গল্প: জ্যামিতিক ভালোবাসা।
লেখা> Abir Hasan Niloy
.
তাসিন! তুই সত্যি করে ১টা কথা বলবি?
- তোকে কখনো মিথ্যা বলেছি?
-মিথ্যে বলিস না মানে? তুই তো শতে নিরানব্বই টা কথাই মিথ্যা বলিস আর বাকি যেটা থাকে ওইটাতেও আমি কনফিউজড থাকি।
- অর্পা যখন তখন এইভাবে ইনসাল্ট করা ঠিক হচ্ছে না কিন্তু বলে দিলাম।
-ওলে বাবা! আমার পিচ্চি বাবুটা দেখি রাগ করেছে! এখন তার রাগ ভাংগাই কি করে?
- তোকে আর রাগ ভাংগাতে হবে না। আমি যাই। ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।
- এই তাসিন ছুটির পরে দেখা করিস। কথা আছে।
[]
অর্পা শুন!
- যাক বাবা। অবশেষে দেখা দিলি!
হুম। একটা রিক্সা নেই দাড়া।
-আরে না। তোকে বলেছিনা তোর সাথে কথা আছে? রিক্সা করে গেলে পথ ফুরাবে কিন্তু আমার কথা ফুরাবে না।
- তাহলে? হেঁটেই যাবি! এতোটা পথ? তুই পারবি?
- বুদ্ধু একটা তুই। ছাড় এসব কথা।
যে কথা বলতে চাই।
- তুই এইভাবে গোমড়া মুখ করে থাকিস কেনো রে সারাক্ষন?
- কোনো সমস্যা? আমাকে বলা যাবে? যদি বন্ধু মনে করিস.......
- দেখ অর্পা তোর সাথে বন্ধুত্ত আজ প্রায় ৬ মাস। তুই ভালো করেই জানিস আমি কেমন। তাইলে ন্যাকামো করিস ক্যান?
তোকে বলবোনা তো কাকে বলবো?
- রাগ করিস না। এমনিতেই বলেছি।
.
- অর্পা! আজ কয়দিন যাবৎ মায়ের কথা খুব মনে পরছে। খুব মিস করছি মাকে।
- সরি রে। আসলে আমি বুঝতে পারিনি যে......
অর্পাকে থামিয়ে হটাৎ রাস্তার এক পাশে গাছের ছায়ায় দাড়িয়ে পড়ে তাসিন।
মুগ্ধ হয়ে দেখছে রাস্তার ও পাশে এক মা তার ছোট বাচ্ছাটাকে কি সুন্দর করে খাইয়ে দিচ্ছে।
যদিও ফুটপাতে থাকা দিনমজুর মানুষ তারা।
অবশ্যই ভালো খাবার নয়। তবুও কি তৃপ্তি নিয়ে মায়ের হাতে খাওয়া খাচ্ছে পিচ্চিটা।
এই তৃপ্তি যেনো কোটি টাকায়ও মেলেনা।
তাসিনের ও এমন তৃপ্তি পেতে ইচ্ছা করে। খুব ইচ্ছা করে।
[]
"কিরে হটাৎ থেমে গেলি যে!
অর্পার কথায় যেনো চমকে উঠলো তাসিন!"
- না কিছু না। চল! একটা রিকুয়েস্ট করবো রাখবি?
- হা বল।
- আন্টিকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে। আন্টির একটা ছবি দেখাবি আমায়?
- ব্রু কুচকে অর্পার দিকে তাকায় তাসিন। কোনো কথা না বলে নীরবে হাঁটতে থাকে তাসিন।
অর্পা ও চুপ হয়ে আছে।
.
মনটা খারাপ হয়ে গেলো অর্পার। মুখ কালো করে আবার জিজ্ঞাসা করে
- "রাগ করলি"? আচ্ছা থাক দেখাতে হবে না। সরি।
- তুই ডাক্তার দেখা।
- কেনো?
- কথায় কথায় সরি বলা এইটাও একটা রোগ। মুচকি হেঁসে বলে তাসিন।
অর্পা ও হাঁসে। আর ভাবছে এই ছেলেটা আসলেই অন্যরকম।
অর্পা যতোই তাসিনকে দেখছে ততোই অবাক হচ্ছে।
বুকের ভীতরে এতো কষ্ট তারপরেও মূহুর্তের মধ্যেই নিজেকে বদলে নিয়ে মুখে সর্বদা হাসি রাখে।
সত্যিই অবাক!
[]
ছোট বেলায় মাকে হারিয়েছে তাসিন।
ঘড়ে সৎ মা!
স্বভাবতই সৎ মায়েরা যেমন হয় তেমনি আচরণ ওই মায়ের।
একটা ছোট্ট কিউট বোন আছে তাসিনের। আপন নয়।
সৎ! কোনো দিন সৎ চোখে দেখেনি তাসিন ওই বোনকে!
বোনটাও যেনো ভাই ছাড়া আর কিছু চিনেনা।
ক্লাস ফোরে পড়া ছোট্ট কিউট মেয়েটা যেনো তাসিনের প্রান।
ছোট্ট মেয়ে নিলু যেনো তাসিনের থেকেও বড়। সব সময় ওটা করা যাবেনা এটা করা যাবেনা। পাকা বুড়ি একটা।
তাসিন সৎ মায়ের ঘড়ে টিকে আছে এই ছোট্ট ময়না পাখিটির জন্য।
আর চকলেট ক্যাটব্যারি না নিয়ে গেলে তো ওই দিন তাসিনের খবর আছে।
তাই প্রতিদিন স্কুল শেষে চকলেট অথবা ক্যাটব্যারি নিয়ে যায় তার জানপাখির জন্য।
[]
-তাসিন! একটা কথা বলবো?
- কখনো কি না বলে থেকেছিলি কিছু?
-একটু ভালো করে কথা বললে কি? সবসময় টেরা কথা বলা লাগে? আজীব!
- আচ্ছা বাবা ভুল হই গেছে এই যে কান ধরলাম।
-হা হইছে থাক আর ন্যাকামো করা লাগবে না।
-না আর শুনতে হবেনা তোকে।
-রাগ করেছিস? তবে ভালো। তুই জানিস যে তুই রাগ করলে তোর গাল লাল হয়ে যায়?
আর হাঁসলে গালে টোল পড়ে।
তবে রাগলে তোকে অনেক মায়াবী লাগে। যেনো ওই জোস্না মাখা চাঁদটা তোর মুখে ফুটে উঠেছে ।
আমার খুব ভালোই লাগে তখন। এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকতে ইচ্ছা করে।
- (তাসিনের কথায় না হেসে পারলোনা অর্পা।) তুই একটা আসলেই মদন।
[]
হাঁটতে হাঁটতে অনেক টা পথ এসে হটাৎ তাসিনের খেয়াল হলো তার ময়নাপাখিটার জন্য চকলেট নেয়া হলোনা।
-এই অর্পা। একটু দাড়া প্লীজ।
-আবার কি হলো।
-দাড়া আমার ময়নাপাখিটার জন্য চকলেট নেয়া হয়নি।
- ওপাশে দোকানে আছে দেখতে পাচ্ছি। তুই দাড়া আমি যাবো আর আসবো।
এক দৌড়ে ওপারে গিয়ে কিছু চকলেট নিয়ে। অপড় পাড়ে অর্পার দিকে তাকিয়ে একটি মিস্টি হাঁসি দিলো।
কি নিষ্পাপ চেহেরায় তাকিয়ে আছে অর্পা তাসিনের দিকে।
তাসিনের হটাৎ মনে হলো অর্পা তার মায়ের ছবি দেখতে চেয়েছিলো।
পিছনের পক্যাটে হাত দিয়ে মানিব্যাগ বের করলো তাসিন।
মায়ের ছবিটা হাতে নিয়ে বড় নিশ্বাস নিয়ে আবার অর্পার দিকে তাকালো তাসিন।
আজ অর্পাকে বলতেই হবে। তোকে আমি অনেক ভালোবাসি।
আর কোনো চিন্তা না করেই কাগজ কলম নিয়ে লিখে ফেললো।
এইটা আজ অর্পাকে দিবে।
মেয়েটা আমায় অনেক ভালোবাসে। কিন্তু বলতে পারছে না। আমিও যে তোকে ভীষন ভালোবাসি অর্পা!
এখনি সময় তোকে আমার মনের কথা জানানোর। এইসব ভাবতে ভাবতেই এক দৃষ্টিতে অর্পার দিকে তাকিয়েই রাস্তা পার হচ্ছে তাসিন।
অর্পা ও চেয়ে আছে তাসিনের দিকে।
ছেলেটাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছে নিজের অজান্তেই অর্পা।
[]
তাসিন!!!!!!!!!!
চিৎকার করে লাফিয়ে উঠে অর্পা!
- তাসিন কোথায়! আমার তাসিন কোথায়? আম্মু আমার তাসিন কোথায় বলোনা! কি হলো আম্মু? কথা বলছোনা কেনো?
"মেয়ের এমন অবস্থায় অর্পার মায়ের মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।
পাশে বসে অর্পার মাথায় হাত দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলো।
- তাসিন আছে মা! ভালোই আছে।
আব্বু কোথায় আমার তাসিন?
আমাকে ওর কাছে নিয়ে যাওনা প্লীজ।
মেয়ের আত্মচিৎকারে বুক ফেটে যাবার অবস্থা অর্পার মা,বাবার।
আদরের সন্তান চোখের সামনেই যদি এমন করে কোন বাবা,মাই বা সয্য করতে পারবে!
- হা মা নিয়ে যাবো তোকে। শান্ত হো মা একটু।
- আব্বু সত্যি করে একটা কথা বলবে?
- হা মা বলবো। বল কি জানতে চাস?
- আব্বু আমি আর তাসিন ছুটি শেষে রাস্তা দিয়ে হেটে আসছি। তাসিন ওর ছোট বোনের জন্য চকলেট আনতে গেছে ।
আবার ফিরে আসার সময় বিকট একটা শব্দ!
উফফফ!!!! আমি আর কিছু মনে করতে পারছিনা বাবা।
আমি আর তাসিন কে দেখতে পাই নি বাবা।
সত্যি করে বলোনা প্লীজ আমার তাসিন কোথায়?
- শান্ত হো মা। শান্ত হো!
তাসিন যখন রাস্তা পার হতে লাগলো তখন একটা ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়।
তখন তার এক হাতে তার মায়ের ছবি আর অন্য হাতে একটা চিঠি ছিলো।
তাতে লেখা
প্রিয় অর্পা!
"তোকে অনেক দিন ধরে বলবো বলবো করেও বলা হয়না। আমি জানি আমি যেটা বলতে চাই ওইটা তুই ও আমাকে বলতে চাস। তাই সব লাজ লজ্জা ভেংগে আজ তোকে জানিয়ে দিবো ভেবেছি।
তোকে মুখে বলার সাহস পাচ্ছিনা তাই লিখে জানালাম।
অনেক ভালোবাসি তোকে। নিজের জীবণের চাইতেও বেশি। যদি বিশ্বাস না করিস তবে নিজের জীবণ দিয়ে হলেও প্রমান করে দেবো যে তোকে কতোটুকু ভালোবাসি।
এই অভাগাকে কি একটু ভালোবাসা যাবে?
তুই মায়ের ছবি দেখতে চেয়েছিলি ওইটাও দিলাম।
তোর উত্তরের আশায় রইলাম।
ইতি,
তোর তাসিন।
চিঠিটা পরেই অর্পা তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করলো আব্বু দেখেছো?
- তাসিন ও আমায় ভালোবাসে খুব ভালোবাসে।
পাগল ছেলেটা আমায় এতোদিন কিছুই বলেনি।
আব্বু নিয়ে যাওনা আমায় তাসিনের কাছে। আমিও ওকে বলার ছিলো যে আমি ওকে অনেক ভালোবাসি।
চলোনা আব্বু চলোনা প্লীজ।
- অর্পার বাবা অর্পাকে বুকে জরিয়ে ধরে চিৎকার করে কানতে কানতে বললেন। কোথায় নিয়ে যাবো মা তোকে আমি?
- তাসিন তো আমাদের সবাইকে ছেড়ে তিন দিন আগেই চলে গেছে পরপাড়ে।
- তুই এতোদিন অজ্ঞ্যান ছিলি। আজ তিন দিন পর তোর জ্ঞ্যান ফিরলো।
এই কথা শুনে অর্পা আবার মুর্ছা গেলো।
[]
মা! ওমা!
ছোট্ট বাবু রিফাতের ডাকে যেনো বাস্তব জগতে ফিরে এলো অর্পা।
রিফাত অর্পার এক মাত্র ছেলে।
মাত্র চার বছর হলো।
তাসিনের ছবি বুকে নিয়ে চোখ বুঝে যেনো ফিরে গেলো তার পূর্বের হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোতে।
চোখের কোনে পানি বেয়ে পরছে অর্পার।
- চলো সবাই অপেক্ষায় আছে তোমার জন্য?
পেছন থেকে বললো অর্পার স্বামী আবীর সাহেব।
এক অন্য ধরনের মানুষ এই আবীর সাহেব। সব জেনে শুনেই বিয়ে করেছেন অর্পাকে।
অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলেছেন অর্পাকে তিনি।
অর্পার বেঁচে থাকার পেছনে আবীর সাহেবেরই অবদান রয়েছে।
এক নতুন জীবণ দিয়েছেন তিনি অর্পাকে।
আজ তাসিনের ষষ্ঠতম মৃত্যুবার্ষিকী!
মাজারে শিন্নি বীতরণ করবেন আবীর সাহেব এবং অর্পা।
সব ব্যাবস্থা আবীর সাহেবই করে রেখেছেন।
প্রতি বছরই করে থাকেন।
যাতে তাসিনের আত্মা শান্তিতে থাকে।
[]
এক গুচ্ছ গোলাপ ফুল হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে অর্পা তাসিনের কবরের পাশে।
তাসিন! তুই ঘুমাচ্ছিস?
আমার ঘুম কেড়ে নিয়ে অনেক শান্তির ঘুম ঘুমাচ্ছিস তাইনা?
তুই তোর কথা জানিয়েই চলে গেলি আমারটা এক বারও শুনতে ইচ্ছে নেই তোর?
.
তুই এতো নিষ্ঠুর কেনো বলতো?
তোর কাছে এতোবার আসি তোর কি একটু ও কি জাগতে ইচ্ছা হয়না বল?
তুই বার বার আমাকে ফিরিয়ে দিস কেনো?
আমায় কি একটুও ভালোবাসা যায়না?
কাঁদতে কাঁদতে তাসিনের কবরের পাশেই বসে পড়ে অর্পা!
দু চোখের কোনে পানি। সেই দিকে খেয়াল নেই আবীর সাহেবের।
দূর থেকেই দাড়িয়ে দাড়িয়ে পাহাড়া দিচ্ছে অর্পাকে।
সব সময় পাশে থেকে বাঁচিয়ে রাখতে চায় প্রিয়তমা স্ত্রী কে।
এভাবেই ভালোবেসে যেতে চায় আবীর সাহেব সারাটি জীবণ।
.
নিষ্পাপ এক চেহারা নিয়ে অঝোর ধারায় বন্যা বইয়ে চলেছেন তিনি।
এইটাকেই হয়তো ভালোবাসা বলে।
হয়তো এই অকৃত্তিম ভালোবাসা এখনো আছে বলে পৃথীবিটা এখনো টিকে আছে।
তাইতো এই পৃথীবিটা এতো ভালোবাসাময়।
সুখে থাকুক সবাই শত দূঃখ কষ্টের মাঝে..
(03)
-------সমাপ্ত------ রিপোষ্ট
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ