āĻļুāĻ•্āϰāĻŦাāϰ, ā§§ā§Ģ āĻĄিāϏেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

3787

গল্প: টুয়েন্টি এইট
লেখা> Abir Hasan Niloy
..
অপারেশন শেষ করে যখন থানাতে ঢুকলাম। তখনি দেখি বেঞ্চে একটি মেয়ে বসা। মেয়েটি মাথা নিচু করে আছে।
তবে কেনো জানিনা মেয়েটাকে বেশ চেনা চেনা মনে হচ্ছে। কোথায় যেন দেখেছি তাকে এমনটা ভাবতেই, চোখ তুলে সে তাকালো। আর তার দিকে তাকিয়ে খুব বড় ধরনের শকড খেলাম। এ যে নেহা,,সেই চোখ, সেই মুখ। সেই মায়া জাগানো আর হৃদ স্পন্দন বাড়ানো চাহনি। আমি তাড়াতাড়ি মাথার টুপিটি মুখের সামনে ধরে নিজের কেবিন ঢুকলাম।
কিন্তু নেহা থানায় কেনো? তাকে কে ধরে এনেছে? সে কি করেছে? এসব ভাবতে ভাবতে, কনস্টবল কে ডাক দিলাম...

- কি ব্যাপার, মেয়েটাকে কেনো থানায় আনা হয়েছে?
- স্যার, উনি লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাচ্ছিলো। উনি নাকি তাড়াহুড়োই নাকি গাড়ির লাইসেন্স বাসায় ফেলে আসছে। আমরা তাকে কোনো ফোন কল করতে দেয়নি আপনি ছিলেন না তাই।
- ওহ, আচ্ছা ওকে ছেড়ে দাও। আর কোন কাগজে সাইন করতে হবে আমাকে বলো আমি সাইন করে দিচ্ছি।
- ওকে স্যার...

কনস্টেবল চলে গেল। আর আমি তখনও নেহাকে নিয়ে ভাবছি। মেয়েটি সেই আগের মতই সুন্দর আছে। সে আমাকে দেখেনি ভালোই হয়েছে। শুধু শুধু সামনে পড়ে পুরোনো কিছু স্মৃতি মনে না পড়ায় ভালো। এতে কষ্টগুলো মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে।
- মে আই কাম ইন মি. নিলয় সাহেব?

কন্ঠটা শুনে বেশ চমকে উঠলাম। এই কন্ঠটা বেশ পরিচিত আমার। এই কন্ঠ যতবারই শুনেছি ততবারই বুকের মধ্যে কেমন যেন নাড়া দিয়ে যেত। আমি সম্মোহন হয়ে চেয়ে শুনতাম।
- আরে তুমি। (আমি)
- তাহলে চিনতে পেরেছো?
- চিনতে না পারার কি আছে?
- হুমম,,তাহলে তুমিই এই থানার ওসি?
- হুমম
- তা তুমি এত শুকিয়ে গেছো কেনো?  ঠিক মত কি খাওয়া দাওয়া করো না?

নেহার কথা শুনে আমি চুপ করে টেবিলে বসে রইলাম।।এত বছর পর মেয়েটি সেই প্রশ্নটাই করেছে। তার কন্ঠে মিশে আছে কিছুটা অভিমান ও রাগের প্রতিশ্রুতি। আমি বসে বসে এসব ভাবছি তখনি সে বললো..
- আসলে একটা কাজে ব্যস্ত থাকায় বের হয়েছিলাম। তাই গাড়ির লাইসেন্স বাসাতে ভুলে রেখে আসছি।
- জানি,
- ওহ, তা আমাকে কি একটু কল করতে দেয়া যাবে? আব্বু এসে ছাড়িয়ে নিয়ে যেত।
- তার আর দরকার নেই। আমি সব কাগজে সাইন করে দিয়েছি। তুমি চলে যেতে পারো।
- আচ্ছা তাহলে আবার দেখা হবে খুব শিঘ্রয়। বাই

নেহা চলে গেল। আমি আর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি। যাওয়ার আগে সে বলে গেল আবার দেখা হবে তাড়াতাড়ি। কিন্তু কেনো? ওর সাথে তো আর কোনো সম্পর্কই নেই। তাহলে কি দরকার আমার কাছে?

(দুই দিন পর)

থানায় বসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল দেখছি। ঠিক তখনি শুনি
- নিলয় সাহেব আসতে পারি?
কথাটি শুনে মুখ তুলে সামনে তাকালাম। দেখলাম নেহা দাড়িয়ে আছে। মুখে রাগের আভা যথেষ্ট আছে। কিন্তু কেনো,? ভয় পেয়ে আমি দাড়িয়ে গেলাম। নেহা কেবিনে এসে বললো..
- চলো..
- মানে? কোথায়?
- সেটা গেলেই বুঝবা..আগে তো চলো..?
- আমি তো এখন অন ডিউটিতে আছি। এভাবে যেতে পারবো না।

নেহা আমার কথা শুনে আমার মুখের দিকে তাকালো। রাগের আভাটা যেন আরো বেশি প্রসারিত হয়েছে। আমি মাথাটা নিচু করে মেলে থাকা ফাইলটার দিকে তাকালাম।
তখনি নেহা আমার হাত ধরে টানতে টানতে কেবিন থেকে বের করলো।
- শোনো,,কোনো কথা বলবা না। চুপচাপ শুধু আমার সাথে যাবে।

নেহার কথা শুনে আমি এমনিই চুপ হয়ে গেছি। কেবিন থেকে যখন বের হলাম। তখন থানার সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে দাড়িয়ে গেল। আমি লজ্বায় তাদের দিকে  তাকালাম না। থানা থেকে যখন বের হলাম তখনি নেহা বললো..
- রিকশাতে যাবো যাও রিকশা ডেকে আনো।
- কেনো, আমার তো জিপ আছে।
- ঐ,, দেখো সামনে আমারও গাড়ি দাড়িয়ে আছে। কই আমি তো গাড়ি নিচ্ছি না?
- ওহ তাই তো..

নেহার কথামত রিকশা ডেকে দুজনে বসলাম। রিকশা ওয়ালা চাচাকে নেহা বললো..
- কাজী অফিস যান।
- আমরা কি কাজী অফিস এ যাচ্ছি?
- হুমম,,
- কেনো?
- এই ছেলে, মানুষ কাজী অফিসে কেন যায়?
নেহার কথা শুনে আমি নিজের মাথায় গাট্টা দিলাম। আসলেই তো হাদারামের মত প্রশ্ন করেছি। কাজী অফিস তো বিয়ের জন্যই যায়। তার মানে আমরা বিয়ে করতে যাচ্ছি? ইসস,,কতদিনের ইচ্ছে নেহাকে বিয়ে করে বউ বানাবো। তবে আজ সেটা পুরন হতে যাচ্ছে। কখন যে খুশিতে মনটা নেচে উঠল বুঝতে পারিনি। নেহার ডাকে ওর দিকে ফিরলাম..

- নিলয়, নামো, কাজি অফিস চলে আসছি।
- আমরা কি আসলেই..
- আরে না..আমরা বিয়ের সাক্ষী দিতে আসছি। তুমি আর আমি কাগজে সাইন করলেই হবে।
- এ্যাঁ....?
নেহা মুচকি হাসছে। তা দেখে আমার গা জ্বলে যাচ্ছে। কি দরকার এভাবে আনার? আমি তো ভাবছিলাম আজ আমাদের বিয়ে হবে। কিন্তু না অন্যের বিয়ের সাক্ষী দিতে আসছি। ধুরর,,নেহা হয়ত আমার মনের কথাটি বুঝতে পেরে হাসছে।

যখন কাজি অফিস এ ঢুকলাম। তখন মনে হল আমার পা থেকে মাটি সরে গেছে। আমি চোখ বড় করে সামনে তাকিয়ে আছি। নেহা তখনও আমার হাত ধরে দাড়িয়ে আছে। সামনে যারা বসে আছেন, তারা হল, নেহার আব্বু, নেহার মামা,,আর আমার আব্বু ও আম্মু আর আমার থানার বড় স্যার ও রিফা।
- কাজি সাহেব, এই তো ছেলে মেয়ে দুজনেই চলে আসছে এইবার কাগজটা দেন ওরা সাইন করে দিক। (স্যার)

নেহা আর আমি কাগজে সাইন করলাম। তারমানে আমাদেরই বিয়ে হয়েছে? কিন্তু সবব মেনেজ হল কিভাবে?
কাজি অফিস থেকে বের হয়েছি। নেহা আমার ডান হাত শক্ত করে ধরে আছে।
- নিলয় চলো নদীর পাড়ে যায়।
- হুমম

নেহা আর আমি নদীর পাড়ে বসে আছি। নেহা আমার কাধে মাথা রেখে বসে আছে। আমি এক হাত দিয়ে ওকে জড়িয়ে নিয়েছি।
- আচ্ছা তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসছিলা আমার না থাকাতে?
নেহার কথা শুনে পুরোনো কথাগুলো মনে হতে লাগলো।
..
নেহা আর আমি একই ক্লাসে পড়ি ক্লাস প্রথম বর্ষ (ইন্টার)। নেহা ছিল কলেজের সুন্দরীদের মধ্যে একজন। পড়াশোনাতে খারাপ ছিলাম আমি। আর নেহা ছিল ভালো। নবীন বরন অনুষ্ঠানে তাকে প্রথম দেখি। তারপর থেকে রোজ নেহাকে দেখায় হল আমার একমাত্র কাজ হয়ে দাড়ায়।।

চোখে মাশকারা, ঠোটে হালকা লিপিষ্টিক।  চুলগুলো কয়েকগাছি সামনে রাখতো। ঠোটের নিচে ছোট্ট একটি তিল, যা দেখে আমার মনের সব অনুভুতিগুলো যেন দুমড়ে মুচড়ে যেত। পলকহীন হয়ে তাকিয়ে খালি নেহাকেই দেখতাম। তখনও জানতাম না নেহার বাবা একজন নেতা গোছের লোক। রোজ নেহাকে দেখতাম। একদিন...
- হাই নেহা কেমন আছ..?

সাইকেল চালিয়ে নেহার সামনে যেয়ে প্রথম কথা বলি। হাত পা যেন সব কাপছিলো আমার। কেনো জানি ঙ্গানশুন্য হয়ে পড়েছিলাম।
- হুম ভালো, তুমি কেমন আছো?
- নেহা, এই ছেলেই কিন্তু তোকে রোজ দেখে। একদম হাবার মত তোর দিকে তাকিয়ে থাকে। (পাশে থাকা নেহার বান্ধবি রিফা)
- তাই নাকি নিলয়? (নেহা)
- ইয়ে মানে আসলে,,বন্ধু বানাবে তোমার আমায়?
- হুমম

সেদিন থেকে নেহা আমি, আর রিফা তিনজন বন্ধু হয়। এভাবে কেটে যায় অনেকটা দিন। নেহাকে একদিন সাহস করে বলি ভালোবাসি। সেদিন সে না করেনি। সে জানতো আমি তাকে আগে থেকেই ভালোবাসতাম..
একদিন রাতে দুজনে ফোনে মেসেজিং করছি। কয়েকটি মেসেজ দেয়ার পর নেহা আর রিপ্লে দেয়নি। আমি ভেবেছিলাম পড়াতে ব্যস্ত হয়ে যায়। কিন্তু ফোনটা ওর আব্বুর হাতে পড়ে সেদিন।
পরেরদিন মেসেজ দিলাম। কিন্তু রিপ্লে আসেনি। তখন লিখে দিয়েছিলাম। ""নেহা আমার টিয়ে পাখি খুব মিস করছি তোমায়""
তবে সেই মেসেজটি ওর আব্বু পড়ে তারপর থেকে  রোজ দেখতাম নেহা ওর আব্বুর সাথে কলেজে আসছে।
একদিন ক্লাস শেষ করে বের হতেই..
- নিলয়..

সামনে তাকিয়ে দেখি নেহা আমাকেই ডাকছে..
- হুমম..
- একদম শুকিয়ে গেছো দেখছি। ঠিকমত খাওয়া না নাকি?
- কি করবো বলো, তোমাকে যে মিস করি খুব।
- আমিও করি নিলয়,তোমার সবব মেসেজ আব্বু দেখে নিয়েছে।
- নেহা,,তোমার হাতটি কি একবার ধরতে পারি?
- হুমম
- এই ছেলেটাই কি তাহলে নিলয়?

পাশে তাকিয়ে চমকে উঠি। কারন, পাশে দাড়িয়ে আছে নেহার আব্বু। ঝটকা দিয়ে হাত ছেড়ে দিলাম নেহার।
- শোনো ছেলে, তুমি এখনও অনেক ছোট আছো। তাই হসপিটালে দিলাম না। ভালো ভাবেই বলছি, এসব ভুলে যাও। না হলে আমার থেকে খারাপ মানুষ আর দেখতে পাবে না তুমি।

সেদিন নেহাকে নিয়ে চলে যায় ওর আব্বু। নেহা বারবার পিছনে তাকিয়ে কাঁদছিলো। আমিও কখন যে কান্না করে দিয়েছিলাম টের পাইনি। তারপর রিফার থেকে শুনি নেহা অস্ট্রেলিয়াতে ওর মামার কাছে পড়াশোনা করতে চলে যায়।
সেদিন খুব কান্না করেছি। নেহা চলে গেছে আমার থেকে বহুদুরে। নিজেকে সামলাতে অনেক কষ্ট হয়েছিলো। দেশে থেকে পড়াশোনা করে আমি আজ থানার ওসি।
..
- এই নিলয় কি ভাবছো? বলো না কেনো কাউকে ভালোবাসছো নাকি? (নেহা)

নেহার চিৎকার শুনে ওর মুখের দিকে তাকালাম। নেহাকে যে প্রথম ভালোবাসছি। তাহলে তাকা ছাড়া কি অন্য কাউকে ভালোবাসা যায়?
- তোমাকে ছাড়া আর কাকে বাসবো ভালো বলো?
- হুমম আমিও যে তোমাকে এখনও ভালোবাসি।তাই দেশে এসে আব্বুকে বুঝিয়েছি। পরে মামাও আব্বুকে বুঝিয়েছে বলে তিনিনি অবশেষে রাজি হলেন।
- ওহ..তাই বলো
- এই তোমার মনে আছে?
- কি?
- সত্যিই মনে নাই?
- কি মনে থাকবে?
- তুমি এত তাড়াতাড়ি সব ভুলে গেলে???
- বলো তো..
- যাও কথা নেই তোমার সাথে। মনে নেই তোমার, যে বিয়েরদিন বাসর রাতে ছাদে বসে একটি টেবিলের মাঝখানে একটি ল্যাম্প জ্বালানো থাকবে। তুমি আর আমি দুজনে গরম কফির মগ হাতে বসে আকাশ দেখবো। তুমি কবিতা শুনাবে আর আমি নিরবে শুনবো? (কেঁদে কেঁদে)

এই রে সেসব তো ভুলে মেরে দিয়েছে। পাগলিটা যে কান্না করছে। এখন কি যে করি...
- বউ..
- হুহ
- বলছি যে এখন কবিতা শোনালে হয়না? নদীর পাড়, নির্মল বাতাস।
- তাহলে ছাদে বসে?
- তখনও বলবো..

""তোমার মাঝে মিশে রব সকালের কুয়াশার মত
তুমি খুব সকালে হাটতে বের হবে, হাত বাড়িয়ে ধরবে সেই কুয়াশা।
তোমার মাঝে আমি প্রবেশ করবো দক্ষিনা বাতাস হয়ে। তুমি নিরবে উপভোগ করবে আমার চলাচল।
আমি মিশে থাকবো তোমাতেই। তুমি আকড়ে ধরবে আমায়..""

নেহা কোনো কথা বললো না। নেহা শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো আমায়। আমিও তাকে টেনে নিলাম আমার বুকে।
সত্যি কারের ভালোবাসা শত বাধা আসলেও কখনই শেষ হয় না। আরো বিস্তার লাভ করে মনের ঘরে
(৭৭)
----------(সমাপ্ত)---------

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ