আমার যখন সাত বছর বয়স তখন ভাই বিয়ে করেছিলো। ভাবীর পরিবার ছিলো আমাদের পরিবার থেকে নিম্নবিত্তের। গরীব ঘরের মেয়ে যাকে বলে। সেজন্য কেউ যেনো কিছু না বলতে পারে সেভাবে চলতো।
ঘুম থেকে উঠেই বাড়িঘর ঝাড়ু দিতো। প্রায় সবার ঘুম থেকে উঠবার আগে রান্না করা ও শেষ করতো। যে যখন যা বলতো তা ই করার চেষ্টা করতো সাধ্যমতো। কখনো মাথা উঁচু করে কথা বলতো না।
ভাবী কিছুদিনের মধ্যে ই সবার মন জয় করে ফেলেছিলো নিজের সরলতা ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধ দিয়ে। শুধু মন জয় করতে পারেনি ভাইয়ের। এক মেয়ের সাথে ভাইয়ের প্রেম ভালোবাসা ছিলো।
ঐ মেয়ের নাম ছিলো সেতু। সেতু মেয়ে টা ছিলো আধুনিকা। শার্ট প্যান্ট ছাড়া জীবনে কোনো আদর্শ পোশাক পরেছে কী না সন্দেহ। লজ্জা বলতে যে মেয়েদের কিছু একটা থাকে তা সেতুকে দেখে বুঝা যেতো না।
বড় লোকের বেটি বলে কথা। আর ভাবী হলো সেতুর ঠিক বিপরীত। সেজন্য ভাবীকে দেখতে ই পারতো না ভাই। ভাইকে বিয়ে ই করানো হয়েছিলো সেতুকে ভুলানোর জন্যে। সেতুদের পরিবারের সাথে আমাদের পারিবারিক মস্ত-বড় ঝগড়া হয়েছিলো।
বাড়িতে ভাবীর ছোট একমাত্র আমি ই ছিলাম। আর তা ও খুব ছোট। ভাবী আমাকে ছোট সাহেব ছাড়া ডাকতো না। ভাবী আসার আগ পর্যন্ত ও আমাকে মা উলঙ্গ করে গোসল করিয়ে দিতো রোজ।
কিন্তু ভাবী আসার পরে লজ্জা পেতাম। ভাবতাম বাড়িতে কোন মেয়ে এসেছে না জানি কী ভাবে। আমি প্রথম শ্রেণী থেকে চতুর্থ শ্রেণীতে উঠে পরেছিলাম তবু ও ভাবীর কোলে কোনো নবজাতক আসেনি!
কেউ ভাবীকে কিছু বলতো না কারণ সবাই জানতো যে ভাইয়ের সাথে ভাবীর তেমন স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক নেই। এক চৌকিতে থাকলে ও তাঁদের ঘুমানোর অবস্থা থাকতো উত্তর দক্ষিণ। কিন্তু গ্রামের মানুষ নানান কথা বলতে শুরু করে ভাবীর ব্যপারে। ভাবী শুধু নীরবে নিবৃত্তে কাঁদতো।
ভাই ছিলো বেকার। বাবার টাকা উড়িয়ে জীবন টা করেছে ছারখার। এলাকায় মাস্তানি করা ছিলো তাঁর পেশা। কখন কোন সময় বাড়িতে আসতো আর কখন যে বেরিয়ে যেতো তার কোনো ঠিক ছিলো নাহ।
একদিন হঠাৎ ভাবীর গায়ে হাত তুলেছিলো ভাই। শুধু কী হাত! মেরে কপাল থেকে রক্ত বের করে ফেলেছিলো। অথচ ভাবী ভাইয়ের সেবার চুল পরিমাণ ত্রুটি রাখতো না। পছন্দের খাবারগুলো রোজ রান্না করতো।
কিন্তু ভাই কখনো মনে হয় ভাবী খেয়েছি কী না তা ই জিজ্ঞেস করেছে। এরপর থেকে ভাবীকে আর কেউ ভয়ে ভাইয়ের রুমে ঘুমাতে দিতো নাহ। মায়ের সাথে ই ঘুমাতো। ভাইকে কোনোভাবে ই ভালো করা যায়নি।
বোকা ভাই সেই সেতু মেয়েটাকে ই ভালোবাসতো। যে কী না ভাইয়ের বিয়ে হওয়ার আগে ই আমেরিকান চাকুরীওয়ালা বাংলাদেশি ছেলেকে বিয়ে করে সেই দেশের হাওয়া গায়ে লাগিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি যখন সমাপনী পরিক্ষা দিবো তখন মা পরলোকগমন করেন!
মা মারা যাবার পর ই চাচারা আলাদা হয়ে গেলেন। বাবাকে তো চোখে ই দেখিনি। আমার আর সে বছর পঞ্চম শ্রেণীর পরিক্ষা দেয়া হয়নি মায়ের মৃত্যুর শোকে। তখন বাড়িতে শুধু ভাই ভাবী আর আমি।
আমার যে মা পৃথিবীতে ছিলো না তা আমি কখনো ই অনুভব করিনি ভাবীর কারণে। আমার কাপড়চোপড় থেকে শুরু করে টিফিন পর্যন্ত সে তৈরি করে দিতো। মায়ের মতো গল্প শুনিয়ে ঘুম পারিয়ে দিতো।
জ্বর হলে কপালে জলপট্টি দিয়ে সারারাত জেগে থাকতো। পরিবারের আর্থিক অবস্থা তখন ছিলো প্রায় শূন্য। ভাই তো রোজগার করে ই না। জমিজমার ফসলের ভাগ থেকে যা আসতো তা দিয়ে ই আমাদের চলে যেতো।
কিন্তু মায়ের দুনিয়া থেকে চলে যাওয়া ভাইয়ের জীবনে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলেনি। এর মাঝে ভাই ঠিক করলো আরেক টা বিয়ে করবে। এমন ক্ষেত মেয়ের সাথে ঘরসংসার করবে না। আশ্চর্যযের ব্যাপার হলো ভাবী ও অমত করেনি ভাইয়ের সিদ্ধান্তে!
ভাবী দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দিয়েছিলো ভাইকে যেনো হাসি মুখে। ব্যাপার টা আসলে সেরকম ছিলো নাহ। ভাবীকে ছাড়া আমি অসহায় ছিলাম। আমার দুনিয়া অন্ধকার ছিলো। এক পা ও চলতে পারতাম না ভাবীহীন।
আর আমার জন্য ই ভাবীর থেকে যাওয়া। নাহয় তাঁদের মাঝে তালাক প্রায় নিশ্চিত ছিলো। কদিন পরে ভাই বিয়ে টা ও সেরে নিলো। এমন এক মেয়েকে বিয়ে করেছে যে সারাদিন টেলিভিশন এর সামনে বসে থেকে ফোন টিপা আর মুখে মেকাপ করে সুন্দরী সেজে থাকা ছাড়া কিছুই পারে না।
বাড়িতে এসে রান্নাঘরে তো এক দিন ও ঢুকেনি। এ ও বলতে পারবে না যে আমাদের তখন কয়টা গরু ছিলো! পায়ের উপর পা তুলে তাঁর দিন যাচ্ছিলো। ভাবী কাজের মেয়ের মতো সব কাজ করতো নিরলসভাবে।
নতুন বৌ মিথিলার ব্যাপারে ছিলো না তাঁর বিন্দুমাত্র অভিযোগ। কিন্তু সমস্যা হয়েছিলো একটা। বিরাট সমস্যা। নতুন বৌয়ের তো বাচ্চা হয় না! দেশ বিদেশের ডাক্তার আর কবিরাজদের সব ধরণের ঔষধ খাওয়া শেষ। তবু ও হয় না।
আর এদিকে ভাবীকে ভাই কোনোদিক ছুঁয়ে ও দেখেনি। অমন এক মেয়ের গর্ভে আসবে তাঁর সন্তান! নাহ নাহ, তা যেনো মান সম্মানে লাগে। যে মেয়ের বাপের নিজের ভিটা পর্যন্ত নেই!
কিন্তু বাবা ডাক শোনার তীব্র ইচ্ছায় ভাই ভাবীর কাছে এসে নতো হয়েছিলো। ঠিক এক বছর পর ভাবী গর্ভবতী! ভাবীর মুখে এমন সোনালী হাসি আমি আগে কখনো দেখিনি। যেনো তাঁর এতো দিন বেঁচে থাকা সার্থক।
যেদিন ভাবী গর্ভের সন্তানকে দুনিয়ার মুখ দেখাবে সেদিন আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম আমার মা কাঁদছে। বলছে, খোকা ভালো থাকিস, সুস্থ থাকিস!
জানি না এমন স্বপ্ন আমি কেনো দেখলাম! বাড়িতে ই ভাবীর ছেলে সন্তানকে দুনিয়ার আলো বাতাস দেখালো। সেদিন ই মনে হয় মন থেকে ভাই ভাবীর কপালে চুমু এঁকেছিলো। ছেলে হওয়াতে নতুন বৌ ও খুব খুশি!
ভাবী আমাকে তখন হাত ধরে বলেছিলো, তোর ভাই, ভাইয়ের সন্তান আর মিথিলার খেয়াল রাখিস। আর মেয়েটাকে নাম ধরে ডাকিস না। সে ও তোর ভাবী। ভাবী বলে ই ডাকিস। দেখবি মিথিলা ও তোকে আমার মতো ভালোবাসবে। তোর কাপড়চোপড় ধুয়ে দিবে। কী পারবি না?
আমি আর ভাবীকে জবাব দিতে পারিনি! নিজের চোখের সামনে যেনো আমি দ্বিতীয়বারের মতো মায়ের মৃত্যু দেখেছিলাম! আমার চিৎকারে বারান্দা থেকে ভাই আর নতুন বৌ এসে ভাবীর নিঃশেষ দেখেছিলো!
ভাইয়ের চোখে সেই প্রথমবার পানি দেখেছিলাম। দেখেছিলাম এই পাথরের মতো মানুষটার ও হাউমাউ করে কান্না!
বহুদিন পর।
আজকে শুনলাম ভাবীর ছেলে আকবর নতুন বৌকে আম্মু আম্মু করে ডাকছে। গাল টেনে ধরছে। নতুন বৌ ও সোনামণি সোনামণি করতে করতে আকবরকে নিয়ে সারা বাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু আমি আজ ও নতুন বৌকে মিথিলা ছাড়া ভুল করে ও ভাবী ডাকতে পারি না!
ভাবী
লেখকঃ- সিয়াম আহমেদ জয় (গান গবেষক)
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āϏোāĻŽāĻŦাāϰ, ⧧⧝ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž
4391
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
⧝:⧍⧠AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ