"ইচ্ছের বিবর্তন"
Writer-Sazia Afrin Sapna
যখন বালিকা ছিলাম তখন খুব বাংলা সিনেমা দেখতাম। প্রতি শুক্রবার সাড়ে তিনটায় বিটিভিতে সিনেমা দেখার কি সেই উচ্ছাস! মনে হতো কোনো সিনেমার নায়কের প্রেমিকা হলে খুব ভালো হয়। হিরোর হাত ধরে গান গাইবো আর সাগর তীরে ধেই ধেই করে নাচবো। স্লোমেশিনে আমি দৌড়াবো আর আমার পেছন পেছন দৌড়াবে আমার হিরো। সারাক্ষণ চোখে এ সবই ভাসতো। সালমানশাহ্ তখন খুব পপুলার হিরো ছিল। ওকে বেশ ভালই লাগতো। এরপর ফেরদৌস, রিয়াজ এরাও এলো। বুঝেই উঠতে পারতাম না যে,আমি আসলে কার প্রেমিকা হতে চাই। একটু বড় হতেই ইচ্ছের বিবর্তন ঘটলো। ইচ্ছেতে সিনেমার হিরো থেকে নাটকের তারকা এসে গেলো। আবার সেই confusion, মাহফুজ, জাহিদ হাসান নাকি নোবেল? বুঝে ওঠা হলো না।
বালিকা থেকে কিশোরী হয়ে গেলাম, ইচ্ছের বিবর্তনে অভিনেতারা বাদ হয়ে গেলো। ইচ্ছেতে এলো singer, গান শুনতে বসলে আমি যেনো কোথায় হারিয়ে যেতাম। কি রোমান্টিক অনুভূতি! আমার প্রেমিক গিটার বাজিয়ে গান গাইছে আর আমি তার সামনে বসে শুনছি। কি দারুণ গান লেখা হয়েছে আমাকে নিয়ে, আর সেই গান আমার প্রেমিক কি অসাধারণ স্বরে আমার দিকে রোমান্টিক দৃষ্টিতে তাকিয়ে গাইছে! মাঝে মাঝে নিজেকে গানের মডেল কল্পনাও করতাম।
কিশোরী বয়স শেষ হয়ে ষড়োষীতে পদার্পন করে আবার ঘটলো ইচ্ছের বিবর্তন। গায়ক নায়ক বাদ হয়ে ইচ্ছেতে এলো লেখক। সে সময় আমি খুব উপন্যাস পড়তাম। শুধু বিখ্যাত লেখকদের উপন্যাসই শুধু পড়িনী, নতুন লেখকদের উপন্যাসও অনেক পড়েছি। তবে শুধুই যে উপন্যাস পড়েছি তা কিন্তু নয়। ডেল কার্নেগীর মত বড় মাপের লেখকদের বইও অনেক পড়েছি। যেখানে সুখী হবার অনেক মন্ত্র লেখা ছিল। অবশ্য এত বই পড়েও সুখের মন্ত্রটা শিখতে পারিনী। গল্পের মাঝে ডুব দিয়ে পৃথিবীকে ভুলে গেছি বহুবার। কারেন্ট চলে গেলে চার্জারের চার্জ শেষ হওয়া পর্যন্ত উপন্যাস পড়তাম, তারপর মোম নিয়ে বসে বই শেষ করতাম। খুব নেশা ছিল আমার বই পড়ার প্রতি। বই কিনতেও খুব ভাললাগতো। কত বার যে শপিং করতে গিয়ে কিছু না কিনে শুধু মাত্র বই কিনে বাসায় ফিরেছি। নানান ধরনের বই আছে আমার, হোমিও প্যাথি, এলোপ্যাথি, রাশি দেখাসহ কোনো বই কিনতেই বাকী রাখিনী।
নতুন বই আমাকে নতুন জামার মতই খুশি উপহার দিয়েছে। লেখকের প্রেমিকা হবো সারাক্ষণ সেই স্বপন চোখে ঝুলে থাকতো। কত লাল নীল স্বপ্ন আর স্বপ্ন। সারা দিন সে হুমায়ুন আহমেদের মত লিখবে আর বলবে-
--"দেখো তো কুসুম ঠিক আছে কিনা?"
আমি ওর লেখা গুলো পড়ে বলবো-
--"কাহিণীর মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দাও"
ওর সব উপন্যাসের নায়িকা হবো আমি। যাই হোক সারা দিন শুধু ওকে লিখতে দেখেই ধন্য হবো। মাঝ রাতে ঘুম ঘুম চোখে সে বলবে-
--"কুসুম এক কাপ চা নিয়ে আসো"
লেখকরা যে বয়োসীই হোক না কেনো তারা খুব রোমান্টিক হয়, রোমান্টিক ছেলেদের ভালোবাসা প্রকাশের ধরণটা ভিন্ন রকম সুন্দর হয়। আমাকে নিয়ে কেউ কিছু লিখছে, অর্থাৎ সে আমাকে নিয়েই ভাবছে। কাহিণী সাজাতে গিয়ে সে আমাকে নতুন রূপে নতুন রঙে সাজাচ্ছে। বার বার নিজের এই ঢেলে সাজানো দেখার অনুভূতি গুলো ভালবাসাকে গভীর থেকে গভীরতর করে।
এমন stupid মার্কা ইচ্ছেতে বাস্তব জীবণে কারো প্রেমে পড়াটা খুব দুষ্কর। ইচ্ছের বিবর্তনে এই ইচ্ছেটা বদলে গেলেও লেখকদের প্রতি একটু একটু ভালোলাগা এখনো অছে। যবে থেকে লেখালেখির জগতে ঢুকেছি তবে থেকেই বুঝেছি যে, লেখকদের রোমান্টিকতার পরিমাণ কতটা। সেই পরিমাণটা পাঠকদের কাছে অপ্রকাশ্যই থাক। লেখকরা সুখ দুঃখ গুলো বানিয়ে বানিয়ে বিশ্লেষণ করে তবে এর মধ্যে টুপ করে কখন যে নিজের সত্যি অনুভূতি গুলো ঢুকিয়ে দেয় তা পাঠকরা টেরও পায় না। লেখক আর পাঠকদের মাঝে এটাই আলো আধারের খেলা।
আমার বুদ্ধি mature হয়ে গেছে তার সাথে mature হয়েছে ইচ্ছে গুলোও। বহু বছর ধরেই ঐ নায়ক গায়ক বা লেখক কেউ আর আমার ভাবনা জুড়ে নেই। এই mature ভাবনাতে যেটা ছিল আসলেই আমি তার প্রফেশনকে ভালবাসিনী। ভালবেসে ছিলাম শুধু তাকে। তাকে ভালবাসি বলেই তার প্রফেশনকে ভালবাসতে শুরু করে ছিলাম। সে নায়ক গায়ক বা লেখক নয়। ওকে নিয়েই আমি কোনো এক সময় ধুম ধাড়াক্কা স্বপনও বুনেছিলাম। যদিও স্বপ্ন গুলো খুব stupid মার্কা তবুও ওকে নিয়েই আমি তখন স্লোমেশিনে দৌড়েছি, ওর হাত ধরেই ধেই ধেই করে নাচেছি। গান শুনে শুনে ভাবেছি, এই প্রেমের গানটা গিটার বাজিয়ে সে আমার চোখে চোখ রেখে আমাকে শোনাচ্ছে। ওর মনের কথা গুলো অন্তর থেকে যখন শুনতে পেতাম তখন ওগুলোই ওর আমাকে নিয়ে লেখা মনে হতো। একটা মানুষের মাঝেই নায়ক গায়ক আর লেখক খুঁজে নিয়ে ছিলাম।
শেষে এসে অবশেষে আমার জীবণে কেউ নেই, এই নিদারুণ সত্যিটা আমি খুব সহজেই মেনে নিয়েছি।কারণ আমিই শুধু নয় আমার mature ভাবনা, চাওয়া পাওয়া গুলো সবই পরিপূর্ণ ভাবে আরো বেশী mature হয়ে গেছে। তাই নিজের করে কিছুই চাইতে পারি না, কিচ্ছু নয়.......
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ