★১৮★-------অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ --------
...........Sheikh Afran
--আপনি কি দুটো চশমা ব্যবহার করেন?
--না, কেন বলুন তো!
--না আসলে গেইটে ঢোকার সময় দেখলাম কালো একটা চশমা, কিন্তু এখন তো দেখি পুরাই কাচের সচ্ছ একটা গ্লাস,তাই
--আসলে এই চশমা চোখে দিয়ে রুদের মধ্য গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে তার রুপ পরিবর্তন করে,,
--আপনি কি চশমা ছাড়া দেখেন না
--হুম, আপনি কি করে জানলেন
--সব সময় তো চশমা চোখে থাকে, এতে যে কেউ মনে করবে
--ওহ
--আপনার পরিবার
--যদি মনে করেন একা তো একা,
--বুঝলাম না
--এসব না বুঝলে হবে,,,,,,
ভার্সিটিতে সবে মাত্র এসেছি,,,,তখনই আনিকা এসে উপরোক্ত কথা গুলো বলছিল।তবে মেয়েটা কেমন যেন, কখনও বুঝে উঠতে পারিনি।
কেন জানি মনে হয় মেয়েটা আমাকে ভালবাসে, কেননা দুই থেকে তিন মাস ধরে
রোজ আমার খোজ খবর নেয়া,খাওয়া দাওয়া সব কিছু কেমন যেন অধিকার কাটাচ্ছে মনে হয়। কিন্তু আমি
কারো মায়ায় পরতে চাই না। তবুও ভুলবশত আমরা
ব্রামণ হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াই,,, কিন্তু তা ধরার আগেই সকালটা হয়ে যায়, মিলিয়ে যায় চাঁদের অস্থিত।
আমি ফারহান, এবার মাস্টার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র।
পরিবার বলতে শুধু আমি, আবার অনেকেই,,,
আর যার সাথে কথা হল, তিনি হচ্ছেন কোটিপতি বাপের একমাত্র মেয়ে আনিকা।যে আমাকে নিজের থেকে বেশি
ভালবাসে
মেসে নিজের রুমে শুয়ে আছি। কিন্তু শুয়ে থাকলে তো
হবে না, টিওশনি যেতে হবে, কি আর করব চলতে তো হবে একরকম। একটা কিছু করে তো, চালাতে হবে।
এর মাঝে চোখের সমস্যাটা দিন দিন বেড়েই চলছে,
আগে তো চশমা ছাড়াও দেখতাম, কিন্ত আজকাল
চশমা দিয়েই দেখতে হয়, না হলে দেখতে পাইনা।
টিওশনি শেষ করে মেসে চলে এসেছি, মাসের শেষ দিক
হাতে টাকাকড়ি ও তেমন নেই, কি করব কিছুই বুঝতে
পারছি না, এর মাঝে গ্রীষ্মকালীন ছুটি,,
মেসের সবাই নিজ নিজ বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে,
অবশিষ্ট শুধু আমি, যার যাবার জায়গা থাকা সত্ত্বেও
নেই।ভাই গুলা এতটাই নিষ্ঠুর যে আমাকে এখন বুঝা
মনে করে, তারা সংসার নিয়েই ব্যস্ত।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেছি,টিওশনিতে যেতে হবে
কিন্তু আজ তো টিওশনি নেই, মনেই নেই,,,
তখন মোবাইলটা বেজে উঠল (অপরিচিত নাম্বার)
--হ্যালো
--আমি আনিকা, চিনতে পেরেছেন
--হ্যা,নাম্বার কোথায় পেলেন
--চাইলেই সম্ভব
--তাহলে এতদিন চাননি, আজ হঠাৎ
--না ঠিক তা না,
--তাহলে
--একটা আবদার আছে,রাখতে হবে কিন্তু
--যদি আমার সামর্থ্য থাকে
--আজ বিকেলে আপনি আর আমি বেড়াতে যাব
--আমি যাব না।
--কেন?
--এমনি
--সেটা সময় হলেই টের পাবেন
বিকেলে মেসে নিজের রুমে শুয়ে "এক ঝলক কিংবদন্তি
হুমায়ূন আহমেদ""বইটা পড়ছি,
পড়ায় বিঘ্ন ঘটল দরজায় খুব জোড়ে দাক্ষায়, উঠে
গিয়ে দরজা দিয়েছি,,
--আপনি যাবেন না
--না
--(চশমাটা খুলে নিয়েছে)এখন যাবেন
--ব্লাকমেইল করছেন
--যাবেন কি, না এখানে অন্ধের মত বসে থাকবেন
--হ্যা,চলুন
--ধন্যবাদ
এখন আমি আর আনিকা একটা নদীর পাড়ে বসে আছি
--কিছু কথা ছিল
--বলেন
--সবাই ছুটিতে বেড়াতে গেল, কিন্তু আপনি গেলেন না
কেন?
--এমনি
--আপনি কিন্তু মিথ্যা বলছেন
--এসব অনেক লম্বা কাহিনী
--আমাকে বলুন যত লম্বা হউক
--থাক না এসব কথা
--না বলুন
--সত্যি কথা বলতে ভাইয়েরা চায় না আমি যেন বাড়ি যাই,
--কেন
--এখন ওদের সংসার আছে,ছেলে মেয়ে আছে,আর আমি তো ওদের কাছে বুঝা হয়ে গেছি,,,
আপনি কাঁদছেন কেন??আমাকে দেখুন না, আমি কিন্তু কাঁদছি না।
--এত নিষ্ঠুর মানুষ হয়
--বাদ দিন না এসব, দেখুন আপনার মুডটাই নষ্ট করে
দিলাম
--না আমি ঠিক আছি,
--চলুন, এবার উঠি
--আর কিছু সময় বসি
--ঠিক আছে,
সন্ধা বেলা নিজের রুমে বসে আছি, তখন আবার আনিকার ফোন
--হ্যা বলুন
--আপনি মেসে থেকে বের হয়ে আসুন
--কেন
--আরে আসুন না
--আপনি কোথায়
--আপনার মেসের সামনে
--আসছি
মেস থেকে বের হয়ে দেখি আনিকা রিক্সা নিয়ে দাড়িয়ে
আছে,ওর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম
--উঠে পরেন
--এখন আবার কোথায় যাবেন
--ফুচকা খাব
--এখন
--হ্যা
--আমি যাব না
--কি?
--উঠছি
--ধন্যবাদ
আনিকা আমার সাথে এ কয়েকদিন যেভাবে চলছে,যদি
আর দুদিন যায় নির্ঘাত এর মায়ায় পড়ে যাব।কিন্তু আমি
কারো মায়ায় নিজেকে জড়াতে চাইনা।একা আছি,
এটাই যতেস্ট। নিজের অনিশ্চিত জিবনের সাথে আর
কাউকে জড়াতে চাইনা।
ফুচকার দোকানের সামনে বসে আছি --
--মামা,দুই প্লেট ফুচকা দেন
--আপনি কি একাই দু প্লেট খাবেন
--আমি একা খাব কেন?আপনিও খাবেন
--না, আমি খাব না। মামা,এক প্লেন দেন
--তাহলে আমি খাব না
--কেন?
--আপনি না খেলে আমি খাব না
--এই মেয়েদের মন না আমি কখনও বুঝতে পারিনা
--বুঝতে হবে না
ফুচকা খাওয়া শেষ
--আপনি কি মেসে চলে যাবেন
--হ্যা,কেন
--না যদি বাসায় পোঁছে দিতেন
--চলুন
আনিকাকে দেখে মনে হচ্ছে খুশিতে নাচতেছে, কিন্তু পাবলিক জায়গা তাই তার ইচ্ছেটাকে মাটি চাপা দিয়ে
রিক্সায় উঠে পড়ল।
রাস্তায় একটা কথাও বলেনি। আর কখন যে আমার হাতটা ধরেছে ঠিক খেয়াল নেই
--আপনার বাসার সামনে চলে এসেছি
--হ্যা,এত সকাল চলে আসলাম
--না, প্রায় বিশ মিনিট লেগেছে
--ওহ,
--আমি যাই
--ধন্যবাদ
--কেন
--কয়েকটা মুহূর্তের জন্য
--আসি
আনিকার সাথে কাটানো মুহূর্ত গুলো ফ্রেমে বন্ধি করে রাখতে ইচ্ছে করছে,জানি না আর এরকম সময় আসবে কি না।
আজকের সকালটা আনিকার ফোনে উঠতে হল
--আপনি কি আসবেন একটু
--কোথায়
--কালকের জায়গায়
--কেন?
--এত প্রশ্ন করেন কেন?আসতে বলেছি আসবেন কি না!
--আসছি
--ধন্যবাদ
এখন নদীর পাড়ে বসে আছি,পাশে আনিকা মেয়েটা বসে আছে, তবে একটু গম্ভীর ভাবে
--কোন সমস্যা
--সমস্যা না থাকলে কি আর এখানে আজ আসতে হত।
--বলুন কি সমস্যা?
--সমস্যা হল,কাউকে ভালবাসলে, তা না বলার যে যন্ত্রণা তা আমি সহ্য করতে পারছি না।
--মানে
--মানে আমি আপনাকে ভালবাসি
--(নিশ্চুপ)
--কিছু বলছ না যে
--কি বলব
--আমি কিছু বলেছিলাম
--সেটা কখনও সম্ভব নয়
--কেন
--জানি না!!
--কিন্তু কেন
--দেখ আনিকা!আমি কোন দূঃস্বপ্ন দেখতে চাইনা।যা কখনও সম্ভব নয়!আসি!!!!!
পিছু ফিরে আর চেয়ে থাকা হয়নি।থাকালে হয় তো মায়ায় পরে যেতাম,যা আমি কখনও চাইনি।
শুনেছিলাম মধ্যবিত্তের ভালবাসতে নেই,কিন্তু আমি তো
মধ্যবিত্ত নই, নিম্ন শ্রেনীর একজন কেটে খাওয়া মানুষ।
আমার তো ভালবাসাটা চিন্তা করাও উচিৎ নয়,,,
আজকের রাতেই এ চির চেনা শহর ত্যাগ করতে হবে,
একদম পালানোর মত। ব্যাগ গোছগাছ করে রওনা দিয়েছি, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এর দিকে,তবে আশার আগে একটা চিঠি আনিকার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছি
আনিকা,
আমি দুর থেকেই ভালবাসব তোমায়, যার ফলে
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এ কাউকে সঙ্গী করিনি।
অনিশ্চয়তা দুর করতে পারলে আমি আসব আবার ফিরে।
ইতি
ফারহান
বাসের সিটে হেলান দিয়ে বসে আছি, পুরনো অতীথটা
বার বার মনে হচ্ছে।আর বার বার নিজের জিবনের কাছে হেরে যাচ্ছি।কিন্তু আমি তো পরাজয় চাইনি।
সমাপ্তি
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ