āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ā§Šā§§ āĻ…āĻ•্āϟোāĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

3555

ষষ্ট শ্রেণীতে থাকতে যখন বাবা হারিয়ে লেখাপড়া ছেড়ে কাজের দিকে হাত বাড়িয়েছিলাম,সেদিন দেখেছি স্যারদের ভালবাসা।
.
খুব গরীব পরিবারের সন্তান হলেও,লেখাপড়ায় ছিলাম সবার চেয়ে এগিয়ে।কিন্তু ভাগ্যের খেলায় ষষ্ট শ্রেণীতে উঠেই বাবাকে হারাই।তখন ফ্যামিলির একমাত্র শেষ সম্বল আমি,তাই লেখাপড়া বাদ দিয়ে কাজে লেগে গেলাম।ভালো ছাত্রের সুবাদে স্যারদের কাছে একটু বেশীই প্রিয় ছিলাম।সেটাই হয়তো আমার ভাগ্যের চাকাকে আরো একবার ঘুরাতে সাহায্য করলো।স্কুলে আমার অনুউপস্থিতি স্যারদের চোখে পরলো।প্রিন্সিপাল স্যার ব্যাপারটা জানলে স্কুলে আমায় ডেকে পাঠালেন।আমি স্যারের সম্মান রক্ষার্থে মাকে সাথে করে স্কুলের দিকে পা বাড়ালাম।পৌছে যখন প্রিন্সিপাল স্যার "স্কুলে না আসার কারণ" জিজ্ঞাসা করলো,তখন মা চোখের পানি আটকাতে না পেরে পরিবারের অবস্থা স্যারকে বললেন।স্যার শুনে শুধু একটা মুচকি হাসি দিয়েছিলেন।তারপর সব স্যারদের সাথে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিলেন,সকল স্যারদের বেতন থেকে অল্প কিছু টাকা কেটে আমাদের পরিবার এবং লেখাপড়ার জন্য দেওয়া হবে।ব্যাস..সেদিন থেকে বদলে গেলো জীবন,বদলে গেলাম আমি।লেখাপড়ার প্রতি মনযোগ যেন আরো দ্বিগুণ হয়ে গেলো।সেই মনযোগ অনার্স পর্যন্ত সচল রেখে ভালো একিটা জব জয়েন করলাম।আমার জবের কথা শুনে যখন স্যারদের মুখে এক অদ্ভুত হাসি দেখলাম,তখন নিজের অজান্তেই মনের মাঝে শীতল হাওয়া বয়ে গেলো।
"জিবনে কিছু কিছু জিনিশ শোধ করা যায়না,স্মৃতি করে শুধু বুকের মাঝে রেখে দিতে হয়।"এই দুনিয়ায় যদি বাবা-মায়ের পর কেউ ভালবাসতে পারে সেটা "স্যার।"
স্যারদের সামনে গিয়ে হয়তো কখনো বলতে পারবোনা,তাই ছোট্ট এই সুযোগের মধ্য দিয়েই বলছি "লাভ্ ইউ স্যার"।
.
.
.
গল্পঃ ''স্বার্থহীন''
লেখা: মোস্তাকিন আলম শান্ত (অশ্রুসিক্ত লেখক)

3554

সকালে মীমের আম্মুকে ফোন দিয়ে বল্লাম, আচ্ছা, তুমি যখন নার্স হবা তখনতো রোগি আর হাসপাতাল নিয়েই ব্যাস্ত থাকবা। আমাকেতো সময়ই দিবানা তাইনা??
মীমের আম্মু বলল, তা ঠিক!
আমি বল্লাম,তখন আমি কি করবো জানো?
মীমের আম্মু জিজ্ঞাসা করল, কি করবা?
আমি বল্লাম, ছাদঁ থেকে লাফিয়ে ঠ্যাং ভেঙ্গে তোমারই হাসপাতালে ভর্তি হবো।অন্তত, বর হিসাবে নাহোক রোগী হিসাবেতো তোমার একটু সেবা পাবো।
মীমের আম্মু তখন বল্লো, আসিও,ঠ্যাং কেটে হাতে ধরিয়ে দিবো।
.
#উপ্স_কিসাংঘাতিক!

3553

গল্প: #টিজ
.....
- এই যে মিস পাউডার সুন্দরী..(আমি)
- কিহহহ..আমি পাউডার সুন্দরী মানে? মি. ভালো ভাবে কথা বলবেন। (নিশি)
- ওকে..i love you. (আমি)
- কিহহহহহ..
- আরে এর মানেটা যেনো কি? আসলে আপনি যদি এর মানেটা বলে দিতেন।
- আমি তোমাকে ভালোবাসি। (নিশি)
- সত্যিই..আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি।
- মানে কি?
- আরে তুমিই তো বললে. আমাকে ভালোবাসো।
- চুপপ..আপনাকে কেন বলতে যাবো? আমি তো মানেটা বললাম। ইডিয়েট একটা..

কথাটি বলে নিশি চলে গেল। আর আমি ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি হাসতে হাসতে। নিশিকে আমি সত্যিই ভালোবাসি। কিন্তু সে আমাকে পাত্তায় দেয় না। কারন আমি তার কাছে বেয়াদপ একটা ছেলে। টিজ করে বেড়ায় আমি।

নিশিকে প্রথম যেদিন দেখি। সেদিন লম্বা চুলের সাথে মাথায় কালো ওড়না দিয়ে কলেজে এসেছিলো। চোখের ভ্রুতে অল্প একটু কাজল। লম্বাচুলের কয়েক গাছি চুল সামনে এসে পড়েছিলো। সামনে দিয়ে যখন যাচ্ছিলো তখন অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম নিশিকে। সেদিন টিজ করিনি। তবে রোজ তাকে দেখি আর আসতে আসতে টিজ করতে থাকি।

- কিরে দোস্ত ক্লাসে যাবি না? হাবার মত দাড়িয়ে না থেকে চল ক্লাসে যায়। (ফাহিম)

ফাহিমের কথা শুনে ক্লাসের দিকে গেলাম। নিশি অনার্স প্রথম বর্ষে আর আমি ২য়।
তাই আগে ওকে দেখিনি।

(ক্লাস শেষে)

ক্লাস শেষ করে যখন বাইরে আসলাম তখন দেখি নিশি ক্যামপাসে বসে আছে। দৌড়ে তার কাছে গেলাম।
- নিশি...
- আবার আপনি? আপনাকে না বলেছি আমার সামনে আসবেন না। তবুও বারবার কেনো আসেন?
- ভালোবাসি তো তাই আসি।
- কিসের ভালোবাসা? বেয়াদপ ছেলে একটা।
চুপ করে দাড়িয়ে থাকলাম। তখনি মনে হল আরো একটু টিজ করি। তাই বললাম..
- নিশি. চলো প্রেম করি।
- কিহহ..
- চলো হারিয়ে যায় শীতের কুয়াশার মাঝে। তুমি আমার হাতে হাত রেখে হাটবে সারা সকাল। সকাল শেষে তুমি দিবে আমায় ধোয়া ওঠা এক কাপ গরম চা। সেই চায়ে চুমুক দিতে দিতে বুনবো আমরা হাজারো স্বপ্ন।
- আহহহারে...বেচারা..আর কোনোদিন যদি আপনি আমার সামনে আসেন। তো আপনার খবর আছে।
- আটটার খবর?  নাকি ১০ টার?
- হুটট..
- হিহিহিহি

নিশি আর কিছু না বলে রাগ দেখিয়ে চলে গেলো। আমি আবারো তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি। কি থেকে কি হয়ে গেলো? এত মেয়েকে টিজ করলাম অথচ কারো মায়াতে পড়লাম না। আর এই নিশির মায়ার সাগরে নৌকা ছাড়াই পড়ে গেছি। এখন সাঁতরিয়ে পাড়ে উঠার চেষ্টা করছি। কিন্তু কিছুতেই হচ্ছে না।  বরং তাকে দেখলে আরো গভীরে ডুপ মেরে বসছি।

বালিকা,  কি মায়াতে ফেললা তুমি।
তোমায় ভেবে সারা বেলা কাটাচ্ছি আমি।
- রাফিন কবিতা না বলে বাসায় চল (ফাহিম)
- ওহ হুমম..চল বাসায় যায়। (আমি)
.
(পরেরদিন)
.
ক্যামপাসে বসে আছি। তখনি দেখি নিশি আসছে ওর বান্ধবিদের সাথে ।  দৌড়ে ওর সামনে গেলাম।
- আবার আপনি? কাল না বললাম আর আসবেন না। তবুও..

কিছু বললাম না। হুট করেই নিশির হাতটা ধরলাম। তখনি বললাম..
- বালিকা. ক্ষতি কী..?
পড়ন্ত বিকেলে ছাদে এসে আমার কথা ভেবে.
প্রকৃতি দেখো যদি?
- হাত ছাড়ুন বলছি..
- ভালোবাসবে তো...?
- হাত ছাড়তে বললাম না..

নিশির চোখের দিকে তাকালাম। সেই চোখে অজস্র রাগ জমে আছে। যে রাগের স্ফুলিঙ্গে আমি হয়ত ভস্ব হয়ে যাবো। তাই ভয়ে ছেড়ে দিলাম।
- যদি আর কোনোদিন আমার সামনে আসেন। আপনার খারাপ হবে বলে দিলাম
বেয়াদপ ছেলে,,ইডিয়েট, ছ্যাছড়া।

কথাগুলো বলে নিশি হনহন করে চলে গেলো। আর আমি চেয়ে রইলাম। এমন গালি কত শুনি আমি।  তাই সব সহে গেছে।
.
কয়েকদিন পর ক্যামপাসে বসে আছি।
তখনি দেখলাম, কালো উড়না মাতায় দিয়ে নিশি আসছে। তাই আমি ওর সামনে গেলাম..
- নিশি..
- আজকেও...? তো বলেন..
- আমাদের জাতীয় সংগীতের সেকেন্ড লাইনটা না ভুলে গেছি, যদি একটু বলতা..?
- মানে..
- সেটাই তো বুঝতে পারছি না। বলোতো..
- আমি তোমায় ভালোবাসি।
- সত্যিই..? চলো..
- মানে..কোথায় যাবো?
- আরে ভালোবাসি বললে না.? তো চলো বিয়ে করে ফেলি।
কথাটি বলে যেই না নিশিরা হাত ধরলাম..
- ঠাসসসস..ঠাসসসসস..আর কোনোদির যদি তুই আমার সামনে আসিস। তাহলে আমি সুইসাইড করবো।
বেয়াদপ ছেলে একটা..তোর বোনকে যদি এমন করতো কেউ কি করতি? ছ্যাঁচোড় একটা...ধুররর হ..

নিশি কথাগুলো বলে চলে গেলো। আর আমি তার চলে যাওয়ার দিকে তাকালাম। কখন যে চোখ দিয়ে পানি পড়ে গেলো বুঝিনি। আজ খুব কষ্ট পেলাম। আসলে এভাবে কেউ এর আগে বলেনি তো তাই..
আমি আর কোনোদিক না তাকিয়ে সোজা বাসার দিকে দৌড় দিলাম। কেমন যেন সব এলোমেলো লাগছে।
.
আজ তিনদিন হল কলেজে যায় না..কিন্তু ফাহিম এসে আজ জোর করে ধরে নিয়ে গেল কলেজে।
ক্যামপাসে বসে আছি। তখনি দেখি নিশি আমাদের দিকে আসছে। এটা দেখে ফাহিম চলে গেলো। আমি নিশির দিকে তাকিয়ে আছি। কাছে আসতেই সে বললো..

- রাফিন, আসলে...(নিশি)
- আসলে নিশি আমি তোমার সামনে আসতে চাইনি। আমি তো কলেজেই আসতে চাইনি আজ। কিন্তু ফাহিমের জন্য এসব হল। সরি..
- রাফিন, আমি আসলে বলতে......
- আচ্ছা,  আজ কিছু বলি আমি? প্রমিস করছি আমি আর তোমার সামনে আসবো না। সত্যিই বলছি..
-...... (চেয়ে আছে আমার দিকে)
- আসলে তোমার কথায় সেদিন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। জানো আমি এমন ছিলাম না  কিন্তু হয়ে গেছি। এটার জন্য দায়ী আমার পরিবার।
একটা সন্তান মানুষের মত মানুষ হয় তার পরিবারের থেকে শিক্ষা গ্রহন করে। কিন্তু আমি সেটা পাইনি।

তাদের থেকে শিক্ষা নেয়া দুরে থাক, তারা আমাকে জিগাসও করে না কি করি সারাদিন।
এমন কোনো দিন বা রাত নেই, আমার আব্বু আম্মু ঝগড়া করে না। রোজ যখন পড়তে বসি তখনি ওদের শুরু হয় গন্ডোগোল। সারাটা রাত প্রায় চলতে থাকে এমন। আমি খেয়েছি কিনা সেটা তারা জানে না। খোজও নেয় না আমার। আমি পাড়াতে বেয়াদপি করে সেটাও তারা জানে না। জানে তারা একে অপরের থেকে কিভাবে জিতবে?

আসলে নিশি, ভালো হওয়ার জন্য দরকার পরিবারের শাষন। দরকার হয় পরিবারের ভালোবাসা। কিন্তু আমি সেটা পাইনি। তাই নিজের মত করে চলি। যা মন চাই তাই করি। আমি সরি তোমাকে টিজ করার জন্য,  আর কোনোদিন তোমার সামনে আসবো না।
.
কথাগুলো বলে নিশির থেকে চলে আসলাম। কিছু ভালো লাগছে না। কেন আমার সাথে এমন হয়?

বাসায় এসে দেখলাম, আম্মু আব্বু আগের মত ঝগড়া করছে.. মাথায় রাগ উঠে গেলো..বললাম.
- আম্মু চুপ করো..আর কতদিন এমন করবা?
-.....
- আব্বু প্লীজ থামো তোমরা,,এমন রোজ রোজ আর ভালো লাগে না।
-......
- থামবে তোমরা...? (চিৎকার করে)
ঠিক তখনি সবাই চুপ হয়ে গেলো। অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে সবাই।
- কি সমস্যাটা কি তোমাদের? রোজ এমনটা করো তোমরা। তোমাদের কি কোনোদিন কষ্ট হয় না? একবারো কি ভাবো আমার কথা?
- তোর হাত খরচের জন্য তো রোজ টাকা দিই। (আব্বু)
- হাহাহাা...দাও,, তবে কোনোদিন খোজ নাও আমার ব্যাপারে? কোনদিন জানতে চাও আমি কি করি না করি? কোনোদিন জিগাস করেছো তোমরা, আমি খেয়েছি কি না সময় মত? করোনি কিছুই,,টাকাই সব না আব্বু,,। আমি তো রোজ টাকা চাইনা তোমাদের কাছে, চাই একটু ভালোবাসা, একটু কেয়ার। কিন্তু সেটা তোমরা দাও না। তাও খালি কষ্টের পাহাড় একটা। এতই যখন অবহেলাতে রাখবে তখন জন্ম কেনো দিছিলে তোমরা? ওকে ফাইন, আমি আজিই সুইসাইড করবো..

কথাগুলো বলে রুমে এসে সটাং করে দরজাটা আটকে দিলাম। মনে হচ্ছে মেরে ফেলি নিজেকে। তখনি..
- বাবু দরজা খোল.. (আম্মু)
- রাফিন দরজা খোল বাবা..(আব্বু)

যেয়ে দরজা খুলে দিলাম। তখনি আম্মু কাদতে কাদতে আমাকে জড়িয়ে ধরলো..
- বাবা সরি রে, আসলে আমি আর তোর বাবা কোনোদিন তোকে খোজ নেয়নি। আসলে আমরা বুঝিনি আমাদের ছেলেটা এতটা একাকিত্বের মাঝে থাকে।
- সরি রাফিন, আমাদের প্লীজ মাফ করে দে। আমরা বুঝিনি..(আব্বু)

ওনাদের জড়িয়ে ধরে কেদে দিলাম। তখনি কেমন যেন শান্তির আভাস ছড়িয়ে গেলো মনে।
..
(দুইদিন পর)
..
- এই যে মি. টিজার.. (নিশি)

ক্যামপাসে বসে আছি। তখনি নিশি এসে কথাটি বললো, আমার চুল ধরে..
- কি হচ্ছে কি এসব? (আমি)
- আমি তোমাকে ভালোবাসি...(নিশি)
- কিহহহ...?
- নাহ মানে এর ইংলিশটা যে কি হবে বুঝতে পারছি না।
- i love you.. (আমি)
- সেতো জানি,, তাহলে চলো প্রেম করি।
- মানে কি..? (আমি)
- মানে হল, আমি এই রোমান্টিক টিজার কে ভালোবাসি।
- সত্যিই?
- হুমমম..
- হাহাহাহাহা..
- হাসো কেনো??
- আমাকে করুনা করছো..?
- মানে...
- মানেটা জানো না..আমার সমস্যার কথা শুনে আমাকে ভালোবাসতে এসেছো? এর আগেও তো ভালোবাসতে না। দুর দুর করে তাড়িয়ে দিছো..

- রাফিন, থাপ্পড় দিবো আরো মুইটা..আমি এর আগেও বলতে চেয়েছি কিন্তু পারিনি।
- মানে..?
- মানে আগের দিন তোমাকে সরি বলতে এসেছিলাম। আর এটাও বলতে এসেছিলাম, তোমাকে তিন দিন ক্যামপাসে দেখিনি বলে মিস করেছি। ফলে ভালোবেসে ফেলেছি।
- ভালো..
- তো চলো প্রেম করি...(নিশি)

কিছু না বলে আমি ওর সামনে থেকে চলে আসলাম। আমি বুঝে গেছি নিশি আমাকে ভালোবাসে।  তাই আমি যেমন ঘুরেছি তার পিছনে সেও একটু ঘুরুক আমার পিছনে? তাতে ক্ষতি কি?
দেখলাম, নিশি আমার পিছনে জোরে জোরে হাটতে হাটতে কাছে আসছে..আর বলছে..
- রাফিন এনস দাও..
আমি মুচকি হাসছি, এখন যায় বাসাতে,। কদিন পর এক্সেপ্ট করবো, এখন নিশি একটু টিজ করুক...
(৫০)
------------(সমাপ্ত)--------------

লেখা> Abir Hasan Niloy (মি. ভূত)

āĻŦৃāĻšāϏ্āĻĒāϤিāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ŧ āĻ…āĻ•্āϟোāĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

3552 (3)

গল্প : চুন্নির প্রেমে পাগল
-
পর্ব : ৬
-
আমি আর লিয়ন কিছু দূর যেতেই আবার পিছু ফিরি কিন্তু ওদের দুজনের কারো কোন চিহ্ন নেই ...এখন মেজাজ টা কেমন লাগে ?? তাই আবার পিছন দিকে হাটা শুরু করলাম কিন্তু ওদের কোন পাত্তা ই পাওয়া যাচ্ছে না..... এখন অনেক চিন্তা হচ্ছে কারণ গ্রামে যেকোন সময় কোন অঘটন ঘটে যেতে পারে .....দীর্ঘ ২ ঘন্টা খুঁজে পরে বাড়ি তে চলে আসলাম.... বাড়িতে ঢুকেই তো মাথায় আগুন ধরে গেলো... দেখি সিয়াম বসার রুমে বসে টিভি দেখছে .....
@@--- কিরে তুই এখানে কি করছিস ??তিথি কোথায় আর??
-------- টিভি দেখি আর তিথি রুমে রেস্ট নিচ্ছে....
@@--- তোদের কি একটুও জ্ঞান নেই ?? আমাকে বলে আসতে পারতি বা আমার জন্য একটু অপেক্ষা করতে পারতি ??
-------- তিথির মাথা ব্যথা করছিল তাই চলে আসলাম... আর তিথি আমাকে বললো যে থাক বলা লাগবে না তাই না বলেই চলে এসেছি....
-
ওর কথাটা শুনে মেজাজ আরও গরম হয়ে গেলো... সোজা রুমে চলে গেলাম কারণ এখন তিথির সামনে যদি যাই রাগের বসে কিনা থাপ্পড় মেরে বসতাম.... তাই ওর সাথে কথাই বলব না ভাবছি... ওকে জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছা করছিল যে কেন ও না বলে চলে আসলো.... কিন্তু জিজ্ঞাসা করব না...
দুপরে না খেয়েই ঘুমিয়ে পরলাম.... রাতে ডিনার করতে রুম থেকে বের হব এমন সময় কার সাথে যেন ধাক্কা খেলাম... দেখি তিথি মাথায় হাত দিয়ে দারিয়ে আছে.... ও আমাকে তখন বললো....
@@--- এই যে আপনি রাত কানা নাকি ?? না চোখ তাল গাছের ওপর রেখে এসেছেন ??
------- ( চুপ )
আমি কিছু না বলে ওকে পাত্তা না দিয়ে চলে আসলাম.... ডিনার করে আবার রুমে যাই... কিছুক্ষন মোবাইল টিপে আবার ঘুমিয়ে পরি..... সকালে অনেক ভোরে ঘুম ভাঙে.... তাই ফ্রেশ হয়ে ভাবলাম মর্নিং ওয়াকে যাব.... তো রেডি হয়ে বের হব তখন লিয়ন পিছন থেকে ডাক দিলো..... ও নাকি বাইরে যাবে... তাই ওকে নিয়ে হাটতে গেলাম.... কিছুক্ষন পর লিয়ন বললো...
@@--- বড় ভাই আপনার মামাত ভাইকে আমার একদম ভালো লাগে না.... সারাক্ষণ শুধু আপুর পিছনে চিপকে থাকে....
-------- তোমার ভালো না লাগুক তোমার বোনের তো সেই ভালো লাগে....
@@---আরে না ভাই... আপুর ও অসহ্য লাগে আপনার মামাত ভাই কে....
------ অসহ্য লাগলে কি আর সিয়ামের বন্ধুত্ব গ্রহণ করতো ?? আর সিয়ামের সাথে ঘুরতে যাবার জন্য রাজি হয় .....
@@--- তা জানি না কেন করেছে কিন্তু জানি যে আপনার মামাত ভাই কে আপু পছন্দ করে না....
-------- তু্মি ছোট মানুষ হয়ে বুঝবে কি করে যে তোমার বোনের ভালো লাগে নাকি লাগে না...
@@--- এত কিছু জানি না.... কিন্তু ভাই জানেন ?? কাল রাতে আপুকে অনেক জোর করছিল ওনার সাথে গল্প করার জন্য.... কিন্তু আপু বারন করে দিয়েছে.. তবুও আপনার ভাই কোন কথাই শুনছিলেন না... তখন আপু আমাকে ইশারা দিয়ে বললো কাদতে আর আমিও তাই কান্না শুরু করলাম... তখন আপু বলে -- " ওর ঘুমে ধরেছে.. কারণ ওর ঘুম আসলেই কাদতে শুরু করে ""
আমি তো এই কথা শুনে আরও জোরে জোরে কাদতে শুরু করলাম... আর আপনার ভাই আমার কান্না শুনে তো এক কথায় পালিয়ে চলে গেলো... আর আমার আপু হাফ ছেড়ে বাঁচলো....
------ হয়েছে তোমাকে আর বলতে হবে না....
-
আমরা দের কি দুই ঘন্টা হেটে বাড়ি চলে এসি..... এরপর হাত মুখ ধুয়ে নাস্তা টা সেরে নিলাম.... পরে বাড়ির পিছনের পুকুর পারে গেলাম..... ওখানে বসার যায়গা করা আছে... সেখানে গিয়ে বসে তিথির কথা ভাবছি...
ওর কাছে যদি সিয়ামকে এত অসহ্য লাগে তাহলে ওর বন্ধুত্ব গ্রহণ করেছে কেন ?? আর কাল ওকে পেয়ে ওর সাথে চলে আসলো কিন্তু আমাকে বলে আসার কথা একটু ভাবলো ও না.... কিন্তু তাতে আমার এত জেলাস ফিল হচ্ছে কেন ?? ও কোন ছেলের সাথে বন্ধুত্ব করল কিংবা ঘুরতে গেলো তা তো ওর ব্যপার.... আর ও তো আমার মামাত ভাই এর সাথেই ঘুরতে যাবার জন্য রাজি হয়েছে তাতে তো আমার ই লাভ... আমাকে কষ্ট করে আর তিথি কে সঙ্গে করে ঘুরতে হবে না..... এত সব ভাবতে ভাবতে তিথির আগমন....
@@--- এই যে আপনি আমাকে ইগনোর করছেন ??
------- জানি না..
@@-- তাহলে জানেন টা কি শুধু ভুল বুঝতে ??
------ ভুল বুঝলাম কাকে আবার ?
@@--- আমাকে তো আপনি সেই প্রথম থেকে ভুল বুঝছেন.... কখনও চুন্নি ভেবেছেন আবার কখনও ছেলেধরা আবার কখনও জ্ঞান শুন্য....
------- জ্ঞান শুন্য ভাবলাম কখন ?? আর যার জ্ঞান নেই তাকে জ্ঞান শুন্য ভাবতে যাবার কি আছে ??
@@-- কি আমার জ্ঞান নেই ??
------ জ্ঞান থাকলে বলে আসতা আমাকে যে তোমরা বাড়ি তে যাচ্ছ... আর তাহলে আমাকে আর চিন্তা করতে হত না....
@@---- তাহলে আপনি আমাকে ঐ চিপকুর সাথে রেখে গিয়েছিলেন কেন ?? আর এত সামনে চলে গিয়েছিলেন যে আমাদের ডাক ও শুনতে পাননি আপনি...
-------- নিজে যে চিপকুর বন্ধুত্ব গ্রহণ করলেন আবার ওর সাথে ঘুরতে যাবার জন্য রাজি হলেন তার বেলায় ??
@@--- হ্যাঁ আর নিজে যে বাসে ঐ মেয়েটার সাথে রসের আলাপ শুরু করেছিলেন তা বলবে কে ??
------- তার মানে তুমি জেলাস ফিল করেছ কিন্তু কেন ??
@@--- আপনিও তো নিজের মামাত ভাই এর ওপর জেলাস ফিল করছেন... সেইটা কেন করেছেন তা বলেন ??
------- জানি না বলব কি... তোমার জানা আছে না??
@@--- না আমার ও জানা নেই...
-
আমরা এই ভাবে কিছুক্ষন কথা বলে ভেতরে যাই... গিয়ে দেখি আমার বাবা মা আর তিথির বাবা মা এখানে এসেছে...
আমি : বাবা তোমরা হঠাৎ এলে যে...
বাবা : কেন আমাদের দেখে তোর খুশি লাগছে না ??
আমি : না মানে .... তোমাদের তো অফিস থেকে নাকি ছুটি দিবে না তাই তো তোমরা আমাদের একা পাঠালে ঘুরতে..
মা : তোকে এতসব জানতে হবে না... তখন ছুটি দেয় নি কিন্তু এখন তোর বাবা আর তিথির বাবা ছুটি পেয়েছে তাই চলে আসলাম.... তাতে কি তোর সমস্যা হচ্ছে ?
আমি : আরে মা তুমি যে কি বলো না... তোমাদের ছাড়া একা ছুটি কাটাচ্ছি জানো কত মিস করেছি তোমাদের ??
বাবা : হ্যাঁ বাবা তুই যে কত মিস করেছিস তা তোর কথা শুনেই বুঝতে পেরেছি....
-
আমি আর কি বলবো... কেন জানি সন্দেহ হচ্ছে তাদের ওপর.... হঠাৎ আমাদের কিছু না বলেই চলে আসলো কেন ?? যাই হোক আমি রুমে গেলাম... এরপর ফোনে একটা মুভি দেখলাম ....মুভি দেখতে দেখতে দুপর গনিয়ে এসেছে... তো আমি গোসল করতে গেলাম... গোসল করছি এমন সময় ওয়াশ রুমের দরজা টা খুলে গেলো আর তিথি দরজার সামনে দারিয়ে কান ফাটানো চিৎকার দিল... আর আমি তো বরফ হয়ে দারিয়ে আছি... তিথি হন্ত দন্ত ভাবে চলে গেলো....আর তখন আমার হুশ আসে আর আমি দরজার ভালো করে ছিটকানি লাগিয়ে দেই.... কি হল এটা ?? আমি কি ওয়াশ রুমের দরজা ভালো করে লাগায়নি ?? মনে হয় ছিটকানি লাগাতে ভুলে গেছি... কি লজ্জা কি লজ্জা.. আমার সব কিছু দেখে ফেললো.... না সব দেখবে কিভাবে ?? আমি তো টাওয়াল পেচিয়ে গোসল করছি..
. যাক বাঁচা গেলো...
কিন্তু মেয়েটার সামনে যাবো কিভাবে আমি...
যাইহোক গোসল করে বসার রুমে গেলাম... দেখি লিয়ন বসে আছে.... ওর পাশেই বসে পরলাম... দেখি ও আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে.... তাই ওকে জিজ্ঞাসা করলাম.....
@@---- কি হল হাসছো কেন ছোট ভাই ??
------ বড় ভাই বিয়ের পর আপনি আমাকে প্রতিদিন চকলেট কিনে দিবেন কিন্তু...
@@--- কার বিয়ের পর চকলেট কিনে দিব ??
------ কেন আপনার বিয়ের পর ....
@@--- আমার বিয়ে ??
------- হ্যাঁ কেন জানেন না ??
@@-- কবে কার সাথে আমার বিয়ে ??
------- আমার একটা চাচাত বোন আছে তার সাথে.... তারা কালকেই ঢাকা থেকে আসছে...
@@--- কি ?? আমাকে না জিজ্ঞাসা করেই বিয়ে ঠিক করলো ?? আর আমার তো চাকরী ও নেই তবে আমাকে বিয়ে দিবে কেন ??
------- তো সিয়াম ভাইয়াও তো চাকরী করে না.... তবুও তার ও তো বিয়ে ঠিক করেছে...
@@--- কি সিয়ামের বিয়ে ঠিক করেছে ?? কার সাথে ??
------- আমার আপুর সাথে..
@@-- মানে তিথির সাথে ??
------ হ্যাঁ... আর আপনার সাথে যে আপুর বিয়ে হবে তার নান মিম...
@@--- মাআআআআ ( জোরে ডাক দিলাম )
এই মা....
মা আমার ডাক শুনে দৌড়ে চলে এলো....
-
চলবে...

গল্প : চুন্নির প্রেমে পাগল - পর্ব : ৭ এবং শেষ পর্ব - @@---- মা আমি এই সব কি শুনছি ??😡😡 ------ কেন কি হয়েছে ??❓ @@--- তোমরা নাকি আমার বিয়ে ঠিক করেছ ?? 😠😠 ------ হ্যাঁ তোর বাবা ঠিক করেছে.... এতে চিল্লানোর কি হল ?? 😒 @@-- আমাকে না জানিয়ে আমার বিয়ে ঠিক করেছ আর আমি চিল্লাতে ও পারব না ?? 😫😫 ------ তোর বাবার কাছে গিয়ে চিল্লা... আমাকে বলছিস কেন ?? আর তোর বাবা যা ঠিক করেছে তা তোর ভালোর জন্যই করেছে.... @@--- কিসের ভালো ?? আমি তোমাদের কোন কথাই অমান্য করি না .... কিন্তু এই ব্যপারে আমি তোমাদের কথা মানতে পারব না... আমারও তো কোন মতামত আছে.... 😞😞 ------- শোন আমরা যা করেছি তোর ভালোর জন্য করেছি.... মেয়েটা অনেক ভদ্র আর শুশিল .....তোর জীবনটা গুছিয়ে দিবে .... @@--- আমার তো পছন্দ হতে হবে নাকি ?? ------- ঐ মেয়ে কে যে দেখবে সেই প্রথম দেখায় পছন্দ করে ফেলবে..... @@-- ধ্যাততত তোমাদের যা মন চায় তোমরা তাই কর..... 😤😤😤 - বাড়ি থেকে বের হয়ে আসলাম.... কিছু ভালো লাগছে না.... মনে হচ্ছে কি যেন হারিয়ে যাচ্ছে আমার জীবন থেকে.... সারাদিন বাড়ি যাইনি... রাত ৯ টায় গেলাম.... দেখি বাবা দরজার পাশে চেয়ার পেতে বসে আছে.... আমাকে দেখে বাবা বলল.... @@--- এই টা কি বাড়িতে আসার সময় ?? এতক্ষণ পর্যন্ত কই ছিলি??? ------- ভালো লাগছিল না তাই রাস্তায় হেটেছি আর ব্রিজের সামনে টং এর দোকান টাতে বসে ছিলাম..... @@--- দেখ যতই উদ্ভট কর্ম কান্ড করিস না কেন এই বিয়ে তো তোকে করতেই হবে.... আমার মত পরিবর্তন হবে না.... ------- ( 😨😨 আমি শুধু বাবার দিকে চেয়ে আছি... কারণ যেই বাবা আমার বলার আগে সব বুঝতে পারত আর আজ সে বুঝতে পারছে না কেন যে আমি এই বিয়ে করতে চাচ্ছি না.. অবশ্য বিয়ে না করার রিজন আমিও জানি না.... ) ------- এই ভাবে অবাক হয়ে তাকাবার কিছু নেই.... সারাদিন তোর চিন্তাতে তোর মাও কিছু খায়নি.... যা তোর মাকে নিয়ে কিছু খেয়ে নে.... ডায়নিং টেবিলে বসে আছে তোর জন্য... - ভেতরে গিয়ে দেখি মা সত্যি সত্যি খাবার নিয়ে ডায়নিং টেবিলে জিমাচ্ছে....তো আমি মাকে জাগিয়ে মার সাথে ডিনার করে নিলাম.... ডিনার করে ঘুমাতে গেলাম... সকাল হতে না হতেই কে যেন ঘুম থেকে উঠার জন্য ডাকছে..... চেয়ে দেখি সিয়াম ডাকছে..... মেজাজ টা আরও গরম হয়ে গেলো ওকে দেখে .... @@--- ঐ তোর কি কোন কাজ নেই ?? সকাল সকাল আমার ঘুমটা ভাঙতে আসছিস... 😡😡 ------ আছে তো.... বাস স্টানে যেয়ে মিম কে আনা.....😁😁 @@--- হ্যাঁ তো যা... এই ভাবে দাঁত দেখাচ্ছিস কেন ??😒😒 ------ আরে লজ্জা লাগে না বুঝি ??☺☺☺ @@--- লজ্জার কি হল ?? মিম কে যে তাকে আনতে যাবি বলে এত লজ্জা পাচ্ছে ?? ------- আরে তিথির চাচাত বোন.... তোকে ফুফু কিছু বলে নি ?? @@--- ওহ মনে পরেছে.... যা তাহলে আমার ঘুমটা হুদাই নষ্ট করলি... 😪😪😪 ------ আরে হুদাই না..... তোকেও যেতে হবে আমার সাথে... @@--- আমি যেতে পারব না... তুই যাবি এখান থেকে ?? 😠😠 ------- না তোকে যেতে হবে... চল না প্লিজ আমার জন্য.... আর কখনও কোন আবদার করব না... এই শেষ আবদার... ভাইয়ের জন্য এই টুকু করতে পারবি না ?? 😔😔😔 @@---- আচ্ছা আচ্ছা যাব এত ঢং করার কিছু নেই... ( এমন ভাবে বলছে যেন মিমের সাথে ওর ই বিয়ে হবে... 😒😒) ------- তুই দুনিয়ার বেস্ট ভাইরে.. 😜😜 @@---- চাপা মারতে হবে না যা রেডি হতে দে.... ------ ওকে আমিও রেডি হই গিয়ে.... - আমারা রেডি হয়ে মিম কে আনতে গেলাম... বাস স্টানে গিয়ে দেখি ৩ জন বসে আছে.... আর কিছু কিছু মানুষ আছে তারা অটো অথবা রিক্সা ঠিক করছে.... তার মানে এনারা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে... একটা লাল থ্রি পিস পরা মেয়ে আমাদের দিকে আসছে... এটাই হয়তো মিম... মিম : আপনারা কি শওকত আংকেলের ছেলে ?? সিয়াম : না আমি ওনার শালার ছেলে আর ও হচ্ছে তার ছেলে. মানে আমার ফুফাত ভাই সুমন... মিম : হায়!! আমি মিম.. আমার কথা নিশ্চয় জানেন ?? 😊😊 ( আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল ) আমি : যি জানি.... আপনার বাবা মা কোথায় ?? ওনাদের ডাকেন আমরা অটো নিয়ে আসছি... সিয়াম : সুমন তুই যা আমার একটু মিমের সাথে কথা আছে.... আমি : ( কি বলে ?? যার সাথে আমার বিয়ে তাকে নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা নেই শালার সিয়ামের বাচ্চার কত আগ্রহ.... ও মানুষ হবে না আর... ) আচ্ছা যাচ্ছি... - আমি ২ টা অটো নিয়ে আসলাম....১ টাতে মিমের আব্বু আম্মু আর অনেক জিনিস এনেছে সেগুলো... আর ১ টাতে আমি মিম আর সিয়াম বসেছি.... পুরোটা রাস্তাতে মিম আমার সাথে কথা না বলে সিয়ামের সাথে কথা বলেছে.... মনে হয় মিম আমাকে পছন্দ করে নি.... ভালোই হবে তাহলে.... অবশেষে আমরা সবাই বাড়ি তে পৌছালাম..... সবাই দারিয়ে ছিল দরজার সামনে... এমনকি চুন্নি টাও... চুন্নি বলছি এর কারণে যে ও চোরের মত লুকিয়ে লুকিয়ে আমাদের দেখছে.... ওর রুমে থাকলেও মনে হয় ও মুখ ঢেকে রাখে ....যাই হোক সবাই ভেতরে গেলাম.... - সারাদিন নানা ব্যস্ততায় কেটে গেলো... রাতে ডিনার টেবিলে বাবা সবাইকে জানিয়ে দিল যে কালকে আমার আর সিয়ামের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হবে..... আমি তো পুরোই আকাশ থেকে পরলাম... এত তারাতারি সব হচ্ছে যে কিছু করতেও পারব না.... তবুও বাবাকে বললাম যে এত তারাতারি বাড়ি সাজাবা কিভাবে আর সব কিছুর জোগার এত তারাতারি হবে কিভাবে ?? বাবা বলল সব কিছু রেডি করা আছে আর বাড়ি আমরা সবাই মিলে কাল বিকালের আগে সাজিয়ে দিব... তুই কিছু ভাবিস না.... মনে হচ্ছে বাবা সব কিছু রেডি রেখে এরপর আমাকে জানালো যে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে.... কি আজব !! আবার বলছে তোমরা ৪ জন তো একে অপরের সাথে কথা বলার সময় পাও নি ...তাই আজকে রাতে ৪ জন গল্প করো.... আমার যাওয়ার ইচ্ছে নেই তবুও কেন জানি না গেলাম... - আমরা ৪ জন গল্প করছি... আসলে ওরা ৩ জন গল্প করছে আর আমি শুনছি আবার আড় চোখে তিথি কে দেখছি...কারণ বিয়ের পর তো ওর দিকে এমন করে তাকানো যাবে না... শেষ দেখা দেখছি কিন্তু কেন দেখছি তা জানি না.... সিয়াম তিথি কে অনেক কিছু জিজ্ঞাসা করছে আর তিথিও বাধ্য মেয়ের মত জবাব দিচ্ছে.... আমার তখন অনেক কষ্ট হল.... বুঝতে পারছি যে তিথি কে হারানোর কষ্ট পেতে চলছি.... তার মানে আমি তিথিকে ভালোবেসে ফেলেছি..... সত্যি মেয়েটা শেষ পর্যন্ত চুরি করল.... অনেক দামি জিনিস চুরি করেছে... আমার মন চুন্নিটা চুরি করল.... - পরের দিন সন্ধ্যায় আমাদের গায়ে হলুদ হল.... তিথি কে লুকিয়ে দেখতে চেয়েছিলাম... কিন্তু ও পর্দা করে তাই ওকে রুমের মধ্যেই হলুদ দেয়া হল... তাই দেখতে পারলাম না.... - আর আজকে বিয়ে সম্পন্ন হল.... কাজী সাহেবের কোন কথা মাথায় যাচ্ছিল না.. কারণ তখন আমি তিথির কথা ভাবায় ব্যস্ত ছিলাম.... এখন আমার বাসর রাত.... কিন্তু বাসরঘরে যেতে ইচ্ছে করছে না..... তবুও নানি আর মামি জোড় করে বাসরঘরে ঢুকিয়ে দিল.... দেখি মিম বড় একটা ঘোমটা দিয়ে খাটের মাঝখানে বসে আছে.... মিম কে কিছু না বলে খাটের ওপর থেকে একটা বালিশ নিয়ে নিচে শুয়ে পরলাম..... কিছুক্ষন পর পিটের ওপর অনেক গুলো কিল ঘুশি পরার অনুভব করলাম... পিছে ফিরে দেখি একটা মেয়ে... কিন্তু এখানে তো মিমের থাকার কথা... @@--- এই মেয়ে মিম কোথায় ?? আর আপনি বৌ সেজে আছেন কেন ?? ------ মিম থাকবে কেন ?? অন্য জনের বৌ আপনার ঘরে থারবে কেন ?? @@--- অন্য জনের বৌ মানে ?? মিম তো আমার বৌ.... ------- তাহলে আমি কে ?? 😨😨😨 @@--- ( কণ্ঠটা কেন জানি চেনা চেনা লাগছে ) আপনি কে আপনি ভালো জানেন... এত রাতে আমার ঘরে কি করছেন ?? বের হন তারাতারি... 😠😠 ------- হায়রে !! নিজের বিয়ে করা বৌ কে চিনছে না.... ঐ মিম তো আপনার মামাত ভাইয়ের বৌ আর আমি আপনার বৌ......😞😞😞 @@--- মিম সিয়ামের বৌ তাহলে আপনি.... ( এতক্ষণ ওর চোখ দেখিনি ভালো করে... তাই ভালো করে তাকালাম ওর চোখের দিকে... )😳😳😳 ------ এইভাবে কি দেখছেন হ্যাঁ ?? আপনি ৩ দিন ধরে আমার সাথে একটা কথাও বললেন না কেন ?? 😡😡😤😠 ( বলেই আবার মারা শুরু করল ) @@--- আরে আরে ব্যথা পাচ্ছি তো....বর কে এইভাবে কেউ মারে বলুন ?? 😊😊 ------- তাহলে বৌ কে চিনলেন না কেন ??আর আমাকে আপনি করে বলছেন কেন ?? আমি কি আপনার বড় ?? 😒😒 @@--- না তুমি আমার বড় না... আসলে এতদিন বলেছি তো তাই অভ্যাস হয়ে গেছিল.... আর বলব না... 😌😌 ------ হ্যাঁ এবার বলেন... এই তিন দিন কথা বলেন নি কেন আমার সাথে ?? @@--- কারণ আমি এই বিয়েতে রাজি ছিলাম না তাই... ------ কেন আপনার কি আমাকে ভালো লাগে না ?? @@--- না তোমাকে আমার ভালো লাগে না... 😉😉 ------- ওহ আচ্ছা তাহলে আগে বলতেন আমি বিয়েটা ভেঙে দিতাম.... 😞😞😞😞 @@--- আরে তোমাকে আমার শুধু ভালো লাগে না... তোমাকে আমি ভালোবাসি.... 😍😍😍 ------- তাই....?? 😊😊😊 তাহলে বললেন যে এই বিয়ে তে আপনি রাজি ছিলেন না আর পরশুদিন এর আগের সারা দিন কোথায় ছিলেন ?? 😓😓 @@--- আমি তো জানতাম যে মিমের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেছে তাই কিছুই ভালো লাগছিল না... ------- কে বললো আপনাকে যে মিমের সাথে বিয়ে হবে আপনার ?? @@--- আর কে আমার শালা বলেছে.... যাইহোক তুমি কি আমাকে পছন্দ কর ?? ------- না আমি আপনাকে ভালোবাসি.... যেদিন আপনাকে মপিচের সরবত খাইয়েছি সেদিন আপনার জন্য আমার অনেক খারাপ লেগেছিল আর মনে মনে গিল্টি ফিল করছিলাম.... আর যখন থেকে শুনলাম যে আপনার সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে তখন থেকে আপনার কথা ভাবতে ভাবতে আপনাকে যে কখন ভালোবেসে ফেলি নিজেও জানি না.... ☺☺☺ @@--- ওহ তাই নাকি ?? আচ্ছা কবে থেকে জেনেছ বিয়ের কথা?? ------ ২ মাস আগেই শুনেছি... @@--- বাবা আমাকে আগে কেন বলল না.?? তোমার মত আমিও যদি ২ মাস আগেই জানতাম... যাইহোক এখন কিন্তু আমি প্রতিশোধ নিব তোমার থেকে... -------- কিসের প্রতিশোধ ?? @@--- ২ টা থাপ্পড় আর মরিচের সরবত খাওয়ানোর প্রতিশোধ... ------- কি শাস্তি দিবেন বলেন আমি সব মেনে নিব ??😖😖😖 @@--- যে গালে থাপ্পড় দিয়েছ শুধু সেই গালে তোমার ঠোঁটের ছোয়া পেলেই হবে আর মরিচের সরবত খাওয়ানোর জন্য মিষ্টি দিতে হবে.. তবে কিপটামি করলে হবে না... আমার যত গুলো ইচ্ছে তত গুলো দিতে হবে.... 😜😜😜 ------ মিষ্টি তো ফ্রিজে আছে... ওয়েট আনছি... @@--- ঐ মিষ্টি তো চাইনি... তোমার কাছে যেগুলো আছে সেগুলো দিতে হবে... 😍😍 ------ যাও কি বলছো... ফাজিল একটা.... ( কথাটা বলেই আমার বুকে মুখ লুকালো... ) - অবশেষে আমি আমার চুন্নিটাকে পেলাম আপন করে... যাই হোক এখন তো আমার পালা... আমি ওর মিষ্টি ঠোঁটের সব মিষ্টি চুরি করব যাই.... আর আপনারা ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ..... - ( সমাপ্ত