āĻŦৃāĻšāϏ্āĻĒāϤিāĻŦাāϰ, ā§¨ā§Ž āϏেāĻĒ্āϟেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

2707

গল্পের নামঃ অতঃপর বিয়ে
লেখকঃ Shuvro Sobuj
.
.
... দূর থেকে মিতুকে মাথা নিচু করে বসা দেখলাম।পাশে যেয়ে বসতেই মিতু আমার দিকে এক পলক আড়চোখে তাকিয়ে নিলো। আমি হাসার বৃথা চেষ্টা করলাম;পারলাম না।মিতু এবার একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো আমার দিকে।আমি ভালোভাবে লক্ষ্য করলাম, মেয়েটির চোখের চারপাশটা কেমন লাল হয়ে রয়েছে। চশমাটা নেড়েচেড়ে ভালো করে তাকালাম আরো একবার। চোখের জলবিন্দুগুলো জমতে শুরু করছে। হয়তো আমি আর কিছুক্ষণ থাকলে,কিছু বললে ওর চোখ থেকে জল পড়তে শুরু করবে। কিছুক্ষণ দুজনে চুপ থাকার পর মিতু বললো..
- খুব সহজে পার পেয়ে যাবেন?
আমি মাথা নেড়ে না সম্বোধন বুঝিয়ে তারপর কিছু বলতে যাব।কিন্তু মিতু আমাকে চুপ করতে বললো। আমি মাথা নিচু করে রইলাম।
- আপনি আমাকে নিয়ে খেলেছেন! আপনি আমাকে ব্যবহার..! 
কথাটা বলেই আমার শার্টের কলার চেপে ধরলো। চিৎকার করে বলতে লাগলো..
- আমি আপনাকে জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়বো।
.
আমি চারপাশটা একবার দেখে নিলাম। কয়েকজন মানুষ যেন বেশ আগ্রহ নিয়ে লক্ষ্য করছে আমাদের। মিতু আমার শার্টের কলার ধরা দেখে দুই তিনজন মানুষ বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো। সম্ভবত অপেক্ষা করছে কিভাবে জয়েন করা যায়।তারপর মেয়েটার হয়ে কথা বলে মেয়েটির সহানুভূতি পাওয়া যায়। ওইভাবে কলার ধরায় আমি বেশ ভয় পেয়েই বললাম..
- খুব রেগে আছেন,তাইনা?
মিতু আমার কলার থেকে হাত সরিয়ে মুখ কাছুমাছু  করে বললো..
- জানেন কি এই কয়দিনের মিশামিশিতেই আমি আপনাকে কতোটা ভালোবেসে ফেলেছি?
- জানি সেটা।
মিতু এবার বেশ আগ্রহ নিয়েই বললো..
- তাহলে?
আমি অল্প হেসে তারপর বললাম..
- থাক না ওসব এখন। পরে বলবো। সত্যি বলছি বলবো কেন আপনাকে বিয়ে করবোনা।এখন চলেন তো কফি খাই।
মিতু মুখ কালো করে ফেললো।মাথা নেড়ে না করলো,সায় দিলো না।আমি হাত ধরে টেনে নিয়েই গেলাম।এখানে বেশিক্ষণ থাকা চলবে না।বদ মানুষগুলির বদ নজর সহ্য হচ্ছেনা।
.
মিতুর দিকে কফির কাপ বাড়িয়ে দিয়ে সামান্য হাসলাম। মিতু হাতের পিট দিয়ে দুচোখ মুছে তারপর কফির কাপে চুমুক দিলো। আমি মিতুর খাওয়া দেখতে লাগলাম। মেয়েটা কি সহজ সরলভাবে বলে দিলো আমাকে ভালোবেসে ফেলেছে!
এখানে আসার আগে সকালে ফোন দিয়ে সরাসরি বললো..
- এই আপনি আমার সাথে দেখা করতে আসেন।জলদি আসেন।
মিতুর এমন কথা শুনে আমি অবাক হইনি,স্বাভাবিক। কারণ গতকাল ওদের বাসায় যেয়ে যা বললাম মিতুর রাগারই কথা। আমি মনে মনে ভেবেই নিলাম মিতু আমাকে কিছু ঝাড়ি দিবে, অপমান করবে। এতো ঘনিষ্ঠ হলাম,  এতো মায়া বাড়ালাম ওদের ফ্যামিলির সাথে।আর এখন কিনা!
আমি রাজি হলাম।তারপর মিতু আবার বললো..
- দেখি কিভাবে আমাকে না ভালোবেসে পারেন।আমাকে বিয়ে না করে পারেন।আমি বসে আছি কিন্তু!
আমি একটু হেসে ফোন রেখে দিয়ে চলে আসলাম।
- জানেন আপনাকে নিয়ে আমি অনেক স্বপ্ন ইতিমধ্যে বুনে ফেলেছিলাম। একটা ছোট্ট সংসার। সেখানে আপনি থাকবেন, আমি থাকবো।ভালোবাসা, রাগ,অভিমানগুলো অলংকার হিসেবে সেই সংসারে থাকবে। আর একটা  বেবি! না না দুটা । একটা পুঁছকো ছেলে আর একটা পুঁছকো মেয়ে। কিন্তু তা আর হলো কই..!
.
কফির কাপ রেখে অভিমানী কণ্ঠে অনেক মায়া নিয়ে কথাগুলো বললো। মিতুর গালে হাত বুলিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে। নিষ্পাপী মেয়েটা আমাকে নিয়ে কতো স্বপ্ন দেখেছে।অথচ আমি পারলাম না ওর স্বপ্নগুলো পূরণ করতে!
.
মিতু কি শুধু! মিতুর সম্পূর্ণ পরিবারের মানুষগুলোও বড্ড সহজ সরল প্রকৃতির। এই পরিবারের সাথে পরিচিত হবার কিছুদিনের মধ্যে পরিবারটির সাথে অদ্ভুত মায়ায় জড়িয়ে যাই। বেশ কিছুদিন আগে অফিস শেষে বাসায় ফিরে এলান দিয়ে সোফায় বসে বসে টিভি দেখছিলাম। মা চা নিয়ে এসে বললেন..
- শুভ্র, এবার একদম নিশ্চিত থাক। কাল যে জায়গায় যাবো সেখানেই তোর বিয়ে নিশ্চিত।
  আমি মার কথা শুনে টিভি বন্ধ করে মায়ের কাছে যেয়ে একটু হাসলাম।তারো কিছুদিন আগ থেকে বেশ দুতিন জায়গায় মা ছেলের যাওয়া হয়েছে। আমি যেমন মেয়ে খুঁজি তেমন পাইনা। ফলাফল হলো এই...কটা টাকা খরচ, সময় নষ্ট আর ললনার বাপের টাকা খরচ।কিন্তু সর্বশেষ যে মেয়েকে দেখি তাঁকে ভালো লাগে যায়। সব দিকে দিয়েই পারফেক্ট কিন্তু যখন ললনার সাথে বৈঠক হয় তখন বুঝতে পারি মেয়েটা কেমন বোকা টাইপের। বিয়ের পর কি করবে, কোথায় হানিমুন, টানিমুন সেসব বলা শুরু করছিলো আর বোকার মতো হাসে তো হাসেই; থামার নাম নেই। সেসব অতীতগুলো চিন্তা করে বউ বস্তুর উপরে মনে ঘৃণা আসলো। দূর ছাই আমার মনের মতো মেয়ের জন্ম হয়নি বোধহয়। মা'কে বললাম ..
- তুমিও নিশ্চিত থাকো গো মা আমি বিয়ে করছিনা। নিয়ে যেতে পারো,সমস্যা নাই।দেখবো,খাবো, ঘুরবো।
মা আমার কথায় হাসলেন।তারপর বললেন..
- দূর গাধা। তুই অবিবাহিত থাকবি নাকি! পাগল ছেলে।ভালো মেয়ে পাওয়া আজকাল মুশকিল। এবার দেখিস তুই এই মেয়েকে তোর পছন্দ হবে।
মিতুকে দেখে আমার ভালো লেগে যায়। পরিবারের মানুষগুলোও আমাদেরকে বেশ আতিথেয়তা দিলো। বুঝা যাচ্ছিল পরিবারের জামাই আসছে প্রথম বেড়াতে। আমি মায়ের দিকে বার বার তাকালাম। আর যা বুঝলাম মায়ের সম্ভবত মনে হলো আমার পছন্দ হয়েছে।তাই বার বার চোখ দিয়ে ইশারা করে এগিয়ে যাওয়া যাক বুঝালেন। আমি হেসে না বুঝিয়ে মাথা নাড়ালাম। মা বুঝলেন আমি পার্সোনাল বৈঠকের ইন্ডিকেট করছি। মা মাথা নেড়ে আমার দৃষ্টিতে সায় দিলেন।আমি যা করি তা হচ্ছে, যখনই মেয়ে দেখতে আসি তখনই মেয়ের সাথে আলাদা করে কথা বলার সময় অনেক ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে প্রশ্ন করে বুঝার চেষ্টা করি মেয়েটা কতোটা মেধা ধারণ করে। মিতুকে প্রশ্ন করে তারপর আমি যা চিন্তা করতে থাকলাম তা হলো, এই মেয়ে কতোটা গর্দভের সীমা অতিক্রম করতে পারে। আগের অভিজ্ঞতা থেকে মনে মনে বললাম..  " এই মেয়েকে যদি বিয়ে করি তাহলে অন্যমেয়েগুলো কি দোষ করছিলো!"
মায়ের পাশে যাবার পর আমার মুখ কালো দেখে মা যা বুঝার বুঝে গিয়েছিলেন। চুপচাপ বাসায় আসার পর দুদিন আমার সাথে রাগ করে ঠিকমতো কথা বলেননি। আজব তো! ভালো না লাগলেও জোর করে ভালো লাগাতে হবে!
আমার কোনো মতামত না নিয়েই মিতুর সাথে তারো কিছুদিন পর বিয়ে প্রায় ঠিক করে চলে আসলেন।
আমি বললাম..
- একি করলে মা। এমন গর্দভ মেয়ের সাথে আমার মতামত না নিয়েই বিয়ে ঠিক করে আসলে?
মা মুখ বাঁকিয়ে বললেন..
- অনেক হয়েছে। আর না। আমি এই মেয়েটির মাঝে সাংসারিক সব বৈশিষ্ট্য পাইছি। তোকে না জানিয়ে আরো দুদিন আমি মেয়েটির সাথে দেখা করছি। এবার তোর কোনোকথা শুনবো না।
এ কেমন মানুষিক অত্যাচার!  মা হয়ে একটা গাধী টাইপের মেয়ের সাথে আমাকে ঝুলিয়ে দিচ্ছেন!
.
মিতু কফি খেয়ে পানি খেলো। আমি টিস্যু পেপার এগিয়ে দিলাম। আমার দিকে একটু অভিমানী দৃষ্টি দিয়ে তারপর টিস্যু পেপার দিয়ে মুখ মুছতে লাগলো। আমি বললাম..
- আমাকে কেন ডেকে আনলেন সেটার উত্তর না দিয়ে আমি বলি কি আমাকে বিয়ে করে কি হবে! দেখেন, আমি দেখতে ভালো না। আমার  ছোট একটা চাক...!
মিতু আমার কথা কেড়ে নিয়ে বলে..
- আপনি দেখতে কেমন সেটা নিয়ে কিছু বলেছি? 
- আমাকে বলতে দেন। আমার ছোট একটা চাকরী। বর্তমান যুগের মেয়ে আপনি।আপনার চাহিদার কি শেষ আছে! আপনার সকল চাহিদা পূরণে আমি ব্যর্থ  হবো তারপর কি করবেন, তারপর আমার সাথে ঝগড়া করবেন। কাজ কর্ম করবেন না।মায়ের সাথে শুরু করবেন ঝগড়া। ফলাফল সুখের সংসারে দেখা দিবে অশান্তির এক আসমান কালো মেঘ। আমি এতসব বলতাম না, বললাম এই অর্থে যে আপনার সব ঠিক আছে কিন্তু..!
.
মিতু এতক্ষণ মাথা নিচু করে মনোযোগ দিয়ে আমার কথা শুনে যাচ্ছিল। তারপর বললো..
- কিন্তু?
আমি একটু মৃদু হেসে নিয়ে তারপর বললাম..
- আপনার সব ঠিক আছে।তবে দু একদিক দিয়ে আপনি পিছিয়ে।সেগুলো হলো ,  আপনি খুব বাচাল। আমি জানি, যে মেয়ে বাচাল সে মেয়ে বেশি ঝগড়া করে। সুতরাং সংসার সুখের হবেনা। তারপর হলো আপনি বিয়ের আগে মোহনিয় স্বপ্ন দেখে ফেললেন আমাকে নিয়ে। দুঃখিত, আমি অংক মিলিয়ে দেখলাম যেসব মেয়ে বিয়ের আগে এতো বেশি মোহনিয় স্বপ্ন বুনে তারা অর্থসুখেই সুখ মনে করে। সুতরাং সেই ঘুরেফিরেই একই কথা সংসার সুখের হবেনা। আপনি কেন ডেকেছেন সেটার উত্তর প্রশ্ন করার আগেই দিয়ে দিলাম। হয়েছে তো? না হলে বলেন আপনার বক্তব্য!
.
মিতু মুখ বাঁকা করে  কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে চুপ হয়ে রইলো। তারপর বললো..
- আমি চলে যাবো। মা ছেলের মাঝে কতো পার্থক্য!  অবাক হলাম।
এইটুকু বলেই মিতু উঠে চলে গেলো। মিতুর চলে যাওয়া দেখতে থাকলাম। সম্ভবত খুব রেগে গিয়েছে। রাগুক আমার কি তাতে! এমন টাইপের মেয়েরাই সংসার ধবংসের রাণী। বড় বড় পা ফেলে যাচ্ছে।একসময় মিলিয়ে গেলো। মা ওইদিন বিয়ে ঠিক বলার পর রাতেই  মিতু ফোন দেয়।
- আমি প্রেম করার জন্য ফোন দেইনি। আমি সরাসরি বলে দিচ্ছি, আপনার সাথে আমার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে নিশ্চয় আপনি আপনার মা'র কাছে থেকে জেনেছেন! কথা হলো বিয়ের আগ পর্যন্ত কাল থেকে আমার সাথে প্রেম চালিয়ে যেতে হবে। শুনছেন?
- হু।
- যা বলছিলাম, প্রতিদিন নিয়ম করে ফোন দিবেন। রাত ১২ টা পর দিবেন না।আমি ঘুমিয়ে যাই, লাভ নেই। আপনি না ঘুমালে ঘুমাবেন। খুব সকালে উঠে ফোন দিবেন। অফিস থেকে ফিরে দেখা করবেন।আমি আসবো। যেদিন আসবো না, সেদিন বাসায় আসবেন।সমস্যা নাই, লজ্জা পাবেন না। মা বাবা সহজেই নিবেন ব্যাপারটা...!
.
আমি লাইন কেটে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।যা বুঝলাম যতদ্রুত সম্ভব বিয়ে ক্যানচেল করতে হবে। এরপরেরদিন মা'কে বিয়ে ক্যানচেল করার কথা বলবো কি মা'তো আরো এডভান্স। বলেন..
- মেয়েটার সাথে কথা হইছে? আর বিয়ের আগে ওঁর সাথে ঘুরেফিরে ফ্রি হয়েনে।তাহলে বুঝাপড়া ভালো হবে। মেয়েটি খুব লক্ষ্মী তাইনারে?
- হুম।সেইরকমের লক্ষ্মী মেয়েগো!
মায়ের কথায় বুঝেনিলাম মিতু ফোন দেওয়ার পিছনে মা'র ভূমিকা প্রচুর। আমি বিরক্তি নিয়েই মিতুর সাথে নিয়মিত দেখা করতে লাগলাম, ফোনে কথা বলতে থাকলাম।কয়েকবার  ওদের বাসায় গেলাম। বাসায় যেয়ে বুঝলাম মেয়েটা একা পাগল না। পাগলের মা,বাপ ও পাগল। আমাকে কেমন জামাই জামাই ডাকা শুরু হলো। অবশ্য এই পরিবারের মায়া মমতা বেশি। এই গুণের জন্য মিতুর  স্বামী যে হবে সে খুব ভাগ্যবানই হবে। পাগলি মেয়ের সাথে ভালোবাসা ফ্রি!
.
- তুই এটা ভালো করিস নি শুভ্র। তোকে না একবার বললাম মেয়েটা ভালো! কি রে মা'কে এতো অবিশ্বাস!  ঠকিয়ে দিবো? 
মিতুর সাথে কথা হবার পর বাসায় চলে আসলাম।এখন প্রায় রাত দশটা।রুমে বসে বসে গল্প লিখছিলাম।মা আমার পাশে এসে কথাগুলো বললেন। মায়ের কথাশুনামাত্র বুঝে গেলাম মিতু ইডিয়টটা আজকে যা হয়েছে মা'কে সব বলে দিয়েছে।
- আমি আর কিছু বলবো না। তুই যা বঝিস তাই কর। বেশি বুঝা ভালো না।
মা আবার বলে চলে গেলেন। বেশি বুঝলাম কই! একটা বাচাল উন্মাদ মেয়েকে বিয়া করার কি ঠেকাটাই পড়ছে! দেশি কি আর মেয়ে নাই! এই মেয়েকেই মা'র পছন্দ হলো। আর আমিও না! অনেক বেশি মিশামিশি করে ফেলেছি। ডেইলি ফোন দেওয়া,  দেখা করা।মাঝেমাঝে  ওদের বাসায় যাওয়া। এসব না করলে ব্যাপারটা এতোদূর আসতো না।
গতকাল মিতুদের বাসায় যেয়ে বলি.." আঙ্কেল আমি মিতুকে বিয়ে করছিনা।"
সবকিছু ঠিকঠাক তারপর আমাদের এমন মিশামিশি। সুতরাং আঙ্কেল বেশ অবাক হলেন। বললেন..
- মনমালিন্য হয়েছে? ঠিক হয়ে যাবে বাবাজি। তোমার আন্টির সাথে বিয়ের আগে আমার যে কতোবার মনমালিন্য হয়েছিল তার হিসাব নেই।একবার..!
পাগল পরিবারের কর্তার বাচলামি শুরু হইছে। জানি সহজে শেষ হবেনা। আমি কিছু বলতে যাব তখনই মিতু এসে বললো..
- আমি জানি আপনি এটাই বলবেন। আমি ফোন দিলে কেমন বিরক্ত হতেন।দেখা করতেও অস্বস্তিবোধ করতেন। আমি..!
এই বাচালকে থামিয়ে বললাম..
- তাহলে যখন বুঝেছেন  আঙ্কেলকে বুঝিয়ে বলে দিয়েন।
এই কথা বলেই গতকাল চলে আসি।
.
-আপনি আবার ভাবিয়েন না আপনাকে আমার ঘরে নেওয়ার জন্য নতুন করে ডেকেছি! 
কথাটা বলে মিতুর দিকে অনেক আগ্রহ নিয়েই তাকালাম।মিতু আশ্চর্য চোখে আমার দিকে তাকালো। গতকাল মা আমাকে ঝাড়ি দেওয়ার পর আজ মিতুকে ডেকে এনেছি।
- হুম। বলেন কি বলবেন? 
মিতু শুকনো উত্তর দিলো। বাহ!  মেয়েটি সিরিয়াস ও হতে পারে!  আগে ভাবতাম জাস্ট বাচাল, পাগলি।
- আপনাকে না করে দেওয়ায় আমার মা'কে কি বললেন মা আমার সাথে কথা বলেননা,রাগারাগি করেন। আপনাকে বিয়া করছিনা,  সিম্পল ব্যাপার। এই ব্যাপারকে কেনো জটিল করছেন। মায়ের সিমপ্যাথি পাবার জন্য? আপনি পারেনও বটে।
মিতু উঠে দাঁড়ালো।  আমিও উঠলাম। 
- শুনেন, আপনার মা আমায় একদিন বলেছিলেন আপনি কি আমায় বিয়ে করতে রাজি আসলেই, নাকি রাজি নয় ভালোভাবে বুঝে জানাতে।  আমি নিশ্চিত ছিলাম না এতোদিন। গতপরশু আমাদের বাসায় যাইয়া বাবাকে বললেন আমাকে বিয়ে করবেন না, তখনো নিশ্চিত ছিলাম না। আর গতকাল যখন আমার সাথে দেখা করে আরো একবার বললেন বিয়ে করবেন না, তখন আর দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি। আন্টিকে জানিয়ে দেই আমাকে বিয়ে করছেন না।
.
আমি কিছু বলবো তখন মিতু আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললো..
- আমি সিমপ্যাথি পাবার কোনো কাজ করিনি। বিয়ে ঠিক ছিল তাই আপনার সাথে একয়দিন ঘুরেছি,  ফোনে বিরক্ত করেছি। কয়েকদিন তো আমাদের বাসায় ও জোর করে আনিয়েছি। সেইজন্য আমি সরি। এখন সব শেষ তাই সিমপ্যাথি পাবার কিচ্ছু করার মানে নেই বলেই বাবা অন্যজায়গায় বিয়ে ঠিক করছেন।  আসি কেমন? ভালো থাকবেন।
.
ওরে বাপ! এই মেয়েকে আমি পাগলি, বোকা টাইপের ভাবছিলাম তো! বিশ্বাস করতে সমস্যা হচ্ছে। কি লেকচারটাই না দিলো। এই মেয়েকে আমি বিয়ে করবোনা বলে লাফালাফি করছি তো! সুতরাং দাঁড়ালো মিতু সুন্দরী,  প্রয়োজনে পাগলি,  প্রয়োজনে  বোকা এবং প্রয়োজনে বেশ চতুর সাবলীল। এই মেয়েকে ছাড়া যাবেনা। বিয়ে ঠিক হয়ে গেলেও সমস্যা নাই বিয়ে করে ফেলবো। দরকার হলে জোর করে।  আমি বললাম..
- আরে আসি বলছেন কেন! এতো তাড়া কিসের। বসুন।
মিতু আমার কথায় বসলো । তবে মুখ কালো করে অন্যদিকে ঘুরিয়ে রাখলো।
- আঙ্কেল আপনার বিয়ে ঠিকই করে ফেলেছেন!  এতো তাড়াহুড়া লাগলো কেন? দেখো দেখো কি কান্ড! আমার মত তো পরিবর্তন হতে পারতো।
- দরকার নাই আমার আপনার মত পরিবর্তনের। এরকম বাচাল, পাগলি মেয়েকে বিয়া করার দরকার নাই।আমি যেই আচরণ করিনা কেন, যেইভাবে কথা বলিনা কেন; আপনার সংসারে কলহ সৃষ্টি করে ফেলবো। সুখের সংসার করতে আপনার যোগ্য মেয়ে খুঁজেন।হু
.
.
- দেখছো মা কি জল্লাদ মেয়েকে তুমি তোমার বউমা করতে চেয়েছিলে।আজ আমাকে মুখের উপর না করে চলে গেলো। ভাগ্যিস আমি আগ্রহ দেখাইনি। না হলে এই মেয়ে আমাদের সংসারে এসে কি রাজনীতিটাই না করতো!
মা আমার কথাশুনে পাত্তাই দিলেন না। নিজের আপন মনে রান্না করতে লাগলেন। মিতু বিকালে চলে যায়। আমি কতকরে বললাম আমার ভুল হয়েছিলো শুনেইনি সে কথা।
আমি মায়ের পাশে যেয়ে আবার বললাম..
- সেদিন আমি ফিরিয়ে দিলেও আজ কিন্তু আমি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে বড় বড় কথা শুনিয়ে দেয়। এই মেয়ে যার ঘরে যাবে তার সংসার জ্বালিয়ে পুড়িয়ে....!
মা আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন..
- তুই যাবি এখান থেকে?
মুখ কালো করেই মায়ের পাশ থেকে চলে আসলাম। এখন আমি  সবার কাছে দোষী। কি কান্ড!
.
.
- আঙ্কেল আপনি ঠিকই বলছেন। আমাদের মনমালিন্য হয়েছিল। এখন ঠিক আছি।
.
গতকাল রাত থেকে অনেক ভাবতে ভাবতে আজ মিতুদের বাসায় চলে আসলাম। মা আমার কথায় পাত্তা না দেওয়াতে যা বুঝলাম আমাকেই যা করার করতে হবে।
- আমি জানতাম বাবাজি। তোমার মা সকালে ফোন দিয়ে বিয়ের কাজ এগুতে বলছেন।
বলেই পত্রিকায় মনোযোগ দিলেন মিতুর বাবা। বাব বাহ! মাতো দেখি সব ঠিকই করে দিছেন। গতকাল রাতেই কেমন ভণিতা করলেন। আমিতো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
.
মিতু ওঁর রুম থেকে বাঁকা বাঁকা দৃষ্টিতে তাকাতে লাগলো। মেয়ে তুমি কদিন আগেও কি ভালোবাসা দেখাতে ফোনে। এখন কেমন অহমিকা বাড়ছে! বুঝাবো। সব বুঝাবো। বিয়ের পর। মিতু আমার দিকে তাকিয়ে মুখটা ভালো করে বাঁকিয়ে দরজা লাগিয়ে নিলো। আমি মিতুর বাবার দিকে তাকালাম।  আবুলটা পত্রিকায় চোখের বক্র দৃষ্টি নিক্ষেপ করছেই তো করছে। এই ফ্যামিলির সবটাই পাগলা। মিতু বাদে। মিতুতো আমার বউ হবে। একটা ব্যাপার,  মানুষগুলো বড্ড ভালো।আমাকে  কেমন আপন করে নিলো। অবশ্য যার কাছ বেশি আপন হবো সেই দূরে এখনো রাখছে। তবে বউ হবার দেখার বিষয় কতটুকু দূরে রাখে। এমন ভালোবাসা দেখাবো না!  মেয়ে কতোদূরে রাখো দেখবো তখন।হু।
...................................

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ