✔প্রিয়জনের দেয়া প্রথম ভালোবাসার স্পর্শ✔
••••••••••••••••••••🍀🍁🍀•••••••••••••••••••
লেখকঃ-RB Raj
....
— স্নিগ্ধা !!!
আমার টাই টা খুঁজে পাচ্ছিনা।
— দাঁড়ান আমি খুঁজে দিচ্ছি।
আজ অফিস যেতে অনেক লেইট হয়ে
যাচ্ছে রাজের।
খুব তাড়াহুড়া করে বের হতে গিয়ে টাই
পড়তে ভুলে গিয়েছে সে।
— এই তো। পেয়েছি দাঁড়ান আমি পড়িয়ে
দিচ্ছি।
এই বলে রাজের পাশে যেতেই সে স্নিগ্ধার
হাত ধরে ফেলে।
— না প্রয়োজন নেয়। আমি পড়ে নিব, বাই
টেইক কেয়ার।
রাজ অফিসের কাজে বের হয়ে গেল।
এদিকে স্নিগ্ধার মুখ নিচু করে এখনো
রাজের দরজার দিকে তাকিয়ে আছে।
একটু একটু ঝাপসা লাগছে সামনের সিঁড়িটা।
হয়ত নিয়মিত আজও তার চোখের কোণে
পানিগুলো খেলে বেড়াচ্ছে।
পেছনে কারো হাত তার ঘাড়ে অনুভব করতে
পারল সে।
চমকে গিয়ে চোখের পানি মুছতে গিয়ে
পুরোটা মুছতে সক্ষম হলনা।
— বৌমা।
— হ…হ্যা আম্মা। কিছু বলবেন. ???
— তোমার চোখে পানি কেন মা ???
কি হয়েছে ???
— ও কিছুনা। হয়ত কিছু একটা পড়েছে।
— মা রে….
আমি সব বুঝি…..!!!
তুই আমাকে ক্ষমা করে দিস।
আজ আমার জন্যে তোর এই অবস্থা।
চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন
স্নিগ্ধার শাশুড়ি।
— ছিঃছিঃ মা আপনি এসব কি বলছেন. ???
— হুম ঠিকই বলছি।
তবে একটা কথা মাথায় রাখ, এত
তাড়া-তাড়ি ভেঙ্গে পরলে চলবেনা।
একটা ছেলেকে মেয়েরাই ভাল হ্যান্ডেল
করতে পারে।
তুই একদম ভেঙ্গে পরবিনা। আমি আছি
তো।
— অবশ্যই আম্মা।
আপনি দোয়া করবেন, আমার জন্যে।
*****
জানালার পাশে চায়ের কাপ হাতে বসে
আছে স্নিগ্ধা।
সামনে গল্পের বই।
আর টিভি ও চলছে।
সিরিয়াল দেখার ফাঁকে ফাঁকে হিরু-হিরুইন
এর রোমাঞ্চ গুলো বেশ ভাল ভাবেই
লক্ষ করছে সে।
মূহুর্তেই মন টা খারাপ হয়ে গেল তার।
কারণ বিয়ে হয়েছে আজ তিন মাস।
রাজ কখনো টিভির ঐ হিরুর মতো
করে স্নিগ্ধাকে জড়িয়ে ধরেনি।
রাজের বাবা- মা এবং স্নিগ্ধার বাবা-মা
তখন একই গ্রামে বসবাস করত।
তাদের দুই পরিবারের মধ্যে বেশ ভাল
সম্পর্ক ছিল বিশেষ করে রাজের মা
আর স্নিগ্ধার মা, এরা ছিল একে
অপরের শুধু বান্ধবী না। একে বারে
বোনের মতো।
রাজের বাবার চাকরির সুবাদে রাজের
পরিবার গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে গেলেও
স্নিগ্ধার পরিবার গ্রামেই থেকে যায়।
আর রাজ ভাল পড়ালেখা করার জন্যে
বাইরে চলে যায়।
পড়া শেষ করে বাংলাদেশে আসার পর
থেকেই তাকে বিয়ের জন্যে চাপ দেওয়া হয়।
স্নিগ্ধা ছোট বেলা থেকেই বেশ কিউট
এবং সৌন্দর্যের অধিকারী ছিল।
তখন থেকেই স্নিগ্ধার মা কে আগে
ভাগেই রাজের সাথেই ওর বিয়ের কথা
বলে রেখেছিলেন রাজের মা।
এখন সব কিছু ঠিকই ছিল।
কিন্তু বিদেশ থেকে আসার পর যে
ধরনের মেয়েদের প্রতি রাজের আকৃষ্ট
ছিল,স্নিগ্ধা সে ধরনের মেয়ে নয়।
আর এতে রাজের অমত থাকা সত্বেও
মায়ের আদেশে তাকে এই বিয়ে করতে হয়।
তাই আজ পর্যন্ত স্নিগ্ধার দিকে ভাল করে
ফিরেও তাকায়না সে।
স্নিগ্ধা খুব সাদাসিধা একটা গ্রাম্য মেয়ে।
লেখাপড়াও করেছে ভাল মত।
কিন্তু অন্যদের মত কোন প্রকার চঞ্চলতা
তার মাঝে উপস্থিত নেয়। যা রাজ
সবসময় ওর মাঝে খুঁজে বেড়ায়।
রাজের ফ্রেন্ডদের মতে স্নিগ্ধা একটা খ্যাত।
ওর মত মেয়ে বিয়ে করা মানে নিজের
জীবন নিজেই শেষ করে দেওয়া।
ফ্রেন্ডদের সাথে এসব বিষয় নিয়ে
আলোচনা করার সময় স্নিগ্ধা অনেক
বার দেখে ফেলেছিল আর আড়ালে কাঁদত।
*****
বিকেল পার হতেই কাজ কর্ম শেষ করে
আবারও গল্পের বই এর দিকে মন দিল সে।
একটু পর কি মনে করে আলমারিত দিকে
চোখ পরল তার।
কিছুদিন আগে একটা ছবির এলবাম
দেখেছিল সে।
সেখানে রাজের বেশ কিছু ছবি আছে,
যেগুলাতে ওদের ছোট বেলার ছবিও
থাকার কথা সাথে সাথে চাবিটা নিয়ে
আলমারি খোলে ফটোর এলবাম টা
হাতে নিল সে।
রাজের ছবি গুলো বেশ সুন্দরই লাগছে।
সব ছবিতে কিউট একটা হাসি বিদ্যমান।
বিয়ের পর থেকে এই টাইপের হাসি
কখনো দেখেনি সে।
সারাক্ষণ কেমন জানি মুখটা ভার হয়ে
থাকে তার।
এলবাম টা বেশ বড় ছিল।
ছবি গুলা দেখে শেষ হওয়ার পথে, তাই
সেটা ঠিক স্থানে আবার রেখে দিতে
গেলে সেখান থেকে ছোট একটা
ডায়েরী স্নিগ্ধার চোখে পরে।
এলবামটা আলমারি তে রেখে দিয়েই
ডায়েরীটা হাতে নিয়েই পড়তে থাকে সে।
বেশ পুরানো ডায়েরী, এটাতে রাজের
অনেক মনের কথা লিখা আছে।
কিছু ইন্টারেস্টিং লেখাও ছিল।
স্পষ্ট লিখা আছে ঈশিতা নামক এক
মেয়ের সাথে রাজের ভাল রিলেশন
ছিল, পড়ার উদ্দেশ্যে বাইরে চলে
যাওয়ার সময় রাজ ঈশিতাকে কথা
দিয়েছিল পড়া শেষ করে এসেই তাকে
তার ঘরের বৌ করে আনবে।
কিন্তু রাজের দেশে ফেরার আগেই ঈশিতার
বিয়ে হয়ে যায়।
— আহারে বেচারা, শেষ মেস ছ্যাঁকা !!!
হিহিহি করে হাসতে লাগল স্নিগ্ধা।
আবারও ডায়েরীর লেখার দিকে মন দিল সে।
সেখানে স্নিগ্ধার আচরণ, কথা বলার
ধরন,রাজের প্রিয় কালার, ভাল লাগার
মোমেন্ট এবং কিছু মিষ্টি অনুভূতির কথা
লিখা আছে।
ডায়েরীটা পড়ে শেষ করল স্নিগ্ধা।
এবং যেখানে পেয়েছিল সেখানেই রেখে
দিয়েছে।
আসলেই তো ঈশিতার আচরণের সাথে
স্নিগ্ধার আচরণের অনেক পার্থক্য,
এসব হয়ত রাজ খুব মিস করে।
— না আর মিস করতে দেওয়া যাবেনা।
এই বলে আবারও মুচকি হাসি দিল স্নিগ্ধা।
আজ রাজের বাইরে ডিনার করে আসার
কথা ছিল।
তাই স্নিগ্ধা অপেক্ষা না করে রাতের
খাবারটা খেয়ে আবার তার রুমে প্রবেশ করল।
আলমারি খুলে ডায়েরীটা আবার হাতে
নিলো এবং রাজের পছন্দের কি কি
ছিল সেগুলাতে চোখ বুলাতে লাগল।
একটু পর আলমারি থেকে নীল শাড়িটা
বের করল সে।
সাথে কালো টিপ।
চোখে কাজল দিয়ে, হাত ভর্তি কিছু
রঙ্গিন কিছু চুড়ি পড়ল।
এভাবে ডায়েরী পড়ে একে একে সব
কাজ সম্পন্ন করল সে।
আর ডায়েরীতে লিখা ছিল ঈশিতা
ইচ্ছা করেই কপালের টিপ টা বাঁকা
করে দিত, আর রাজ সেটা ঠিক করে দিত।
স্নিগ্ধাও তার ব্যতিক্রম কিছু করলনা।
ইচ্ছা করেই সব ঠিক করলেও টিপ টা
বাঁকা করেই দিল।
একটু পর কলিং বেলের আওয়াজ
পেয়ে দরজার দিকে ছুটে যায় সে।
দরজা খুলতেই রাজের চেহারার দিকে
চোখ পরে স্নিগ্ধার।
সে হা করে আছে, কেমন জানি বাচ্চা
বাচ্চা একটা ভাব এসেছে তার চেহারায়।
আজ বরং তাকেই বোকা এবং খ্যাত
মার্কা মনে হচ্ছে। অবশ্য রাজের এই
বৈশিষ্ট্যের কথা ডায়েরীতে পড়েনি স্নিগ্ধা ৷
অনেক কষ্টে নিজের হাসি লুকালো স্নিগ্ধা।
— হা করে কি দেখেন. ??? ভেতরে
আসবেন না ?? নাকি আমাকে দেখে
পেত্নী মনে করে ভয়ে পালানোর চিন্তা করছেন?
এক নিশ্বাসে কথা গুলো বলে ফেলল স্নিগ্ধা।
— ওহ… হ্যা তাই তো।
*****
রুমের জানালা টা খোলা।
স্নিগ্ধা খাটের এক পাশে বসে আছে।
জানার ফাঁক দিয়ে পূর্ণিমার চাঁদের
আলো সোজা তার চেহারায় এসে
পড়েছে।
এই সময়টাই রাজ প্রতিদিন ল্যাপটপ
নিয়ে অফিসের কিছু কাজ করে থাকে।
স্নিগ্ধা কে একটুও সময় দিতনা।
রাজের এরূপ আচরণ দেখে অন্য দিকে ফিরে
স্নিগ্ধা মুচকি হাসছে……
নীরবতা ভেঙ্গে স্নিগ্ধা বলে উঠল,
— ছাদে যাবেন. ???
— হ্যা, চলো। আকাশে পূর্ণিমার চাঁদটা
আজ একটু স্পেশাল মনে হচ্ছে আমার কাছে।
সেটা উপভোগ করা প্রয়োজন।
— আচ্ছা ঠিকাছে, দাড়ান আমি চা নিয়ে আসি।
চা খেতে খেতে আড্ডা দিব ছাদে।
*****
*****
চায়ের কাপে এক চুমক দিয়ে আকাশের
দিকে তাকালো রাজ।
আরেকবার স্নিগ্ধার দিকে তাকালো।
মৃদু বাতাসে স্নিগ্ধার সিল্কি চুল উড়ে বেড়াচ্ছে।
রাজের খুব ইচ্ছা হচ্ছে স্নিগ্ধার সাথে
একটু গা ঘেঁষে দাঁড়াতে।
কিন্তু কোথায় যেন বাঁধা পাচ্ছে সে।
কেন যে এতদিন খারাপ আচরণ করেছিল
তার সাথে !!
আজ স্নিগ্ধার চেহারা থেকে চোখ সরছেনা তার।
চেহারায় বেশ মায়া, চোখ গুলো টানাটানা
এ যেন মানুষ রূপি কোন পরী তার সামনে
দাড়িয়ে আছে।
রাজের এমন বোকা বোকা চেহারা আগে
কখনো লক্ষ করেনি স্নিগ্ধা।
আজ আড়চোখে তার দিকে তাকাচ্ছে
আর হাসছে সে।
একটু পর নীরবতা ভেঙ্গে রাজ বলে উঠল।
— আচ্ছা, কখনো কি এমন কথা ছিল
যে চাঁদ একসাথে দুইটা দেখা যাবে ???
— না তো। আমি তো এই টাইপের কথা
কখনো শুনিনাই।
হঠাৎ এ কথা কেন বলছেন. ?
— না মানে আজ দুইটা চাঁদ এক সাথে
দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার।
— কোথায় দেখি ???
— হুম দেখাব যদি কাছে আসো ।
রাজের কথা শুনে স্নিগ্ধা লজ্জাই লাল
হয়ে যায়।
আর এখনো আগের জায়গায় দাড়িয়ে আছে।
তার এই অবস্থা দেখে রাজ নিজেই এগিয়ে যায়।
আর স্নিগ্ধার গালে হাত রেখে বলে এই তো….!!!
একটা চাঁদ আকাশে। আরেকটা চাঁদ আমার
সামনেই।
যাকে ধরার সৌভাগ্য হয়েছে আমার।
যা আগে কাছে থাকার পর ও দেখার জন্যে ঐ মেগাফিক্সেল এর চোখ ছিল না।
স্নিগ্ধা চুপচাপ রাজের কথা শুনে যাচ্ছে।
মুখ দিয়ে কিছু বের হয়েও কেন জানি
আটকে যাচ্ছে।
— একি সব কিছু ঠিক মত করে। টিপ
টা ঠিক করে দিতে পারলেনা ???
দাঁড়াও আমি ঠিক করে দিচ্ছি……
আহ…
প্রিয়জনের প্রথম স্পর্শ. !!!
সত্যিই উপভোগ করার মত।
ভালোবাসার পূর্ণতা পাওয়া যায় এমন
মানুষকে কাছে পেলেই।
যাকে আমরা সর্বদা কল্পনার রাজ্যে সাজিয়ে থাকি।
Writer•••••••••••Raj
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ