āĻļāύিāĻŦাāϰ, ā§§ā§Ŧ āĻĄিāϏেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

3854

________________চা__________________
_______#Priyom_Rudrah
.
সবে মাত্র সিটি বাস থেকে নেমে ভাড়া দিতে যাবো নিউমার্কেট মোড়ে। হঠাৎ করে কেও একজন চিলের মত মানিব্যাগটা ছোঁ করে নিয়ে দিল দৌঁড়। তার দৌঁড়ের দিকে দেখে মনে হলো সে বোল্টকে হারানোর জন্য প্র‍্যাকটিস করছে। তাও চোখের আড়াল করলাম না। নিজের দৃষ্টিশক্তির ও একটা পরীক্ষা হয়ে যাক এইভেবে যতদূর সম্ভব তাকে দেখতে থাকলাম।মানিব্যাগটা খুলে দেখার জন্য যতটুকু যাওয়া প্রয়োজন ততটুকুই দৌঁড় দিল। আমি আমার  জায়গায় দাঁড়ানো,মনে হচ্ছে আমিও সপ্তামাশ্চার্য এর মধ্যে । প্রদর্শন হচ্ছে আর আমি প্রদর্শনের বস্তু হিসেবে স্টাচু হয়ে মানুষকে বিনোদন দিচ্ছি। কিছুক্ষন পর চোর যতটকু স্পিডে দৌড়ে পালিয়েছিলো, ঠিক ততটুকুই স্পিডে এসে আমাকে কিছু গীতাপাঠ শুনিয়ে দিয়ে মানিব্যাগটা মুখে ছুঁড়ে দিয়ে আবারো প্র‍্যাকটিসিং এ নেমে গেলো।
হঠাৎ আমার মাথায় প্রশ্ন আসলো,
চোর আমাকে ফইন্নি ডাকলো কেনো?
প্রশ্নের উত্তর স্বরূপ আমি মানিব্যাগ নিয়ে তার ৩টা ভাগেই খুলে দেখলাম ৭টাকা ছাড়া আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড ছাড়া আর কিছুই নাই।
যাক খারাপ কিছু বলে নি, শিক্ষিত চোর। সঠিক জায়গায় সঠিক শব্দ প্রয়োগ করেছে। বুঝাই যাচ্ছে, তার শব্দপ্রয়োগ খুব ভালো। বাংলার স্টুডেন্ট হবে সম্ভবত। এসব ভাবতে ভাবতে কন্ডাক্টর মামার কর্কশ কন্ঠের কথা তে নিজেকে স্টাচু থেকে বেরিয়ে মানুষ মনে হলো..
.
-মামা, মানিব্যাগ তো ফিরা পাইছেন, ভাড়াগুন দেন..
৭টাকাই ভাড়া দিয়ে দিলাম...
.
সুতরাং মানিব্যাগ তার টাকা রক্ষার দায়িত্ব থেকে সাময়িক ছুটি পেলো...
হঠাৎ করে শুনলাম কোথায় যেনো আমার প্রিয় গানটা বাজতেছে,
.
Let's start with me...
.
মজায় লাগছে শুনতে। তবে আনুমানিক ৩০ সেকেন্ড পর অফ হয়ে গেলো। কিছুক্ষন পর আবার সেই পুরাতন লাইন থেকে, মনে মনে তারে একটা গালি দিলাম গান আবার আগে থেকে ছাড়ার কি দরকার। এটা ভাবতে ভাবতে যখন পরের প্যারার জন্য অপেক্ষা করছি তখন হঠাৎ করে কোম্পানির ছাড়ের ৩০০ টাকার এনার্জি বাল্ব ১০০ টাকায় দেওয়ার মত লাইট আমার মাথায় জ্বলে উঠলো।।
সাথে সাথে পকেটে হাত দিয়ে মোবাইল বের করে দেখি আমার কম দামি মোবাইল কান্না করতেছে।
তার কান্না থামিয়ে মোবাইল রিসিভ করে কানে লাগালাম,
-ওই রুদ্র কই তুই??
-রুদ্র এখন পৃথিবীতে। আপনি কে ভাই?
-আমি রুদ্রের হাসান ভাই। তুমি কে?
-ওও। হাসান ভাই... কেমন আছেন ভাই? এই সিমে কবে? আমিই রুদ্র..
-ভালো। তুই টিউশনের কথা বলেছিলি যে, তোর জন্য একটা টিউশন আছে। করবি?
.
চোখের সামনে হঠাৎ করে মামার দোকানের ১২টাকার চা এর মুখ ভেসে উঠলো। যাক আবার চা খাওয়ার টাকাটার পথ চলে আসলো.. মনে মনে নিজেরে ভবিষ্যৎ বিল গেটস ভেবে ফেললাম..
.
-ভাই, করবো মানে। মানিব্যাগে আইডি কার্ড ছাড়া আর কিছুই নাই। লোকেশন কোথায়?
-লোকেশন, কদমতলী.... তুই এখন কোথায়?  পারলে এখন যায় দেখা করে আয়।
-ভাই, আমি নিউমার্কেট আছি। এখন যাবো তাহলে। অভিভাবকের নাম্বার আর ভাই এড্রেস টা একটু মেসেজ করে দেন।
-দিতেছি। তুই হাটঁতে থাক।
.
আজকে হাটাঁর মধ্যে ও একটা সুখানুভূতি হচ্ছে। টিউশন একটা পেয়ে গেলাম।
মেসের ভাড়া নিয়ে টেনশন করতে হবে না। খাওয়ার টাকাটা ফ্যামিলি থেকে মেনেজ করে নিতে পারবো।
হঠাৎ পায়ে শিকল বেধেঁ দিলো মত পা টা আটকে গেলো। নিচে তাকাতেই দেখি,
৮-১০ বছরের একটা বালক আমার পা ধরে রাস্তায় বসে আছে। তার দুইটাই পা নেই। তাকাতেই নিজের মধ্যে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম...
জন্ম দেওয়ারিই বা কি প্রয়োজন ছিলো? এমন প্রশ্ন মনে উকিঁ দিতে লাগলো। ওইটাতে আপাতত মনোনিবেশ না করে আমি তার কথা শুনার চেষ্টা করলাম এত্ত যান্ত্রিক আওয়াজের মধ্যেও....
-ভাই ৫টা টাকা দিবেন? ভাই আল্লাহ্‌ এর কসম মাত্র আসছি... প্রচন্ড ক্ষিদে লাগছে। ভাবছিলাম এই জ্বর গা লইয়া আইজ বাইর হমু না। পেটে চান্দি লাগছে দেইখা বাইর হয়ছি।
.
বেচারা এমনদিনে আমাকে ধরলো যেদিন মানিব্যাগে ১টাকা ও নেই।

-আচ্ছা ভাই, তুমি আগে আমার পা টা ছাড়ো।
.
সে বাধ্যগত ছাত্রের মত পা টা ছেড়ে দিয়ে, আমার দিকে তৃষ্ণার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল...
.
- ভাই আমার কাছে আজকে একটা টাকা ও নাই। তুমি কিছু বিক্রি করতে পারবে??
.
-কি বিক্রি করতে হইবো ভাই? আপ্নে কন খালি ভাই। ইহানের সবকিছু মুই চিনি।
.
-আমার কাছে একটা খালি মানিব্যাগ আছে, আর এই ঘড়িটা আছে। কোনটা বিক্রি করে তুমি টাকা পাবা বলো?
.
-না ভাই, মোর কিছু লাইগবো না হেনে। আপনি মিয়া বহত ভালা মানুষ আছেন...
.
তাও নিজের মন মানলো না।
.
-শুনো ভাই, এই নাও ঘড়ি। টাইম দেখে দেখে রাস্তায় ঘুরবা ইচ্ছে হলে, না হয় বিক্রি করে কিছু খেয়ে নিও।
.
এটা বলে ঘড়িটা দেওয়া মাত্র। সে আবার পা টা জড়িয়ে ধরলো, মাথাটা পায়ের সাথে লাগালো। মুহূর্ত এর মধ্যে ঘটে গেলো। নিজেকে যে সরাবো তারও সুযোগ পেলাম না।
.
- ভাই পা ছাড়ো। এভাবে কারো পা ধরো না ভাই। তোমাদের ও একটা আত্নসম্মান আছে।
.
অনেক কষ্টে পা ছাড়ালাম। দেখলাম প্যান্টে হাটুরঁ নিচে কিছুটা ভিজে গেছে। কিছু মুহূর্তের জন্য চোখটা অটোমেটিক অফ হয়ে গেলো ... চোখের কোনাটা ভিজে উঠল।

.
কদমতলীর মোড়ে গিয়ে মোবাইলটা বের করে দেখি একটা মেসেজ এসেছে।
বাসার এড্রেস আর মোবাইল নাম্বার।
বাসার এড্রেস এর সামনে গিয়ে অভিভাবকের নাম্বারে কল দিলাম,
- আদাব আন্টি। হাসান ভাই বলেছিলো আপনাকে কল দিতে টিউশনের ব্যাপারে।
- হ্যাঁ বাবা। তুমি কোথায়?
- আন্টি, আমি তো মসজিদের সামনে।
- একটু সামনে আসো বাবা। হলুদ রঙ এর বিল্ডিং।
-আন্টি আমি তার সামনেই দাড়াঁনো।
-আমি বেলকনি তে দাড়িঁয়ে আছি দেখো। ৩য় তলায়।
-জ্বী আন্টি, দেখেছি। আসছি।
.
বাসার গেইটে যেতেই দারোয়ান বলল,
- কই যাবেন?
- ইউরোপ যাবো।
- মজা করেন ক্যান? এদিক দিয়ে ইউরোপ যান যাই নাকি?
- তাইলে আপনি জিগাইলেন ক্যান কই যাবো? গেইট দিয়ে তো বিল্ডিং এই যাওয়া যায়।
- কথা প্যাঁচান মিয়া। কই তলায় যাইবেন?
- প্যাঁচানো মানুষরে প্যাঁচানো যায় যে জানতাম না। যাই হোক, তিন তলায় যাবো। টিউশন করাবো।
- ও... যান যান।
- এভাবে কিভাবে যাবো। আপনাদের সেফটি এর একটা ব্যাপার সেপার আছে না..
.
এই বলে সিসি ক্যামেরার সামনে গিয়ে কয়েকটা পোজ দিলাম ছবি তুলার মত।
.
- মামা, কয়েকটা পোজ দিয়ে দিলাম ,যেটা সুন্দর লাগে সেটা সেভ করে নিও।
.
এই বলে লিফট এর দিকে গেলাম।
তিনতলায় এসে দরজার সামনে দাড়িঁয়ে কলিংবেল দিলাম, ৩সেকেন্ডের মাথায় দরজা খুলার শব্দ পেলাম, মনে হচ্ছে দাড়িঁয়েই ছিলো কেও।
দরজা খুলেই,
আদাব বলে একটা মেয়ে হাত দিয়ে সালাম করলো..
হঠাৎ করে দরজা খুলে কোন মেয়ে এমন ভাবে করে কুরনিশ জানাবে তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না...
ভয় পেয়ে ২হাত পিছিয়ে গেলাম। মেয়ে দেখে বললো,
-আরে পড়ে যাবেন তো...
- পড়বো না, আপনি কে? আন্টি কই? আর ছাত্র কই।
-বাইরে দাড়িঁয়ে আন্টির সাথে কথা বলবেন নাকি?? আর ছাত্র না... আমি পড়বো.. ছাত্রী।
.
মাথায় কেউ একজন বললো, সুবোধ তুই পালা, তুই পালা।
.
মাথার কথায় কান না দিয়ে হাসান ভাই কে কল লাগালাম,
-হাসান ভাই, এটা তো ছাত্রী...
-কি বলিস?
- হ্যাঁ ভাই। আগে বলবেন না ভাই...
-আগে কি বলবো। আমি নিজেই জানতাম না। আর ছাত্রী হয়ছে কিসে? পড়া।
-ভাই আমার মেয়ে মানুষরে ডাইনাসোরের মত লাগে। একটা ডাইনাসোর আমার সামনে ১:৩০-২ ঘন্টা বসে থাকবে এটা ভাবতেই ভাই আমার সবকিছু শুকায় যাচ্ছে।
-রুদ্র, ইবলিশামি রাখ। টিউশন দরকার না তোর? দিছি। বাকিটা তোর উপর।
.
কল কেটে গেলো। মনে মনে "উপরওয়ালা এই অধমরে বাচাঁইয়ো" বলে ভিতরে ঢুকলাম।
.
সোফাতে বসলাম, বসা মাত্রই একহাত উপরে জাম্পিং এ উঠে গেলাম। এমনিতে কংকাল শরীর আমার, সোফার ফোমগুলোও মজা নিলো বসা মাত্রই ঠেলে ১হাত উপরে তুলে দিলো।
.
-তো বাবা, তুমি কি পড়ছো? কোথায় পড়ছো?
-আন্টি, আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরিয়েন্টাল ল্যাংগুয়েজ পড়ছি।
-ভালো বাবা। হাসান বলেছে তোমার ব্যাপারে। আমি বলেছিলাম ভালো একটা ছেলে দিতে, কিন্তু মেয়ে পড়াতে হবে বলি নি.. বুঝোই তো এখন যে পরিস্থিতি।
- জ্বী আন্টি।
.
আচ্ছা তোমার ছাত্রীকে আমি ডাকছি।
.
এই তানহা, তানহা এখানে আয়....
.
-বাবা, এই হচ্ছে তোমার ছাত্রী। 
- ওর সাথে আজকে কথা বলে নাও। আমি একটু কাজ করে আসছি।
এই বলে আন্টি চলে গেলো...
.
ছাত্রী আমার স্টাচু হয়ে ভীমমূর্তির মত নিচে তাকিয়ে আছে। যাক স্টুডেন্ট ভদ্র আছে। আমার কষ্ট কম হবে এই ভেবে নিজেকে আশ্বস্ত করলাম।
.
-বসো। কোন ক্লাসে পড়ো?
- ক্লাস ৮ এ। আগ্রাবাদ বালিকা স্কুল এ।
-হুম। যাও বই আর সিলেবাস নিয়ে আসো।
- আজকেই পড়াবেন স্যার?
- কেনো? পড়াতে কি শনি মঙ্গলবার লাগে নাকি?
-না স্যার। আচ্ছা নিয়ে আসছি।
.
আন্টির আগমন ট্রে ভর্তি খাবার সহ...
.
তারপর পরেই ছাত্রীর বই আর সিলেবাস নিয়ে আগমন।
.
-বাবা, তোমরা এখানে কেনো বসতেছো? ওর নিজস্ব রুম আছে। ওইখানে পড়াও। এখানে পড়াতে পারবে না তো।
-আন্টি এখানেই পড়ানো যাবে।  অসুবিধা নেই।
.
ছাত্রীকে পড়া দিয়ে, আর ট্রে ভর্তি খাবার খেয়ে পেট টাইট করে বের হলাম।
.
টিউশন চলছে তার নিয়মে।
একদিন বিজ্ঞান বইয়ে একটা ছোটো চিটি পেলাম। দেখবো কি দেখবো না মনে করে কৌতুহলবশত খুললাম...
দেখলাম অনেক লেখা...  পড়ে যা বুঝলাম,
লেখক - আবির
প্রাপক- ইকরা
-মাধ্যম তানহা.. 😂😂
.
-তানহা, ইকরা কে?
-আমার বেস্ট ফ্রেন্ড স্যার। কেনো স্যার? আপনি কিভাবে চিনলেন?
-যেভাবে চিনার। পড়ো।
-স্যার, একটা কথা বলি?
- বলো...
-স্যার, আপনি না কেমন জানি। ব্যাকডেটেড....
-আপডেট হয়ে ভাইরাসের দ্বারা আক্রমিত হতে চায় না তাই। এবার পড়ো।
-স্যার, আপনাকে স্যার না ডাকলে হয় না?
-অবশ্যই হবে। স্যার একটা সম্মানসূচক সম্বোধনাত্মক শব্দ।  আর স্যার বললেই যে সম্মান হয়ে যায় এমনটাও না। স্কুলে কয়জন স্যারকে সম্মানপূর্ণ স্যার ভাবো? ডাকোই বা কয়জনকে সত্যিকারের সম্মান করে?
- কাওকেই না। সবাই বেশি ঘ্যানর ঘ্যানর করে। আর আপনি অলটাইম চুপ। আপনি কখনোই শিক্ষক হতে পারবেন না।
- অনেক হয়ছে। পড়ো। যা ইচ্ছা ডাকিও।
-আচ্ছা।
.
ছাত্রী এখন আর স্যার ডাকে না। ভাইয়া ডাকে মাঝে মাঝে। যখন আমি ম্যাথ করায়... অন্যসময় হুম হুম করে।
.
-আচ্ছা, গল্পের মধ্যে আপনার প্রিয় চরিত্র কে?
-অনেকগুলোই। নির্দিষ্ট না। কেনো?
- আমার না  শুভ্র কে ভালো লাগে। হুমায়ুন স্যারের।
- আমার ও পছন্দের লিস্টের একজন। তবে অনিমেষ পড়েছো কখনো? সমরেশ মজুমদারের?
-নাহ্। তবে পড়বো। আপনি যেহেতু ভালো বলেছেন, অবশ্যই ভালো হবে।
- আমি যেটা ভালো বলবো সেটাই ভালো হবে?
-হ্যাঁ। আপনার উপর একটা বিশ্বাস জন্ম হয়েছে।
- আচ্ছা ভালো। বিশ্বাস করতে শিখতে পেরেছ, এটাই ভালো। সবাই বিশ্বাস করতে শিখতে পারে না। আর যেহেতু বিশ্বাস করতে শিখেছো ক্ষমা করতেও শিখবে এখন থেকে। দুইটাই পারস্পরিক।
- আচ্ছা।  আপনি জ্ঞানগুলো সবাইকে দিবেন না। আমি আপনার একটা মাত্র ছাত্রী। আপনার সকল জ্ঞান যাতে আমি পায়।
- শিক্ষক কখনো বিভেদ করতে পারে না। তবে আমার অন্য কোন টিউশন নেই। এই একটাই। এই ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকো। আমি আর ১ঘন্টা কোন কথা বলছি না। পড়ো।
.
৩মাস চলছে টিউশনের। ভালোই চলছে। ২মাসের বেতন ভালোভাবেই পেয়েছি  মামার দোকানের ১২ টাকা দামের চা প্রায়ই খাওয়া হয়।
একটা তৃপ্তি জাগে মনে। আহহ্ কি স্বাদ।
.
-আচ্ছা, আপনার তো "ও" নাই তাই না?
-ও আবার কেমন প্রশ্ন? আজকে গল্প অফ। পড়া দাও।
-এ প্রশ্নের উত্তর দিলে আর গল্প হবে না।
-না নাই। তো এখন পড়া দাও।
-আমি ডেফিনেটলি জানতাম থাকবে না! [বই আমাকে দিতে দিতে কথাটা বললো]
-ডেফিনেটলি কিভাবে জানলা? মিসির আলী পড়া শুরু করেছো?
-মিসের আলী অনেক আগেই পড়েছি। আর এটা আমার লজিক।
জ্ঞান দেওয়া মানুষদের সকল মেয়ে পছন্দ করে না।
- লজিকের একটা বই বের করলেই পারতে। পড়া বলো।
.
.
৩মাস শেষ। পড়া ও ভালো চলছে। ছাত্রী এখন ক্লাস টেস্টে ভালো মার্কস পায়। আন্টিও খুশি। কত আদর আপ্যায়ন।  মেয়ে নাকি আগে থেকে লক্ষ্ণী হয়ে গেছে। আগে আমি আসা মাত্র আন্টি ২০টা অভিযোগ দিতো। আর এখন একটাও পায় না। আর আমার ছাত্রী এখন তারিফের মডেল হিসেবে নাকি আমাকে রেখেছে। ঘরে যেই গেস্ট আসুক। আমার তারিফে ১ঘন্টা কাটায় দিতে পারে নাকি অনায়াসে।  এসব কথা শুনে নিজেই একটু লজ্জ্বাবোধ করলাম, আমি আবার এমন কি করলাম।
.
৬ষ্ট মাসের সময় আমি পড়াতে গিয়ে দেখি, বাসায় ড্রয়িং রুমে কয়েকজন গেস্ট। আন্টি  বললো,
-বাবা আজকে ওর রুমে পড়াও একটু।
-আচ্ছা আন্টি।
.
৬মাসে প্রথম ছাত্রীর রুমে প্রবেশ, বেশ সুন্দর। পেইন্টিং গুলো খুব সুন্দর।
ছাত্রী বললো,
-একমিনিট... আপনি আজকে প্রথম আমার রুমে ঢুকছেন, একটু সেলিব্রেশন করি..
এই বলে সে তিনটা তালি দিলো।
.
-তালি না দিয়ে কালকের ম্যাথ গুলো করে দাও।
-আপনি আসা মাত্রই পড়া শুরু করে দেন। আমার একটা ফ্রেন্ডকে তার টিউটর পড়ার থেকে গল্প করে বেশি।
-ওইটা উনি, এটা আমি। ম্যাথ করা শুরু করো। আজকে ভুল করলে ৬মাসের মধ্যে আজকে প্রথম মার খাবে আমার থেকে। তাও গেস্টদের সামনে।
- করতেছি। [মাথা নিচু করে, বিষন্ন কন্ঠে]
.
আমি রুমের পেইন্টিং গুলো দেখতে ব্যস্ত। হঠাৎ আমার হাতের উপর কারো হাতের স্পর্শ পেলাম।
হকচকিয়ে গিয়ে শরীরটা ঝটকার মত সরিয়ে নিলাম না দেখেই।
-এমন করলেন কেনো?
-তানহা এটা কি হলো? ডাকলেই পারতা।
-ডাকি নি তো। তবে আপনাকে ছুঁয়ে দেখতে মন চাইলো তাই।
.
[আমি বুঝে গেলাম, মামার দোকানের চা আবার বন্ধ হতে চলেছে]
.
- তানহা, স্টপ ইট। পড়ো। Otherwise, আজকেই এই টিউশনে লাস্ট ডে।
-এভাবে বলবেন না....  আপনি আমার জীবনের এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে দাড়িঁয়েছেন, যেখানে আপনার প্রতি আমার অগাধ বিশ্বাস, শ্রদ্ধা আর ভালোলাগার প্রবেশ ঘটেছে।  যে জায়গায় শুভ্র ও কখনো পৌছাঁতে পারবে না। আপনাকে ভালোবাসি...
প্রস্তুত ছিলাম এমন কিছুই শুনবো,তাই আর কথা না বাড়িয়ে বলে ফেললাম____
-ভালো থেকো।  আশা করি ভালো রেজাল্ট করবে। 
এই বলে চলে আসলাম। পিছু ফিরে আর তাকাই নি।
.
এরপর ৬দিন যায় নি, তখন আন্টি কল দিলো,
-বাবা, তুমি এতোদিন আসছো না যে?
-আন্টি আমি আর পড়াতে পারবো না।
-কেনো বাবা? কি হয়েছে? বেতন কি বাড়াতে হবে বাবা?
-না আন্টি। আসলে আমার টাইফয়েড হয়েছে, আর আমি বাড়ি চলে যাবো তাই। আপনি নতুন টিউটর রাখবেন। [[    মিথ্যের আশ্রয়েই যদি কর্তব্য রক্ষা হয়, তবে মিথ্যাই ধর্ম    ]]
এই বলেই কল কেটে দিলাম। আর কোন কথা বলতে দিলাম না।
.
চা এর নেশা উঠেছে। একটা চা খেতে হবে। না ১২টাকার চা এখন খাওয়া চলবে না। ৬টাকার চা খাওয়া যাক।
.
টঙে একটা ড্রামের উপর বসে ৬টাকার চা এ তৃপ্তির চুমুক দিচ্ছি। চা খাওয়ারও একটা শব্দ আছে... আর সেটা নিস্তব্ধতায় এত্ত সুন্দর লাগে তা জানা ছিলো না।
কম দামি চা আর বেশী দামি চা এ তো শুধু মস্তিষ্কজাত কথা।
লাস্ট চুমুকটা দিতে দিতে দিতে মনে মনে বললাম,
১২টা টাকার চা খেতে পারছি না তো কি হয়েছে, কিন্তু নিজের সম্মান আর কর্তব্য তো ঠিকেই পালন করেছি।
সম্পর্কেরও একটা নিয়ম আছে, বৈশিষ্ট্য আছে..... যেটা সঠিক জায়গায় সঠিক মানুষের সাথে ব্যবহৃত হয়। একটি সম্পর্ককে খাটো করে অন্য সম্পর্ক স্থাপনের নিয়ম পৃথিবীর নিয়মেও নেই।
পৃথিবী ও একটা নিয়মে চলে। 😊😊
.
একজন আদর্শ শিক্ষক এবং পথপ্রদর্শক হিসেবে নিজেকে নিজে গৌরবান্বিত করে বললাম...........
-ওহ মামা আরেককাপ চা দেন.. 😊

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ