গল্পঃ "ফাঁকা চিঠি"
.
ক্যাম্পাসের বড়সড় একটা প্রোগ্রাম শেষ করে সব স্টুডেন্ট হুড়মুড় করে বের হচ্ছি। বের হতেই বুঝতে পারলাম আমার ডান হাতে কিছু রয়েছে। চোখের সামনে নিয়ে আসতেই দেখি আমার হাতে একটা গোলাপ আর একটা সবুজ খাম শোভা পাচ্ছে। কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। এভাবে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলে গোলাপ আর চিঠি হাত থেকে ছোঁ মেরে নিয়ে যেতে ত্যাঁদড় বন্ধুদের সময় লাগবেনা। তাই দ্রুত ফুল এর ডাটা ছিড়ে শুধু ফুলটা আর চিঠিটা পকেটে ঢুকিয়ে নিলাম।
.
এবার ভাবা শুরু করলাম যে কিভাবে আমার হাতে এ জিনিসগুলো আসলো!? কিছুক্ষণ ভেবে বুঝলাম ভিড়ের মাঝে কেউ হাতে ধরিয়ে দিয়েছে কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি। কিন্তু কে দিতে পারে!? ভিড়ের মাঝে আশেপাশে কে ছিলো তাও খেয়াল করতে পারলাম না। ব্যাপারটা গবেষণার।
বন্ধুদের কোনোমতে টাটা বাই বাই বলে বাসায় ফিরলাম।
.
রুমের দরজা জানালা বন্ধ করে পকেট থেকে চিঠি আর ফুল বের করলাম। ফুলের গন্ধ নেওয়ার চেষ্টা করলাম। হার্টবিট বেড়ে গেলো। সবুজ খামটা খুলতেই চিঠি বেড়িয়ে আসলো সাথে গোলাপের কিছু পাপড়ি। আমি হাওয়ায় উড়তে লাগলাম। আমার জীবনের প্রথম প্রেম পত্র! ভাবা যায়? নিজেকে প্রেমিক পুরুষ ভাবা শুরু করলাম। চিঠির প্রতিটা ভাঁজের সাথে সাথে আমার অন্তর বাহির কেঁপে কেঁপে উঠতে লাগলো। চিঠি খুললাম।
পড়া শুরু করলাম।
.
প্রিয় অমি,
................
................
................
ইতি- রিন্তি।
.
চিঠি পড়ে আমি আনন্দে বিহ্বল। যদিও চিঠিতে এই চারটি শব্দ আর ডট ডট ছাড়া কিছুই ছিলোনা। চিঠি লিখার এ কোন স্টাইল! আমার নাম তার নাম আর মাঝখানে ফাঁকা। কিছুক্ষণের মধ্যেই মনের মধ্যে জেগে ওঠা প্রেম আমার রাগে পরিণত হলো।
.
রিন্তির সাথে আমার অনেক ভাল সম্পর্ক, প্রেমে ছুঁই ছুঁই আরকি। কিন্তু অপ্রকাশিত থাকায় মিডিয়া তথা বন্ধুমহলে এ ব্যাপারটা কেউ জানেনা। তবে আমরা জানি, বুঝি যে আমরা দুজন দুজনকে কতটা চাই। তার এমন চিঠির কড়া জবাব না দেওয়া পর্যন্ত শান্তি পাবোনা। তাই সাথে সাথে চিঠি লিখতে শুরু করে দিলাম। সাথে সাথে লিখাও শেষ। সাদা পাতার মাঝখানে শুধু একটা বিন্দু ব্যস, আর কিছু না। চিঠি ভাঁজ করে দুইটা খামের মধ্যে প্যাক করলাম। পরেরদিন রিন্তিকে দিবো।
.
রিন্তির সাথেই প্রথমে দেখা। আমার সাথে কথা বলার জন্য ও ব্যতিব্যস্ত কিন্তু আমি চুপ করে আছি। রিন্তি আমার মন ভুলানো তার হাসির প্রয়োগ করলো। আমি চুপ করে থাকতে পারলাম না।
তার হাতটা আমার হাতে তুলে এনে তাতে চিঠি ধরিয়ে দিলাম। সে আশেপাশে তাকিয়ে টুপ করে ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে নিলো। সে অনেক খুশি বুঝতে পারলাম। আমিও যে কম খুশি তা না। রিন্তি বললো আজ নাকি তার ক্লাস করতে ইচ্ছে করছেনা, আমার সাথে ঘুরবে। বুঝলাম রিন্তির মনের আবহাওয়া ভাল, না করা যাবেনা। ক্যাম্পাসের আশেপাশেই কিছুক্ষণ হাটাহাটি করে বসলাম মুক্তমঞ্চে।
.
পাশাপাশি বসে আছি। এক সময় দুজন দুজনার দিকে তাকিয়ে থাকা শুরু করলাম। চেষ্টা করলাম হাসার, সেও হেসে উঠলো, চাপা হাসি। আমি পাগলপারা হয়ে তার হাসি দেখে রইলাম। হাতের তুড়ি বাজিয়ে রিন্তি বললো
-"অমি শোনো?"
-"বলো।"
-"তুমি অনেক ভাল জানো।"
-"কেনো?"
-"আমি ভাবিনাই যে তুমিও আমাকে চিঠি লিখবা।"
.
আরো অনেক কথাই রিন্তি বলতে লাগলো আর আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম আমার চিঠি খুললেই বুঝতে পারবা আমি কতটা ভাল। রিন্তি একটু গম্ভীরভাবে বলতে লাগলো,
-"অমি তুমি কি জানো আমি কেনো চিঠিতে কিছুই লিখিনি?"
আমি একটু কেশে নিয়ে বললাম,
-"না, কেনো বলোতো?"
.
রিন্তি ছল ছল চোখে আমার হাতটা জড়িয়ে ধরে বলল,
-"আমি তোমাকে কতটা ভালবাসি তা বলে বা লিখে বুঝাতে পারবনা অমি।"
আমি অবাক চোখে জিজ্ঞেস করলাম,
-"তু তু তুমি আমাকে ভালবাসো?"
.
বুঝলাম ভুল প্রশ্ন করে ফেলেছি। রিন্তি আমার হাত ঝটকা মেরে ছুড়ে দিয়ে হন হন করে চলে গেলো। আমি দেখে থাকলাম না, আমিও পন পন করে হাটতে লাগলাম। আর তাকে অভারটেক করে তার পথ আটকালাম। সে এবার রাগ আর কান্না মিক্স করে বলতে লাগলো,
-"মজা করো আমার সাথে? আজকেই ব্রেকাপ তোমার সাথে।"
.
আমি তো খুশিতে দিশেহারা। কিন্তু তাকে দেওয়া চিঠিটাতে কিছু লিখা দরকার ছিলো কেননা ফাঁকা চিঠি পেলে সে আমার বারোটা বাজিয়ে ছাড়বে। রিন্তিত হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলাম আগের জায়গায়। সে গাল ফুলিয়ে আছে। আমি বললাম,
-"চিঠিটা বের করো।"
.
সে তার ব্যাগটা ভাল করে জড়িয়ে ধরে বললো,
-"আমার চিঠি আমি বের করবনা।"
.
অনেক বুঝালাম। বুঝলোও। বললাম,
-" তুমি চোখ বন্ধ করো আর আমি চিঠিটা তোমাকে পড়ে শোনাই।"
.
সে অনেক খুশি হয়ে রাজি হলো। চিঠি বের করে পড়া শুরু করলাম,
.
'আমার রিন্তি,
আমার ফুটন্ত সূর্যমুখী, এক মিনিটের জড়িয়ে ধরা উষ্ণ ভালবাসা দিয়ে শুরু করছি।
তোমাকে কোন উপমা দিয়ে বর্ণনা করবো বুঝতে পারছিনা। সব ভাবনা, সব কথা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। আচ্ছা তোমার সূর্যমুখী হাসির কথা বলা যাক। তুমি হয়তো জানোনা যে তোমার ওই হাসিতে আমার ভাল থাকার সব কয়টা উপাদানই পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। এখন আর আমার মন খারাপ হয়না কেননা তোমার হাসিটা আমার হৃদয়পটে সর্বদা চলমান।
রিন্তি? তুমি আমার শরীরের ধমনী হবে? যে হৃৎপিন্ড থেকে অক্সিজেন যুক্ত রক্ত সমগ্র দেহে পৌছিয়ে দিয়ে আমায় বাঁচিয়ে রাখবে।'
.
আবেগঘন মুহূর্তে আরোও কিছু বলতে যাবো এমন সময় দেখি কয়েকজন বন্ধু আমাদের ঘিরে আছে আর বলছে, - "বলেন আরোও বলেন আমরাও শুনি?"
.
রিন্তির কথা কি বলবো!আমিই লজ্জায় মরি মরি হয়ে গেলাম। রিন্তি চিঠিটা খপ করে নিয়ে কোনোমতে ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখলো।
.
.
বিকেলের দিকে রিন্তির ফোন,
-"অমি, অমি, চিঠি ফাঁকা কেন?"
আমি হাসতে হাসতে বললাম,
-"ফাঁকাই তো থাকবে।"
-"মানে? তুমি যে আমাকে চিঠি পড়ে শুনাইলা?"
-"মনের কথা লাইভ টেলিকাস্ট শুনাইছি গো।"
-"তুমি অনেক খারাপ।"
-"জানি, তাইতো আমায় ভালবাসো।"
-"একদমই বাসিনা।"
-"বাসোনা?"
-"না বাসিনা।"
-"বাসোনা?"
-"বাসি অনেক অনেক ভালবাসি, তোমার কোনো সমস্যা?"
.
নতুন আবদার, তার ফাঁকা চিঠি পূরন করে দিতে হবে। কিন্তু আমি কি কি যে বলেছিলাম তা তো নিজেই ভুলে গেছি।
.
.
.
লিখাঃ আমিম এহসান.
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŦুāϧāĻŦাāϰ, ⧍⧧ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž
4651
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§Ŧ:ā§Šā§ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ