আবিদের আজ কলেজ ছুটি।
তাই দরজা বন্ধ করে ঘরে শুয়ে আছে, তখন ওর বন্ধু রাকিব ফোন করছে,
অনিচ্ছা সত্ত্বেও ফোনটা রিসিভ করলো আবিদ।
কারন রাকিব হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে গভেষণা করে, তার এক কথা।
ওনি হিমুকে নিয়ে গভেষণা করেছেন, তাই ওনাকে নিয়ে করবে।
.
রাকিব- কিরে কি করিস?
আবিদ- দরজা বন্ধ করে শুয়ে আছি।
রাকিব- দুপুর একটা বাজে। এখন কেউ শুয়ে থাকে? তুই তো হিমু হয়ে গেছিস, হুমায়ূন আহমেদ মারা গেছেন, নইলে তোকে নিয়ে উনার কাছে যেতাম।
আবিদ- ফাইজলামি করবি না, খুব ভয় এ আছি।
রাকিব- কেনো?
আবিদ- কারন, মা যদি কোনো ভাবে জানতে পারে, যে আমার কলেজ ছুটি, তাহলেই সেরেছে। নিশিকে ঘুরতে নিয়ে যেতে বলবে।
আর তুই তো জানিস, নিশিকে আমি দু'চোখে দেখতে পারিনা।
কেমন জানি একটা মেয়ে, ওর সাথে এত্তো বাজে ব্যবহার করি, এত্তো অপমান করি,
তবুও মেয়েটা কিছু মনে করেনা।
আরে প্রথম দিকে তো মাও দেখতে পারতো না, এখন মা তো নিশিকে ছাড়া কিছুই বোঝে না।
মার্কেটে গেলে নিশিকে চাই, কোথাও বেড়াতে গেলে নিশিকে চাই, কেনো আমাকে দেখে না??
আমি তো একমাত্র ছেলে, বাবাও কেমন জানি হয়ে গেছে, মার মতো বাবাও সারাক্ষণ নিশি নিশি করে।
রাকিব- কেন? তোর বাবাও কী নিশিকে নিয়ে বেড়াতে যায়? মার্কেটে নিয়ে যায়??
আবিদ- ধুর, এসব কী বলিস? বাবা কেন ওকে নিয়ে ঘুরতে যাবে?
তুই সবসময় ফাইজলামি করিস। তাই তোর ফোনও রিসিভ করি না।
রাকিব- আমি আবার কী করলাম? তুই তো বললি তোর বাবা সারাক্ষণ নিশি নিশি করে।
আবিদ- করেই তো, বাবার কাছে গেলেই সারাক্ষণ নিশির গল্প।
নিশি আজ সকালে অজুর পানি দিয়েছে।
গোসল করার সময় গরম পানি দিয়েছে।
চশমাটাও ভালো করে পরিষ্কার করে দিয়েছে, তাই খবরের কাগজ পড়তে পারছি।
আর তুই যেটুকু সময় বাসায় থাকিস, সারাক্ষণ শুয়ে থাকিস। কেন? ছেলে হয়েছিস বলে বাবা মাকে একটু সাহায্যও করবি না?
এইসব নিয়ে সারাক্ষণ কেট কেট করে, তাই ধারে কাছে যাই না।
রাকিব- আমার মনে হয় দোসত, নিশি মেয়েটা যাদু জানে, দেখলি কি করে সবাইকে হাত করে ফেললো?
আবিদ- যাহ, এসব কি বলিস? তা কি করে হবে?
রাকিব- দোসত, মেয়েদেরকে তুই চিনিস না, এরা পারে না এমন কোনো কাজ নেই।
নিশিকে নিয়ে কাল ধানমন্ডি লেক এ আসিস।
আবিদ- কেন??
রাকিব- আমিও আসবো, তুমি মিয়া কদিন ধইরা নিশির নাম জপো, দেখতে হবে না কেমন মাইয়্যার নাম জপো?
আবিদ- আজব, তুই যেভাবে বলছিস, মনে হয় নিশি আমার প্রেমিকা?
রাকিব- আরে, ব্যাটা আমি কি তাই কইসি? আর প্রেমিকা হয়তে কয়দিন লাগে?
আবিদ- আচ্ছা, আসমু নে, রাখ, বাই।
.
.
আবিদের আজ কলেজ খোলা। ইচ্ছে করেই কলেজে যায়নি।
বারবার মায়ের সামনে হাটাহাটি করছে। হঠাত ওর মা বলল,
- কীরে, কলেজ যাবি না??
আবিদ - না, কলেজ ছুটি।
- তাহলে নিশিকে নিয়ে কোথাও থেকে ঘুরে আয়, কদিন ধরে কোথাও যেতে পারছিনা। কোমর এর ব্যাথাটা বেড়েছে, মেয়েটা টিপে দেওয়াতে একটু ভালো লাগে।
আবিদ- অকে, তুমি নিশিকে বলো রেডি হতে।
-নিশি তো ঘরে নেই, ও ছাদে গেছে। তুই গিয়ে বল।
আবিদ- উফ, ছাদে গেছে ক্যান?
- তাতে কী হয়েছে? আর কী করবে ঘরে থেকে একা একা? আমরা এখন বুড়ো হয়ে গেছি, আমাদের সাথে আর কত গল্প করবে? তোকেও তো কথা বলতে দেখি না..
.
আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই, আবিদ ছাদে যাওয়ার জন্য মায়ের ঘর থেকে বের হয়ে এলো।
ছাদে গিয়ে দেখে একটি নীল শাড়ি পড়া মেয়ে, ছাদের কার্ণিশ ধরে দাড়িয়ে আছে।
মনে হয় মেয়েটা আকাশের উচ্চতাকে জানার জন্য,আনমনে গভীরভাবে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে।
মেয়েটা আজ নীল শাড়ি পড়েছে, তার সাথে ম্যাচিং করা হাতে চুড়ি, চোখে গাড় করে কাজল পড়েছে।
আবিদের নীল রঙ খুব পছন্দের, তাই নিশিকে এতো মনযোগ সহকারে দেখছে, আজ নিশিকে খুব সুন্দর লাগছে।
মেয়েটা একটুও সাজেনি, সামান্য কাজলে কাউকে এতো সুন্দর লাগতে পারে?
.
আবিদকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে নিশি বলল,
নিশি- কিছু বলবেন ভাইয়্যা?
আবিদ নিশির কথায় চমকে উঠে, কখন যে আকাশ থেকে তার দিকে তাকিয়েছিল নিশি, ববিদ টের-ই পায়নি।
আবিদ- হ্যা... আম্মু বলছে যে তোমাকে ঘুরাতে নিয়ে যেতে তাই,
নিশি- না ভাইয়্যা, আমি যাবো না।
আবিদ- কেন, যাবানা?
নিশি- কাল বাড়িতে চলে যাব, মনটা ভালো না, আব্বু ফোন করে যেতে বলেছেন, দাদুর শরীরটা খুব খারাপ তাই।
আবিদ- আম্মুকে বলোনি? কাল যে চলে যাবে?
নিশি- চাচীই তো আমাকে বলেছেন। আমার কী ফোন আছে?
আবিদ- কিন্তুু আম্মু তো আমায় কিছুই জানায়নি।
নিশি- আপনাকে আর ডিস্টার্ব করবোনা, যদি মনের অজান্তে কষ্ট দিয়ে ফেলি তবে আমায় ক্ষমা করে দিবেন।
এই বলে নিশি চলে গেল।
.
আবিদ ভাবছে, আশ্চর্য।
মেয়েটার কী অমায়িক ব্যবহার? কিন্তুু মেয়েটা কি আমার উপর রেগে আছে? সে এভাবে কথাগুলি বলল কেন?
আসলে রাগ হবারই কথা, মেয়েটাকে কত অপমানই না করল, অবশেষে ভার্সিটির বন্ধু দিয়েও, ছি... ছি... আর ভাবতে পারছে না আবিদ।
কিন্তুু কাল তো মেয়েটি চলে যাবে, ওর তো আনন্দ পাবার কথা, তাহলে ওর এতো কষ্ট লাগছে কেন?
ওর মায়া ভরা মুখটা বারবার দু'চোখের সামনে ভেসে উঠছে কেন?
তবে কী ওর প্রেমে পড়েছি?
ধুর কী যা তা ভাবছি?
এটা যদি না হয় তাহলে এতো শূণ্যতা কীসের...??
.
.
আবিদ তার মায়ের পাশে এসে বসেছে,
-- কিরে, কিছু বলবি?
আবিদ- শুনলাম নিশি নাকি কাল চলে যাবে?
-- হুম।
আবিদ- কেন?
-- যাবে নাতো কী করবে? তোর অপমান সহ্য করবে? ঐদিন তোদের ভার্সিটি থেকে এসে মেয়েটা অনেক কাঁদল।
বুঝলাম কিছু একটা হয়েছে। ভাগ্যিস তোর বাবা কিছু জানেননা।
ও তোর আপন চাচাতো বোন, তুই এ কদিন ওর সাথে যা আচরণ করলি, তা বাড়ির কাজের মেয়ের সাথে কেউ করে না।
মানলাম, মেয়েটা না হয় গ্রাম থেকে এসেছে, কিন্তু মেয়েটা শিক্ষিত এবং মেধাবী।
শুনেছি এস.এস.সি তে এ+ পেয়েছে।
গ্রামের বাড়িতে যাওয়া আসা হয় না বলে,
একটু দূরের মানুষ আর অপরিচিত মনে হয়-- তাই বলে,
আবিদ- আম্মু একটা কথা বলব?
-- কী বলবি বল?
আবিদ- আমি নিশিকে ভালবাসি।
এই বলে আবিদ চলে গেলো।
-- কী বললি??
.
.
রাতে, আবিদের বাবা, মা কথা বলছে,
-- এই শুনছো??
-হুম, বলো
-- আমাদের ছেলে নিশিকে খুব পছন্দ করেছে, নিশিকে আমারও খুব পছন্দ, তাছাড়া মেয়েটা খুব ভালো।
-নিশিকে আমারও খুব পছন্দের।
-- তাহলে এক কাজ করো, নিশি তো কাল বাড়ি যাবে, আমরাও যাই। কী বলো??
আম্মাও খুব অসুস্থ, দেখেও আসলাম, ঘুরেও আসলাম-- আর এদিকে বিয়ের কথাটা ফাইনাল করে আসলাম।
- আচ্ছা।
.
.
আজ সবাই গ্রামের বাড়ি এসেছে।
আবিদ এই নিয়ে দুবার দাদু বাড়ি এসেছে, একবার এসেছিলো পাঁচ বছর বয়সে,
দাদা মারা যাবার সময়।
রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে নিশির বিয়ের কথা তোলা হয়,
প্রথম দিকে রাজী না হলেও শেষে রাজী হোন নিশির বাবা।
কিন্তু তার এক কথা, এখন বিয়ে হবে না, ছেলে প্রতিষ্ঠিত হলে তারপর বিয়ে হবে।
এ ব্যাপারে আবিদের বাবা মাও রাজী হলেন।
.
.
অনেক রাত।
বাইরে জোসনা।
নিশি চেয়ার নিয়ে বাইরে বসে আছে।
আবিদ এসে বলল,
আবিদ- তুমি কি এ ব্যাপারে রাজী??
নিশি- কোন ব্যাপার?
আবিদ- আমাদের বিয়ের ব্যাপারে?
নিশি- আব্বু যখন ঠিক করে ফেলেছেন, সেটা ভাঙ্গার সাধ্য কী আমার আছে??
আবিদ -তারমানে তুমি আামাকে ভালবাসো না?
নিশি- না।
আবিদ- তাহলে আমাকে বিয়ে করবে কেন?
নিশি- আব্বু আম্মুর ইচ্ছা তাই।
আবিদ- যে আমাকে ভালবাসবে না, তাকে আমি বিয়ে করবো না..
এই বলে আবিদ চলে যাচ্ছিলো,
নিশি- আরে কোথায় যাচ্ছো?
এই বলে নিশি আবিদের হাতটা ধরে ফেললো।
কে বললো তোমাকে ভালবাসি না?
আবিদ- ভালবাসো?
নিশি- খুব বাসি।
আবিদ- সত্যি??
নিশি- সত্যি, সত্যি তিন সত্যি।
আবিদ-- তাহলে আই লাভ ইউ বলো,
নিশি-- নিশি আই লাভ ইউ।
আবিদ-- আই লাভ ইউ টু-- সারাজীবন এভাবে ভালবাসবে তো??
নিশি-- হুম, ভালোবাসি, ভালবাসি, এভাবে সাড়াজীবন ভালবাসবো।
নুসরাত জাহান লিমা
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ