আমার বন্ধুর মোটের উপর তিনটা শ্যালিকা। বউ সহ তার শ্বশুরের মোট চার মেয়ে। জবা, জুঁই, শাপলা, বেলী। আরেকজন অবশ্য কিছুদিনের মধ্যেই পৃথিবীর মুখ দেখবে যার নাম হয়তো শিউলী রাখা হতে পারে।
.
একই অফিসে চাকরী করার সুবাদে আমি আর আমার বন্ধু ছূটিগুলো একই সাথে পাই। আর এই ছুটির সময়টাতে সে তার বউ আর আমাকে নিয়ে প্রায়ই শ্বশুবাড়ি বেড়াতে যায়। আমি আবার অন্যের শ্বশুর বাড়ি গিয়ে জামাই আদরে ব্যাঘাত কেনো ঘটাই এমন প্রশ্ন অনেকেই করে। আমিও উত্তর দেই। পাশাপাশি থাকায় বন্ধু যখন শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার জন্য রেডি হয়, তখন আমায় বলে, "আমু যা রেডি হয়ে নে, চল আমার শ্বশুর বাড়ি, একা একা ছুটি কাটানোর দরকার নেই, ঘুরে আসি, মনটাও ভাল হবে।"
.
আমি "না না থাক" ভুল করেও বলিনা। সাথে সাথে রাজি হয়ে যাই। বিদ্যুৎগতিতে ব্যাগ গুছিয়ে বন্ধুর সাথে বের হয়ে পরি। জবা ভাবি অবশ্য মনে মনে বিরক্ত হলেও কিছু বলতে পারেন না। হাজার হলেও স্বামীর বন্ধু, সুখে দুখে, বিপদে আপদে পাশে থাকে।
.
.
আমার বন্ধুর নাম সিরাজ। আমার চেয়ে বয়সে বড় হলেও আমরা ক্লাসমেট ছিলাম। তখন থেকেই জোরালো বন্ধুত্ব আবার একই জায়গায় চাকরী পাওয়ায় তা আরোও বেশি কিছুতে পরিণত হয়েছে। আর সিরাজ একটু সহজ সরল, মানে আমার থেকেও সহজ সরল।
.
বরাবরের মত গ্রীষ্মের ছুটিতে শ্বশুরবাড়ি থেকে সিরাজের ডাক পরলো। আর সেই ডাক অল্প করে সিরাজ আমাকেও ট্রান্সফার করলো। আমরা রেডি হয়ে নিলাম। ট্রেনে করে যেতে ঘন্টাখানেক লাগবে। ট্রেনে উঠে সিরাজ আমার সাথে গল্প করা শুরু করে দিলো। ঘটনাটা যে অপ্রীতিকর তা জবা ভাবিকে দেখেই বুঝলাম। আমি ভাবিকে সিরাজের পাশে বসতে বলে অন্য অপরিচিত একটা লোকের সাথে গল্প ধরলাম। এই লোক আবার ফলের ব্যবসায়ী, আম লিচু ছাড়া মুখে কিছু কথা নাই। আমি তো খুশিতে আত্নহারা, ভাবতে জিহ্বায় জল ছাড়া কেননা সিরাজের শ্বশুরবাড়ি আম লিচুর কোনো অভাব নেই। আম লিচু খেয়ে আম লিচুই পায়খানা করা যাবে, এমন ফল মূলের প্রাচুর্যতা।
.
.
অতঃপর আমরা সিরাজের শ্বশুরবাড়ি তথা জবা ভাবির বাপের বাড়িতে এসে পৌছলাম। বাড়ির সবাই আমন্ত্রণ জানাতে তাদের ঘিরে ধরলো। আপু, দুলাভাই, জামাই বাবাজি আর জবামা, এই কয়েকটা শব্দের গুঞ্জনে গোটা বাড়ি মুখরিত হয়ে গেলো। আমি দুটো ভারী ব্যাগ হাতে নিয়ে এমন মধুর দৃশ্য দেখতে দেখতে মনে মনে গান বলে উঠলাম, "বাবা আমার কি বিয়ে হবেনা, বাবা আমার কি বিয়ে হবেনা।"
.
মিনিট কয়েক পর আমি সবার দৃষ্টিগোচর হলাম, সবার পক্ষ থেকে সিরাজের ইয়া ভূড়িওয়ালা শ্বশুর আমাকে আমন্ত্রণ জানালেন ভাল মন্দ জিজ্ঞাসা করলেন। সবাই একটু আড়চোখেই আমার দিকে তাকালো, এমন একটা চাহনী সবার যেনো বন্ধুর শ্বশুর বাড়িতে অনুপ্রবেশ করে আমি নিজেকে মন্ত্রী মিনিস্টার ভাবছি।
.
আমি ওসবের তোয়াক্কা করিনা কেননা একটু পর থেকেই সিরাজের বড় শ্যালিকা জুঁই আমার অতিরিক্ত যত্নআত্তি শুরু করে দিবে। জুঁই এবার ইন্টারমিডিয়েট এ পড়ছে। এই বাড়িতে ওই একজন আছে যে আমার একটু ভাল চায়। বাকি দুজন শুধু লজেন্স চায়।
.
এমন কোনোদিন ঘটেনি সিরাজ আমাকে নিয়ে খেতে বসেনি। আজকেও খেতে বসলাম। সিরাজের পেট এসিডে ভরা, তাই খুব একটা খেতে পারেনা। কিন্তু আমার যন্ত্রপাতি ভাল থাকায় খেতে কম করিনা। শ্বশুরবাড়ির লোকজন নিরব দর্শক হয়ে থাকা ছাড়া কিছু বলতেও পারেনা। কেননা এটা একটা ভদ্র ফ্যামিলি আবার খাবার দাবাড়েরও অভাব নেই। শুধু মনে একটাই বিড়ম্বনা জামাইয়ের জন্য স্পেশাল খাবারে ভাগ বসাচ্ছে জামাইয়ের বন্ধু।
.
খাওয়া একটু বেশি হওয়ায় বিছানাতে গা টা এলিয়ে দিতেই ঘুম চলে আসলো। কিছুক্ষণ পর বুঝলাম একটু একটু গরম লাগছে, বিদ্যুৎ চলে গেছে মনে হয়। চোখ খুলতেই দেখি জুঁই হাত পাখা দিয়ে বাতাস করছে। ভূত দেখার মত চমকে গিয়ে বললাম, "জুঁই, তুমি?"
.
জুঁই কিছু বলতে যাবে এমন সময় সিরাজের মেজো শালি শাপলা দরজার আড়াল থেকে বলে উঠলো, "আপু আম্মুকে কিন্তু আমি বলে দিবো... চকলেট দাও নাহলে বলে দিবো.."
.
কান দুটো গরম হয়ে গেলো, পিচ্চি মেয়েটার "বলে দিবো বলে দিবো" কথাটা শুনতে পেলাম "বলি দিবো, বলি দিবো"।
আর তখুনি হিন্দুদের পাঠা বলি দেওয়ার একটা দৃশ্য মনে পরে গেলো। আর এদিকে জুঁইয়ের দৌড়ানিতে শাপলা খেলতে চলে গেলো।
.
জুঁই বলতে লাগলো, "তুমি নাম্বার চ্যাঞ্জ করছো বলোনাই কেনো? দুলাভাইয়ের কাছে তোমার নাম্বার নিতে হয়। আমি তো তোমার সাথে রাগ হয়ে কথাই বলতে চাইনি, কিন্তু না বলে থাকতেও পারিনি।"
.
তার ভাষণ শুনতে শুনতে আমি আবার ঘুমিয়ে পরেছি। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার মাথায় কদুর তেল দেওয়া। এইজন্য ঘুমটা এত আরামের হলো।
বিকেল হতেই সিরাজের খোঁজ নিতে লাগলাম। পাশের এক আত্নীয়ের বাসায় গেছে নাকি এমনটা শুনলাম। এমন সময় দৌড়ে এসে জুঁই বললো, "আম খাবেন?"
আশেপাশে কেউ থাকলে জুঁই আমাকে আপনি করে ডাকে।
আমি বললাম, "যাও কেটে নিয়ে আসো?"
সে বললো, "উহু বাড়িতে না, বাগানে চলেন।"
অগত্যা তার টানা টানিতে বাগানে গেলাম। বড় বড় গাছ বড় বড় আম। জুঁই সাথে একটা আম পারা কোটা নিয়েছিলো। সেটা দিয়েই আম পারতে লাগলো। এই সুযোগে জুঁই এর দিকে আমি একটু তাকালাম। চার বোনের মধ্যে জুঁই ই বেশি সুন্দরী। সিরাজ হয়তো এটা নিয়ে কখনও আফসোস করেনি, কিন্ত সিরাজের জায়গায় আমি হলে এক আধটু আফসোস করেই যেতাম।
.
প্রথম দিকে জুঁই আমার সাথে কথাই বলেনি, কিন্তু পরে যে কি হলো, আমাকে ছাড়া কিছুই বোঝেনা। আর তাই আমিও পেট পূরে খাওয়া আর জুঁই এর জন্য সিরাজকে না করতে পারিনা। তবে হ্যাঁ সিরাজ ব্যাপারটা এক আধটু জানলেও জবা ভাবি ব্যাপারটা ভাল করেই জানে। আমি মোটামুটি ভাল ছেলে হওয়ায় ভাবি কিছু বলেওনা।
.
আমি যে জুঁই এর তাকিয়ে আছি এটা সে বুঝতে পারলো। আমার হাতে আম ধরিয়ে দিয়ে বললো, "কি দেখো?"
আমি আম গাছের উপরে তাকিয়ে বললাম, "আম দেখি।"
.
জুঁই এর শেষ কথাটাতে আমি টাস্কি খেলাম। সে বললো, "এই শোনো, এখন তো ষোলো বছরেই বিয়ে করা যায়, কবে বিয়ে করবা বলোনা।"
আমি কিছু না বলে আরোও কিছু আম পেরে নিয়ে আসলাম। জবা ভাবির হাতে আমের জালি ধরিয়ে দিয়ে বললাম, "কেটে দাও সবাই একসাথে খাবো।"
.
পরের দিন রাতের বেলায় সিরাজের শ্বশুরের সাথে ভাব জমানোর জন্য গল্প শুরু করে দিলাম। ভূড়ির প্রশংসা করলাম। ক্ষেত-খামার, ফার্ম, বাগান, গরু, ছাগল সব কিছু নিয়ে আলোচনা করলাম। কিছু পরামর্শ দিলাম, কিছু পরামর্শ নিলাম।
.
ঘুমানোর আগে দরজাটা লাগাতেই জুঁই হুড়মুড় করে এ ঘরে ঢুকে পরলো। বললো, "পাঁচ মিনিট কথা বলেই চলে যাব।"
আমি রাজি হলাম। সে বলতে লাগলো, "বাসায় বলেছো আমার কথা? কবে বিয়ে করবা..." ইত্যাদি ইত্যাদি কথা।
.
এরই ফাঁকে, আবার সিরাজের মেজো শালি শাপলা চোখ কচলাতে কচলাতে ঘরে ঢুকে বলতে লাগলো, "আপু তুমি কি আজ এখানে ঘুমাবা? আমাকে ঘুম পারাবানা?"
.
আমি হাসি থামাতে পারলাম না শাপলার কথা শুনে। জুঁই রীতিমত ছোঁ মেরে রাগে গজগজ করতে করতে শাপলাকে তার ঘরে ঘুম পারানোর জন্য নিয়ে গেলো।
.
.
আরো দুইদিন কাটিয়ে বাসায় ফিরে আসলাম। অফিস শুরু করলাম। ভাবতে লাগলাম, আগে কিছু টাকা পয়সা জমিয়ে নেই, তারপর না হয় বিয়েটা করবো। আর পাত্রী দেখার ঝামেলাও নেই বন্ধুর শ্যালিকা আমার জন্য তো রেডি। কপালের জোরে ওমন ধনকুবের শ্বশুরও পাওয়া যাবে। আহা! জীবনটা কি মধু ময়!
.
.
গল্পঃ গ্রীষ্মের ছুটি
লিখাঃ আমিম এহসান...
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŦুāϧāĻŦাāϰ, ⧍⧧ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž
4632
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
⧍:ā§Šā§Ļ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ