***মৃত্যু-ভালবাসা-প্রতিশোধ***
চল দোস্ত আজ আবার রেস হয়ে যাক,,,
--ওকে আজ আবার ও আমিই জিতব,,,,
--আরে বেটা সব সময় তো আমিই জয়ী হই,, কাল কেমনে একবার জিতে এত কাহিনী করার কি আছে,,ওকে চল দেখাই দি তোরে কে জিতে,,
--ওকে,,,কিন্তু একটা শর্ত আছে,,,
--কি??
--আজ তোর গাড়ি আজ আমি চালাব আর আমার গাড়ি তুই,,,
--ওকে রাজি,,চল,,,,
কথা হচ্ছিল ফারুক আর তার বন্ধু মারুফ এর মধ্যে,,,ফারুক বড় লোক বাবার একমাত্র সন্তান,,,,রেস করা ওর একটা নেশা,,,দুনিয়ার সব কিছু বাদ গেলেও ওর রেস করা বাদ যাবে না,,,সে যাই কিছু হোক কিন্তু ওর রেস করা লাগবেই,,,,গতকাল ওর বন্ধু মারুফের কাছে ফারুক হেরে গেছে,,,,আর তার প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ এসেছে ফারুক সেটা কোন ভাবেই মিস করতে চায় না,,,,
কিছুক্ষনের মধ্যে রেস শুরু হয়,,,একটু পরই ফারুক এগিয়ে যায়,,,ও ওর গাড়ির গতি বাড়াতে থাকে,,একটু পর মারুফ বুঝতে পারল,,ওর গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ওর হাতে নেই,,,,রাস্তার মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত ভান্র গাড়ি চুটছে,,,,মারুফের গাড়ি কিছু এক্টার সাথে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়,, ফারুক বুঝতে পারে মারুফ এক্সিডেন্ট করেছে,,ও তাড়াতাড়ি মারুফের কাছে যায় কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে গেছে,,,,মারুফ এর গাড়ি নিচে একটা বাইক আর একটা ছেলে ,, ফারুক হাত দিয়ে দেখল ছেলেটা মারা গেছে,,,,,,,
২.
৬ মাস পর অই ঘটনার পর,,,,এখন আর ওরা রেস করে না,,অই ঘটনার পর অনেক ঝামেলার পর তারা অই কেস থেকে রেহাই পায়,,,দুজনেরই ওই ঘটনাটা ভুলতে অনেক কষ্ট হইছে,,,,,,
ফারুক ঠিক স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছে,,,,আগের মত আড্ডা,ঘুরা,লেট নাইট বাড়ি ফেরা,,শুধু একটা জিনিস বাদে সেটা হল এখন সে রেস করে না,,,
- বিকালে গাড়ি নিয়ে ঘুরতে বের হয় ফারুক হঠাৎ সে লক্ষ্য করল, একটা মেয়ে হাত নাড়ছে,,,, মেয়েটা কে দেখে ফারুকের ভিতর যেন যেন কি একটা ঘটে গেল গাড়ীর দিকে ওর খেয়াল নেই মেয়েটা কে এই দেখছে,,,গাড়ি থামিয়ে ফারুক মেয়ে টা ক্র জিজ্ঞাসা করল---
- --জী বলুন??
- --আমাকে একটু মিরপুর ১০ এ নামিয়ে দিতে পারবেন?
- ---(মেঘ না চাইতে জল) জী অবশ্যই আপনি উঠে বসুন,,,-
- --ধন্যবাদ বলে মেয়ে টা গাড়ী তে উঠে বসল,,,,
- ফারুক কি বলবে কিছুই বুঝতেছে না,,,একটা মেয়েকে এক দেখায় এতটা ভাল লেগে যাবে সেটা ও নিজেও কল্পনা করতে পারে নাই,,
- অনেকক্ষন ভেবে বলল,
- ---আপনার নাম কি?
- --জান্নাত,, আপনার???
- --ফারুক,,,,মিরপুর কি আপনাদের বাসা নাকি কোন আত্বীয়র বাড়ি,,
- --না,,, আমরা নতুন বাসা নিয়েছি,,
- ---অহহ,,,আমাদের বাসাও মিরপুর,
- --অহহ,,,,,,
- ---কি করেন আপনি???
- --জি পড়ালেখা শেষ করছি এখন একটা কাজ বাকি আছে সেটা করে জব করব,,
- --কি এমন কাজ?
- --আছে,,,,,কিছু একটা যাই হোক আপনি কি করেন??
- --কিছুই না,,তবে খুব শীঘ্রই বাবার ব্যবসা নিজের হাতে নিব,,,
- ---বিয়ে করেছেন নাকি??
- --না না,,,, আরও পর,,,
- --কেন জি এফ রাজি হচ্ছে না নাকি?
- -- না না তেমন কিছু না আসলে আমার জিএফ নামক ওই বস্তু টা নাই,,,,,
- সামনে বা দিকে দাড়ান গলির মুখে,,,
- --এইখানে কি আপনার বাসা?
- --না আর একটু সামনে গলির ভিতর,
- ---অহহ,,
- *---হুম,,ধন্যবাদ ভাল থাকবেন,,,,
- ---আপনি ও ভাল থাকবেন,,আল্লাহ হাফেজ,,,
- ৩.
- বাসায় আসি ফারুক শুধু মেয়েটার কথাই ভাবছে,,কেন জানি মনে হচ্ছে ও মেয়ে টা কে ভালবেসে ফেলছে,,,মেয়েটা চোখ গুলোতে একটা মায়া কাজ করে সেই মায়ার জালে ফারুক বন্ধি হয়ে আছে,,,ফোন করে মারুফ করে সব বললল,,,,
- ---দোস্ত মেয়েটারে খুজতে হেল্প করবি??
- --আর এ বেটা তোর করব না তো কার জন্য কার জন্য করব,,
- ৩ দিন পর ফারুক আর মারুফ দুজন ওই গলি টা দিয়ে হেটে যাচ্ছে আর জান্নাত কে খুজে যাচ্ছে কিন্তু পাচ্ছে না,,,
- একটু পর দুজন একটা চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছে হঠাৎ ফারুক লক্ষ্য করল একটা বাসার ৪ তলা থেকে লাল ড্রেস পড়া একটা মেয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে ফারুক ভাল করে দেখার পর বুঝল এটাই জান্নাত তাড়াতাড়ি হাত নেড়ে ইশারা করল আর জান্নাত ও তার জবাব দিল,,,
- তার পর থেকে ফারুকের যেন এটা নিয়মিত রুটিন হয়ে গেছে প্রতিদিন চায়ের দোকানে বসে চা খাওয়া আর জান্নাত কে দেখা,,,জান্নাত ও ঠিক প্রতিদিন বিকালে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে থাকে,,,
- একদিন বিকালে ফারুক চায়ের দোকানে বসল অনেকক্ষণ পর ও জান্নাত আর বারান্দায় আস্ল না,,,,ফারুকের কপালে চিন্তার ভাজ পড়ে আছে,,,,উকি মেরে দেখতেছে যএ জান্নাত কেন আসতেছে না,,,
- হঠাৎ পিছন থেকে একটা মেয়েলি কন্ঠ বলে উঠল,,,
- --এত উকি মেরে দেখার কি আছে??
কথা টা শুনেই ফারুক আতকে উঠল,,,পিছন ফিরে দেখেইই অবাক পিছনে জান্নাত দাঁড়িয়ে আছে,,,
--আপনি এখানে???-
---হুম,,,প্রতিদিন কেন আসেন এই খানে??
--এই খানের চা খুব স্বাদ তাই খেতে চলে আসি,,,আপনি খেয়ে দেখতে পারেন।
--থাক আর মিথ্যা বলতে হবে না,,,আমি জানি এই খানকার চা কত টা ভাল সেটা আমার জানা আছে,,,
এই বার ফারুক একটু ভয় পেয়ে গেল তার মিথ্যা টা ধরা পড়ে গেল,,,নিচের দিকে তাকিয়ে আছে ফারুক,,,আর জান্নাত রাগী ভাবে তাকিয়ে আছে ফারুকের দিকে,,, জান্নাত বলল,,
--আমার দিকে তাকাও
--.............?
--কাল সকাল ১০টায় স্টেডিয়াম এর পাশে দেখা করবা ঠিক আছে?
--ঠিক আছে,,,কিন্তু কেন?
--ওই খানে একটা চায়ের দোকান আছে যার চা খুব স্বাদ তোমাকে সে খানের চা খাওয়াব তারপর দেখব ওই খানে কয়দিন যাই চা খাও,,(মুচকি হেসে)
---ওকে,,,কিন্তু প্রতিদিন যান যদি সাথে তুমি ও থাক,,,,,
--বাই কাল দেখা হবে আর ১০টার বেশি ১০.০১ এ আসলে ও আমাকে পাবা না,,
-- ঠিক আছে,,,
৪.
বাসায় এসে না খেয়েই ১০ টায় ঘুমিয়ে পড়ে কারণ সকাল ৯ টাই উঠতে হবে না হলে যে খবর আছে একটু পর ফারুকের আম্মু আসে রুমে আর বলে,,,
---কি রে বাবা,তোর কি শরীর খারাপ??
--না কেন মা??
--- না যে তুই রাত ৩-৪ টার আগে ঘরে আসিস না সেই তুই ৯টায় ঘরে আসলি ১০ টায় ঘুমাচ্চিস ব্যাপার কি??
--কিছু না মা তুমি যাও তো সকালে কাজ আছে,,,
বলেই ফারুক কাথা গায়ে ঘুমিয়ে পড়ল,,,,,,,,,
- সকাল ৯.৩০ এ সে এসে স্টেডিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটু পর জান্নাত আসল কিন্তু ওকে দেখার পর ফারুক হা হয়ে গেল,,,সবুজ শাড়ী আর হিজাবে জান্নাত কে এত টা সুন্দর লাগতেছে যে,,যে কেউ দেখলে হা করে যাবে,,,,
- --ওই হা করে আছো কেনন মাছি ঢুকে যাবে,,,,
- ---এত সুন্দর কেন তুমি???
- ---সেটা জানি না,,,,চল চা খাইইতে যাই
- --হুম চল দেখি কেমন চা খাওয়াও তুমি,
- পাশে একটা ছোট্ট চায়ের দোকান এক মহিলা চা বানাচ্ছে জান্নাত মহিলা কে বলল খালা ২ কাপ চা চা দেন তো?
- চা টা খেয়ে দেখলাম সেইরাম, মনটাই ভরে গেল,,মনে ভাবছি আজ কে ওকে মনের কথাটা বলেই দি,,যা হবার পরে হবে ,,,
---জান্নাত একটা কথা বলি???
---হুম বল,,,
--কিছু মনে করবা নাতো??
---কিছু মনে করলে কি বলবা না??
--না সেটা না,,
--তাহলে বলে ফেল,
--তুমি আমার সাথে এই ভাবে সারা জীবন চা খেতে রাজি আছো কি?
---হুন বন্ধুত্ব যখন হয়েছে তো সারা জীবন খেতেই পারি সমস্যা নাই।
---আর এ সে ভাবে না তো??
--তো কিভাবে??
--কোন একমষুল বৃষ্টির দিনে বিকালে,,দু জন পাশাপাশি এক কাপে সারাজীবন চা খেতে চাই,,,আই লাভ ইউ জান্নাত,
-- কি কায়দা,,,আমি মনে হয় একমাত্র মেয়ে যাকে চা দিয়ে কেউ প্রোপজ করতেছে,,,
*--হুম প্লিজ তুমি আমায় ফিরিয়ে দিও না,,,
ওকে এত করে যখন বলছ আমাকে একটু সময় দাও ভেবে দেখি,,
--হুম এইসব ব্যাপারে একটু ভেবে নেয়া দরকার,,ওকে ৫ মিনিট টাইম দিলাম ভেবে দেখ তারপর উত্তর দাও!!
---অরের বাবা এত টাইম?? ৫ মিনিট বেশি হয়ে গেলল না??
-- হুম,,
--ওকে,,এই বার বল,,
--কি?
--সবাই তাদের জিএফ কে যা বলে তা,,,
--অহহ,,,আই লাভ ইউ,,
-- না এইভাবে বললে হবে না,,
-- তাহলে???
--- আমি বলতেছি দেখ,,
-- হুম
--আই,,,,??
--লাভ...??
-- ইউ..?
--টু,,
এইবার থেকে এইভাবে বলবা সব সময় ঠিক আছে??
--অকে মহারানী,,,
৫.
শুরু হল ফারুক জান্নাতের নতুন এক পথ চলা,,,হাসি খুশি,মজা,বিশ্বাস আর অফুরন্ত ভালবাসা,,,ফারুক জান্নাত কে নিজের জীবন এর থেকে বেশি ভালবাসে কিন্তু জান্নাত যেন কেমন ওর মাঝে কোন সিরিয়াসনেস নেই,,,মাঝে মধ্যে ৫-৬ দিন কথা বলে না ফারুকের সাথে অনেক বার জিজ্ঞাসা করেও ফারুক কোন উত্তর খুজে পায় নি,,,,
১ সপ্তাহ পর,,,,,
--পরশু আমরা একটা জায়গায় যাব,,
--ঘুরতে,,
--কিন্তু যাব টা কোথায় সেতা তোম বল জান্নাত??
--সেটা না হয় দেখতেই পাবা??
--তোমার গাড়ী আনতে হবে না আমরা বাদে যাব
--ওকে,,
--আর এই ব্যাপারে কাউ কে কিছু বলার দরকার নাই,,,এখন যাই কাজ আছে,,,,
--ওকে,,,একবার বলবে??
--কি??
--আই,,
--লাভ--
--ইউ
--টু,,বাই,,,
জান্নাতের মানা করা শর্তেও ফারুক মারুফ কে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে,,
২ দিন পর,,,
ফারুক আর জান্নাত রওনা দিল,,,,জান্নাতের কাধে একটা ব্যাগ তার মধ্যে দড়ি,ফারুক জিজ্ঞাসা করল দড়ি কেন কিন্তু জান্নাত কোন উত্তর দিক না,,ঢাকার পাশে একটা জনমানবহীন জায়গা আশেপাশে কোন বাড়ি ঘর নাই বিশাল।মাঠের মধ্যে একটা টিনের ঘর,,,, ফারুক বলল--এইটা কেমন ঘুরার জায়গা??,,সারপ্রাইজ দিবা ভাবছিলা তাই না??
*-হা আরও অনেক বড় সারপ্রাইজ আছে আসো,,
,,,
(চলবে)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ