(২৭)গল্প:নিঃসঙ্গতার পথযাত্রী
লেখক: Sheikh Ali
রাতের আধারে, ট্রেনের জানালার পাশের সিটে বসে আনমনা ভেবে চলেছি, এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যৎ এর কথা, যার সঙ্গী কেউ নয়। অভিসপ্তের পথ ধরে আমি হেটে চলেছি একা।
সময়ের ব্যবধানে আজ আমি অভিশপ্ত, নিঃসঙ্গ।
অজান্তেই চোখ দুটো মুছে যাত্রা শুরু করলাম অজানার উদ্দেশ্যে, যে যাত্রায় আমি নিঃসঙ্গতার পথযাত্রী।
বার বার অতীথটা মনে পড়ে যায়,
ছোটবেলা থেকেই আমি একটু ভিন্ন ছিলাম, কাজকর্ম
গুলা ছিল ভিন্ন। সবসময় একা থাকতে পছন্দ করতাম,
যার ফলে কলেজ ভার্সিটি, দুজায়গায় কাউকে ভাল বন্ধু বানাতে পারিনি,আর কেউ বন্ধু হতেও চাইনি।
লজ্জা আর ভীতু হওয়ার কারণে প্রেম নামক শব্দের সাথে আমি পরিচিতি না।আর সেই কথাকে উপেক্ষা করে ভার্সিটি ফাইনাল ইয়ারে এসে,কোনো এক রমনী আমার সাথে প্রেম নিবেদন করেছিলেন, যার স্থায়িত্ব ছিল ২৪ ঘন্টা।
সেদিন আমি ভার্সিটি ক্যাম্পাসে বৃক্ষের ছায়াতলে, হাতে
হুমায়ূন আহমেদের "আমার আছে জল" বইটা নিয়ে পড়ছিলাম,তখনই কোথা হতে রমনী এসে হাজির,
--কি করছেন?
--বই পড়ছিলাম
--নাম কি,লেখক কে?
--হুমায়ূন আহমেদের 'আমার আছে জল "
--ওহ, ( খানিকটা নিরবতা)
--কিছু কথা ছিল(রমনী)
--(বই থেকে মুখটা তুললাম) জ্বি বলুন!
--আচ্ছা,আপনি কখন চশমার ফাঁক দিয়ে আড়চোখে
কাউকে দেখেছেন!
--(বই থেকে মুখটা সরিয়ে পাশে থাকা রমনীর দিকে
অবাক চোখে চেয়ে আছি।)
-- কিছু বলছেন না যে?
--না!
--ওহ,আমি আড়চোখে দেখার জন্য আজ একটা চশমা কিনলাম।
--ওহ,
--আমরা তো একই ডিপার্টমেন্টের,পরিচয় তো হতেই পারি,
--আপনি আমাদের ডিপার্টমেন্টের!
--হ্যা,
--আজ প্রথম দেখলাম!
--দেখার জন্য চোখ লাগে!
--তাহলে,বলছেন আমি অন্ধ।
--ঠিক তা না,আপনি হলেন চোখ থাকিতে অন্ধ।
--খারাপ বলেননি।
--ব্যাগে কি অতিরিক্ত বই আছে?
--পাঁচ ছয়টার মত আছে।
--এটা ব্যাগ,না লাইব্রেরী!
--না আসলে বেশি বই পড়ি তো!
--আমাকে একটা দেন?
--আচ্ছা,আপনি কি "দুরের নীলা কাছের নীলিমা " বইটা
পড়েছেন?
--না, লেখকের নাম?
--মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, এটাই পড়েন, অনক ভাল বই!
--দেন তাহলে,
--এই নেন (বইটা এগিয়ে দিয়ে)
দুজনেই বইয়ের মধ্যে মগ্ন হলাম।
--আসলাম প্রপোজ করতে, আর এসে বই পড়ছি!
--কিছু বললেন।
--না,কিছু বলিনি,
--ওহ,আমি মনে করেছি,আপনি কিছু বলেছেন?
--না,আমি কিছু বলিনি।
--ওহ, উঠি তাহলে!
--বই!
--ওটা পড়া শেষ হলেই নেব,আসি।
--আচ্ছা।
ভার্সিটি থেকে মেসে ফিরে এসে এক কাপ কফি বানিয়ে
চলে গেলাম ছোট বারান্দার মধ্যে। তখনই পাশের টেবিলে থাকা ফোনটা তর্জনগর্জন শুরু করে দিল।
ফোনটা হাতে নিয়ে ৬ ইঞ্চি লম্বা পর্দার দিকে থাকালাম,
একটা অপরিচিত নাম্বার,
--হ্যালো, কে বলছেন?
--আমি(কোনো এক রমনীর কন্ঠ)
--আমি আবার কে?
--আমি আনিকা!
--ওহ,
--নাম্বার কোথায় পেলাম জিজ্ঞাস করলেন না তো।
--সহজ প্রশ্ন, উত্তরটা সহজ হবে,
--আপনি কি এখন ব্যস্ত।
--ব্যস্ত, আবার ব্যস্ত না।
--ঠিক বুঝলাম না?
--একটা টিওশনি আছে,সেখানে যেতে হবে, তাই বললাম।
--আপনি টিওশনিও করান?
--হ্যা,বলতে পারেন আয়ের একমাত্র উৎস এটা।
--তাহলে,পড়ালেখার খরচ?
--ব্যাংকে মায়ের কিছু টাকা ছিল আমার নামে, সেটা দিয়েই কোনো মত চলে এসেছি।
--আপনার মায়ের প্রয়োজন হয়নি!
--তার আগেই আমাকে নিঃসঙ্গ করে চলে গেছেন!
--দূঃখিত !
--দূঃখিত হওয়ার কিছু নেই, পরে কথা বলি।
ফোনটা কেটে দিয়ে পাশা থাকা চৌকিতে বসে পড়লাম,
চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসছে,
চোখ মুখ মুছে বেরিয়ে পড়লাম, টিওশনি যেতে হবে।
টিওশন থেকে ফিরে আসতে প্রায় রাত হয়ে গেছে,
মেসে এসেই নীল কালো জগতে প্রবেশ,তখনই আনিকার ফোন।
--মেসে এসে গেছেন?
--হ্যা, এইমাত্র আসলাম
--কি করছেন।
--কিছু না, সবেমাত্র যান্ত্রিকতার শহরে প্রবেশ।
--ওহ,আইডির নাম কি?
--জানি না,
--জানেন না,না বলবেন না।
--জানি না।
--বলতে হবে না, আপনার আইডির নাম!
--আশ্চর্য, আমার আইডির নাম জানি না!
--অ্যাঁ, এটা কেমন !
--জানি না!
--আপনার কথা কিছু বুঝি না!কাল আসছেন
--হুম আসব, এখন রাখি।
ফোনটা কেটে দিয়ে নিদ্রালস হয়ে পড়লাম।
সকালবেলা ঘুম ভাঙ্গল এর্লামের শব্দে, ঘুম থেকে উঠে, নাস্তা করে,চলে গেলাম ভার্সিটিতে।
ক্লাসে ঢুকতে যাব, তখনই পিছন থেকে আনিকার ডাক,
--এই যে, মি. জানি না!
--ক্লাস করবেন না?
--না!
--তাহলে আমি করে আসছি।
--না, আজ আপনি আমি কেউই ক্লাস করব না।
--কিন্তু,আমি করব।
--করবেব না, বলেই হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে এল
বৃক্ষের ছায়াতলে।
--এখানে আসলেন কেন?
--আপনার সাথে কিছু কথা আছে,
--বলুন,
--আমি আপনাকে ভালবাসি!
--অ্যাঁ,
--উত্তর, হ্যা বা না।
--জানি না!
--আপনাকে জানতে হবে!
--জানি নার মধ্যেই কিন্তু আপনার উত্তরটা লুকিয়ে আছে!
--কাব্যিকতা ছাড়ুন, আর বলুন?
--ভালবাসি!!তবে আমি যে কখনও কাউকে প্রপোজ করতে পারব না , তা আমি জানি। কিন্তু কোনো মেয়ে আমাকে প্রপোজ করবে তা আমার কল্পনার বাহিরে।
--হুম, এখন চলুন
--কোথায়?
--আজ সারাটা দিন আপনার সাথে ঘুরব।
--চলুন, তাহলে!
রাতে শুয়ে আজকে আনিকার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা
গুলা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। আর অজান্তেই মুখ দিয়ে
হাসি বের হচ্ছিল, তখনই আনিকার ফোন
--কেমন আছেন?
--ভাল(হতাশার নিশ্বাস)
--কোনো সমস্যা!
--কালকে দেখা করতে পারবেন?
--ভার্সিটিতে তো আসলে দেখাই হবে।
--না,কাল অন্য কোথাও দেখা করব।,আমি ঠিকানা লিখে দিচ্ছি।
--আচ্ছা।
--হঠাৎ করে অন্য কোথাও দেখা করতে বলল কেন।
সেই ভাবনাতেই নিদ্রারত হয়ে পড়লাম।
সকালে ঘুম থেকে উঠে, ফ্রেশ হয়ে, নাস্তা করে বেরিয়ে
পড়লাম আনিকার সাথে দেখা করার জন্য,
ঠিকানা মত এসে দেখি সেই জায়গায় আনিকা দাড়িয়ে আছে,
--কি বেপার?
--নাহ!
--কোনো সমস্যা,
--আমার বিয়ে!
--অ্যাঁ, মাথায় বিয়ের ভুত চাপল কখন?
--বিয়ের কার্ড! (কার্ড এগিয়ে দিয়ে)
--এসব হল কি করে?
--অনেক আগে থেকেই ঠিক ছিল। কাল, হঠাৎ করেই বাবা সব কিছু করে ফেললেন,
--ওহ,এখন কি করবে?
--সেটা তো তোমার উপর!!
--আমার করার মত কিছু নেই
--তাহলে
--বিয়ে করে নেন!
--তুমি বলছ
--হ্যা,ভাল থেক, আসি।
ট্রেনের শব্দ দূষণে ভাবনার অকাল মৃত্যু ঘটল!
চোখ দুটো মুছে বেরিয়ে পড়লাম অজানার উদ্দেশ্যে!
নিঃসঙ্গতার পথযাত্রী হয়ে
ছুটে চলেছি একা,
কেউ নয় আমার সঙ্গী হয়ে
থাকতে হবে একা!!
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ