গল্প: কেমিস্ট্রি
লেখা> Abir Hasan Niloy
..
কিছুদিন পরেই ঈদ। রাতে ট্রেনে করে বাড়ি যাচ্ছি। একটু হতাশা নিয়ে। হঠাত্ করে বুকে একটা ভয়ের চিহৃ ভেসে উঠলো।
খুব ভয় লাগছে। খুব কান্না আসছে। কিন্তু পারছি না কারন আমি একটা পুরুষ।
হালকা মেঘে ঢাকা আকাশ। ব্ষ্টি হবে মনে হয়। কি দরকার ছিল ওর সাথে এত রাগা রাগি করার। ওকে একটা থাপ্পর ও মেরে ছিলাম।
আমি তো কখনো ওর গায়ে হাত তুলেনি। কেনই বা ওই দিন হাত তুলেছিলাম। ওর গম্ভীর চেহারাটা বার বার আমার চোখে ভেসে উঠতেছে। যখন চর মেরে ছিলাম তখন ঐ গম্ভীর চেহারাটায় কিছুটা নিষ্ঠুর রাগ দেখেছিলাম। কিন্তু ওইনিষ্ঠুর চেহারাটাকেই তো আমি ভালবাসি।
দূর এতক্ষন কি ওর ওর করে বলতেছি । ওর একটা নাম আছে সামিয়া আফরিন।
.
--ভাই একখান সিগেরেট হইবো
--না ভাই আমি সিগেরেট খাই না
--কি কন ভাই
--আসলে ভাই আগে খেতাম এখন খাই না
--ভালা ভালা আফনের দেহি উন্নতি হইছে ।
পাশে বসে থাকা একজন ভাই সিগেরেটের কথা মনে করিয়ে দিল। এই সিগেরেট নিয়েই সামিয়ার সাথে আমার পরিচয়।
দুই বছর আগের কথা>>
.
ছাদে বসে একা সিগেরেট খাচ্ছিলাম আর কানে হেডফোন লাগিয়ে আযম খানের >ওরে ছালেকা ওরে মালেকা < গানটা শুনছিলাম। হঠাত্ সামিয়া আমার সামনে এসে ইয়া বড় মস্ত চোখ নিয়ে তাকিয়ে বললো..
-- আপনি বয়রা নাকি?
কান থেকে হেডফোনটা নামিয়ে বল্লাম
--কেন কি হইছে । দেখতে পারছেন না কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছি আপনি কানি নাকি?
--আপনি সিগেরেট খাচ্ছেন কেন? ছাদে সিগেরেট খাওয়া নিষেধ।
--আমি সিগেরেট খেলে আপনার কি ।আর কে বা আপনি?
--আমি এই বাড়ির মালিকের মেয়ে।
--ও সেই ক্যাচক্যাচানি মেয়ে । ঘুম থেকে উঠে মানুষ আল্লাহর নাম নেয় আর আপনি ফাঠা গলা দিয়ে সারে গা মা পা শুরু করে দেন। আপনার জন্য ঘুমের ডিসর্টাব হয়।
--এই যে মিঃ কথা সাবধানে বলবেন. আপনার ঘুমের ডিসর্টাব হলে আমার কি? আমি একশবার গান গাইবো। আমার তো একই প্রশ্ন মানুষ সকাল বেলায় ঘুমায় নাকি? সারারাত কি চুরি করেন?
-- না সারারাত প্রেম করি। আর যেই সকালে ঘুমাতে যাই তখন এক ছাগীর বেড়বেড়ানী শুনি।
-- ভালই তো ফাইযলামি করতে পারেন। আর শুনেন আমার একটা নাম আছে সামিয়া আফরিন।বুঝলেন রামছাগল।
-- ও কিন্তু এই যুগে এখন তো একটা মেয়ের দশটা নাম থাকে যেমন> এনজিল, প্রিনসেস. নীল পরী. সপ্বনের পরী, অবুজ মেয়ে, রং তুলি, আর অনেক যাক আল্লাহ বাচাঁইছে আপনার নাম একটা আমি তো মনে করছি দশটা। আর আমারো একটা নাম আছে > সুবন ।
-- হি হি হি আপনি আসলে একটা ফাযিল
-- এত ভেটকি মাছের মত হাসেন কেন? কিন্তু জানেন আপনার এই ভেটকি মাছের হাসিটা খুব সুন্দর।
-- তাই না?
-- জি তাই মেডাম।
-- ওকে সার আমি এখন যাই আপনি থাকেন ছাদে কিন্তু সিগেরট খাবেন না।
.
ও যে বাড়ির মালিকের মেয়ে আমি জানতাম না। নতুন বাড়াটিয়া ছিলাম.
সামিয়া যে খুব সুন্দরী সেটা বলবো না তবে ওর চেহারায় মায়া মায়া ভাব আছে । চোখে কাজল দিয়ে রাখে। চুল গুলো লম্বা।
যাই হোক এভাবেই ওর সাথে আমার পরিচয়। ওর সাথে প্রায় কথা হতো।
কথা বলতে বলতে ভাল লাগা তারপর ভালবাসা তারপর যা হয় আর কি মানে বিয়ে।
হে আমরা দুজন বিয়ে করেছি। পরিবারের সম্বতি ছিল। বিয়ের পর থেকে প্রতিদিন বকা শুনতাম। এই বকা শুনতে শুনতে একসময় সিগেরেটকে নিষেধ করে দেই।
.
কাদোঁ কাদোঁ গলায় ভাই সিগেরেট তুমি আমার জীবনের একটা অংশ ছিলে কিন্তু এখন আমার জীবনের পুরোটা অংশ জুরে রয়েছে সামিয়া। তাই তোমাকে বিদায় দিলাম।
বিয়ের কয়েকমাস পরেই আমি সামিয়াকে নিয়ে চট্টগ্রাম চলে আসি। সামিয়ার বাড়ি ঢাকায়।
.
থাক এইসব কথা মনে মনে নানান ধরনের প্রশ্ন মাথার মধ্যে বিরাজ করতেছে। সামিয়া কি খুব রাগ করে আছে । আমার প্রতি ওর রাগটা কি কমেছে?দূর আমি কি বলছি ও তো রাগি মেয়ে না।
আচ্ছা আমি ওর সামনে গিয়ে কি বলবো? সরি বলবো, নাকি বুকে জড়িয়ে নিব, নাকি হাত দুটো এক করে ক্ষমা চাইবো।
অবশেষে সকাল হলো। যাহোক ট্রেন থেকে নেমে ওদের বাড়ি গেলাম। ও বারান্দায় ছিল। আমাকে দেখে ও ওর রুমে চলে গেল। আমি ভয় পেলাম ভাবলাম সামিয়ার রাগ কমে নাই । আমার কপালে কি আছে এক আল্লাই জানে।
একটু সাহস করে ওর রুমে গেলাম।
রুমে ডুকতেই ও দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে ঝরঝর করে কাদঁতে শুরু করলো। আমি সরি বলার আগেই ও সরি বললো।
--এই পাগলি কাদঁছো কেন?দোষটা তো আমার ছিল। তোমাকে চর মারার উচিত্ হয় নাই।
--চর মেরেছো বেশ করেছো। আসলে আমার উচিত্ হয় নাই তোমাকে একা ফেলে আসতে। দেখছো আমি না থাকায় তোমার চেহারার কি হয়েছে।
ওর কান্না জলে আমার বুকটা ভিজে গেল।
হঠাত্ ও বলে উঠলো>>
--তোমার জন্য একটা পাঞ্জাবী কিনেছি।
-সত্যি কোথায় দেখি দাও এক্ষনি পড়বো।
--ধূর বোকা এখন না তো ঈদের দিন পড়বে। আমি পড়িয়ে দিব।
-- আচ্ছা তোমার জন্য আমি ও একটা শাড়ি কিনেছি । তোমার মনে আছে বিয়ের আগে আমি তোমাকে একটা নীল শাড়ি কিনে দিয়ে ছিলাম।
--হুম্ম মনে আছে।
-- এবার ও তোমার জন্য একটি নীল শাড়ি কিনেছি।
-- আচ্ছা তোমার পাঞ্জাবীর রং টা কি জানো?
--না বললে জানবো কিভাবে?
-- আবছা নীল সত্যি তোমাকে খুব সুন্দর লাগবে। আমরা নীল রাজারানী সাজবো খুব মজা হবে।
-- আচ্ছা আমার ওপর কি তোমার রাগটা কমে গেছে?
-- গেছিলো তো গদ্দব তুমি আবার মনে করিয়ে দিলা।
ওর মাথাটা আমার বুকে রাখলো। আমি চুপ সামিয়া ও চুপ এযেন এক নিরবতা পালন করছি।
.
আসলে কি বলবো যেখানে আমার ক্ষমা চাওয়ার উচিত্ ছিল সেখানে ও আগে ক্ষমা চাইলো।
সংসারে ছোট খাটো বিষয় নিয়ে ঝামেলা হতেই পারে তাই বলে কেউ কখনো কাউকে একা ফেলে যাবেন না।
সুন্দর ও উজ্বল ময় হোক
প্রতিটা ভালবাসার বন্ধন।
(74)
-------(সমাপ্ত)------
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ