(৩১)গল্প: অতঃপর আমরা!
লেখক:শেখ আফরান
দশম শ্রেণীর প্রথম পাঠদান আজ, তাই নিজকে খুব পরিপাটি করে সাজিয়ে ছুটে চললাম স্কুলের দিকে।
ক্লাসরুমের দরজা দিয়ে ঢোকার সময় আচমকা কোনো
বস্তুর সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেত হল।যার কারণে ব্যাথা
পেয়েছিলাম অনেক। অনেকটা ক্ষুধ আর রাগ নিয়ে যেই ধাক্কাকৃত বস্তুর দিকে কথা ছুড়ে মারব, ওমনি তার শ্যামল মায়াকৃত মুখটা আমার সামনে ভেসে উঠল।
রাগ আর ক্ষুধের পরিমানটা তার শীতল মায়াকান্ত মুখের দিকে চেয়ে নিমিশেই আগুন থেকে ঠান্ডায় পরিনত হয়েছিল।ছোট করে একটা সরি বলেই চলে গিয়েছিল তার গন্তব্যে।
কিন্তু আমি তার মায়া জালে আটকা পড়ে ছিলাম। কেননা সে ছিল আমার মনের মাঝে টং করে ঘন্টা বাজানোর প্রথম কোন রমনী।
শ্রেণীকক্ষে মনযোগ হতে পারিনি,বারবার চেয়ে ছিলাম
সেই শ্যামল মায়াকৃত মুখের দিকে।
শ্রেণীকক্ষ থেকে বের হয়েই,সেই রমনী সম্পর্কে সব
খবর জেনে নিয়ে ছিলাম।নাম অনামিকা, ধনীর দুলালীর একমাত্র অর্জন তিনি।
সেই ধাক্কা থেকেই ভাললাগা,আর ভাললাগা থেকেই ভালবাসার জন্ম।
ক্লাসের ভাল ছাত্র ছিলাম আমি,যার কারণে অনামিকা সবসময় শিক্ষকের দেয়া বাড়ির কাজ গুলা আমাকে দিয়ে করা তো।আর আমি বাধ্য ছেলের মত করে দিতাম।পরিক্ষার হলে খাতায় লিখে পর্যন্ত দিয়েছিলাম।কিন্তু এটা কখনও বলতে পারিনি, যে আমি থাকে ভালবাসি।
কেউ একজন বলেছিল দূর থেকে ভালবাসাটা পবিত্র হয়, তাই দূর থেকেই ভালবেসে ছিলাম। কিন্তু আর কত!
সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে আমি বলতে চেয়েছিলাম থাকে,যা বলার জন্য ব্যবহার করে ছিলাম প্রাচীন যুগের চিঠি পদ্ধতি।
এই কথাটা বলতে আমি যতটা কঠিনত্ব বোধ করেছিলাম,উত্তরটা তার থেকেও কঠিন ছিল।যা শুনে
পরের একমাস আমি স্কুলে যাইনি।
আমি অনেকটা পরিমানে ভেঙ্গে গিয়েছিলাম সেসময়।
কেননা তাকে আমি সত্যি ভালবেসে ফেলেছিলাম।
তার মায়া জালে আটকা পড়েছিলাম।
প্রতিরাতেই থাকে ভেবে অশ্রু জড়াতাম, বুকের বাম পাশটায় চিনচিন ব্যাথা অনুভব করতে পারতাম।
আর সেই থেকেই নিজেক একাকিত্ত করে
রেখেছিলাম, কখনও সঙ্গ চাইতাম না।নিজেকে অভিশপ্ত মনে করতাম, কিন্তু তবুও আমি খারাপ পথ ব্যবহার করিনি।
একমাস পরের কথা -
আজ একমাস পর স্কুলে যাচ্ছি।নিজেকে কিছুটা হলেও শক্ত করতে পেরেছি।
স্কুলে ঢোকার সাথে সাথেই কোন এক বন্ধুর আগমন।
--কি রে এতদিন পর?
--হ্যা, তোদের কি খবর?
--এই তো আছি।
--চল,
--অনামিকার বেপারে কিছু জানিস?
--না,কেন কি হয়েছে?
--শুনলাম কোন এক হিন্দু ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে আছে।
--কি?
--হ্যা,
অনামিকার বেপারে এসব শুনে আর এক মুহূর্ত স্কুলে থাকিনি।বাসায় চলে এসেছি।
--কি রে এতদিন পর স্কুলে গেলি,আর এত সকাল চলে আসলি কেন?
--ভাললাগছে না।
--কোন সমস্যা
--না মা,ঠিক আছি।
--তাহলে চলে আসলি যে?
--এমনি।
আজ একমাস পর স্কুলে যাচ্ছি।নিজেকে কিছুটা হলেও শক্ত করতে পেরেছি।
স্কুলে ঢোকার সাথে সাথেই কোন এক বন্ধুর আগমন।
--কি রে এতদিন পর?
--হ্যা, তোদের কি খবর?
--এই তো আছি।
--চল,
--অনামিকার বেপারে কিছু জানিস?
--না,কেন কি হয়েছে?
--শুনলাম কোন এক হিন্দু ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে আছে।
--কি?
--হ্যা,
অনামিকার বেপারে এসব শুনে আর এক মুহূর্ত স্কুলে থাকিনি।বাসায় চলে এসেছি।
--কি রে এতদিন পর স্কুলে গেলি,আর এত সকাল চলে আসলি কেন?
--ভাললাগছে না।
--কোন সমস্যা
--না মা,ঠিক আছি।
--তাহলে চলে আসলি যে?
--এমনি।
নিজের রুমে শুয়ে আছি। সবকিছু কেমন যেন অগোছালো হয়ে গেল।একটা হিন্দু ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়াল কিভাবে নিজেকে।
পরেরদিন স্কুলে গিয়েই অনামিকার সামনে হাজির হলাম,
--যা শুনলাম, তা কি সত্য,
--হ্যা।
--আমাকে ভালবাসনি সেটা ঠিক আছে,তাই বলে হিন্দু ছেলের সাথে সম্পর্ক।
--জিবনটা আমার, তাই জিবনের সব সিদ্ধান্ত আমার
পারলে নিজের ছড়কায় তেল দেন।
--এটা কিন্তু কখনও সম্ভব নয়।
--উপদেশ অন্য কাউকে দেন যান।
আর সামনে যাইনি।নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলাম। সব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে মনযোগ দিয়েছিলাম পড়াশুনায়।কিন্তু একা থাকলেই মনে পড়ে
সেই কয়েকদিনের অতীথকে।যা আমাকে শেষ করে
দিয়েছিল।
এস এস সি পরিক্ষা শুরু হওয়ার আগে শুনেছিলাম
ওই ছেলের সাথে সম্পর্কের ইতি টেনে ছিল অনামিকা।
যা শুনে অনেকটা খুশি হয়েছিলাম।কিন্তু পরক্ষণে
দুঃখ পেয়েছিলাম অনামিকার কথা ভেবে।
শুনেছিলাম ওই ছেলের সাথে সম্পর্কের ইতি টানার পর অনামিকা অনেকটা ভেঙ্গে গিয়েছিল।নিজে খারাপ রাস্তার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
সেই রাস্তা থেকে ফিরাইতে ওর বান্ধবীর সাহায্য নিয়ে,
ওকে অনেক বুঝিয়ে ছিলাম।
যার ফলে অনেকটা সাভাবিক হয়ে গিয়েছিল।
এরপর ও ব্যস্ত হয়ে গেল পড়াশুনা নিয়ে, সেই সাথে আমিও।তবে প্রায়ই থাকে আড়াল থেকে দেখতাম।
এস এস সি পরিক্ষায় ভাল রিজাল্টে পাস করে ছিলাম।
কিন্তু শুনেছিলাম অনামিকা কোন মত পাস করেছিল।
এরপর আমি ভর্তি হলাম কলেজে ব্যবসায় বিভাগ হতে,
পরে অনামিকা ভর্তি হয়েছিল একি কলেজে মানবিক শাখায়।তারপর যখন যেখানে হত দেখা তখনই হত কথা।যা ওর প্রেমে দ্বিতীয় বার পরার ইঙ্গিত পাচ্ছিলাম।
কিন্তু এবার সাহসটা করতে পারিনি, এমনিতেই একটা বছর নিজের কাছ থেকে হারিয়ে ফেলেছি। তাই এখন
সে স্বপ্ন দেখা উচিৎ নয়।
শেষমেশ ওই প্রেম নিবেদনটা করেছিল।কিন্তু ততক্ষণে
আমি নিজেকে পুরোপুরি নতুন ভাবে তৈরি করেছি।
সেদিন কলেজ থেকে ফিরার পথে,
অনামিকার আগমন আমার সামনে।
--কেমন আছ?
--ভাল,তুমি।
--আছি ভাল।
--কি বেপার, কোন সমস্যা!
--না,কিছু কথা রয়েছে বলা বাকি।
--বলুন,
--সম্পর্কটা কি নতুন করে শুরু করা যায় না।
--না।
--কেন?
--এখন আর আমি স্বপ্ন দেখি না।
--কেন?
--স্বপ্নের জগত হারিয়ে ফেলেছি!
--খোজে দেই
--তা কখনও, সম্ভব নহে।
--সেটা আমি সম্ভব করব।
--লাভ নেই
চলে এসেছি,
এখানে আর এক মুহূর্ত থাকলে নির্ঘাত এর মায়ায় পড়ে যেতাম। কিন্তু ওর প্রপোজালটা পেয়ে আজ কেমন যেন খুশি খুশি লাগছিল।
বাসায় ডোকতেই বাবার কথোপকথন
--কি পুত্র, আজ এত খুশি কেন?
--এমনি,
--কোন রমনীর খোজ পেয়েছ না কি?
--হ্যা, না না কি বল।
--ভাব সাব তো মোটেও সুবিধার নয়।
--কি?
--সাবধান,
বিকেলে বাসার ছাদে, গিটার হাতে দাঁড়িয়ে আছি,
তখনই দূরবাস যন্ত্রের তর্জনগর্জন।
--হ্যালো
--কেমন আছেন?
--কে আপনি?
--সেটা তো একমাস ধরেই বলছেন,
--তা আমাকে জ্বালাচ্ছেন কেন।
--ভালবাসি!!
--সেটা শুনতে শুনতে আমি অসহ্য, আর আমার কান বিরক্ত।
--তা গিটার হাতে দাঁড়িয়ে আছেন,কেন?গিটার বাজাবেন না।
--সেটা আমার ইচ্ছে,
--বিয়েটা আমার ইচ্ছেতেই হবে,
--রাখেন তো।
ফোনটা কেটে ছাদ থেকে নেমে গেলাম।মনে হচ্ছে এ মেয়েটা আশেপাশেই আছে।কিন্তু কে এই মেয়ে,একমাস
ধরে জ্বালিয়েই যাচ্ছে।
রুমে ডোকতেই মা বাবার আগমন,
--আমি বলেছিলাম,তর ভাব সাব মোটেও সুবিধার নয়।
(বাবা)
--কেন, আমি আবার কি করলাম,
--তাহলে এই মেয়ে কে?(বাবা)
--কোন মেয়ে?
--ওই যে রান্না ঘরে,যে তর বউ দাবি করতেছে?
--কি?
--হ্যা,
--বিয়েই করলাম না আর বউ,
--তাহলে আমি কে(রমনী)
চেয়ে ৪৪০ ভোল্টের একটা শক খেলাম,
--অনামিকা তুতুতুমি,
--তুই তাহলে ছিনিস(মা)
--হ্যা,আমরা একসাথে পড়ি,
--মা, আমি ওকে ভালবাসি, কিন্তু ও আমাকে ভালবাসে না।।
--কেন?
--একসময় ও আমাকে ভালবাসত,কিন্তু আমি বাসতাম না, এখন আমি ভালবাসি ও বাসে না।
--প্রেম পরে,এখন বিয়ে(বাবা)
--এখন নয়,ঠিক ছয় বছর পর,(মা)
--হুম,যাও প্রেম কর গিয়ে।
--বলেছিলাম না বিয়েটা আমার ইচ্ছেতেই।(অনামিকা)
--তুমিই সেই,(আমি)
এর ঠিক ছয় বছর পর অনামিকার সাথে,পারিবারিক ভাবেই বিয়েটা সম্পূর্ণ হয়েছিল।
আজ আমাদের দ্বিতীয় বিবাহ বাৎসরিক।
আজ আর দুজন নেই তিনজনে পরিনত হয়েছি।
ভালই চলছে আমার আর ওর টুনটুনির সংসার।
অতঃপর আমরা।
(ইহা একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ