছে | দেখলেই সুপুরুষত্বের তৃপ্তি
এসে যায় |
৩.
বসার ঘরে চোখ পড়তেই ভ্রু কুচকে গেল
রাজের | আজ রাতে চাদঁ এর বদলে সূর্য
উঠবে নাকি | ভাই-ভাবি,পোলাপান দেখি
সব একখানে |
মেজভাবি ওকে দেখা মাত্রই শুরু করে
দিল সুপরিচিত ঘ্যানানি,এইযে টো টো
বাবাজি বাইরে বাইরে কি কর সারাদিন?
মদ জুয়া আর কত !
রাজ খেপলো না,একদমই না | একটুতেই
খেপার পাত্র ও নয়,বরং কেমন মজা লাগছে |
- তোমার আম্মাজানকে পাওয়া যাচ্ছে
না দুপুর থেকে |
- হয়ত বাজারে গেছে আপকামিং পান
মশলার খোজ করতে | এসে পড়বে সময়মত |
- তা হলে তো হতই,কিন্তু চিঠি লিখে
গেছে একটা !
- কি লিখছে? আমি বাড়ি ছেড়ে চিরদিনের
জন্য চলে যাচ্ছি,আর আসব না |
এই টাইপের?
- হুম
-ও,তবে আমার এসে তো কোন কাজ হল না |
আম্মার কাছেই আসছিলাম,পান
খেতে | হরেক মশলা দিয়ে পান,খুব
খেতে ইচ্ছে করছিল | থাক,যাই |
মেজভাবি রাগে কটমট করছেন,যতসব
আহাম্মকের পাল্লায় পড়েছি আমি !
বাড়ির সবগুলা একেকটা আস্ত আহাম্মক !
সোফার একপাশে গুটিসুটি মেরে বসে
থাকা রাজকে দেখছে স্নিগ্ধা,অনেকক্ষন
ধরে | রাজ মাথা নামিয়ে আছে, স্নিগ্ধাকে
দেখতে পায়নি |
স্নিগ্ধার খুব,একদম ভীষনভাবে ইচ্ছে করছে
এই বোকাসোকা চেহারার ছেলেটাকে অনেক
আদর করতে,ইচ্ছেমত |
হঠাৎ এরকম ইচ্ছে হওয়ার কারণটা ও
নিজেই জানেনা,অত জানতে ইচ্ছেও হয় না |
সামনে দাড়িয়ে থাকা স্নিগ্ধাকে দেখে
একটু ঘাবড়ে রাজ বলল,শাড়িটা এখনো
পড়ে আছো?
- হুম কেন,খুব বেশি সুন্দর লাগছে?
- তোমার আব্বু কোথায়?
- আব্বু আসবে কোথ্থেকে,আব্বু তো
বিদেশ |
- ওহ সরি,ভুল হয়ে গেছে | ইয়ে মানে আম্মু...
- আমার বড়খালা আজ হসপিটাল থেকে
রিলিজ পেয়েছে তো তাই অফিস শেষে
আম্মু তার বাসায় গেছে | আজ রাতে
ফিরবে না বলেছে |
- তারমানে পুরা বাড়িতে তুমি একা?
- হুম | না না,কাজের মেয়েটা আছে তো |
- ভালই হয়েছে,বেশি লজ্জা পেতে হবে না |
- বিড়বিড় করে কি বলছেন স্যার?
- স্নিগ্ধা আমি দু'প্লেট ভাত খাব | বাসায়
আম্মা নেই তো তাই খেতে পারিনি....আর
আমার ঐ বন্ধুর বাসায় গিয়ে দেখি
তালা মারা | কোথায় গেছে কে জানে |
দিতে পারবে,খুব খিদে লেগেছে জানো |
- এক্ষুনি আনছি |
এক দৌড়ে রান্নাঘরে এসে পড়ল স্নিগ্ধা|
আর এক সেকেন্ড ওখানে থাকলে,স্যার
চোখের পানি দেখে ফেলত | একটা
মানুষ এত সরল হয় কি করে?
অতিরিক্ত মায়ায় পড়লেও যে চোখে
পানি এসে ভরে যায়,তা আজ প্রথম
জানলো মেয়েটা |
রাস্তাটা এখনি কেমন খালি হয়ে গেছে |
মানুষজন তেমন একটা নেই,আর কয়েকটা
রিকশার এদিক ওদিক ছুটে চলা |
পিচঢালা পথটায় মানুষ,রিকশা সবকিছুর
ছায়া পড়ছে | জোছনা দিয়ে গড়া
একেকটা ছায়া | আকাশে যে আজ
বিশাল একটা চাদঁ,তাইতো এত জোছনা !
সেসব ছায়ার উপর নিশ্চুপ হেটে চলেছে
একটা বোকাসোকা চেহারার ছেলে |
ছেলেটানা একটু একটু করে ঘামছে |
কারণ পাশে থাকা শাড়ি পড়া মেয়েটা
তার একটা হাত শক্ত মুঠোতে ধরে আছে |
যে মুঠো থেকেই ডানা ঝাপটাচ্ছে শুভ্র
এক মায়াপাখি |
Writer••••••••Raj
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ