গল্পঃ দুরের ভালোবাসা।
.
.
-আমাকে ভুলে যাও তুমি (পাপড়ি)
> আমাকে ভুলে থাকতে পারবে তাহলে। (শাকিল)
-সেটা আমি জানিনা (পাপড়ি)
> আমার তো মনে হচ্ছে,তুমি কোনদিনও আমাকে ভুলে থাকতে পারবে না (শাকিল)
-সত্যি শাকিল,তুমি আমাকে ভুলে যাও,আর কখনো আমাকে ফোন দিবেনা।
.
কথা গুলো বলার পর শাকিল আর কিছু বলে না,
একদম নিশ্চুপ হয়ে যায়,
পাপড়িকে শুধু একটি কথাই বলে শাকিল ভালো থেকে,
কথাটি বলেই শাকিল ফোন কেটে দেই।
.
ফোন কেটে দিয়ে শাকিল নিজের ঘরের ভেতর ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদে।
কাঁদার জেনো কোন শব্দ না হয়,সেইজন্য শাকিল নিজের মুখের ভেতরে কাপড় ঢুকিয়ে দিয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদে।
.
মনে হয় আজকে শাকিলের চোখে বৃষ্টি শুরু হয়েছে,সেই বৃষ্টি কোনভাবেই থামানো সম্ভব না।
.
হটাৎ করে আবার ফোনটা বেজে উঠে,
শাকিল ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে,পাপড়ী ফোন করেছে,
.
শাকিল ফোন ধরবে না ভাবে,
কিন্তু মনের কাছে হেরে যায় শাকিল,
ফোনটি ধরে সে,
.
-আবার কেনো ফোন করেছো তুমি? (শাকিল)
শাকিলে ফোনের ওপাশে থেকে কোন রিপ্লাই পাই না,শুধু শুনতে পাই ওপাশেও সে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে।
.
শাকিলের কান্নার চেয়ে অপাশের কান্নার শব্দ বেশি করুন,
ওপাশের কান্নার শব্দ শুনে শাকিল আবারো কেঁদে ফেলে।
.
-কি হলো তুমি কাঁদছো কেনো (শাকিল)
> জানিনা,(পাপড়ী)
-তুমি আমাকে কষ্ট দিয়ে নিজেই কেনো কষ্ট পাচ্ছ (শাকিল)
> আমি কিছুই জানিনা শাকিল, আমি শুধু এটা জানি,তোমার জন্য আমার কষ্ট হচ্ছে অনেক।(পাপড়ি)
-আমার জন্য তুমি কেনো কষ্ট পাচ্ছ।
> তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি,তোমাকে কষ্ট দিয়ে আমি নিজেই বেশি কষ্ট পাচ্ছি।
-তাহলে কেনো বললে, আর ফোন করবে না কখনো।
> এখন আবার বলছি,আবারো ফোন দেবে প্রতিদিন।
-পারবো না আমি।
.
শাকিলের পারবো না বলাতে ওপারে পাপড়ী আরো জোরে কেঁদে উঠে।
শাকিল আর থাকতে না পেরে পাপড়ীকে কাঁদতে মানা করে।
পাপড়ীর কান্নার শব্দে যে শাকিলের বুকটা কেঁপে উঠে,
-এবার কান্না থামাও পাপড়ী,আমি আর নিতে পারছি না,
তোমার কান্না শহ্য করার মতন আমার ক্ষমতা নেই (শাকিল)
> আগে বলো আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিয়েছো (পাপড়ী)
-হ্যাঁ ক্ষমা করে দিয়েছি,এবার কান্না থামাও,নইতো আমিও কান্না শুরু করবো।
> তুমি কেনো কাঁদবে।
-তোমার কান্না আমি শহ্য করতে পারবো না।
সেইজন্য আমিও কাঁদবো,তুমি আমাকে যতোপারো কাঁদাও,কিন্তু তুমি সুখি থাকো।
.
শাকিলের কথা শুনে পাপড়ী ওপাশে কান্না করে কিন্তু কোন শব্দ করে না,কারন এপাশে কান্নার শব্দ শুনে যদি শাকিলও কান্না করে।
.
দুইজন দুইজনের কান্না শহ্য করতে পারেনা,
কিন্তু দুজনের যে কেউ একজন আরাকজনকে কাঁদাই,
আবার নিজেও কাঁদে।
পাপড়ী সবসময় শাকিলকে পেইন দিয়ে শাকিলকে কাঁদাবে,
আর শাকিল যতটুকু কাঁদবে,পাপড়ী তার চেয়ে বেশি কাঁদবে।
পাপড়ী জানেনা কেনো সে এমন করে,
কেনো সে শাকিলকে কাঁদিয়ে নিজে বেশি কষ্ট পাই।
এটা পাপড়ী আজও বুঝতে পারেনি।
এটাই তো প্রকৃত ভালোবাসা।
এমন ভাবে ভালোবাসতে কইজন পারে।
.
.
-পাপড়ী একটা কথা বলবো (শাকিল)
> বলো (পাপড়ী)
-তোমাকে না জানিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসে করে একটি জিনিষ পাঠিয়েছি, তুমি সেটা নিয়ে এসো।
> কি পাঠিয়েছো তুমি?
-ওখানে গিয়ে তুলে নিয়ে আসো,তাহলেই দেখতে পাবে।
.
পাপড়ী শাকিলের কথা শুনে ফোনটা কেটে দেই।
ফোন কেটে দিয়ে পাপড়ী ভাবে কি এমন জিনিষ পাঠিয়েছে শাকিল।
পাপড়ী ভেবে পাই না,কি হতে পারে সেটা।
.
বিকেলের দিকে পাপড়ী কুরিয়ার সার্ভিসের ওখানে যায়।
ওখানে পাপড়ী ওদেরকে সব বলে,
ওরা তখন শাকিলের সেই পাঠানো পার্সেলটি পাপড়ীকে দিয়ে দেই।
.
পার্সেলটি পাপড়ী হাতে নেই,নীল কাগজে সুন্দর করে মোড়ানো পার্সেলটি।
অনেক সুন্দর করে মোড়ানো হয়েছে এটি।
দেখলেই বোঝা যায় ভালোবাসাই মোড়ানো পার্সেল।
.
পাপড়ী বাড়িতে চলে আসে পার্সেলটি নিয়ে,
বাড়িতে এসে নিজের রুমে চলে আসে পাপড়ী,
রুমে এসে রুমের দরজা বন্ধ করে দেই,
রুমের দরজা বন্ধ করে বিছানাই বসে পার্সেলটি খুলে পাপড়ী।
.
পাপড়ী পার্সেলটি খুলে আবারো কেঁদে উঠে,
আবারো ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে পাপড়ি।
.
পার্সেলটির ভেতরে একটি ঘড়ি,আর নূপুর দেখতে পাই পাপড়ী।
শাকিল পাপড়ীকে বলেছিলো,
সামনে তোমার পরীক্ষা,
সেইজন্য তুমি ভালো করে পড়াশোনা করো,
আর ভালো করে পড়াশোনার জন্য তোমাকে একটি গিফ্ট দেওয়া হবে।
গিফ্ট পেয়ে পাপড়ি বুঝতে পারে না,কেনো শাকিল তাকে এগুলো পাঠালো।
.
পাপড়ী শাকিলকে আবারো ফোন করে,
-তুমি এসব কি পাঠিয়েছো আমার জন্য (পাপড়ী)
> তোমার জন্য গিফ্ট (শাকিল)
-ঘড়ি কেনো পাঠিয়েছো?
> সামনে তোমার পরীক্ষা, আর এইজন্য তোমাকে ঘড়ি দেওয়া।
তুমি সময় দেখে দেখে সব কাজ গুলো করবে,সেইজন্য ঘড়ি দিয়েছি তোমাকে।
-আমার তো ঘড়ি আছেই।
> তোমার ঘড়ি তোমার কাছে থাকলেও কোন কাজে আসবে না,কিন্তু আমার ঘড়ির দিকে তুমি যতবার তাকাবে ততবার তোমার মনে পড়বে,তোমার প্রিয় মানুষ তোমাকে ঘড়ি দিয়েছে সময় দেখে দেখে ভালোভাবে পড়াশোনা করার জন্য,
তুমি চাইলেই সেটার কখনো অপব্যাবহার করতে পারবে না।
-আর নূপুর দিয়েছো কেনো?
> আমি চাই আমি যাকে বিয়ে করবো,তাকে আমি নিজের টাকা দিয়ে নূপুর কিনে দিবো।
.
আর সে নূপুর পড়ে যখন আমার চারপাশে ঘুরবে,তখন নুপুরের ঝূমুর ঝুমূর শব্দে আমার মনে ভালোবাসা ঝেগে উঠবে,নতুন করে বাঁচতে ইচ্ছে করবে।
-কিন্তু আমি তো এখন তোমার বউ না,আর তোমার কাছেও নেই।
> সমস্যা নেই তুমি নূপুর পড়ে যখন হাটবে তখন মনে করবে আমি তোমার চারপাশেই আছি,দেখবে তোমার মনটা খারাপ থাকলেও ভালো হয়ে যাবে।
আর আমিও অনেক শান্তি পাবো।
-শাকিল তুমি আমাকে এতো ভালোবাসো।
> জানিনা, কতটুকু ভালোবাসি,তবে এটা সত্যি আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
.
পাপড়ি শাকিলের মুখে এমন কথা শুনে বলে,শাকিল আমি তোমাকে পেয়ে অনেক সুখি,
যতদিন বেঁচে থাকবো তোমাকে ভালোবেসেই বেঁচে থাকবো।
পাপড়ি আর কিছু বলে না,পাপড়ী
ফোনটা কেঁটে দেই।
ফোন কেঁটে দিয়ে পাপড়ী শাকিলের পাঠানো গিফ্ট গুলো হাতে নিয়ে আবারো ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠে।
শাকিলের ভালোবাসার কাছে তখন নিজের ভালোবাসা তুচ্ছ মনে হয়।
পাপড়ী মনে মনে বলে,আর কোনদিন সে শাকিলকে কষ্ট দিবেনা।
.
এটাই হলো ওদের প্রকৃত ভালোবাসা।
.
পাপড়ী শাকিলের পাঠানো নূপুর আর পড়ে না,নূপুর না পড়ে সেগুলো আলমাড়িতে তুলে রাখে,
কারন পাপড়ীও চাই যেদিন তাদের সরাসরি দেখা হবে সেদিনই পাপড়ী শাকিলের হাত দিয়ে নূপুর পড়িয়ে নেবে নিজের পায়ে।
কারন দুজনের বাড়ির দুরত্ব অনেক,
একজনের বাড়ি,রাজশাহী জেলাই,আর অপরজনের বাড়ি বরিশালে।
শাকিল রাজশাহীতে থাকে,আর পাপড়ী বরিশালে,
কিন্তু নিজেদের বাড়ির দুরত্ব অনেক দুর হলেও তাঁদের ভালোবাসার বন্ধন অটুট।
তাদের ভালোবাসার শক্তি অনেক।
.
.
লিখা :- রাফি (পড়া চোর)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ