গল্প: #অবশেষে
লেখা> Abir Hasan Niloy (ভিনগ্রহের এলিয়েন)
..
ক্লাস শুরু হওয়াতে এক প্রকার দৌড়ে যখন ক্লাসের সামনে গেলাম। সবাই যে যার মত করে ক্লাসে মনোযোগী হয়ে লেকচার শুনছে। কিছু না ভেবেই বললাম..
- আসবো স্যার?
ঠিক সেসময় সবার মাঝে যেন এক নিরাবতা বিরাজ করলো। সবাই এমনকি স্যারও আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
- আজো লেট..? আচ্ছা আসো, কাল থেকে যেনো দেরি না হয়। (স্যার)
কিছু না বলে যখন ক্লাসে প্রবেশ করলাম তখনি সবার মাঝে হাসির রোল পড়ে গেলো। যে যার মত উচ্চস্বরে হাসতে লাগলো। নিজেকে কেমন যেন এলিয়েন লাগছে। সবার দিকে চোরা দৃষ্টি দিয়ে একবার তাকালাম। সবাই হাসতেই যেনো ব্যস্ত।
- সাইলেন্স...কি হচ্ছে কি এসব? তোমরা এমন হেসে উঠলে কেনো? আর যদি একবার হাসির শব্দ শুনি, তোমাদের সবাইকে ক্লাস রুম থেকে বের করে দিবো। (স্যার)
ঠিক সেসময় সবার মাঝে সেই আগের নিরাবতা পড়ে গেল। আড়চোখে সবাইকে দেখে নিলাম। সবার ঠোটে কিন্চিৎ হাসির রেখা থাকলেও, মুখ টিপে মৌলি হেসেই চলেছে। আমি হাসির কারন না বুঝতে না পেরে ক্লাসে মাঝের দিকটাই যেয়ে বসলাম। পূর্বের মত লেকচার শুরু, কিন্তু মৌলি হেসেই চলেছে। বারবার আমার দিকে তাকিয়ে সে হাসতেই ব্যস্ত। পারিপাশ্বিক কোনো কথাতেই সে মনোযোগি নয়। সে আমার দিকে তাকিয়ে হাসতেই ব্যস্ত। তখনি দৃষ্টি গেল তার চোখের দিকে, তার দৃষ্টির রেখা পড়ছে সোজা আমার পায়ের দিকে। সেইটা লক্ষ্য করে যখন নিজের পায়ের দিকে তাকালাম, তখনি খেলাম এক ঝটকা। সেই ঝটকাতে যেনো কম্পন সৃষ্টি হল বেন্চটাতে। নিজেকে এতটা গাধা আর গর্দভ মনে হবে নিজের কাছেই সেটা কখনও ভাবিনি। মাথায় তখনি আসলো সবাই কেনো আমার দিকে তাকিয়ে হাসছিলো। এমনকি মৌলি হাসছে এখনো।
আর হাসবেই বা না কেনো? আমি যে ডান পায়ের চটি জুতা বা পায়ে আর বা পায়েরটা ডান পায়ে পরে এসেছি। এটা দেখে তো যে কেউই হাসবে। কারন ভার্সিটি পড়া ছেলে যদি এমন করে তাহলে হাসির পাত্র হতে দেরি থাকে না।
- মাহিম, জুতাটা ঠিক করে পরে নে। আর কতদিন ক্ষ্যাত থাকবি তুই? নিজেকে একটু স্মার্ট বানা.. (নিলয়)
কিছু না বলে জুতা ঠিক করে পরলাম। তখনও মৌলি হেসেই চলেছে। ইচ্ছে করছে থাপড়িতে দাঁত গুলা ফেলে আসি। মানুষ ভুল করলেই কি সেটা নিয়ে হাসতে হবে? আর এত স্মার্টনেস দিয়ে কি হবে? স্মার্টনেস এর নামে টাইট প্যান্ট, টাইটা শার্ট, কনভার্টস পরে থাকি যার ফলে ভুলে যায় নিজের অবস্থানকে। ভুলে যায় মানুষ মানুষের জন্যে নীতি কথাটা। তাই ক্ষ্যাত থাকাই ভালো। যাতে করে বোঝা যায় অন্য মানুষও কেমন করে জীবন বয়ে নিয়ে আসে।
(পরেরদিন)
আজ আর দেরি হয়নি। তবে স্যার আসার একটু আগে ক্লাসে প্রবেশ করেছি। কিন্তু আজো সবাই আমাকে দেখে হাসছে। তখনি পায়ের দিকে তাকালাম। নাহ আজ তো ঠিক করেই জুতো পরেছি। তাহলে হাসির কারনটা কি? সবাই হাসছে দেখে নিজেকে যতটা না খারাপ মনে হচ্ছে তবে মৌলির হাসি দেখে গা টা জ্বলেই যাচ্ছে। যেনো সবার হাসি ও একাই হাসছে।
- এই যে ক্ষ্যাত..? স্মার্ট হবি না তুই কোনোদিন? (আকাশ, ক্লাসের স্মার্ট ছেলের একটা)
শুকনো চোখে ওর দিকে তাকালাম। তখনি মৌলি এক প্রকার জোরে হাসতে লাগলো। আবার ওর দিকে তাকালাম, তার দৃষ্টি রেখা সোজা করে আমিও তাকালাম। সে আমার শার্টের দিকে তাকিয়ে আছে।
আমিও তাকালাম, আজো নিজেকে বড্ড গাধা মনে হচ্ছে। কি করে এমনটা হল বুঝলাম না..শার্টের বোতামগুলো একেকটা একেক জায়গায় লাগিয়ে এসেছি।
স্যার আসাতে সবাই, চুপ হয়ে গেল। আমিও ক্লাসের সেই জায়গাতে যেয়ে বসলাম। কিন্তু মৌলি আমার দিকে তখনও তাকিয়ে হাসছে। মেজাজটা চরম খারাপ এর দিকে যাচ্ছে। এত হাসির কি হল বুঝলাম না...
রোজ ক্লাসে আসি, কিন্তু মৌলি সেই আগের মতই হেসে যায়। মোট কথা সে আমাকে দেখলেই মুখ টিপে হাসতে থাকে। একদিন খুব রাগ হল, নিজের রাগটাকে জমিয়ে ওর সামনে যেয়ে বললাম..
- এই মেয়ে তুমি আমাকে দেখে খালি হাসো কেনো?
- মানে..
- মানে আমাকে দেখলেই তুমি খালি হাসো,, কেনো হাসো?
- একটা মেয়ে, একটা ছেলেকে দেখে কেনো হাসে জানো না??
কথাটা শোনা মাত্রই মাথাটা নিচু করে ফেললাম। সব রাগ যেনো নিমিষেই হারিয়ে গেল। আমি কি তাহলে এতটাই ক্ষ্যাত..?
মুখটা তুলে যখনি মৌলির দিকে তাকালাম, দেখি তখনও সে হাসছে...আজ যেনো মৌলিকে অন্যরকম মনে হচ্ছে..কেমন যেন মায়াবী লাগছে। যেটা এর আগে কখনও হয়নি। টুক করে বাধা থাকা সত্বেও প্রেমে পড়ে গেলাম আমি মৌলির। প্রেমে পড়লাম মৌলির মায়াবী হাসিটার। লজ্জ্বায় লাল শাপলার মত হয়ে এক প্রকার দৌড়ে চলে আসলাম ওর কাছ থেকে। শুরু হল মৌলিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা। মনের আস্তিনে তাকে নিয়ে স্বপ্নের জাল বুনতে ব্যস্ত হলাম আমি।
আমি রোজ যেখানটাতে এসে বসতাম। সেখান থেকে মৌলিকে সরাসরি দেখা যেতো। আর সে আমার দিকে হাসি দিত। যা দেখে আমার মনের মধ্যে ভালোবাসা নামক বস্তু এসে কড়া নাড়তো। এত সহজে একটা মেয়ে আমার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে হাসি দিতে পারে ভাবতেই কেমন যেন মনে হত। তবে সত্যি বলতে মৌলি আমাকে নিয়ে তখনও মজা করছে। আমাকে ক্ষ্যাত দেখে বোকা বানিয়ে সে হাসছে।
.
প্রতিদিন তাকে দেখি, আর সেও আমাকে দেখে হাসে। মৌলির হাসির প্রেমে আমি প্রতিনিয়ত পড়তেই থাকি। সে আমাকে দেখলেই হাসে, প্রতি উত্তরে আমিও হাসি ওর দিকে তাকিয়ে। কিন্তু মনের কথাটা বলতেই পারছি না। এ যেনো এক ভয়ংকর ব্যাপার, ক্লাসের ফাকে তার দিকে চেয়ে থাকা, হালকা হাসির মিশ্রনে মনের ছোট ঘরে ভালোবাসার স্তম্ভ তৈরী করা এ যেন এক ভালোবাসার প্রতিক।
একদিন সাহস করে মৌলির সামনে যেয়ে বললাম..
- মৌলি,
- হুম..
- তোমাকে একটা কথা বলার ছিলো।
- হুমম বলো, (হাসি হাসি মুখ নিয়ে)
- তোমাকে ভালোবাসি আমি।
- হাহাহাহাহাহাহা...
সেদিন মৌলির হাসি দেখে মনে হল পৃথিবীর সবচাইতে মজার জোকস আজ তাকে বলেছি আমি। সে হাসছে, আর আমি বোকার মত দাড়িয়ে দেখছি তাকে, অজান্তেই কখন যে নিজেও হেসে উঠেছি,, মৌলির সামনে একটি বাঁকা দাতের হাসিতে আমি যে আজ ছন্নছাড়া পতিক।
- হাসিটা বন্ধ করলে কেনো? (আমি)
- তুমি কি যেন বলেছো?
- তোমাকে ভালোবাসি..
- হিহিহিহি,,,
- হাসছো কেনো এবার?
- নিজেকে কখনও দেখেছো?
- হুমম কেনো?
- তুমি যে ক্ষ্যাত সেটা কি জানো না?
- হ্যা জানি,
- তোমার মত ক্ষ্যাত ছেলেকে আমি ভালোবাসবো এটা ভাবলে কি করে? (হিহিহিহিহি) দেখে তো মনে হয় আস্ত গেয়ো ভুত, তোমার মত কোনো এক মেয়েকে ভালোবেসো। বুৃঝেছো..ক্ষ্যাত..?
- ক্ষ্যাত ছেলেদের কি ভালোবাসা হয় না?
- নাহ হয় না,,ভালোবাসার জন্য স্মার্ট হতে হয়।
- ওহ, আগে জানতাম ভালোবাসার জন্য একটি মন দরকার, এখন জানলাম স্মার্টনেস দরকার..
- ঐ যা তো,,তোর প্যাচাল আমার শোনার ইচ্ছে নেই, যত্তসব।
মৌলি চলে গেলো, আর আমি দাড়িয়ে তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি। হায়রে মানষী, চিনলী না তুই তোর জন্য আমার মনে কতটা ভালোবাসা। তোর জন্য আমার মনে যতটা ভালোবাসা আছে, তা কোনো স্মার্ট ছেলের কাছে নেই।
দুইদিন আম্মুর জ্বর থাকাতে ক্লাসে আসিনি। তারপর যখন গেলাম, সবাই আজো আমার দিকে তাকিয়ে আছে। নাহ আজ কেউ হাসছে না..সবাই অবাক হয়েই তাকিয়ে আছে, নিজের দিকে একবার তাকালাম। কোনো প্রকার অবাক হওয়ার মত কিছুই তো পেলাম না। তবে আজ মিস করছি মৌলির হাসিটা। কেনো আজ সবাই হাসছে না?
- মি. ক্ষ্যাত, কেমন আছেন? (আকাশ)
- আমি তো ভালোই, কিন্তু তোরা আজ হাসছিস না কেনো? আজো তো আমি ক্ষ্যাত হয়েই এসেছি।
- তুমি কি ন্যাকা?
- মানে?
- আমাদের মৌলি তোর মত এমন ক্ষ্যাত ছেলেটাকে কিভাবে যে ভালোবাসলো বুঝিনি।
- কিহহহহ....
কথাটি শুনে মৌলির দিকে তাকালাম। সে আজ মাথাটা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। আমি ক্লাস থেকে বের হয়ে শহীদ মিনারের উপর বসলাম। একটু পরেই কে যেন আমার কাধে হাত রাখলো। চমকে উঠে পিছনে তাকিয়ে দেখি... মৌলি দাড়িয়ে..বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে জিঙ্গাসা করলাম..
- এসব কি?
- কোনসব?
- সবাই যা বলছে..?
- ওহ, আচ্ছা তুমি যে একটা আসলেই ক্ষ্যাত সেটা কি জানো? আমাকে কি বোকা মনে হয়..? আমিও জানি ক্ষ্যাত ছেলেদের মনটা অনেকটাই পরিষ্কার। যারা স্মার্ট হয় তারা তাদের স্মার্টনেস নিয়েই ব্যস্ত থাকে। আর সেই প্রথম থেকে তোমার এই ক্ষ্যাতনেস স্বভাবটাকে দেখতে দেখতে কখন যে তোমায় ভালোবাসলাম বুঝিনি। সেদিন তো এমনি কথাগুলো বলেছিলাম, দেখছিলাম তুমি আমাকে সত্যিই ভালোবাসো কিনা?
- তা কি বুঝলে..?
- বুঝলাম, তুমি আসলেই ক্ষ্যাত, ভালোই বাসো না।
- কেনো মনে হল?
- তুমি আসোনি কেনো দুইদিন?
- আম্মুর জন্য আরকি..
তখনি দেখি মৌলি একটি কাগজ হাতে দিয়ে দৌড়ে চলে গেল। আমি কাগজের ভাজ খুলে দেখি সেখানে লেখা, "ভালোবাসি ক্ষ্যাতটাকে মৌলি+মাহিম"" । কাগজটি মানিব্যাগের গোমন পকেটে যত্ন করে রাখলাম। মনের মধ্যে এতদিনের ঝড় টা নামলো। আমি হাসি মনে মানিব্যাগ টা পকেটে রেখে কলেজ থেকে বের হলাম।
একটু দুরে আসতেই চারজন চিনতাইকারি আমার সামনে এসে দাড়ালো.
- ঐ তোর কাছে কি কি আছে তাই দে..
- কিছুই নেই।
- ঠাসসসসস হারামি মিথ্যে বলিস? দে বলছি..
তারা সবই নিয়ে নিল। যখন মানিব্যাগটা নিতে যাবে শুরু হল ধস্তাধস্তি। একসময় মনে হল কেউ একজন আমার মাথায় জোরে বাড়ি মারলো। আর কিছু মনে নেই..যখন ঙ্গান ফিরলো তখন দেখি হাসপাতালে। সামনে দাড়িয়ে আছে ক্লাসের সবাই। সবার দিকে তাকিয়ে নিলাম একবার, মৌলিকে দেখছি না..নিরাবতা ভেঙ্গে নিলয় জিঙ্গাসা করলো..
- আচ্ছা তুই কেনো ওদের সাথে ধস্তাধস্তি করতে গেলি?
- আমার মানিব্যাগ নিয়ে নিচ্ছিলো তাই।
- তো সেটা দিয়ে দিলেই পারতি..
- কতটাকা ছিলো মানিব্যাগে? (আকাশ)
- ১২ টাকা...
টাকার পরিমান শুনে সবাই ছি ছি করতে লাগলো..
- তুই ক্ষ্যাত কিন্তু এতবড় কন্জুস তা জানতাম না। সামান্য ১২ টাকার জন্য তোর জীবন বাজি ধরলি?
তখন সেই মানিব্যাগ থেকে মৌলির দেয়া কাগজটি বের করে বললাম.টাকার জন্য না রে, এই মানিব্যাগে এই কাগজটি ছিলো। ওরা যদি এটা নিয়ে যেত তাহলে এটা কোথায় পেতাম বল?
তখনি ভির ঠেলে মৌলি সামনে আসলো। আমার হাতে থাকা কাগজটি দেখে তার দুষ্টমি ভরা চোখে কখন যে জলের এক বিন্দু গড়িয়ে পড়েছে সেটা আমি ঠিকই দেখেছি। তবে মৌলি কিছুই বললো না। আমিও আর কিছু বললাম না। সেময় সবাই চলে যেতে লাগলো..সেই সাথে মৌলিও চলে গেল।
কিন্তু একটু পরে সে আবার আসলো। চুপটি করে দাড়িয়ে সে আমাকে দেখছে..
- তুমি আসলে যে আবার..?
কোনো কথা না বলে সে এসে দাঁড়ালো আমার সামনে। চুপটি করে আমার হাত ধরলো,, তখনি বুঝে নিয়েছিলাম এই হাত সে কোনো বাধা আসলেও ছাড়বে না। আগলে ধরে রাখবে তার নরম হাতের মাঝে।
(৬২)
---------(সমাপ্ত)----------
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ