āĻļুāĻ•্āϰāĻŦাāϰ, ā§§ āĻĄিāϏেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

3580 (2)

"প্রিয়ার চোখে জল"

৩য় পর্ব

লেখকঃ সাইদা ইসলাম বকুল

জ্বরের কারণে প্রিয়ার শরীলটা দুর্বল। আজও প্রিয়ার ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে গেল। প্রিয়া শুয়ে আছে, চোখ বুজে বাইরে অনেক লোকজনের কথার আওয়াজ  শোনা যাচ্ছে। প্রিয়া ভাবছে সে স্বপ্ন দেখছে, কিন্তু মামীর গলার আওয়াজ শুনতেই প্রিয়া লাফ দিয়ে উঠলো। মনে হয় সকাল সাতটার মত বাজে। প্রিয়া আজ এত বেলা পর্যন্ত ঘুমিয়েছে, সে উঠে দাঁড়ালো।ভয়ে বুকটা কাঁপছে, মামী আজ আর তাকে সারাদিন খাবার খাবার দিবে না। এরকম অনেকবার করেছে, প্রিয়া দরজা খুলে বাইরে এসে দাঁড়ালো। ভয়ে ভয়ে মামীর দিকে তাকালো।মামী বললো, এই নবাবের বেটি, আমি কি তোর চাকর যে তোরে ডাইকা তুলন লাগবো, কতক্ষন ধইরা ডাকতাছি। তাড়াতাড়ি নাস্তা তৈরি কর, আমার বইনের পোলা আইছে বিদেশ থেকা,  দেখতাছোস না, কত মানুষ আইছে তারে দেখতে। আমার বইনের পোলা এতদিন পর বিদেশ থেকা আইছে, আর তোর মামার কামের চাপও বাড়ছে, আইজ তোরে বাজারে যাওন লাগবো, প্রিয়া চমকে বললো,মামী আমি বাজারে যাব। মামী রেগে বললো,কেনো বাজারে গেলে কি তোর মান সম্মান সব শেষ অইয়া যাইবো? প্রিয়া মাথা নিচু করে বললো,ঠিক আছে মামী আমি বাজারে যাবো। মামী বললো, বড় দেইহা একটা রুই মাছ আনবি। শাহেদের রুই মাছের মাথা খুব পছন্দের। এই বলে মামী ঘরে চলে গেল। প্রিয়া রান্না ঘরে ঢুকলো,ঘুম চোখ নিয়েই চুলার সামনে বসলো, হাত মুখ ধোয়ার সময় ও পেল না। চেয়ারে শাহেদ বসে আছে,তাকে প্রিয়া দেখার চেষ্টা করলো, কিন্তু লোকজনের ভিড়ে দেখতে পেল না।  গ্রামের লোকজনের মন খুব সহজ সরল, তারা ছোটখাট ব্যাপারগুলোকে অনেক বড় করে দেখে। বিদেশ থেকে আনা প্রত্যেকটা জিনিস তারা খুব মনযোগ দিয়ে দেখছে। কিছুক্ষন পর শাহেদ উঠে দাঁড়ালো। সবার মাঝখানে সে নিজেকে রাজা মনে করছে। তার পরনে ভারী কোট, পায়ের জুতা হাটু পর্যন্ত, চোখে কালো চশমা। লোকটাকে দেখে আজব মনে হল, প্রিয়া মনে মনে হাসলো। এতক্ষণ শীলাকে চোখে পড়লো,শীলা নতুন কাপর পড়েছে,সেজেছে।প্রিয়া ভাবলো শীলা কোথাও বেড়াতে যাচ্ছে। শীলা হাসি মুখে এসে প্রিয়ার সামনে দাঁড়ালো। বললো,আপু দেখ তো আমাকে আজ কেমন লাগছে?  প্রিয়া বললো, খুব সুন্দর লাগছে তোকে, কোথাও বেড়াতে যাচ্ছিস বুঝি? শীলা বললো, আমি আবার কোথায় বেড়াতে যাবো। প্রিয়া বললো,তাহলে নতুন কাপড় পড়েছিস কেন?  শীলা বললো,শাহেদ ভাই এসেছে তো তাই মা বলেছে নতুন কাপড় পরতে। মামী ভেতর থেকে শীলাকে ডাকলো,শীলা চলে গেল, শাহেদ ঘরে চলে গেছে তাই লোকজনও কমে গেছে। প্রিয়া তাড়াতাড়ি নাস্তা তৈরি করতে লাগলো,আজ আবার বাজারে যেতে হবে,প্রিয়া কখনো বাজারে যায়নি, আজ কিভাবে যাবে তাই ভাবছে।

আজ প্রচন্ড রোদ  পড়েছে, বাড়িতে থাকলে এতটা গরম বোঝা যায় না। যা বাইরে এসে প্রিয়া অনুভব করছে,  রোদের আলোয় ধান ক্ষেতগুলো ঝলমল করছে। দুই তিনটা গরু ঘাস খাচ্ছে। প্রিয়া ঘামছে কিন্তু সে তার ঘাম মুছতে পারবে না,তার দুই হাতে বাজারের ব্যাগ। ইচ্ছে করছে একটু জিরিয়ে নিতে, কিন্তু মামীর রাগী মুখটা তার  চোখের সামনে ভেসে উঠলো, প্রিয়া দ্রুত হাঁটতে লাগলো। সামনে একটা বড় বট গাছ, দুজন যুবক সেই গাছের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রিয়া সেই রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসছে, প্রিয়াকে দেখে ছেলে দু'টো ওর দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছে, প্রিয়া মনে মনে ভয় পাচ্ছে, পেছন ফিরে যাবে কিনা বুঝতে পারছে না। কিন্তু অন্য রাস্তা দিয়ে গেলে বাড়ী যেতে অনেক দেরি হয়ে যাবে। প্রিয়া কি করবে বুঝতে পারছে না। প্রিয়া যতই সামনে এগুচ্ছে তার অস্থিরতা ততই বাড়ছে। গ্রামের রাস্তায় এমনিতেই লোকজন কম থাকে, প্রিয়া আশেপাশে কাউকে দেখতে পাচ্ছে না,তবে মামীর কথা মনে পড়তেই  জোরে জোরে হাঁটতে লাগলো। প্রিয়া ছেলে দু'টোর সামনে দিয়ে চলে গেলো, পেছন ফেরে তাকালো না, কিছু দূর যাবার পর পেছনে ফিরে তাকালো।   কেউ নেই,প্রিয়ার মনে হল তার বুক থেকে একটা পাথর সরে গেল। দূর থেকে বাড়িটা দেখা যাচ্ছে, প্রিয়া একটু শান্ত হল। হঠাৎ করে পেছন থেকে কে যেন প্রিয়াকে ডাকলো। প্রিয়া থমকে এক মুহূর্ত দাঁড়ালো।তারপর ভয়ে পেছনে না তাকিয়ে জোরে হাঁটতে লাগলো। আবার ডাক শুনতে পেয়ে মনে হল মেয়ে মানুষের গলার আওয়াজ। প্রিয়া পেছন ফিরে তাকাতেই মেয়েটি বললো,তোকে আমি কতক্ষণ ধরে ডাকছি, আর তুই দৌড়ে পালাচ্ছিস। আমার গলার আওয়াজ ও তুই ভুলে গেছিস?  দাঁড়া তোকে একটু দেখি। প্রিয়া বললো,তোর গলার আওয়াজ ভুলবো কেন।  মেয়েটি বললো, আমি তোর বান্ধবী তোর অবস্থা বুঝতে পারি, খুব ইচ্ছে করে মাঝে মাঝে তোকে দেখতে কিন্তু কোন উপায় নেই, তোর মামীর মত এত খারাপ মহিলা আমি আর দেখিনি।
-থাক আশা, মামীর কথা বাদ দে তোর কথা বল, তোর সাথে দেখা হয়না, কথা হয় না, তবুও শীলার কাছে তোর খবর আমি সব সময় জানতে চাই, আর তোর সব কথা আমি  জানি, এবার বল বিয়ে কবে হচ্ছে?
-প্রিয়া, আমার বিয়ে হচ্ছে না ভেঙে গেছে।
-ভেঙে গেছে মানে, ছেলে পক্ষ তোকে পছন্দ করেনি?
-আমাকে পছন্দ করেছে,কিন্তু আমার বাবাকে করেনি
-আশা তোর কথার মানে আমি কিছুই বুঝতে  পারছি না।
-আমার বাবা গরীব বলে, যৌতুক এর টাকা দিতে পারবে না বলে, এই বিয়ে হবে না।
আমি মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে, আমাদের দুই ভাই বোনকে বাবা অনেক কষ্টে বি.এ. পাশ করিয়েছে,তুই তো জানিস আমার বাবা মুর্খ মানুষ তবুও আমাদের শিক্ষিত করে তুলছে যাতে আমরা সব জায়গায় গিয়ে মাথা উচু করে চলতে পারি। কেউ যাতে আমাদের ঠকাতে না পারে।

প্রিয়ার চোখে জল

লেখকঃ সাইদা ইসলাম বকুল

৪র্থ পর্ব

ছেলে পক্ষ আমাকে পছন্দ করলো, আমার শিক্ষাকে পছন্দ করলো, তবে ওরা যৌতুক হিসেবে যা দাবি করেছে তা আমার বাবার পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়,আর আমিও চাই না যৌতুক দিয়ে কারো ঘরে যেতে।
-আশা তোর খুব কষ্ট হচ্ছে তাই না? 
-প্রিয়া,গরীবের কষ্ট হচ্ছে ঘাসের উপর জমে থাকা এক ফোঁটা শিশির বিন্দু। এই আছে এই নেই।
-থাক আশা, মন খারাপ করিস না, দেশে তো আর ছেলের অভাব নেই।
-দেশে ছেলের অভাব নেই, কিন্তু যৌতুকের অভাব আছে,সেই অভাবে কত মেয়ের স্বপ্ন বেঙেছে! তার খবর কে রাখে। টাকার কাছে ভালোবাসা হার মেনে যায়।
-আশা মনটাকে শক্ত কর, এত তাড়াতাড়ি বেঙে পড়লে কি চলবে, নারী শুধু নারীই রয়ে  গেল, মানুষ হলো না।  প্রিয়া, আমি তোর এই ধারণা পাল্টে দেব, আমি আমার বাবার পরিশ্রম বৃথা যেতে দেব না। আমি আমার শিক্ষা দিয়ে সমাজের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো, আমার বাবা মার মুখে হাসি ফোটাবো, আর যদি কখনো কেউ আমাকে সম্মান দিয়ে তার ঘরে তুলে নিতে চাই, সেদিন হাসি মুখে বিয়ের মালা গলায় পড়বো।
-আমি দোয়া করি তোর মনের আশা পূরণ হোক।
-আমার জন্যই শুধু দোয়া করবি নিজের জন্য কিছু ভাববি না। এভাবে কি তোর জীবন যাবে?  তোর মামীর সংসারে যদি সারা জীবনও পরিশ্রম করিস তবুও নাম পাবি না,এখনো সময় আছে নিজের জন্য ভাব।
-তোর মত অত সাহস তো আমার নেই, তাই নিজের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি, আর কখনো  পারবো কিনা জানি না। যাইরে আশা বাড়িতে মেহমান এসেছে, তাড়াতাড়ি না গেলে আমাকে বকবে। আর কখনো দেখা হবে কিনা জানি না,ভালে থাকিস। এই বলে প্রিয়া তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলো আশা ওর দিকে তাকিয়ে ভাবলো -বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের কত ঘটনা ঘটে কত পুরুষ সাজা পায়। কিন্তু পুরুষের চেয়ে বেশি নির্যাতন নারীই নারীকে করে। একটা সংসারে স্বামীর চেয়ে বেশি অত্যাচার করে শাশুড়ী ননদ, এক নারী আরেক নারীকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে। নারীই যদি নারীর দুঃখ না বোঝে তাহলে পুরুষ বুঝবে কি করে।  আশা দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে গেল। তার বিশ্বাস চোখ ভরা স্বপ্ন আর বুক ভরা আশা নিয়ে প্রতিটি পা ফেলছে,সফল সে হবেই।

মামী আজ খুব খুশি শাহেদ আসাতে।সকাল থেকেই মামীর মেজাজ ভালো প্রিয়ার সাথে আজ বেশি খারাপ আচরণ করেনি। শাহেদ খাটের উপর বসে ভাত খাচ্ছে। শীলা পাশে দাঁড়িয়ে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করছে। মামী রুই মাছের মাথাটা শাহেদের প্লেটে তুলে দিল,প্রিয়া আজ সকালে সময় পায়নি তাই এই ভর দুপুরে উঠান ঝাড়ু দিচ্ছে। শাহেদ ভাত খাচ্ছে আর ছোট্ট জানালা দিয়ে প্রিয়াকে আড়চোখে দেখছে। মামী খাবার তুলে দিতে চাইলো,শাহেদ হাত ধরে বললো খালাম্মা আর খেতে পারবো না পেট ভরে গেছে।মামী বললো,তুই কি আবার বিদেশ চইলা যাবি, নাকি এই দেশেই থাকবি। শাহেদ বললো,খালাম্মা ভাবছি দেশেই থেকে যাবো বিদেশ আর ভালো লাগে না,টাকা তো কম কামাই করলাম না। এত টাকা কে খাবে। মামী বললো, হ ঠিকেই কইছোস, তোর তো আর আপন ভাই বোন নাই। আহারে আমার বইনডা অল্প বয়সে মইরা গেল,ওর কতা মনে অইলে বুকটা আমার ফাইটা যায়। আর তোর কথাও মনে অইলে বুকটা আমার ফাইটা যায়। আর তোর বাপ বছর না ঘুরতেই আবার বিয়া করলো, হেই ঘরে দুই পোলা। কয়েকদিন আগে আইছিলো আমার কাছে তোর  ঠিকানা জানতে চায়। আমি সোজা না কইরা দিছি, তুই কহনো তোর বাপের লগে দেহা করতে যাবি না।হের সংসার লইয়া হেয় থাকুক, তুই এহন তোর চিন্তা কর। বিয়া কইরা নিজের সংসার নিজে সাজাইয়া ল।বিয়ের কথা শুনে শাহেদ একটু লজ্জা পেল, শীলা হেসে ফেললো, মামী রেগে শীলার দিকে তাকালো, শীলা চলে গেল। মামী বললো,তুই বস, আমি তোর লাইগা এক গ্লাস দুধ নিয়া আহি। মামী চলে গেল,শাহেদ প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো।হঠাৎ করে প্রিয়ার চোখ শাহেদ এর দিকে গেল, শাহেদকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে প্রিয়া দৌড়ে রান্নাঘরে চলে গেল। প্রিয়া কেন এভাবে চলে এলো, শাহেদ জানে না, শুধু জানে তার বুকটা কাঁপছে।

সন্ধ্যার পর শীলা পড়তে বসেছে, কিন্তু তার পড়ায় মন বসছে না। হঠাৎ হঠাৎ মনটা অস্থির হয়ে পড়ছে। শীলার মা চাচ্ছে শাহেদ এর সাথে শীলার বিয়ে হোক। কিন্তু তা কি করে সম্ভব। শীলা তো পড়া লেখা শিখে ডাক্তার হতে চাই, তার বাবার মুখে হাসি ফোটাতে চায়। তবে শীলা জানে তার মায়ের বিরুদ্ধে কিছু করা সম্ভব হবে না। কিন্তু এই বয়সে বিয়ের কথা ভাবতেও তো অবাক লাগে। তার মায়ের ইচ্ছের কাছে বাবার স্বপ্নের কোন মূল্য নেই। মা জোর করে বললে  শীলাও না করতে পারবে না। এমন অনেক সংসার আছে যেখানে বাবা মায়ের রাগের কারণে সন্তানরা অসহায় হয়ে পড়ে। তাদের অনেক স্বপ্ন ধুলার সাথে মিশে যায়। শীলার অবস্থাও হয়তো তাই হবে। শীলা টেবিলে মাথা রেখে বসে আছে।

3580 (1)

প্রিয়ার চোখে জল
১ম পর্ব
লেখকঃ সাইদা ইসলাম বকুল

ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়ে ভোরের প্রথম আলো এসে প্রিয়ার মুখে পড়ল। প্রিয়া ওপাশে ফিরে শোয়ার সময় অনুভব করলো গায়ে প্রচন্ড ব্যথা। চোখ খোলার চেষ্টা করলো। মাথাও ব্যথা করছে। হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরলো।গায়ে জ্বর  উঠেছে, আস্তে আস্তে উঠে বসলো। কিন্তু চোখ খুলতে ইচ্ছা করছে না। পায়ের কাছে রাখা ছেঁড়া কাঁথাটা গায়ে পেচিয়ে বসে রইলো। মানুষ যখন অসুস্থ থাকে, তখন নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়। তবে কাছে আপনজন থাকলে অসহায়বোধ কিছুটা কম লাগে।
প্রিয়ার বাবা মা মারা গেছে ওকে ছোট রেখে, সেই থেকে প্রিয়া মামার সংসারে বড় হয়েছে। প্রিয়ার বাবার সামান্য কিছু সম্পত্তি ছিল, তা দিয়ে মামা প্রিয়াকে মেট্রিক পাশ করিয়েছে। তার জন্য মামীর মুখে রাতদিন গালমন্দ শুনতে হয় মামাকে। মামা এই বাড়ির ঘর জামাই। মামা অবশ্য এই বাড়িতে থাকতে চায়নি, কিন্তু মামা সামান্য বেতনের চাকরি করে। সেই টাকা দিয়ে থাকা খাওয়া কষ্ট হয়ে যাবে, তাই এই বাড়িতে পড়ে আছে। মামার অসহায় মুখটা দেখলে প্রিয়ার খুব কষ্ট হয়। মামার ইচ্ছা করে প্রিয়াকে বাবা মায়ের আদর ভালোবাসা দিতে, কিন্তু তার স্ত্রীর জন্য পারে না। কারণ মামী চাই না প্রিয়াকে কেউ আদর করুক। প্রিয়াকে মামী কাজের মেয়ের মতো রাখে, তাতেই প্রিয়া খুশি। কারণ প্রিয়ার আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।
প্রিয়া ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো, কাঁচা মাটিতে পাড়া দিতেই প্রিয়ার শরীর কেঁপে উঠলো। ইচ্ছে করছে শুয়ে পড়তে, কিন্তু ইচ্ছে করলেও প্রিয়া আর আরাম করতে পারবে না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সংসারের সব কাজ প্রিয়াকেই করতে হয়। ঘর থেকে বেরিয়ে বাইরে এসে দাঁড়ালো। উঠানের মাটি  যেনো আরো বেশি ঠান্ডা মনে হচ্ছে। প্রিয়া অনেক কষ্টে উঠান ঝাড়ু দিয়ে নাস্তা তৈরী করতে বসলো। গ্রামের বাড়ি, ছোট ছোট ছেলে -মেয়েরা ঘুম থেকে উঠেই দৌড়াতে লাগলো। মাটির চুলার ধোঁয়া এসে  প্রিয়ার চুখে লাগলো চোখ লাল হয়ে গেল। প্রিয়া চোখ মুছে রুটি বানাতে লাগলো। মামী এসে প্রিয়ার সামনে দাঁড়ালো। মামীকে দেখলেই ভয়ে প্রিয়ার শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়,মামী রেগে বললো এতো বেলা অইলো, এহনো নাস্তা তৈরি অয় নাই। আইজ কি না খাওয়াইয়া রাখবি? প্রিয়া বললো, মামী গায়ে অনেক জ্বর ছিলো,তাই উঠতে একটু দেরি হয়ে গেছে। আপনি ঘরে গিয়ে বসুন। আমি নাস্তা নিয়ে আসছি।
মামী বললো, খবরদার আমার সামনে কহনো তোর অসুখের কথা কবি না। এই বাড়িতে থাকতে অইলে কাম কইরা ভাত খাওন লাগবো, শরীর সুস্থ না অসুস্থ তা আমি দেখুম না।  আমি চাই কাম। চিৎকার শুনে মামা আর শীলা দৌড়ে এলো। মামা বললো, কি হয়েছে রাহেলা? মামী বললো, এতো বেলা অইছে এহনো নবাবজাদীর নাস্তা তৈরি অয় নাই,কয় কাইল রাইতে বলে জ্বর অইছে, তাই উঠতে আইজ দেরি অইছে, ওরে তুমি সাবধান কইরা দেও, কহনো যাতে ওর অসুখের কতা আমার সামনে না কয়। মামা বললো, রাহেলা তুমিও তো একটি মেয়ের মা,নিজের মেয়েকে এতো আদর করো,এতো ভালোবাসো, আর এই অসহায় মেয়েটার সাথে একটু ভালোভাবে কথাও বলতে পার না তাই বলে। মামী বললো,ভাগ্নির লাইগা যদি এতোই দরদ লাগে, তাইলে আলাদা বাড়ি ভাড়া কইরা রাখলেই পারো। মামা বললো, যদি আমার সেই সামর্থ থাকতো তাহলে দূরে কোথাও পাঠিয়ে দিতাম, তবুও তো এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতো।প্রিয়া এসে মামার সামনে দাঁড়ালো। বললো,মামা আমার এখানে কোন কষ্ট হচ্ছে না, আর সংসারের কাজ তো সবাইকে করতে হয়। আমিও করি। আপনি এসব নিয়ে চিন্তা করবেন না। মামী রেগে চলে গেল। প্রিয়া দাঁড়িয়ে রইলো। শীলা এসে প্রিয়ার কপালে হাত রেখে বললো, আপু তোমার তো অনেক জ্বর, তুমি গিয়ে শুয়ে থাক, আজ সব কাজ আমি করবো। প্রিয়া শীলার দিকে তাকিয়ে একটু হাসলো,তারপর একটা দীর্ঘ নিঃস্বাস ফেলে বললো, শীলা তুই পড়তে বস, আমি নাস্তা নিয়ে আসছি। শীলা মাথা নিচু করে চলে গেলো।এই শীলাই প্রিয়ার একমাত্র সঙী, বয়স তেরো চৌদ্দ হবে, বয়স কম হলেও প্রিয়ার সুখ-দুঃখ সবই বুঝে। শীলা আর মামা আছে বলেই প্রিয়া সব দুঃখ ভুলে থাকতে পারে। প্রিয়া তাড়াতাড়ি নাস্তা তৈরি করতে লাগলো।

প্রিয়ার চোখে জল

২য় পর্ব

সাইদা ইসলাম বকুল

মামা ছাতা হাতে বেরিয়ে যেতে লাগলো, শীলা এসে সামনে দাঁড়িয়ে বলল,বাবা তুমি নাস্তা না খেয়েই অফিসে চলে যাচ্ছো? আমার ক্ষিদে নেই মা, তুই নাস্তা খেয়ে স্কুলে চলে যাস। বাবা,মায়ের সাথে রাগ করে নাস্তা  না খেয়ে চলে যাচ্ছো? বাবা বললেন, মারে আমি সামান্য একজন পিয়ন, তোর মায়ের বাড়িতে থাকি আমার কি রাগ করা শোভা পায়।  প্রিয়া যেমন এই বাড়িতে আশ্রিতা আমিও তো তেমন । বিয়ের আগে যতটুকু রাগ ছিল, বিয়ের পর তাও শেষ হয়ে গেছে। 
-বাবা তুমি কাঁদলে আমিও কাঁদবো,
-ও কিছু না মা, যে মানুষের কোন মূল্য নেই সেই মানুষের চোখের পানিরও কোন দাম নেই। এই বলে মামা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। শিলা মন খারাপ করে চেয়ারে বসে পড়লো।  প্রিয়া এলো নাস্তা নিয়ে শীলার সামনে দিয়ে বলল, নাস্তা খেয়ে নে, মামা কোথায়? শীলা বললো,বাবা অফিসে চলে গেছে। বাবা আজ আমার সামনে কাঁদলো,আমার খুব কষ্ট হচ্ছে আপু, তোমার কষ্ট দেখে বাবাও কষ্ট পায়, আমিও কষ্ট পাই। তুমি তো একজন মানুষ, রক্ত মাংসে গড়া, তোমার কি রাগ ঘৃণা অভিমান বলতে কিছু নেই, এত কষ্ট এত অপমান সহ্য করে কেন এই বাড়িতে পড়ে থাক। প্রিয়া বললো,কোথায় যাবো, কার কাছে যাব, এই দুনিয়ায় তোরা ছাড়া আমার আর কে আছে বল? শীলা,মামী আমাকে ভালো না বাসুক,তুই আর মামা তো আমাকে ভালোবাসিস তোদের দুজনের ভালোবাসার কাছে একজনের অবহেলা কিছুই না।  তুই আর কখনো এসব নিয়ে ভাববি না। তুই শুধু মনযোগ দিয়ে পড়া লেখা করবি, তুই মামার একমাত্র ভরসা, একমাত্র স্বপ্ন। তুই ডাক্তার হবি, মামার স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে, মামার মুখে হাসি ফোটাতে হবে। শীলা বললো, আপু তোমার কষ্ট আর বাবার অসহায় মুখটা দেখলে আমার সব কিছু কেমন যেনো এলোমেলো হয়ে যায়। প্রিয়া বললো, শীলা তুই যেদিন ডাক্তার হবি, সেদিন মামার দুঃখ আর আমার কষ্ট সব দূর হয়ে যাবে। শীলা বললো, আপু আমি তোমার আশা আর বাবার স্বপ্ন পূরণ করবো। আমি ডাক্তার হয়ে গরীব আর অসহায় মানুষের সেবা করবো,বিনা চিকিৎসায় গরীব মায়েদের মরতে দেব না। যাতে কোন সন্তান তার বাবা মাকে হারিয়ে এতিম না হয়, আর তোমার মত অন্যের বাড়িতে থেকে কষ্ট সহ্য না করে।

মামা বারান্দায় অন্ধকারে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছেন। গ্রামের নিস্তদ্ধ পরিবেশ,  জোনাকি পোকা আশে পাশে ঘুরছে। মামা হাত দিয়ে পোকা ধরার চেষ্টা করছে, কিন্তু একটা পোকাও ধরতে পারছে না। প্রিয়া এসে মামার পাশে দাঁড়ালো।  মামা বললো, দেখলি প্রিয়া, আমি সামান্য একটা জোনাকি পোকাও ধরতে পারি না, আসলে আমি কিছুই পারি না, তুই আমার কাছে থাকিস, অথচ তুই অসুস্থ থাকলে তোর সেবা দিতে পারি না, তুই কাঁদলে তোর চোখের পানি মুছে দিতে পারি না, তুই ক্ষুধার্ত থাকলে তোর মুখে খাবার তুলে দিতে পারি না, তোর বাবা -মায়ের সাথে যদি তোর মৃত্যু হতো, তাহলেই মনে হয় ভালো হতো। আমি এই সংসারের কর্তা হয়েও তোর মতই আশ্রিতা।ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, ঘর বাড়ি সব হারিয়ে এই বাড়িতে ঘর জামাই হয়ে আছি। নদীর ভাঙনে জায়গা জমির সাথে সাথে আমার কপালও ভেঙেছে। সংসার সন্তান থাকতেও  আমি বড় অসহায়। প্রিয়া বললো,মামা নিজেকে এতোটা দুর্বল আর অসহায় ভাববেন না। শীলা আপনার পাশে আছে আর সব  সময় থাকবে এটাই তো আপনার বড় সান্ত্বনা। আমি সব দুঃখ কষ্ট সহ্য করতে পারি না, আমার কসম দিলাম মামা, আএ কখনো আপনি কাঁদবেন না। আপনার চোখের পানি শীলার চলার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবো। আমাদের দুজনের জন্য আপনার মনকে শান্ত রাখতেই হবে মামা। মামা বললো,তোদের দুজনের মুখের দিকে তাকিয়ে তো বেঁচে আছি আমি। প্রিয়া বললো,এই অন্ধকারের মধ্যে আর বসে থাকতে হবে না। রাত অনেক হয়েছে এবার গিয়ে শুয়ে পড়ুন। মামা বললো, মারে ঘর হল মানুষের শান্তির জায়গা। সারাদিন পরিশ্রম করে মানুষ ঘরে ফিরে আসে বউ বাচ্চা নিয়ে আনন্দ ফুর্তি করে। স্ত্রীর সাথে মানুষ তার সুখ দুঃখের কথা বলে। আর আমি ঘরে থেকেও মনে হয় গাছের নিচে।  মাথার উপর খোলা আকাশ আমার চারপাশে কেউ নেই। মামা যতটা না বয়সে বুড়ো হয়েছে তারচেয়ে বেশি চিন্তায় বুড়ো হয়ে গেছে। মামাকে দেখলে প্রিয়ার খুব কষ্ট হয়। নিয়তির কাছে মানুষ বড় অসহায়।

3579

★ ভাই বোনের খুনসুটি ★
.
ভাইয়া এই ভাইয়া তোর ফোনটা একটু নিলাম। আমি ঘুমের মধ্যে বললামঃ না না ফোন নিবি না তোরে আমার ফোন দেওয়া যাবে না। কখন কি করে ফেলিস। তোর উপর আমার একটুও বিশ্বাস নাই। এখান থেকে বিদায় হ আমি ঘুমাব। মেঘলা আমার কোনো কথা না শুনে ফোনটা নিয়েই গেলো। ফোন নিয়ে কি করবে সেই চিন্তায় ঘুম আকাশে উঠে গেছে। ঘন্টা দুঘণ্টা পর এসে ফোনটা দিয়ে গেলো যাওয়ার সময় বলে গেলোঃ ভাইয়া ভাবি ফোন দিছিলোঃ আমি বলছি ভাইয়া ঘুমে আছে পরে ফোন দিন। মেঘলার কথা শুনে বিছানা থেকে এক লাফে বসে পড়লাম। এই মেঘলাটা দিন দিন বেশি বাড় বেড়ে গেছে। বিয়া করি নাই আর উনি কোথ থেকে ভাবি যোগাড় করে ফেললো। রুমের পাশ দিয়ে আম্মু যাচ্ছিলো। মেঘলা আমার রুম থেকে বের হওয়ার সময় না জানি আম্মুকে কি বলে। চিন্তা আরো বেড়ে গেছে। বানিয়ে বলাটা তার একটা স্বভাব। আমি ঘুমের ভান করে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিলাম ঠিক তখন আম্মু এসে নাকে টিপ দিয়ে বললো। তোর মেশিন বন্ধ কর আর উঠ। কি আর করা মেশিন বন্ধ করে উঠে বসলাম। আম্মু বললোঃ মেয়েটা কে? আমি আশ্চর্য হয়ে বললামঃ কিসের মেয়ে? কোন মেয়ে? কার মেয়ে? আম্মু এবার কান ধরে বললোঃ তাহলে মেঘলা যে বললো তুই নাকি একটা মেয়েকে। আমি রাগ নিয়ন্ত্রণ করে বললামঃ আম্মু তুমি জানো না মেঘলার এটা প্রতিদিনের কাজ। আমার বিষয়ে বানিয়ে না বললে উনার পেটের ভাত হজম হয়না সেটা কি তুমি জানো না। আম্মু এবার আর সন্দেহ না করে বললোঃ আচ্ছা ঠিক আছে ফ্রেশ হয়ে খেতে আয়। আমি হালকা নিশ্বাস নিয়ে বললামঃ আচ্ছা যাও আসতেছি। এই বলে আম্মু রুম থেকে বের হয়ে গেলো। তারপর আমি ফোনটা বের করে দেখলাম কে ফোন দিছিলো। ফোনের নাম্বার দেখে মুখ আমার শুকিয়ে গেছে। বৃষ্টির ফোন আসছিলো। আমার বেষ্ট বান্ধবী। আজকে দেখা হলে আমারে কুচিকুচি করে ফেলবে। কি করবো বুঝতেছি না। রুম থেকে বের হয়ে মেঘলার রুমে গেলাম। রাগটা কন্ট্রোল করে বললামঃ মেঘলা ঐ মেয়েটাকে আর কি কি বলছিস? মেঘলা আমার কথা কানেই নিচ্ছে না। আমি আবার বললামঃ কি হলো বলবি না? এবার আমার দিকে তাকিয়ে বললোঃ ভাইয়া তুই কি আমার পড়ালেখা করতে দিবি না। এই কথা শুনে মনেমনে ভাবতেছি পড়ালেখা করো নাকি ঘোড়ার আণ্ডা করো সেটা আমি বুঝে গেছি। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে বললামঃ প্রত্যেকবার তুই ফেইল করিস। আমি তোকে অভিশাপ দিলাম তুই এইবারও ফেইল করবি। এই কথার বলার পর উত্তরে মেঘলা বললোঃ যা যা শকুনের কথায় কখনো গরু মরে না। আমি রুম থেকে বের হয়ে যাবো কিন্তু এই কথা শুনার পর আবার ফিরে এসে বললামঃ আমি যদি শকুন হই তাহলে তুই ঘোড়া। আমি ঘোড়া হলে তুই হাতি। এসব আমার আর মেঘলার প্রতিদিনের ঝগড়া। আম্মু আব্বু ওরা ভালো করেই জানে আমাদের প্রায় সময় ঝগড়া হয়। তারপর আমি আম্মুর রুমে গেলাম। গিয়ে বললামঃ আম্মু তুমি শুনছো মেঘলা আমাকে কি বলছে? নিজের বড় ভাইকে এসব বলার পরও আম্মু তুমি চুপ থাকবা? আম্মু কান থেকে তুলা বের করে বললোঃ এতক্ষণ তোরা কি বলছিস না বলছিস কিছুই শুনিনি। তোদের কারণে কানে তুলা লাগাতে বাধ্য হইলাম। আমি হা করে তাকিয়ে আম্মুর কথা শুনছিলাম। কোনোকিছু না বলে সোজা আমার রুমে এসে শুয়ে পড়লাম। মোবাইল বাজতেছে। বৃষ্টির ফোন কি করবো বুঝতেছি না ধরবো কি ধরবো না ভাবতেই ফোনটা কেটে গেলো। তারপর আবার ফোন আসলো। এবার আর ফোনটা না ধরে পারলাম না। ফোন ধরতেই। এক নিশ্বাসে বৃষ্টি অনেক কথা বলে ফোনটা রেখে দিলো। বললোঃ তুই আমাকে আর জীবনেও ফোন দিবি না, দেখাও করবি না, আমাকে ভুলে যা। আমাদের বন্ধুত্ব এখানেই শেষ। আমাকে কোনো কথা বলার সুযোগ দিলো না। মেয়েরা এত ভুল বুঝে কেন বুঝি না। সব দোষ এই মেঘলা মেয়েটার।
.
একদিন...
আগে থেকেই বুঝে গেছিলাম মেঘলা আমার রুমে আসবে তাই আগে থেকে খাটের নিচে গেলাম তারপর মেঘলা রুমে আসলে আমি আস্তে আস্তে বের হয়ে দেখি উনি কি কি করে। মানুষের চলতে হলে কি লাগে। টাকা লাগে। উনি প্রথমে আমার মানিব্যাগ থেকে ১০০ টাকার কচকচে নোট গুলো হাতে নিলো। তারপর মোবাইল থেকে কিছু একটা করছে। হয়তো আমার ব্যালেন্স থেকে ওর মোবাইলে ট্রান্সফার করছে। আমি গুটিগুটি পায়ে আস্তে করে মেঘলার হাতে ধরলাম। আর জোরে চিৎকার করতে লাগলাম। আম্মু দেখো তোমার মেয়ে আমার সবকিছু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। আজ শয়তান বোনটাকে হাতে নাতে ধরলাম। ভাইয়া হাতটা ছাড় লাগছে তো। আম্মু না আসা পর্যন্ত তোকে ছাড়ছি না। তারপর আম্মু আসলো। বললোঃ কি হইছে চিৎকার চেঁচামেচি করছিস কেন? আমি বললামঃ আম্মু দেখো তোমার মেয়ে আমার রুমে এসে কি কি করছে। টাকা তো নিছেই সাথে মোবাইলের টাকাও নিছে। আম্মু বললোঃ বোন যদি ভাইয়ের টাকা না নেয় তাহলে কার টাকা নিবে বল? দুইদিন পর তোর বোনের বিয়ে হয়ে গেলে কি আর টাকা নিতে আসবে? সেদিন আম্মুর কথা গুলো শুনার পর খুব খারাপ লাগছিলো। এত খারাপ এর আগে কখনো লাগেনি। আসলেই বোন আজ আছে দুইদিন পর অন্যের ঘরে চলে যাবে।
.
৫ মাস পর মেঘলার বিয়ে। মেঘলার বিয়ের কথা শুনে খুব খারাপ লাগছিলো। আর সকালে কেউ আসবে না ভাইয়া ডাকতে। আর আসবে না আমার মানিব্যাগ থেকে টাকা নিতে। আর আসবে না বানিয়ে কথা বলে আম্মুর কাছে বিচার দিতে। আর আমাদের মধ্যে ঝগড়া হবে না। একেবারে চলে যাবে। মেঘলা চলে যাওয়ার পর খুব কেঁদেছিলাম। হয়তো মেঘলাও আমার জন্য কাঁদছে। এসব ঝগড়া একসময় খুব মিস করবো যখন ঝগড়ার মানুষটি পাশে থাকবে না।

#Clt

3578


#সুইট_বর+#কিউট_বউ
.😫😫😫😫😫😫😫😫
Collected

রাত ৩টা বৃষ্টি বিছানায় বসে বসে ভাবতাছে
একটা মানুষ কতটা চেঞ্জ হতে পারে।।এই তো আড়াই
বছর আগে বৃষ্টি আর আকাশের বিয়ে হয়।ভালবেসেই
বিয়ে করেছিল।বিয়ের প্রথম ২টা বছর অনেক সুখেই
কাটে কিন্তু এর পর থেকে হঠাৎ করে কেমন যেন
আকাশ চেঞ্জ হতে থাকে একটু একটু করে কিছু
জিজ্ঞাস করলেই বলে অফিসে জরুরী কাজ তাই
বলে রাত ১০টা বেজে যাবে একটা ফোনও করে
না।।আমি যখন ফোন করি বেশির ভাগ সময় ওয়েটিং এ
পাই কিছু জিজ্ঞাস করলেই বলে অফিসিয়াল কাজ
কিন্তু আমার ধীরে ধীরে সন্দেহ হতে থাকে ওর
অন্য কারো সাথে লাভ আছে।।হঠাৎ একদিন আমি ওর
অফিসে গিয়ে দেখি ও হেসে হেসে একটা
মেয়ের সাথে কথা বলছে আমাকে দেখে ও আরো
রেগে যায় বলে এখানে কি???সে দিন অনেক কষ্ট
পেয়েছিলাম।।ধীরে ধীরে ওর অবহেলা আমাকে
পাগল করে দেও তাই বাপের বাড়ি চলে এসেছি ও
আটকাবার চেষ্টা করেছিল কিন্তু পারেনি।।আর ২দিন
পরেই আমাদের ডিভোর্স হয়ে যাবে আমি আর ওর
সাথে কোন যোগাযোগ রাখব না।।।এসব ভেবে
ভেবে সারাটা রাত কেঁদে ভাসিয়ে দেয় বৃষ্টি।।।
.
২)আকাশও ছাদে দাঁড়িয়ে ভাবছে হাতে সিগারেট
জ্বলছে তার থেকে ধোয়া বের হচ্ছে অবশ্য আকাশ
সিগারেট খায় না বৃষ্টি খেতে নিষেধ করছে কিন্তু
আজ আর বৃষ্টি নেই ও তো সারা জীবনের জন্য চলে
যাবে।।।ওকে অনেক ভালবাসি আমি কিন্তু ওর সন্দেহ
টাই একটা সাজানো সংসার নষ্ট করে দিল।।বিয়ের
পর সব ঠিকঠাক ভাবেই চলছিল কিন্তু আমারই ভূল
অফিসের কাজের এতই চাপ বেরে গেল যে ওকে
সময় পর্যন্ত দিতে পারতাম না।।।ইশ আর ২টা দিন পর
আমাদের ডিভোর্স হয়ে যাবে।।বৃষ্টি কখনো আর
আমাকে সকালে রাগী কণ্ঠে বলবেন না
তাড়াতাড়ি উঠে অফিস যাও।।আর কখনই বলবে না খুব
সাবধানে অফিস যাবা পৌঁছে গিয়ে আমাকে ফোন
দিবা আর তাড়াতাড়ি চলে আসবা।।।ও আর আমাকে
আদুরী কণ্ঠে বলবে না যে আকাশ চল না আজ
বাহিরে ঘুরতে যাই।।এই তো ২মাস আগে আমাদের ২য়
বিবাহ বার্ষিকী গেল সারা দিন ওকে নিয়ে
ঘুরেছি তাও রিকসায় ওর নাকি রিকসা ভাল লাগে
আর দিন শেষে ওকে যখন এক তুরা নীল গোলাপ
দিয়ে হাটু গেড়ে প্রপোজ করি তখন ও প্রায় কেঁদে
ফেলছিল আর আমাকে এতই শক্ত করে জড়িয়ে
ধরেছিল যে আমি ভেবেছিলাম আমিই পৃথিবীর সব
থেকে সুখী মানুষ কিন্তু ২টা মাসে সব উল্টে
গেল।।।জানিনা আমি কিভাবে ওর কাছে চেঞ্জ
হয়ে গেলাম আর আমার কিউট পাখিটা আমাকে
ছেড়ে চলে গেল আমাকে একটা চান্স না
দিয়েই।।।।
.
৩)১দিন পর...
.
কাল বৃষ্টি আর আকাশ এর ডিভোর্স হয়ে যাবে।।
আকাশ ছটফট করছে বাসায়।।বৃষ্টিও বাসায় বসে
রয়েছে এমন সময় একটা ফোন আসল...
-হ্যালো বৃষ্টি বলছ...
-হ্যাঁ আপনি কে??
-আমি মিতু,আকাশের বন্ধু।।
-তা আমাকে ফোন করেছ কেন??
-শুনেন আপু আপনার আর আকাশের কাল ডিভোর্স হয়ে
যাবে।।তবে আপনার একটা ভূল ধারণা আছে সেই দিন
আপনি আমাকে আর আকাশ কে দেখে
ভেবেছিলেন আমাদের কোন সম্পর্ক চলছে কিন্তু
না।।আকাশ আমার খুব ভাল বন্ধু ওই দিন ওর সাথে খুব
একটা প্রবলেমে পরেছিলাম তাই ওর সাথে দেখা
করতে ওর অফিস যাই।।আর আমার বিয়ে হয়ে
গিয়েছে অনেক আগে আমি সুখেই আছি।।।প্লিজ আপু
একটাই অনুরোধ আকাশ কে ছেড়ে যাবেন না ওই দিন
আমার প্রবলেম ঠিক হবার পর ও শুধু আপনার কথাই
বলেছে।।।বাই ভালো থাকবেন।।
কথা গুলা নিরব ভাবে শুনছিল বৃষ্টি কোন কথা না
বলে ফোন টা রেখে দেয়।।।।
.
৪)রাত ১১টা বৃষ্টি ছাদে দাঁড়িয়ে আছে আর আকাশ
দেখছে এই সময় আকাশ কে খুব মনে পরছে।।ওর সাথে
ছাদে গল্প করতে খুব ভালো লাগত সময় যেন দ্রুত
চলে যেত।।হ্যাঁ খুব দ্রুতই চলে যায় সুখের স্মৃতি গুলা
খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যায় আমার সুইটু টা ও চলে যাবে।।।
আমার একদিন অনেক জ্বর হয়েছিল প্রায় বেহুঁশ ছিলাম
কিন্তু শুধু এটাই মনে ছিল যে আমার পাশে সব সময়
কেউ আছে ৩দিন একটানা জ্বর এর পর আমি কিছুটা সুস্থ
হই।সুস্থ হওয়ার পর দেখতে পাই যে আকাশের চোখ
কেমন যেন লাল হয়ে আছে বুঝতে বাকী রইল না যে
সারা রাত জেগে আমার জন্য কেঁদেছে যেন আমি
ভাল হয়ে যাই।।।আমাদের ২য় বিবাহ বার্ষিকীতে ও
আমাকে প্রপোজ করেছিল নীল গোলাপ দিয়ে সে
দিন আমি প্রায় কেঁদে দিয়েছিলাম কারণ আমি ওর
কাছ থেকে এই রকম একটা সারপ্রাইজ আশা
করেছিলাম আর ও যে কেমনে বুঝে ফেলল
জানিনা।।মেয়েরা নাকি সব সময় ছেলেদের মন
বুঝতে পারে কিন্তু আমার হয়েছে উল্টা ও সব সময়
আমাকে বুঝত কিন্তু আমি বুঝতাম না।।ওকে কি এখনো
জেগে আছে ঘড়িতে ১২টা বাজে নিশ্চই ঘুমায়নি।।
একটা ফোন দিয়ে দেখি একি হাত কাঁপছে কেন
অনেক কষ্টে সুইটু নামের নাম্বার টায় ডায়েল করলাম
১বার রিং হতেই অপাশ থেকে আওয়াজ আসল
-হ্যালো(বৃষ্টি)
-ঘুমাও নি(আকাশ)
-না।।আচ্ছা তুমি কি এখন আসতে পারবে।।
-আমি আসছি...
আকাশ যেন এই কথার অপেক্ষায় ছিল এখন রাত কয়টা
বাজে সেদিকে খেয়াল নেই শুধু এটাই জানে বৃষ্টি
কাছে যেতে হবে।।।
.
৫)আকাশ বৃষ্টি ২জনই ছাদে কোন কথা নেই...আকাশই
শুরু করল..
-আচ্ছা তোমার ভিতর আমার জন্য একটুও টান নেই।।
কিভাবে তুমি ডিভোর্স এর কথা ভাবলে।।
-আমি না হয় ভূল ভেবেছিলাম তুমি কেন আমাকে
জোর করে নিয়ে গেলে না।।
-যদি নারী নির্যাতন কেইস করে দিতে।।
-হুহ।।এত সোজা।।।তুমি সত্যি চেঞ্জ হয়ে গেছ আগে
আমাকে রাগ করলে জড়িয়ে ধরে রাগ ভাঙ্গাতে
আর এখন....
-সরি কিউটু আমি একটুও চেঞ্জ হয়নি
(এই কথা বলে অনেক গুলা নীল গোলাপ একসাথে
বের করে বৃষ্টির সামনে হাটু গেড়ে বসে ধরল)
-আই লাভ ইউ কিউটু।।
বৃষ্টি যেন এবারো নিস্তব্ধ হয়ে রইল শুধ্য চোখ দিয়ে
অঝোর দ্বারায় পানি পরছে।।।ফুল গুলা হাত এ নিয়ে
বৃষ্টি আকাশকে জড়িয়ে ধরল।।।
বৃষ্টি কাঁদছে আকাশও কাঁদছে এমন সময় সত্যিকারের
উপরের আকাশ টা কাঁদলে একটা রোমান্টিক সিন
তৈরি হয়ে যেত।