এক
.
ধূররর!! আজও হেরে গেলাম। কেন যে পারি না গেমটা। হঠাৎ মেয়েটা সামনে এসে দাড়াল।
- প্রতিদিন এখানে আসাটা কি খুব জরুরি?
আমি অবাক দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকালাম। ওর মুখে লজ্জা আর ভয় কাজ করছে। কিন্তু ওর লজ্জা আর ভয় পাওয়ার কি আছে।
- না আসলে আমি এই ফোনটা কিনব। তাই আরকি....
মেয়েটা মুচকি হাসি দিল। হাসিটাতে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে আমার একটুও সময় লাগল না।
- প্রতিদিন এখানে এসে গেম না খেলে ফোনটা কিনে নিলেই পারেন। আবার যেদিন আসবেন ফোন কিনতে আসবেন। আমরা এভাবে আর ফোনে গেম খেলতে দিব না।
আমি আর কিছু বললাম না। মাথা নিচু করে বেরিয়ে আসলাম।
আজও গেম খেলছিলাম। চরম মুহুর্ত। এই বলটাকে ফেলতে পারলেই বোর্ডটা আমি জিতে যাব। হঠাৎ সামনে আবার মেয়েটা। ধূরর!!! অসময়ে আসে কেন!! আজও আর জিতা হলো না। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বল কই মারছি মনেই নাই। আমি মোটামুটি ঝাড়ির জন্য প্রস্তুত।
- আপনি আবার?
আমি হাসলাম। মেয়েটাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে খুব রেগে গেছে। বেশি রাগানো যাবে না। কিছু ঘটে যাবে। মেয়েমানুষের হাতের চড় খাওয়ার কোন ইচ্ছা আপাদত নেই।
- না আসলে এই মাসের স্যালারিটা পেলেই ফোনটা নিয়ে যাব।
মেয়েটা এবার হেসে দিল। এভাবে হাসার কি দরকার। ও বুঝেনা ওর এই হাসি আমাকে কাত করতে যথেষ্ট।
- সত্যি তো? ফোন নিয়ে যাবেন?
এবার ওর মুখে একটু দুষ্টামি খেলে গেল। আমি বুঝতে পারলাম না।
- হ্যা সত্যি।
- আবার যেদিন ফোন কিনবেন সেদিনই আসবেন। এর আগে যেন আশে পাশে না দেখি।
- জি আচ্ছা।
.
দুই
.
বাইরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। হঠাৎ করে এভাবে এসে বসুন্ধরায় আটকে যাব ভাবিনি। সামনে ঈদ। বসুন্ধরায় এখন একটু ভিড়ই চলছে। সবাই দাড়িয়ে আসে বৃষ্টি থামার অপেক্ষায়। পাশে স্যামসাংয়ের শোরুমের দিকে তাকাতেই একটা মেয়ে দেখতে পেলাম। অনেক সাদা। ময়দা সুন্দরী কিনা বুঝতে পারতেছি না। যাই হোক সুন্দর। চোখে গোল চশমা। চুলগুলা কালার করা। এককথায় পারফেক্ট। বৃষ্টি থেমে গেছে। বেরোতে হবে।
বসুন্ধরায় ঢুকতেই দেখলাম মেয়েটা কয়েকজন ছেলের সাথে কথা বলছে। হয়ত ফোনের সার্ভিস সম্পর্কে বলছে। নিজের মধ্যে কেমন যেন জেলাসি ফিল হচ্ছে। আমার আজকের বসুন্ধরায় আসার পেছনে কোন কারণ নেই। অফিসে বসেছিলাম। মেয়েটার কথা মনে পড়ল। চলে আসলাম।
ফোনটা হাতে নিয়ে নড়াচড়া করছি। হঠাৎ মেয়েটা আসল।
- স্যার এই ফোনটা আমাদের এখানে নিউ এসেছে। আপনি ব্যবহার করে দেখতে পারেন.......
কিছুক্ষন ফোন সম্পর্কে কথা বলল। সত্যি বলতে আমি কিছুই শুনিনি। আমি তো ওকে দেখায় ব্যস্ত ছিলাম। মেয়েটাও বুঝতে পেরেছে। তাই নিজে থেকেই সরে গেছে।
পরদিন থেকে প্রতিদিনই যাওয়া শুরু করলাম। ততদিনে শো রুমের সবাই আমাকে চিনে ফেলেছে। মেয়েটাও বুঝে ফেলেছে। এমনকি ফোনে যেই গেমটা আমি খেলি সেটা আমার ফোন থেকে আমিই শেয়ারইট দিয়ে ঐ ফোনে নিয়েছি। আসলে কেন আসি জিজ্ঞেস করলে কোন একটা অযুহাত তো দেখাতে হবে।
.
পরিশিষ্ট...
.
এক মাস পর বসুন্ধরায় যাচ্ছি। কাজের চাপে একমাস যেতে পারিনি। ঐতো স্যামসাংয়ের শো রুমটা দেখা যাচ্ছে। মেয়েটাও আছে। কিন্তু ওর চোখের নিচে কালো হয়ে গেছে। মনে হয় বেশি রাত জাগে। চুলগুলাও কেমন যেন। আমাকে দেখতেই যেন ছুটে চলে এল। দেখে মনে হচ্ছে ও অতি দামী কিছু পেয়ে গেছে। আমি একটু হাসার চেষ্টা করলাম।
- কি আজ স্যালারি পেলেন?
আমি কি বলব বুঝতেছি না। কি বলা উচিত সেটাই ভাবছি।
- হ্যা পেয়েই এখানে আসলাম।
- আচ্ছা!! আজকে মাসের বিশ তারিখ। এই সময়ে কোন কোম্পানি আপনাকে স্যালারি দিল একটু বলবেন?
কি বড় বলদ আমি। আমার তো বাসায় বসে মুড়ি চাবানো উচিত। আমি আসছি প্রেম করতে। আজ মাসের বিশ তারিখ সেটা আমার মনে নাই। হাম্বা একটা!!!
- কি হলো বলবেন কোন কোম্পানি?
- না মানে আসলে পেয়েছিলাম আগেই। আসতে একটু লেট হয়ে গেছে আরকি।
- ওহহহ!!! আচ্ছা চলুন ফোনটা কিনবেন তো।
ফোনটা কিনে ফেলেছি। কাল থেকে আর এখানে আসা হবে না। আমি আসতে চাই। কিন্তু অযুহাত কি দিব।
- বিশ হাজার টাকা দিন।
আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকালাম।
- বিশ হাজার কেন? ফোনের দাম তো ষোল হাজার নয়শত নব্বই টাকা।
- কেন জিএফ এর ঈদের শপিংয়ের জন্য টাকা দিবেন না?
আমি কথাটাকে খেয়াল না করে টাকা দিয়ে দিলাম। মাত্র বিশ হাজার চাইছে। ও চাইলে তো জীবনটা দিয়ে দিতে রাজি।
বের হয়ে যাচ্ছি। হঠাৎ করে কথাটা মাথায় পেচিয়ে গেল। কি বলল ও। জিএফ!!!! পিছনে তাকাতেই দেখি ও হাসছে। সেই আগের হাসি। ওর চোখের নিচের কালি দূর হয়ে গেছে। চুলগুলা গোছানো হয়ে গেছে। চোখে দুষ্টামি খেলা করছে।
- প্রিয়াস সাহেব। আবার এসে টাকাটা নিয়ে যাবেন।
ও আমার নাম কিভাবে জানল। আমি তো নাম বলিনি।
- মিস মেঘা আপনিও ভাল থাকবেন।
মেঘা অবাক হয়েছে। হওয়ার ই কথা। আমি জানি ও এখন ভাববে আমি কিভাবে ওর নাম জানছি। আমি আবার আসব। মেঘাকে নাম জানার রহস্যটা জানাতে হবে তো।
.
~প্রিয়াস (Shameless Stupid)~
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ