āĻļāύিāĻŦাāϰ, ā§§ā§Ŧ āĻĄিāϏেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

3859

বাসে উঠে নিজের সিটে গিয়ে
বসলাম। কিছুক্ষনের মধ্যেই বাস ছেড়ে
দিবে। মনের মধ্যে একটা চাপা
উত্তেজনা আর আনন্দ বিরাজ করছে। আজ
এত বছর পর নিজের গ্রামে যাচ্ছি
উত্তেজনা থাকার ই কথা। সেই যে বিশ
বৎসর আগে বাবা মায়ের হাত ধরে
শহরমুখি হয়েছি এরপর আর গ্রামে
যাওয়ার সুযোগ পাই নি। পড়াশোনা
চাকরি-বাকরি সংসার নিয়ে ব্যাস্ত।
বাবা অবশ্য দুবার বলেছিলেন গ্রামের
বাড়িটা দেখে আসতে কিন্তু সময়ের
অভাব আর নানা ব্যাস্ততায় তখন আর
বাবার কথায় কর্নপাত করি নি। আজ আর
বাবা বেঁচে নেই, মা ও বেঁচে নেই।
দুবছরের ব্যবধানে দুজনই পরলোকে পাড়ি
জমিয়েছে। গতপরশুদিন হঠাৎ স্বপ্নে
দেখলাম গ্রামে কাটানো শৈশবের
দিন গুলো। এরপর থেকেই কেমন যেন
অস্হির অস্হির লাগতো। তাই আর এতকিছু
না ভেবে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে
গ্রামের পথে রওনা হলাম। এতক্ষনে
গাড়িটা ছেড়ে দিয়েছে।রাস্তা
ঘাট দোকান পাট পেছনে ফেলে
গাড়ি চলতে লাগলো, আর সেই সাথে
পুরোনো স্মৃতি গুলো মাথাচাড়া
দিয়ে উঠতে লাগলো। মনে পরতে
লাগলো সুবল, আবির, আর গোপাল দের
সাথে কাটানো মধুর দিন গুলো।
জানিনা আজ ওরা কেমন আছে। এখনো
গ্রামে আছে..? আমার কথা ওদের মনে
আছে কী না তা ও জানি না। সেই
ছোট বেলায় খেলেছি ওদের সাথে,
আর আজ বয়স প্রায় পঁয়ত্রিশ এর
কাছাকাছি। মনে পড়ে যেদিন আমি
গ্রাম থেকে শহরে চলে আসবো সেদিন
ওরা সবাই এসেছিলো আমাকে বিদায়
দিতে। সেদিন সবাই মুখ গোমরা করে
এসেছিলো। সুবল তো কেঁদেই
দিয়েছিলো। অথছ আসার দুদিন আগেও
আমি ছিলাম শহরে আসার জন্য উৎসাহি।
সেদিন কেউই ভাবি নি যে ওদের
সাথে বিশ বৎসরের ইতি ঘটতে
যাচ্ছিলো। এসব ভাবতে ভাবতে চোখ
দুটো বুঁজে এলো।
,
ঘুম ভাঙ্গলো মহিপাল এসে। বাসের
যাত্রা আপাতত শেষ। বাস থেকে
নেমে পরলাম। বাস থেকে নেমে তো
চক্ষু চড়কগাছ। ছোটবেলায় কি একটা
দরকারে বাবার সাথে এ জায়গায়
এসেছিলাম। কিন্তু সেই মহিপাল এখন
আর নেই। অনেক বদলে গেছে, বিশাল
ফ্লাইওভার, বড় বড় বিল্ডিং। অবশ্য বদলে
যাওয়াটাই স্বাভাবিক। আমিও কি
এখনো সেই ছোট্ট নয়ন-ই আছি..? গ্রামে
যাওয়ার জন্য একটা সি এন জি নিয়ে
নিলাম। এখান থেকে আর অল্প
কিছুক্ষনের পথ। সি এন জি চলতে
লাগলো। কেমন জানি একটা পরিচিত
পরিচিত ঘ্রান নাকে আসতে লাগলো,
আর পুরোনে স্মৃতিগুলো চোখের
সামনে স্পষ্ট হতে লাগলো। মহাসড়ক
থেকে গ্রাম্য সড়কে ঢুকতেই গ্রামের
বাজারটা চোখে পরতে লাগলো।
ভাবলাম হেঁটেই যাই গ্রামটা দেখা
হবে আর বাড়ি ও বেশি দূরে না।
বাজার টার ও বেশ পরিবর্তন হয়েছে।
মনে পড়ে বাবার সাথে হাঁটে
আসতাম। বৃহস্পতি ও রবিবার হাঁট বসতো।
তখন এত দোকান আর মার্কেট গুলো
ছিলো না। রাস্তা ধরে হাঁটতে
লাগলাম। ফসলিজমি কমে গেছে, আর
সেই জমিগুলোর স্হান দখল করেছে
বাড়িঘর। হাঁটতে হাঁটতে বাড়ির
সামনে এসে দাঁড়ালাম। হৃদয়টা যেন
শান্ত হলো। কিন্তু বাড়ির উঠোনটা খুব
পরিষ্কার। মনে হচ্ছে আজকেও কেউ
ঝাড়ু দিয়েছে। আরেকটু ভেতরে
যেতেই বাড়ির পাশে একটা কুঁড়েঘর
দেখতে পেলাম। কিন্তু এখানে তো
কুঁড়েঘর থাকার কথা নয়। ঠিক তখন লাঠি
ভর দিয়ে এক এক সাদা কাপড়
পরিহিতা এক বুড়ি বের হলো। আমার
দিকে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলো,,,
তুমি কে বাছা..? এখানে কেন এসেছ..?
- আমি নয়ন। এটাতো আমার বাড়ি
বুড়িমা।
কথাটা বলার সাথে সাথে বুড়ির মনটা
যেন খারাপ হয়ে গেল।
-- ও,, আমি এখানে অনেক দিন ধরে
থাকি বাবা। থাকার কোনো জায়গা
নাই। আমাকে এখান থেকে তাড়িয়ে
দিওনা বাবা।
বুড়িটার এমন কাকুতি শুনে নিজের
কাছে খারাপ লেগে উঠলো।
- না না বুড়ি মা। তাড়াবো না তুমি
এখানেই থাকো।
কথাটা শোনার সাথে সাথে বুড়ির
মুখটা যেন উজ্বল হয়ে উঠলো।
-- ভগবান তোমার ভালো করুক বাছা,
ভগবান তোমার ভালো করুক।
আমি গিয়ে ঘরের চারপাশে দেখতে
লাগলাম। ঘরের দেওয়ালের রং গুলো
খসে খসে পড়ে গেছে। পেছনের
গাছগুলোর দুটো কে যেন কেটে নিয়ে
গেছে। বড় বড় আমগাছ গুলো এখনো
আছে। খুব মিষ্টি আম ধরতো
গাছগুলোতে। একটা পুকুর আর কিছু ধানি
জমি আছে ওগুলো তখন বাবা আবিরের
বাবাকে দেখাশোনার জন্য দিয়ে
গিয়েছিলো। ওদের সাথে দেখা করা
দরকার। আবিরদের বাড়িতে যাওয়ার
জন্য পা বাড়ালাম ঠিক তখনই একটা
প্লাস্টিকের গ্লাসে জল নিয়ে লাঠি
ভর দিয়ে বুড়ি এলো।
- নাও বাছা জল টুকু খেয়ে নাও। অনেক
দূর থেকে এসেছ। শুনেছি সেই ঢাকা
থাকো।
আমি বুড়ির দরদ দেখে অভিভূত হলাম।
বুড়ি মার হাত থেকে গ্লাস টা নিয়ে
জল টুকু খেয়ে নিলাম।
- হ্যাঁ রে বাছা,, তোমার বাবা মা
ভালো আছে তো..?
" না গো বুড়িমা ওরা আর বেঁচে নেই।
- ও,,ঈশ্বর ওনাদের স্বর্গবাসী করুক।
কোথায় যাও এখন..?
" শ্রীদাম কাকার বাড়ি থেকে একটু
ঘুরে আসি।
- আচ্ছা যাও।
কেন জানি বুড়ির প্রতি একটা মায়া
বসে গেল। এ ধরনের সরল মনের মানুষদের
উপর মায়া বসাটা স্বাভাবিক।
,
আবিরদের বাড়িতে যাওয়ার পথেই
দূর্গা মন্দির টা চোখে পড়লো।
মন্দিরটা আগে থেকে খুব সুন্দর হয়েছে।
ধুমধাম করে দূর্গাপূজা হতো। আরতী
প্রতিযোগীতা হতো। কত মজা করতাম
পূজোর সময়।
আবিরদের বাড়িটা এখনো আগেরমতই
আছে, শুধু দোচালা টিনের ঘরের বদল
ছাঁদওলা পাকা বাড়ি হয়েছে।
শ্রীদাম কাকা বলে ডাকতেই কেউ
একজন ঘরথেকে বেরিয়ে এলো। আবির
কে চিনতে কষ্ট হলো না আমার। কিন্তু
ও বার বার জিজ্ঞেস করেই
যাচ্ছিলো,, কে আপনি..? কাকে চাই..?
- এত তাড়াতাড়ি ভূলে গেলি আমায়..?
সাথে সাথে ও এসে আমাকে জড়িয়ে
ধরলো।
-- এত দিন পর মনে পড়লো আমায়..?
যাওয়ার পর তো আর একদিন ও খবর নিলি
না। তুই তো ভূলে গেছিস।
- কেমন আছিস..? সুবল, গোপাল এরা
কেমন আছে..??
-- ভালো আছি, সুবল ও ভালো আছে।
কিন্তু গোপাল আর বেঁচে নেই রে। তিন
বছর আগে এক্সিডেন্টে মারা গেছে।
গোপালের কথা শুনে খুব খারাপ
লাগলো। একসময় কত খেলা করেছি।
নদীতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরেছি। ঠিক
এই সময় কাকীমা ঘর থেকে বেরিয়ে
এল। কাকীমাকে গিয়ে প্রনাম করলাম।
কাকীমা এখনো আমাকে চিনতে
পারে নি। তাই আবিরের দিকে
জিজ্ঞাসুদৃষ্টিতে তাকালো।
- ও আমাদের নয়ন গো মা,,অমল জেঠ্যুর
ছেলে।
সাথে সাথে কাকীমা আমাকে
জড়িয়ে ধরলেন।
- এতদিন পর বাপের ভিটেতে ফিরলি
রে বাবা..? পূজো পার্বনে তোর কথা
কত মনে পরতো..? তোর বাবা মা
ভালো আছেন তো..??
- না কাকীমা, বাবা মা গত হয়েছেন।
কথাতা শুনে কাকীমার দুচোখে জল
জমে উঠলো। ওঠারই কথা, তখন মায়ের
সাথে গলায় গলায় ভাব ছিলো
কাকীমার।
- হ্যাঁরে,, তোর বৌ আসেনি...?? ছেলে
পুলে হয়েছে..??
- হ্যাঁ গো,,,তোমাদের একটা নাতী
আছে। পাঁচবছর হলো।
- নিয়ে আসতে পারলি না,,.?
-- সে আনবো একসময়। আসলে কাকীমা
দুটো খেতে দিবে..?? খুব ক্ষিদে
পেয়েছে যে..??
- সে কী..? আয় আয়,,তারাতারি হাতমুখ
ধূয়ে নে,,আমি খাবার আনছি।
,
আবীরের বাড়ি খাওয়া দাওয়া সেরে
আবির কে নিয়ে বের হলাম, সাথে সুবল
কে ও ডেকে নিলাম। সেই আগের মত
সবাই হাসি তামাসায় মেতে উঠলাম।
শুধু গোপাল টা নেই। ও থাকলে আরো
মজা হতো।
,
বিকেল বেলা বাড়িতে এলাম।
সাথে আবির ও সুবল ও এলো।
- হ্যাঁ রে বাছা,, কোথায়
গিয়েছিলি..? দুপুরে আসলি না যে..?
তোর জন্য ভাত নিয়ে বসে ছিলেম যে।
বুড়িমা খুব উদ্বেগ দিয়ে কথাটা
বল্লেন।
-- ভাত তো আমি খেয়ে নিয়েছি বুড়ি
মা।
- ও,,খেয়েছিস,, আমি আরো তোর জন্য
না খেয়ে বসে আছি।
বুড়িমার কথাটা শুনে নিজেকে কেমন
অপরাধী অপরাধী মনে হতে লাগলো।
একটা বৃদ্ধ মানুষ আমার জন্য না খেয়ে
বসে আছে। আমি ভাবতেই পারি নি
যে বুড়িমা আমার জন্য এতটা ভাবে।
আমার ও কেমন জানি বুড়িমার প্রতি
গভীর শ্রদ্ধা আর মায়া জন্মাতে
লাগলো। জানিনা ক্ষনিকের পরিচয়ে
কেন এমন হচ্ছে,,!
- তুমি খেয়ে নাও বুড়ি মা। আমি
রাতে তোমার সাথেই খাবো।
বুড়িমা লাঠিতে ভর করে নিজের
কুঁড়েঘরে চলে গেল।
-- বুঝলি আবির,, এ ধরনের মানুষ গুলো আজ
বিলুপ্ত।
- হুম,,রে,,,বুড়ি টা খুব সরল মনের মানুষ।
ওনাকে সারা গ্রামের মানুষই
ভালোবাসে।
,
আবিরদের কাছ থেকে ঘরের চাবিটা
নিয়ে তালাটা খুল্লাম। মাক্রসার
বাসায় ঘরটা একদম ভর্তি। ভাগ্যিস
প্রতিবছর সংক্রান্তির আগে আবির রা
ঘরটা পরিষ্কার করতো নয়তো আর ঘরই
থাকতো না। অনেক কষ্টে তিনবন্ধু
মিলে ঘরটা পরিষ্কার করলাম। ঘরের
আসবাবপত্র গুলো ও কোনোমতে টিকে
আছে। তিনটে চৌকি এখনো মজবুতই
আছে। কিন্তু রেখে যাওয়া সব কাপড়
চোপর ইঁদুর মনের সুখে কুঁচি কুঁচি করেছে।
বাজার থেকে কিছু জিনিসপত্র এনে
দুজন থাকার উপযোগী করলাম। এতক্ষনে
সন্ধ্যা হয়েগেছে। আবির আর সুবল ও
চলে গেছে। একটা মোমবাতি
জ্বালিয়ে ঘরে বসে আছি। কত স্মৃতি
মনে পরে যাচ্ছে। চারদিকে এক অদ্ভুত
নিরবতা। হঠাৎ ভাবলাম যাই একবার
বুড়িমার ঘরে।
,
বুড়িমা বুড়িমা বলে ডাকতেই বাঁশ আর
পলিথিনের তৈরি দড়জা টা ঠেলে
হাতে একটা কুপি নিয়ে বের হলো।
- কিরে বাছা ক্ষিদে পেয়েছে
বুঝি..?
-- না গো বুড়ি মা,,তোমার সাথে গল্প
করতে এলাম গো।
- ও,, আয় আয়,,
আমি মাথা নিচু করে বুড়ির ঘরে
ঢুকলাম। দেখি একটা বাঁশের মাচার মত
বিছানা। ওখানেই বুড়িমা ঘুমায়। আর
বর্ননা করার মত ঘরে তেমন কিছুই নেই।
আমি গিয়ে ওই বিছানাতেই বসলাম।
- বুড়িমা তোমার ছেলে পুলে নেই..?
কথাটা বলার সাথে সাথে বুড়িমার মুখ
যেন কালো হয়ে গেল।
- ছিলো রে বাছা,, এখন আর নাই। ওর
বাবা মারা যাওয়ার এক বছর পর আমার
নগেন ও মারা মারা গেল। ওরে
বাঁচানোর জন্য আমার ঘর ভিটেও
বেঁচে দিলাম, কিন্তু আর ছেলেটাকে
বাঁচাতে পারলাম না বাছা।
এ কথা বলে আঁচল দিয়ে চোখ মুছলেন।
বুড়িমার কথা শুনে আমার মনটা যেন
হাহাকার করে উঠলো।
- আজ থেকে আমিই তোমার ছেলে,
বুঝলে বুড়িমা..? আজ কী রেঁধেছ আমার
জন্য..??
-- আমি কিই বা রাঁধতে পারি বল। আলু
ভাজি করেছি, আর ডাল রেঁধেছি,
খেতে পারবি বাছা..?
- খুব পারবো। দাও ক্ষুদা লেগেছে।
-- আচ্ছা বস, আমি দিচ্ছি।
- তুমিও নাও বুড়িমা একসাথে খাবো।
দুজন একসাথে খেতে বসলাম। খুব তৃপ্তি
করে খাচ্ছি। আমাকে তৃপ্তি করে
খেতে দেখে বুড়িমার চোখে মুখে এক
অপার আনন্দের আভা ফুঁটে উঠলো।
আমাকে খাওয়াতে পেরে বুড়িমা
যেন খুব আনন্দিত।
,এর পরেরদিন,,
--বুড়িমা,, আজ থেকে তুমি আমার ঘরেই
থাকবে। ওখানে তোমাকে থাকার সব
ব্যবস্হা করে দিয়েছি।
- সে কী,.? এখানে তো ভালো আছি,
আবার ওখানে কেন বাবা..?
- না না,,তুমি ওখানেই থাকবে।
ওখানে তোমার থাকার জন্য শোয়ার
ঘর, পূজোর জন্য ঠাকুর ঘর সব ঠিক করা
আছে।
বুড়িমা একপর্যায়ে রাজি হলেন। আমি,
আবির আর সুবল বাজারে গিয়ে
বুড়িমার নৃত্যপ্রয়োজনীয় সকল কিছু
কিনে আনলাম। আবির আর সুবল কে
দায়িত্ব দিলাম আমার বুড়িমাকে
দেখে রাখতে। আর বুড়িমাকেও বলে
দিলাম যেন কিছুর দরকার হলে ওদের
বলতে। আর সময় নেই বিকালেই ফিরতে
হবে। ,
বুড়িমার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার
সময় আমি তার চোখে জল দেখতে
পেলাম। নিজের কাছেও খারাপ
লাগছে।
- আবার কবে আসবি বাছা.?
-- আসবো বুড়িমা, খুব তাড়াতাড়িই
আসবো।
- সাবধানে যাস বাছা,, দূর্গা দূর্গা।
,
আমি রওনা হলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে।
বুড়িমা যেন এক গভীর মায়ার বাঁধনে
বেঁধে ফেল্ল।
,
ঢাকায় এসে আবার সেই ব্যাস্তময় জীবন
শুরু হলো। দেড়মাস হয়ে গেল অফিস
সংসার নিয়ে যেন খুব ক্লান্ত হয়ে
পড়েছি। তাই কাউকে কিছু না বলে
আবার ভোরে রওনা হলাম গ্রামের
উদ্দেশ্যে।
,
বাড়িতে পোঁছাতেই বুড়িমা
হাঁসিমুখে এগিয়ে এলেন।
- তুই এসেছিস বাছা.? আজ সকাল
থেকেই মনে হচ্ছিলো তুই আসবি।
তাইতো সুবলকে দিয়ে তোর জন্য
ট্যাংরা মাছ এনে রেখেছি রে। হ্যাঁ
রে তোর বৌ আসেনি..? ছেলেকেও
আনিস নি..?
- না গো বুড়িমা,, ভালো লাগছিলো
না তাই তোমাকে দেখতে চলে
এলাম। বিকালে আবার চলে যাবো,,
- সে কী..? আজ তো থেকে যেতে
পারিস। তোর ছেলেকে দেখতে খুব
ইচ্ছে করছে রে বাছা।
-- ঠিকআছে বুড়ি মা,,পরের বার নিয়ে
আসবো নে,, এখন খেতে দাও খুব ক্ষুদা
লেগেছে যে।
- আচ্ছা,, হাত মুখ ধুয়ে নে।
,
সেদিন বিকেল বেলা ঢাকার পথে
রওনা হলাম। আবার ব্যাস্ততার মাঝে
ডুব দিলাম। প্রায় তিন মাস হয়ে গেছে
যাবো যাবো করে যেতেও পারছি
না। হঠাৎ একদিন রাতে আবির ফোন
করে বল্লো বুড়িমার অবস্হা তেমন
ভালো না। আমাকে দেখতে চাইছে।
খবর শুনে মনটা ছটপট করে উঠলো। এরপরের
দিনই স্ত্রী পাখি আর ছেলে অভিকে
নিয়ে রওনা হলাম।
,
বাড়িতে পোঁছাতেই বাড়িতে অনেক
মানুষ দেখতে পেলাম। আবির, সুবল,
আবিরের মা কাকীমা, আরো কিছু
মানুষ। আবির কে গিয়ে জিজ্ঞেস
করলাম কী অবস্হা। আবির বলে অবস্হা
এত ভালো না। তাড়াতাড়ি বুড়িমার
কাছে গেলাম। বুড়িমার পাশেই
কাকীমা ও আরো কিছু মহিলা বসে
আছে। বুড়িমা চোখ বন্ধ করে শুয়ে
আছে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
আমাকে দেখে চোখ মেললো। ভাঙ্গা
গলায় বলে উঠলো,,
- তোর ছেলেকে এনেছিস বাছা.?
অভিকে আর পাখি কে এগিয়ে দিয়ে
বল্লাম,, হ্যাঁ বুড়িমা, এইতো আমার
ছেলে,, এইতো তোমার বৌমা।
বুড়িমা আমার ছেলের দিকে
তাকিয়ে একটা হাত ওর মাথার উপর
রাখলো। আর বল্লো ভগবান তোদের
সুখে রাখুক রে বাছা। বুড়িমা আমার
দিকে তাকিয়ে বল্লো, আমাকে একটু
জল খাওয়া রে বাছা। আমি চামচে
করে দু চামচ জল ওনার মুখে দিলাম। জল
টুকু গেলার একটু পর ই বুড়িমা আর শ্বাস
নেয় নি। সাথে সাথে কিছু মহিলা
কেঁদে উঠলেন। আর আমি বুড়িমার
পাশে বসে আছি পাথরের মত। চোখ
দুটো ছল ছল কিন্তু জল পরছে না, কিন্তু
ভেতরে যেন সব দুমরে মুচরে যাচ্ছে।
পাখির দিকে তাকিয়ে দেখি ওর
চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে। আমার পাঁচ
বছরের ছেলেটার মুখ ও গোমরা হয়ে
রয়েছে। সত্যিই বুড়িমা মায়া জানে।
ক্ষনিকেই সবাইকে আপন করে নিয়েছে।
,
বাড়ির পেছনের বড় আমগাছ টা কেটে
বুড়িমার চিতা সাজানো হল। আগুন
হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছি বুড়িমার
মুখাগ্নীর জন্য। ব্রাহ্মন মন্ত্রপাঠ শুরু
করলেন আর আমিও তার মুখে মুখে পাঠ
করছি,,,
,,,,,,ঔঁ আকাশস্হ নিরালম্ভ, বায়ুভূত
নিরাশ্রয়,,,,,
,,,ধর্মাধর্ম সমাযুক্ত, লোভ মোহ সমাবৃত্ত,,,
,,,,,দহেয়াং সর্বগাত্রানি, দিব্যান
লোকান স্বগচ্ছতু,,,,,,
সাথে সাথে প্রবল হরিধ্বনি তে
মুখরিত হয়ে উঠলো। আমিও চারবার
প্রদক্ষিন করে মুখাগ্নি করলাম। সাথে
সাথে অগ্নি যেন বুড়িমাকে আগলে
নিলো। কুন্ডলি পাঁকিয়ে ধোঁয়া উঠতে
লাগলো। হঠাৎ ওই ধোঁয়ায় যেন বুড়িমার
অবয়ব ফুঁটে উঠলো। বুড়িমা যেন আমাকে
হাত নাড়িয়ে বলছে,,,, আসি রে
বাছা,,,,,,
------------------সমাপ্ত---------------------
গল্পঃ # মুখাগ্নি
লেখকঃ # Noyan_Bhowmik

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ