আধো ঘুম আধো জাগরণে আম্মুর ডাক কর্ণকুহরে প্রবেশ করল।
আমি চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছি আর দরজার কাছ থেকে আম্মু ডাকছে,
- রুপু?? এই রুপুউউ????
আমি বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে নড়েচড়ে ফের ঘুমে তলিয়ে যাচ্ছিলাম। ফের,
- রুপুউউউ??
ঘুমকে খুন করতে হলো। জবাব না দেয়া পর্যন্ত আম্মু ডাকাডাকি করতেই থাকবে। আরেকটু পর এসে চাদর ধরে টানাটানি করার ও আশংকা আছে।
তাই অগত্যা চাদর সরিয়ে চেঁচালাম,
> কি হয়েছে! এত সকাল সকাল ডাকাডাকি শুরু করেছ ---?
কিন্তু চাদর সরানো মাত্র আম্মুর মুখের আশংকাজনক পরিবর্তন দেখে কি প্রশ্ন করছিলাম সেটাই ভুলে গেলাম।
আম্মু চোখ রসগোল্লার মত বড় করে চিল্লানি দিলেন,
-ইয়াল্লাহ!!!!!!
আমি লাফিয়ে উঠে বসলাম বিছানায়। চোখ আম্মুর চেয়েও বড় বানিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
>ক্কি-কি হল!?
- তোর-তোর চুলে কি হয়েছে!!?? আম্মু আমার দিকে আঙুল তাক করলেন।
-চুলে কি হয়েছে মানে?
বলতে বলতে পিঠ থেকে একগোছা চুল এনে চোখের সামনে ধরতেই পেটের ভেতর পাক দিয়ে উঠল আমার।
খাইছে!!
কাল কে সন্ধ্যায় লুকিয়ে চুল গোল্ডেন কালার করেছি অনেক শখ করে। আম্মু জানলে খেয়ে ফেলবে,তাই ভেবেছিলাম যতক্ষণ বাসায় থাকব, ঢেকে রাখব মাথা।
কিন্তু সকাল সকাল ই হাতেনাতে ধরা পড়ে গেলাম।
এরই মধ্যে আব্বু নিচতলা থেকে ছুটে এসেছে আম্মুর চিল্লানি শুনে।
-কি হয়েছে, কি হয়েছে?? বলতে বলতে আমার দিকে চোখ পড়তে আব্বুও চোখ গোল করে ফেললেন। এই মুহূর্তে কার চোখ বেশি বড় বড়?? আম্মুর, আমার নাকি আব্বুর?? মাপতে ইচ্ছা হচ্ছে!
আমার ইচ্ছাকে অংকুরে বিনাশ করে আম্মু তীব্র স্বরে জিজ্ঞেস করলেন,
- তুই চুল রং করিয়েছিস??? মানা করেছিলাম না??
আমার মুখে তালা। আম্মু আরও রেগে গেলেন,
-দাড়া, কাঁচি নিয়ে আসি, চুল রং করা বের করছি তোর!! বলে বের হয়ে গেলেন ।
সমূহ বিপদ!! উপায় না পেয়ে আমি আব্বুর দিকে তাকালাম,,
-আব্বু!!
> এসব করিস কেন? জানিস না তোর আম্মু পছন্দ করে না??
-করে তো ফেলেছি,,এখন কি করব?
> বাথরুমে গিয়ে ঢোক,যা! আমি ওকে বোঝাচ্ছি!
দুদ্দাড় করে উঠে বাথরুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলাম। আপাতত ঘন্টাখানেক বাইরে বের হওয়া যাবে না।
.
2.
ডাইনিং রুমে বসে খাচ্ছি, আব্বুও। মাঝেমাঝে আম্মুর দিকে চোখ পড়লেই দেখা যাচ্ছে উনি ছোট ছোট চোখ করে তাকিয়ে আছে আমার মাথার দিকে! তাই চুপচাপ খাদ্য গলাধঃকরণ করছি।
আব্বু গ্লাসে পানি ঢালতে ঢালতে বললেন,
- তোর খালামণি কল দিয়েছিলেন, যেতে হবে।
> কেন???
- তা বলেন নি, শুধু বললেন আজ সন্ধ্যায় যেন আমরা তিনজন তার বাসায় পৌঁছে যাই। আমি অফিস থেকে ছুটি নিয়েছি। সুতরাং ব্যাগ গুছিয়ে ফ্যাল।
> আচ্ছা। বলে রুমে এসে ঢুকলাম।
.
জোবায়দা হামিদ, আম্মুর বড় বোন। আমার মামারা সবাই খালামণির ছোট, নানা-নানী মারা গেছেন। সুতরাং মায়ের কুলে তিনিই অভিভাবক।
ভীষণ একরোখা মানুষ, জেদি। নিজের মতের বাইরে কারো কথা সহ্য করতে পারেন না, অবশ্য তার মতের বাইরে কথা বলার সাহস ই কারো নেই। খালু মারা যাওয়ার পর আরো বেশি বদমেজাজি হয়ে গেছেন। সুতরাং তার কল পাওয়া মাত্র আব্বু যে ছুটি নিয়ে নেবেন তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই।
আমি সাধারণত বদরাগী মানুষ পছন্দ করিনা, কিন্তু খালামণিকে খুব পছন্দ করি।
কারণ,কোন এক বিচিত্র কারণে আমার এই একমাত্র খালা আমাকে ভীষণ ভালোবাসেন।এমনকি মাঝে মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও চান। হয়তো তার একমাত্র বোনের একমাত্র মেয়ে আমি,তাই।
খালামণির বাসা বেশি দূরে নয়, শহরেরই আরেক প্রান্তে। দুই ঘন্টায় পৌঁছানো যায়। বিশাল বাসায় দুই মেয়ে আর তিনচার জন কাজের লোক নিয়ে থাকেন।
কাজের লোকদের অবশ্য "কাজের লোক" বলতে খালামণির ভীষণ আপত্তি। তিনি বলেন এরা আমার কর্মচারী।
খালাতো বোন দুজনের মধ্যে বড় জনের নাম বীথি, অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়েন। আমি বীথিপু ডাকি। ছোট তিথি, আমার সমবয়সী, অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ে।
ও হ্যা, আরেকজন থাকেন ওই বাড়িতে, রাশেদ ভাইয়া। খালুর কোন দুঃসম্পর্কের বোনের ছেলে,,, তার বাবা-মা মারা গেছেন, খালামণি তাকে নিজের কাছে রেখে মানুষ করছেন।
রাশেদ ভাইয়া পড়েন মাষ্টার্সে, আর দুই বোন কে পড়ান। আমার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী তিথির সাথে তার চক্কর আছে।
৩.
আম্মু কলিংবেল বাজাতেই দরজা খুলে গেল, বীথিপু দাঁড়িয়ে আছে,,
আম্মুকে দেখে জড়িয়ে ধরল, আম্মু সস্নেহে ওর পিঠে হাত রাখলেন। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো আর আব্বুর হাত থেকে ব্যাগ নিলো। আমরা ভেতরে ঢুকলাম।
.
ফ্রেশ হয়ে রুমে এলাম, এ বাসায় এসে আমি সাধারণত এই রুমেই থাকি। বাসাটাই সেকেন্ড হোম টাইপের আমার জন্য।
খানিকটা অবাক লাগছে আমার। এখনো তিথির কোন সাড়াশব্দ পাচ্ছিনা।
এমন তো হওয়ার কথা না! এতদিন বাসায় আসার সাথে দুই বোন হাজার গল্পের ঝাঁপী নিয়ে বসত আমার কাছে, একটু অবসর পর্যন্ত দিত না! আর সেখানে আজ আধঘণ্টা হয়ে গেছে এসেছি,উকিও দিল না! সামথিং রং!
ভাবতে ভাবতে খালামণির গলার আওয়াজ পেলাম। উনি নাকি কিসের কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন।
আমি রুমের বাইরে গেলাম। খালামণির ঘর্মাক্ত মুখে বিরক্তির আভা। মনে হচ্ছে কোন কিছু নিয়ে টেনশনে আছেন। আমাকে দেখে বললেন,
> এই তো রুপু, কেমন আছিস, আম্মু?
- ভালো আছি খালামণি, তোমার এই অবস্থা কেন???
>আর বলিস না! একেতো চিন্তা, তার উপর বাইরে প্রচুর গরম।
- চিন্তা কিসের??
> সেটার জন্যই তোদের ডেকেছি, রাতে সবার সাথে কথা হবে, তুই বিশ্রাম কর।
- কিন্তু তিথী কই?
জিজ্ঞেস করা মাত্র খালামণির চোখে রাগ ঝলকানি দিয়ে গেল যেন। আমি কি ভুল দেখলাম??
> জানিনা কোথায়, তুই খুঁজে দেখ। আমি গিয়ে ফ্রেশ হই। বলে চলে গেলেন।
.
আমি বাসা থেকে বের হয়ে বাগানের দিকে গেলাম। বাসায় না থাকলে ওদের এখানেই পাওয়া যাবে।
বাগান টা ভারি সুন্দর। বড় বাসার সাথে মানান সই বিশাল বাগান। ফলের গাছ, সবজি, ফুল সবই আছে।
হাটতে হাটতে একপাশের দেবদারুর সারির দিকে গিয়ে দেখি, তিথি বসে আছে গাছের গোড়ায়!
- তিথি?!
ও চমকে ফিরে তাকালো। আমি ওর পাশে ধপ করে বসে বললাম,
- কিরে? সেই কখন এসেছি! আর তোদের কোন খবর নেই!!!
তিথি আমার দিকে তাকিয়ে ফের মাথা নিচু করল।
আমি এবার সত্যি সত্যি ভয় পেলাম। বাসায় হচ্ছেটা কি?
- এই তিথি?? ওর মাথা তুলে ধরতেই দেখি চোখে পানি।
ইয়াল্লাহ! এই মেয়ে কাঁদছে!! তিথি!! যে সারাক্ষণ দাত বের করে থাকার জন্য সকাল বিকাল বকা খায়!
-কি হয়েছে? কাঁদছিস কেন? খালামণি বকেছে???
এবার আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করল, আমি তাজ্জব হয়ে বসে রইলাম।
.
রাত ন'টা। আমি ড্রয়িং রুমে কোণার সোফায় বসে বসে রুমের সবার অবস্থা দেখছি।
আমার কাছেই তিথি বসে আছে, মাথা নিচু করে। এখন অবশ্য কাঁদছে না, বরং সবার সামনে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছে।
আমার আরেক পাশে খালামণি বসে আছেন, তাকে মনে হচ্ছে কড়া কোন বিচারকের মত, আসামি কে শাস্তি দেওয়ার জন্য বসে আছেন।
খালামণির মুখোমুখি সোফায় আব্ব,আম্মু বসে আছেন। দুজন একটু পর খালামণির দিকে তাকাচ্ছেন, আর নিজেরা চোখাচোখি করছেন।
আমার মুখোমুখি সোফায় রাশেদ ভাইয়া বসে আছেন। উনি এখানে কেন, আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।
কোণার আরেক পাশে বীথিপু বসে, একটু পর পর ঢোক গিলছে মাথানিচু করে।
.
খালামণি আম্মুর দিকে তাকিয়ে বললেন,
- জহুরা, তুই তো জানিস আমি আমার মেয়েদের ঠিক কতোখানি ভালবাসি। তোর দুলাভাই মারা যাওয়ার পর এরাই আমার সম্বল। তোর কি মনে হয়,আমি ওদের জন্য খারাপ কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি?
>না আপা। কখনোই না! আম্মু মাথা নাড়লেন।
খালামণি ফের বলতে শুরু করলেন,
- আমি একা মানুষ, মেয়েদের ছাড়া থাকতে পারি না। আমি চাই, ওরা সারাজীবন আমার কাছেই থাকুক। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি বীথিকে রাশেদের সাথে বিয়ে দিব। দুজনই ঘরের,, আমার কাছেই থাকবে।
আমি মনে মনে আতঁকে উঠলাম। বলে কি!!
খালামণির কথায় সায় দিয়ে আব্বু বললেন,
- এ তো খুব ভাল সিদ্ধান্ত। রাশেদ ভাল ছেলে, বীথি সুখে থাকবে।
"তোমার মাথা!" মনে মনে আব্বুর মুণ্ডুপাত করে রাশেদ ভাইয়ার দিকে তাকালাম। সেই যে মাথানিচু করে বসে আছে তো আছেই।
খালামণি আব্বুর কথায় বললেন,
- আর সুখ! বীথি রাজি হচ্ছেনা বিয়েতে!! সে কোনমতে ই এই বিয়ে করবে না! কেন করবে না তাও বলছে না। এত সাহস,আমার মুখের উপর মানা করে দিল!! করবে না তো করবেই না!!
আব্বু খানিকক্ষণ চুপ করে একবার দুইবোন,আরেকবার রাশেদ ভাইয়ের দিকে তাকালেন। তারপর বললেন,
- তোমরা তিনজন যাও,রুমে যাও। আমরা দেখছি বিষয়টা। যাও।
বলামাত্র আপু আর তিথি উঠে নিজের রুমে গেলেন,আর রাশেদ ভাইয়া নিজের রুমে।
আব্বু খালামণির দিকে ফিরলেন,
- আচ্ছা, রাশেদ এর মতামত ও জানা দরকার। সে কি বলে?
খালামণি গরম গলায় বললেন,
- মেয়েদের মত অবাধ্য হবে,রাশেদ এমন ছেলেই না। তবু আমি তাকে বলেছিলাম, সে সোজা বলেছে আমি যা বলব সে তাই শুনবে।
আব্বু তখন নরম গলায় বললেন,
- আপা, আপনার তো অজানা নাই,বিয়ে খুব জটিল একটা বিষয়। এতে যাদের বিয়ে তাদের মনের মিল থাকাটা খুব জরুরী। না হলে সারাজীবন কিভাবে একসাথে থাকবে বলুন??
আম্মু মাথা নাড়লেন।
- ঠিক।
আব্বু আম্মুর দিকে সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে তাকিয়ে ফের বললেন,
- রাশেদ এমন ছেলে,যাকে পছন্দ না করার কোন কারণ নেই। তারপর ও বীথি যখন রাজী হচ্ছে না,নিশ্চয়ই গুরুতর কোন কারণ আছে।
খালামণি গর্জে উঠলেন,
- ওর কারণ চুলোয় যাক। এ বিয়ে আমি দিবই। ভেবেছে কি? আমি ওর ভাল চাইনা????
আম্মু আস্তে আস্তে বললেন,
- আপা,আপনি শান্ত হন। আমরা এসেছি,দেখছি কি করা যায়। সময় তো আর ফুরিয়ে যাচ্ছে না, ধীরেসুস্থে সমাধান করা যাবে।
খালামণি চুপ করে কি যেন ভাবলেন,তারপর আম্মুকে বললেন,
- আচ্ছা,আজ তোরা রুমে যা।বিশ্রাম কর।
.
সবাই চলে গেলে আমি চুপিচুপি রাশেদ ভাইয়ার রুমের দিকে গেলাম। দরজা খোলা, উনি বিছানার এককোণে মাথা নিচু করে বসে আছে।।
দেখেই বোঝা যাচ্ছে ভীষণ টেনশনে আছে। বেচারা।
আমি আস্তে দরজার টোকা দিলাম,
-আসব???
উনি সোজা হয়ে বসলেন। আমাকে দেখে খানিকটা থমকালেন মনে হল। বললেন,
- এসো।
আমি গিয়ে উনার সামনে থাকা চেয়ারে ধপ করে বসে সোজাসুজি বললাম,
- আচ্ছা, আপনি কি বীথি আপুকে বিয়ে করতে রাজি?
উনি চমকে আমার চোখের দিকে তাকালেন।
আমি না দমে বললাম,
- দেখুন, আমি জানি আপনি তিথিকে ভালবাসেন,আর তিথিও। এটাও জানেন, খালামণি কেমন প্রকৃতির মানুষ। আপনি যদি এখন কিছু না বলে চুপ করে থাকেন, বিয়ে উনি দিয়ে ছাড়বেন।
রাশেদ ভাইয়া কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। মনে হল কি বলবেন তা গুছিয়ে নিলেন।
বললেন,
- আমি আসলে ঠিক বুঝছি না কি করা উচিৎ। উনি আমাকে মায়ের চেয়েও বেশি আদর দিয়ে বড় করেছেন। তিনি যদি জানেন আমি বিয়েতে মানা করছি,তা হলে তার চোখে কতখানি ছোট হয়ে যাব সেটা ভাবতে পারছো? আমার দ্বারা সম্ভব না তাকে এমন অপমান করা।
উনার গলায় কেমন একটা আকুতি ফুটে উঠল। আমি কিছুক্ষণ তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। জননীর মত মামীর জন্য কত সহজে ভালবাসা ত্যাগ করছেন! আমার তাকিয়ে থাকা দেখে উনি মাথা নিচু করলেন। আমি বললাম,
- দেখি কি করা যায়।
বলে আস্তে উঠে চলে এলাম।
.
পরদিন। খালামণির রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। ভেতরে ঢুকব,কিন্তু আমার হাটু কাঁপছে। যুদ্ধে যাওয়া সৈনিকের মত সটান হয়ে দাঁড়িয়ে সাহস সঞ্চয়ের খানিকটা চেষ্টা করলাম। নক করলাম দরজায়,
- খালামণি, আসব?
- আয়।
ভেতরে ঢুকে দেখি খালামণি বিছানায় বসে আছেন। মুখ দেখে মনে হল শান্তই আছেন। মনে খানিক সাহস এলো।
- তোমার সাথে কিছু কথা বলতাম।
- আয় বোস, বল।
বিছানায় বসে মনে মনে গুছিয়ে নিলাম কি বলব। তারপর আস্তে আস্তে বললাম,
- আচ্ছা,তুমি বীথি আপুর সাথেই কেন রাশেদ ভাইয়ার বিয়ে দিতে চাও? তিথিকে কেন নয়?
খালামণি ভ্রু কুঁচকে সন্দেহের দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালেন,আমার কথার কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না।
তারপর বললেন,
- তোর মাথা খারাপ হল? বড় মেয়ের আগেই ছোটর বিয়ে দিলে লোকে কি বলবে? আর আমার মনে হয়েছে যুথির সাথে রাশেদকে ভাল মানাবে।
"কচু!" মনে মনে বললাম। তিথি,তুই কেন বড় হলি না!!!? তাহলে এত ঝামেলাও হত না,আমাকেও এখন এসব বলার ঝুঁকি নিতে হতো না।
তারপর গলা একদম মাখনের মত নরম করে বললাম,
- তুমি কি আসলেই জানো না যে কেন বীথি আপু বিয়েতে রাজি হচ্ছেনা??
আমার নরম গলা খালামণির উপর কোন প্রভাব ফেললো বলে মনে হল না। উনি ভ্রু-জোড়া আরো কুঁচকে বললেন,
- তুই আসলে কি বলতে চাচ্ছিস? খোলাখুলি বলতে কি হয়??
আমি জানি ভণিতা উনার মহা অপছন্দ। সুতরাং সোজা বলতে হবে।
বলার পর দুইবোনের কপালে কি জুটবে আমি জানিনা। ধরে বের ও করে দিতে পারেন, উনার বিশ্বাস নাই!!
গোল্লায় যাক,আগে বলে তো ফেলি!
খালামণির থেকে আরেকটা দূরে সরে বসলাম। উনার মুখ দেখেই বুঝলাম,আমার আচরণে উনি পুরো বিভ্রান্ত।
তারপর আস্তে আস্তে বললাম,
- খালামণি আসলে আপু বিয়েতে রাজি হচ্ছে না কারণ তিথি রাশেদ ভাইয়াকে পছন্দ করে!!!
খালামণি তৎক্ষণাৎ গর্জে উঠলেন,
- কি বললি? তিথি??
আমি মিনমিন করে বললাম,
- হ্যা,খালামণি! আপু সেটা জানে বলেই রাজি হচ্ছেনা।
খালামণি চোখমুখ লাল করে ফেললেন রাগে। আমি আরেকটু সরে বসলাম। আল্লাহ!!! একটু সাহায্য করো!!
- ওর_ওর এত বড় সাহস!! বিয়ের বয়স না হতেই পছন্দ করে বসে আছে! এজন্যই তো বলি ও ও কেন মুখ গোমড়া করে বসে থাকে!! অথচ আমাকে কিছু টের পেতে দেয়নি!
- খালামণি,এতো না রেগে একটু শান্ত হও---
আমার কথা শোনার চেষ্টাও করলেন না উনি।
- রাশেদকে আমি যা বলব তাই শুনবে। তিথি কি ভেবেছে, ও পছন্দ করলো আর হয়ে গেল??
আমি এবার আমার তীর ছুড়লাম,
- অবশ্যই রাশেদ ভাইয়া তুমি যা বলবে তাই শুনবে,কারণ সে তোমাকে মায়ের মত ভালবাসে। কিন্তু তোমার জেনে রাখা দরকার যে রাশেদ ভাইয়াও তিথিকেই পছন্দ করে! কিন্তু তারপর ও তুমি জোর করলে উনি যে কাউকেই বিয়ে করতে রাজি হবেন।
আমার কথা শোনামাত্র খালামণি থমকে গেলেন। এরকম শুনবেন তা ভাবেননি কিনা।
কাটা কাটা ভাবে জিজ্ঞেস করলেন,
- এটা সত্যি???
- হ্যা সত্যি। আমি কালকেও উনার সাথে কথা বলেছি।
- আমাকে বলেনি কেন? রাজি হল কেন??
- কারণ,উনার কাছে তোমার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।
খালামণি চুপ করে থাকলেন। নতুন তথ্য গুলো মাথায় সাজাচ্ছেন হয়তো। আমি না থেমে বলতে লাগলাম,
- একবার ভাবো তো, তুমি নিজের ইচ্ছাতে জোর করে বীথি আপু আর রাশেদ ভাইয়ার বিয়ে দিয়ে দিলেও, তারা কি খুশি মনে থাকতে পারবে? ওদের তিনজনের ই মন নষ্ট হয়ে যাবে,আর সাথে সাথে তোমাদের পরিবারের শান্তিও। তোমার ভাল লাগবে এসব দেখে?
খালামণি উত্তর দিলেন না। আমি ফের বললাম,
- তুমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভেবে নাও। দরকার হলে ডেকো।
.
আধঘণ্টা পর ফের ডাক পড়ল। গিয়ে দেখি খালামণি সেই জায়গায়ই ঠায় বসে আছেন,মুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। আমি সামনে বসে বললাম,
- বলো,কি সিদ্ধান্ত নিলে??
খালামণি শান্ত গলায় বললেন,
- কিন্তু বড় মেয়ের আগে ছোট মেয়ের বিয়ে ঠিক করে ফেললে লোকে কি বলবে সেটা জানিস? বড় মেয়ের দুর্নাম হবে। লোকে বলবে ছোট মেয়ের আগে বিয়ে দিচ্ছে,তাহলে বড়র কোন দোষ আছে!!
আমি চটে গিয়ে বললাম,
- আচ্ছা,লোকে কি বলল সেটা ই বড়,নাকি তোমার কাছে মেয়েদের সুখ বড়? লোকের কথা ভেবে তুমি বিয়ে দিলে না রাশেদ ভাইয়া সুখী হবে,না তোমার মেয়েরা।
- কিন্তু,কি জানিস,আমার মনে হচ্ছিল রাশেদের সাথে বীথিকে মানাবে,আর আমার ছেলে-মেয়েও আমার কাছেও থাকল।
- তিথিকে কোনদিক দিয়ে মানাবে না শুনি? বয়সের পার্থক্যও অল্পই। আর তোমার যেকোন এক মেয়েকে তো বাইরে বিয়ে দিতেই হবে! সেটা না হয় তিথির জায়গায় বীথিপু হল!!
খালামণি চুপ হয়ে গেলেন। মনে হচ্ছে আর কোন যুক্তি পাচ্ছেন না। একটু পর বললেন,
-আচ্ছা, দেখা যাক।
.
এক সপ্তাহ পর। রাত এগারোটা। আমরা খালামণিদের বাসায়ই। আমি ব্যাগ গোছাচ্ছি নিজের রুমে।
শেষপর্যন্ত খালামণি তিথিকে রাশেদ ভাইয়ার সাথে বিয়ে দিতে রাজি হয়েছেন। শোনার পর আমি নিজের কৃতিত্বের খবর দুইবোন কে জানিয়েছি। তিথি আমাকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে কেঁদেছে। এই মেয়েটা খালি কাঁদে।
রাশেদ ভাইয়া মিষ্টি হেসে বলেছে, " তোমাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না,রুপু।" আমি তার আনন্দে খুশি হয়ে মুচকি হেসেছি।
কালকে বিয়ে।
কার্ড তৈরি, কি কি কিনতে হবে তার লিস্ট বানানো,বাসা ফুলে সাজানো,ওদের দুজনের জন্য বিয়ের ড্রেস, সবকিছু করেছি সবার সাথে মিলে।
সবাই খুউউউউউব খুশি। আমিও।
.
ভোর চারটা। সারারাত কাজ করার পর তিনটার দিকে সবাই ঘুমোতে গেছে। বাসা নিস্তব্ধ। আমি ব্যাগ কাঁধে নিয়ে দোতলার রুমে থেকে ব্যালকণি তে এলাম। ব্যাগটা নিচে নামিয়ে দিতে ধুপ করে শব্দ হলো! কে জানে কেউ শুনে ফেলল কিনা।
হাতে থাকা রশি রেলিংকে বাধলাম। আস্তে আস্তে রশি বেয়ে মাটিতে নামলাম রেলিং টপকে। ব্যাগ তুলতে তুলতে একটা চিন্তা মাথায় এলো। ঠোট বাকিয়ে হাসলাম,
আমিই বোধহয় পৃথিবীর প্রথম এবং একমাত্র মেয়ে যে নিজের ভালবাসার মানুষের বিয়ে নিজে হাতে ঠিক করে দিল। এখন পালাচ্ছে কারণ চোখের সামনে তার বিয়ে সহ্য হবেনা কিছুতেই।
হ্যা,আমি ভালবাসতাম রাশেদ ভাইয়াকে। বাসতাম কি, এখনো বাসি।
হোস্টেল ছেড়ে যখন থেকে উনি খালামণির বাসায় থাকা শুরু করলেন,তখন থেকে।
ভেবেছিলাম একটু একটু করে তার মনে জায়গা করে নেব। ঘন ঘন খালামণির বাসায় যেতাম তার জন্যই।
কিন্তু তিথি আমার জায়গা নিয়ে নিলো, আগেই। আমার দুর্ভাগ্য।
বাসার মেইন গেইট খুলে বাইরে যাওয়ার আগে থমকালাম। বিয়ে শেষ হলে ফিরে তো আসতেই হবে। সবার একই প্রশ্নের কি উত্তর দিব ফিরে এসে?
কিভাবে বলব বিয়েতে থাকলে আমি বুক ফেটে মরে যেতাম? কিংবা কোন অঘটন ঘটিয়ে ফেলতাম??
গোল্লায় যাক। আস্তে গেট ভেজিয়ে দিয়ে বাইরে এলাম। আমি দুর্ভাগিনী? কে বলল? ভালবাসার মানুষকে পেতেই হবে এমন তো কোন কথা নেই।
দূর থেকে একা একাও ভালবাসা যায়। আমার ভালোবাসায় কোন চাওয়া নেই,স্বার্থ নেই,অপবিত্রতা নেই,আছে শুধু তার কল্যাণকামনা।
তার উপকার করে তাকে খুশি করতে পেরেছি,এ ই বা কম কিসে?
ভালবাসার মানুষকে পাই বা নাই,সে সুখে থাকলেই সুখ।
ফোন অফ করে দ্রুত হাটা ধরলাম। একটু কাছেই রেলস্টেশন। পাঁচটায় ট্রেন আছে একটা।
এখনো রাস্তাঘাটে মানুষ বেরোয়নি। আশেপাশের দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যাচ্ছেনা। একটু পর পেছনের বাসা মিলিয়ে গেল ভোরের আবছা অন্ধকারে।
___ Sumiya Afroz (সিম্ফনি)
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻļāύিāĻŦাāϰ, ⧍ āϏেāĻĒ্āĻেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
749
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§§ā§Ļ:ā§Ļ⧝ PM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ