নাম : টুইস্ট
.
.
Shutter island মুভিটা দেখেছেন ? আমার লাইফে
যতগুলো মুভি দেখেছি এই "শাটার
আইসল্যান্ডে"র টুইস্ট টা আমাকে সবথেকে
বেশি চমকে দিয়েছিলো।
লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও তাহলে মানসিক রোগী !!!!
টুইস্টটা হজম করতে আমার যথেষ্ট কষ্ট
হয়েছিলো। আসলে এই মুভিটা আমাকে যতটা
অবাক করেছিলো আজকে তার থেকেও দ্বিগুণ
অবাক করলো এমি। যদিও ব্যপারটা একটু উল্টো।
.
একমাস প্রেমের পর ও এখন এসে বলছে ওর
মানসিক রোগ ছিলোই না তখন অবাক হবার চেয়ে
রাগ হওয়াটাই স্বাভাবিক। সেটাও যদি আবার ভালোবাসার
মানুষটির কাছ থেকে শুনতে হয় তো !! অত্যধিক
রেগে গেলে আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ে।
আমার বাম চোখে পানি আসতে শুরু করেছে।
এমির বাম গালে খুব জোড়ে একটা চড় দিলাম। ওর
হাসি হাসি মুখটা মূহুর্তেই কান্না কান্না মুখে রূপান্তরিত
হলো।
- কি ভাবো তুমি নিজেকে !! এভাবে নাটকটা না
করলে হতো না ?? এইটা তোমার ভালোবাসা !!
তুমি আসলে একটা .... একটা ....
রাগে কথা বলতে পারছিনা। বাসার রাস্তা ধরলাম।
পেছন ফিরে ওকে দেখার ইচ্ছা হলেও নিজের
মনকে শান্ত রাখলাম।
.
বাসায় এসে সরাসরি নিজের রুমে চললাম। এটা
কোনো কথা !! একমাস প্রেম করার পর বলে
কিনা কোনো সমস্যা ছিলো না। ক্রিং ক্রিং ..
এমির ফোন। আবার কোন দুঃখে ফোন দিলো
আল্লাহই জানে।
- কি হয়েছে, ফোন দিয়েছো কেনো?
(রেগে)
- আমার কথাতো শুনবা (কাঁদছে)
- তোমার এখনো কথা শেষ হয়নি !! আবার
কোন ভেল্কি বাঁকি রেখেছো শুনি।
- আমি তোমার জন্য এমনটা করেছি।
- চুপ। আর একটাও কথা নয়। আর ভুলেও আমাকে
ফোন দিবি না।
অনেকটা রেগেই কথাগুলো বলে ফোন
কেটে দিলাম।
.
একমাস আগে আব্বু বাসাটা তিনতালা করায় আমার বাতাস
খেতে একটু সুবিধা হলো। রাত্রিবেলা খাওয়াদাওয়ার
পর চেয়ার নিয়ে ছাদে বসাটা অভ্যেস করে
ফেলেছিলাম। কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে গান
শুনতে দারুণ লাগতো সেই নিশুতি রাতটায়। মাঝে
মাঝে গলা ছেড়ে গান ও গাইতাম। ঠিক এরই মধ্যে
একদিন তিথি এসে বললো, ভাইয়া তোর সাথে
একজন দেখা করতে চায়। আমি বললাম, কে
সে ?? তিথি বললো, পাশের বাসার এশা আপু। তুই
তো চিনবি না। আমি আর আম্মু প্রায়ই ওদের সাথে
গল্প করি। আমি একটু অবাক হলাম।
মেয়ে মানুষে আমার যথেষ্ট অ্যালার্জি আছে।
মেয়েদের সামনেই আমার কথাগুলো কেমন
জানি এলোমেলো হয়ে যায়। আচ্ছা যা নিয়ে
আয়।
.
.
প্রথমে কথাগুলো শুনে আমি ভেবেছিলাম মজা
করছে। এশা নামের মেয়েটি আমাকে বলছে,
ওর বড় বোনের মানসিক সমস্যা আছে। আর
আমিই নাকি সেই সমস্যা তাড়াতে পারি।
- তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে। আমাকে দেখে
তোমার ডাক্তার মনে হয় ?
- আসলে তা নয়। ব্যপারটা অন্যখানে।
- কোনখানে !!
- আপনি প্রতিদিন রাতে ছাদে গান গাইতেন মনে
আছে ?
- একটু গলা খাকারি দিয়ে বললাম হুম।
- যদিও আপনার গানের গলা আমার কাছে অতটা
ভালো লাগেনি কিন্তু আমার আপু আপনার গান
ভীষণ পছন্দ করেছে। আসলে যে ডাক্তার
আপুর ট্রিটমেন্ট করে উনি বলেছে আমার আপুর
পছন্দের কোনো কাজ করলে উনার ভালো
হবার সম্ভাবনা আছে।
- কথাগুলো শুনে মনে হচ্ছিলো রান্নাঘর
থেকে তরকারি রান্না করা হাতা এনে পিটাই। আমার গলা
ভালো লাগেনি আবার আমার কাছেই এসেছে
হুহহ। গান শুনে মানসিক সমস্যা যাবে এইটা
বিশ্বাসযোগ্য !! আমার তবুও মন কেমন সায়
দিলো। আমি ভেবে বললাম, আচ্ছা আমি একটু
ভেবে দেখি।
.
ইশশশ কেনো যে তখন এই মজাটা বুঝিনাই।
তখনই মনে হয়েছিলো হয়তো মজাই করছে
এরা। লাইফে মেয়েদের সাথে কথা বলতে দ্বিধা
কাজ করে বলে কত কথা শুনেছি। এখন একজনকে
ভালোবাসলাম সেও আবার মিথ্যে বলে!!
এমন দুঃখ কই রাখবো ??
.
তারপর প্রতিদিন বিকেল বেলা এমি মেয়েটার সাথে
কাটাতে হয়। মাঝে মাঝে কোনো কারণে না
যেতে পারলে রেগে নাকি রুমের যা তা অবস্থা
করে বসে। মাঝে মাঝে অবশ্য মেয়েটা
বলে, চলুন ঘুরে আসি। প্রথমে একদিন না
করেছিলাম। তারপর তো আমার ফেভারিট শার্টের
বোতামটাই নাই করে দিলো। মেয়েদের
সাথে কথা বলার অ্যালার্জিটা পুরোমাত্রায় কমে
গেছে। এখন স্বাচ্ছন্দপূর্ণ ভাবেই কথা বলতে
পারি। মাঝে মাঝে রিক্সা তে মেয়েটা পছন্দের
কিছু দেখলে বাচ্চাদের মতো করে উঠে। ওর
বাচ্চা বাচ্চা আচরণ গুলো খুব সহজেই আমার
মষ্তিস্কে ডালপালা মেলতে লাগলো। ওকে
ভালোলাগার পর থেকে আরো বেশি সময়
দিতে লাগলাম।
ধীরে ধীরে ও নাকি সুস্থ হয়ে উঠছিলো।
আমার সাথেও অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ
করছিলো। তারপর হঠাৎ একদিন পকেটে একটা চিঠি
গুজে দিলো।
চিঠিতে লিখা ছিলো, আপনার জন্যই আজ আমি
সম্পূর্ণ সুস্থ। আপনার কিছু বলার আছে ??
.
সারারাত ভাবলাম এই প্রশ্নটা ছিলো কেনো ??
আমি যে ওকে ভালোবেসে ফেলেছি এইটা কি
ও জানে ? নাকি ও আমাকে ভালোবাসে তাই আমার
মুখ থেকে শুনতে চাচ্ছে !! টুং করে একটা
মেসেজ আসলো। এরমধ্যে অবশ্য ফোন
নম্বর ও আদানপ্রদান হয়েছে। মেসেজে লিখা
ছিলো, "বলদ"!! আমি হতভম্ব হয়ে মেসেজটার
দিকে তাকিয়ে রইলাম। প্রচন্ড অবাক হলেও বুঝে
নিলাম এই কথার মর্ম।
.
.
এমির হাত আমি ধরে আছি। এতো নরম হাত !! ও
অবশ্য দুষ্টুমী করে হাতের তালুতে সুড়সুড়ি
দিচ্ছে। আঙুলে আঙুলে প্রেম চলছে। মাঝে
মাঝে বাতাস ওর চুল উড়িয়ে আমায় সেই সৌন্দর্য
উপভোগ করবার সুযোগ দিচ্ছে। কল্পনাতেও
ভাবিনী এইভাবে কারো প্রেমে পড়বো !!
কেউ আমাকে ভালোবাসবে !!
প্রতিদিন এভাবেই মেসেন্জার থেকে ছাদ, ছাদ
থেকে নদীর পাড়, নদীর পাড় থেকে
ইচ্ছেমতো সব জায়গায় চলছে দুজনের পদচারণ।
কখনো একটুখানি অভিমান, রাগ, একজন
আরেকজনকে জেলাস ফিল করানো, নিজেদের
ক্রাশের কথা বলে এক জন আরেক জন কে
রাগিয়ে দেয়া, দিনে চৌদ্দবার ব্রেকআপ, একজন রাগ
করলে অন্যজনের সেই রাগ ভাঙানোর আপ্রাণ
চেষ্টা। অবশ্য আমাকেই ওর রাগ অভিমান বেশি
ভাঙাতে হতো। মেয়ে মানুষ তো, ঢং একটু
বেশীই জানে।
.
গত কয়েকদিন থেকেই ওর আচরণ স্বাভাবিক
ছিলো না। ওকে জিজ্ঞেস করার পরেও বলছে
না। আজ অনেকটা অপ্রস্তুত থেকে আমার
জোর করার জন্য বলে দিলো। বলার পর আমার
দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো, স্যরি। তারপর
কি হলো জানেনই তো.........
.
বারবার মেসেন্জারে ওর পাঠানো
মেসেজগুলো দেখছি। নতুন, পুরোনো সব
মেসেজগুলোই বুকটার ভেতরে একটা
মোচড়ের সৃষ্টি করেছে। স্যরি লিখে লিখে
মেসেজ পাঠাচ্ছে।
.
গত এক সপ্তাহ ধরে ওর কোনো খোঁজ
নেই। না মেসেজ, না কল, না ছাদে....
বিকেলে এশার সাথে দেখা।
- এই তোমার আপু কোথায় ?
- চুপ
- কি হলো !! উত্তর দাও।
- আপনি হয়তো আপুকে আর বিশ্বাস করবেন না।
তাই বলতে চাই না।
- আচ্ছা কি হয়েছে ওর বলবা তো...
- আপুর এবার সত্যিই মানসিক অসুখ ধরেছে ভাইয়া।
আপনার সাথে মজা করার জন্যই হয়তো এবার সত্যি
এমনটা হলো। গতদিন সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে নিয়ে
গিয়েছিলো আব্বু আম্মু। ওই যে পাশের এলাকার
রাজবাড়িতে বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে গিয়ে নাকি
এমনটা হয়েছে সবাই বলছে। গতদিন বড়
মসজিদের ইমাম সাহেব ও তাই বললেন। কাল
আপুকে নিয়ে অন্য এক হুজুরের কাছে যাবো।
- কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললাম,আচ্ছা যাও।
.
.
মাথা কাজ করছে না। এমির মায়াবী মুখটা ভাসছে
চোখের সামনে। ওর গভীর চোখদুটো,
চোখের মধ্যে সে গভীরতা টের পাচ্ছি।
রূপকথার রাপান্জেলের মতো লম্বা ঘন চুল ওর
সৌন্দর্যে প্রতিনিয়ত আমাকে ডুবিয়ে মেরেছে।
ওর দুষ্টু হাসিটা কানে বাজছে....
.
পরদিন সকালে বাসার বাইরে দাঁড়িয়ে আছি। এমিকে
এই কদিন দেখতে না পেয়ে নিজেকে স্থির
রাখতে পারছিনা।
ওর বাবা,মা, ভাই,বোন বেরিয়ে এলো।
এমিকে ওর মা, বোন ধরে রেখেছে।
চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে। মুখে সেই
চিরনতুন হাসিটা মলিন হয়ে গেছে। আমার বুকটা ধক
করে উঠলো। সেদিনই ওরকম রিয়্যাক্ট না করলে
হয়তো আর এমন হতো না ....
আমার দিকে কেমন যেনো রাগি চোখে
তাকিয়ে আছে এমি। এইবার তো মনে হচ্ছে
সত্যি সত্যি অসুখ বেঁধেছে। আমি একটু হাসি
দেবার চেষ্টা করলাম। কিন্তু দাঁত খিঁচিয়ে উঠলো
আমাকে দেখে। আমি নিশ্চিত হলাম ওর মানসিক
সমস্যা হয়েছে।
- আসসালামুআলাইকুম আন্টি।
- ওয়ালাইকুমআসসালাম। কেমন আছো আব্বু ?
- জি ভালো। কোথায় যাচ্ছেন ?
- গ্রামের বাসাতে। এমির শরীরটা একটু খারাপ। একটু
আবহাওয়া চেন্জ করলে শরীরটা ভালো হবে
ডাক্তার বলেছে।
- ওওও....কবে ফিরবেন ?
- তোমার আংকেলের অফিস ছুটি তেমন নাই।
তাড়াতাড়িই ফিরবো।
.
আজ দিয়ে চারদিন হলো এমিকে দেখিনাই।
কয়েকবার ফোন দিলাম। কেউ রিসিভ করে নাই।
অনেকক্ষণ পর এশা ফোন করেছে...
এমি নাকি একটু সুস্থ তবে পাগলামি নাকি এখনো
আছে। আগামীকাল ফিরবে।
.
আন্টিরা ফিরতেই আমি ওদের বাসায় গেলাম। এমির
শুকনো মুখটা দেখে ইচ্ছে করছে ওকে
জড়িয়ে ধরি। চাইলেই তো আর সম্ভব না।
সোফায় বসে আরাম করে কার্টুন দেখছে।
অথচ মেয়েটা সারাদিন জারা লারসন, টেইলর
সুইফটের গান শুনতো। কিছুদিন পর এশা বললো,
অনেক পরিচিত জিনিস ও ভুলে যাচ্ছে । ভাইয়া কাল
একবার পার্কে আসবেন, প্লিজ ?
আপু আপনার সাথে থাকলে হয়তো একটু ভালো
অনুভব করবে। আমিও হয়তো এমনটাই চাইছিলাম।
আমি মাথা নাড়িয়ে চলে এলাম।
.
এমির পাশে বসে আছি। এশা সম্ভবত সাজিয়ে
দিয়েছে। কালো রংয়ের শাড়ি পড়ে এসেছে।
এশার অনুরোধ বললে ভুল হবে, আমার নিজের ও
ইচ্ছা ছিলো বৈকি। কতদিন ওর হাসিটা দেখিনী, ওর
কথাগুলো শুনিনি।
ও চুপ করে আছে, হাতে কয়েকটা ঘাসফুল।
আমার হাতে একটা ধরিয়ে দিলো বাচ্চাদের
মতো।
- তুমি গল্প জানো ? (এমি)
- ইশশশ কতদিন পর সেই পরিচিত কন্ঠে কথা
শুনলাম। একদম বাচ্চা বাচ্চা কন্ঠ।
- না তো। তুমি জানো ?
- হুমমমমম। তুমি কি পারো ?
- আমি গান গাইতে পারি। শুনবা ?
- হুমম শুনবো
....
Nobody sees, nobody knows,
We are a secret can't be exposed.
That's how it is, that's how it goes,
Far from the others, close to each other.
.
In the daylight, in the daylight,
When the sun is shining,
On the late night, on the late night,
When the moon is blinding.
In the plain sight, plain sight,
Like stars in hiding,
You and I burn on, on.
.
Put two and together, forever we'll never change
Two and together we'll never change
.
.
.
- এই তোমার গানের গলাটা আরো সুন্দর হলো
কি করে ? আমাকে খুব মিস করেছো তাইনা ?
সেজন্য বুঝি বিরহের গান প্র্যাক্টিস করেছো
বলেই হিহি করে হেসে উঠলো এমি।
- আমি অবাক হয়ে বললাম মানে ?? তারমানে তুমি ....
তারমানে তুমি ঠিক আছো !!
- আমার কিছুই হয়নি বলেই আমাকে জোরে
জড়িয়ে ধরলো। শুরু থেকেই সবটুকুই নাটক
ছিলো। তোমার জন্যই আবার নাটকটা করতে
হলো। তোমাকে আর যেতে দিচ্ছি না হিহিহিহি....
আমার আনন্দ লাগছে ঠিকি তবুও একটু অস্থির,
উত্তেজিত, ভালোলাগা আর রাগি মুড নিয়ে উপরে
তাকিয়ে বললাম,
এই মেয়ে শোধরাবেনা !!
.
লিখা : আলমির শাকিল
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻļāύিāĻŦাāϰ, ⧍ āϏেāĻĒ্āĻেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
727
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
⧝:ā§Ēā§Ŧ PM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ