গল্পঃ- (আয়না)
লিখাঃ- সেতু আহসান
রফিক সাহেব রাজউক এর ২য় শ্রেণীর কর্মকর্তা।
চাকরীর দীর্ঘতার হিসেবের সাথে চুল পেকেছে আর শরীরে এসেছে বয়সের ছাপ।
আর ২বছর পরেই অবসরে যাবেন।অফিসের বড় থেকে ছোট স্থরের সবাই যেখানে বেতনের বাইরে প্রতিনিয়ত মোটা অংকের টাকায় নিজের গাড়ি বাড়ি আর এ্যকাউন্ট ভর্তি করায় ব্যাস্ত,রফিক সাহেব তখন থেকে এখন পর্যন্ত সততার চাদর দিয়ে নিজেকে পরম মমতায় আগলে আছেন।
রফিক সাহেবের এক ছেলে এক মেয়ে।স্ত্রী সায়লা বেগম নিজের স্বামীর এমন অবস্থায় খুশি নেই।ছেলে মেয়েরাও বাবার এমন সততাকে এখন আর সহ্য করতে নাক সিটকায়।তাদের আর কি বা এমন দোষ!বাবার অফিসের পিয়ন যেখানে ধানমন্ডিতে বিশাল ফ্ল্যাট এর মালিক,সেখানে তাদের বাবা কিনা তাদেরকে রাখেন ৪হাজার টাকার ভাড়া বাসায়।বাবার জুনিয়র কর্মকর্তা ঘুষের টাকায় ব্রান্ড নিউ কার নিয়ে অফিসে যান।তাদের বাবা যায় বাসে ঝুলে ঝুলে।
শায়লা বেগমের বাবা ঢাকার নামকরা ব্যবসায়ী।বাবার কাছে সবসময় নিজের স্বামীর এহেন সততার জন্যে ছোট হয়ে থাকেন।রফিক সাহেবের সাথে খুব একটা কথা শায়লা বেগম বলেন না।ছেলে মেয়েরাও বাবা বলে কখন ডেকেছে তা রফিক সাহেব প্রায় ভুলেই গেছেন।
রফিক সাহেব আজ খুব সকালেই অফিসে এসেছেন।হাসি খুশিও খুব।মনটা আজ ভালো,কারণ তার ছেলে ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স পেয়েছে।পিয়নকে দিয়ে মিষ্টি আনিয়ে অফিসের সবাইকে খাওয়ালেন।
অফিসের সামনের ফুটপাত থেকে ৫৫টাকা দিয়ে একটা আয়না কিনলেন রফিক সাহেব।সেইভ করার জন্যে একটা আয়নার খুব দরকার ছিল।
বাসার সামনে আসতেই হাত থেকে পড়ে আয়নাটার মাঝখানে ৩টা ফাঁটল ধরল লম্বা করে।
যাহ মনটাই খারাপ হয়ে গেল।
বাসায় কেউ নেই।ছেলের চান্স পাওয়ার খুশিতে তার নানার বাড়িতে বিশাল পার্টি হচ্ছে।কিছুই রান্না হয়নি বাসায়।
মুড়ির বাক্সটা হাতে নিয়ে বেলকনির ইজি চেয়ারে বসলেন রফিক সাহেব।মুড়ি খেয়ে রাতের খাবার খাওয়ার ফাঁকে সাদা কসটেপ টা নিয়ে আয়নার ফাঁটল গুলোতে লাগাচ্ছেন এক এক করে।
রফিক সাহেব চোখ বড় করে তাকিয়ে আছেন আয়নার দিকে।
তাকিযে থাকার কারণ আয়নার মাঝে তার মেয়ের বয়সি এক মেয়ে হঠাত্ করেই ভেসে উঠেছে।
কথা বলছে না মেয়েটা!
অসম্ভব মায়াভরা চোখ দুটো দিয়ে জল গড়িয়ে পরছে!
রফিক সাহেব নিজের দৃষ্টিকে প্রথমে স্বপ্ন ভেবে ভুল করলেও এখন বুঝতে পারলেন এই দৃশ্যটা কাল্পনিক নয়।
রফিক সাহেব আয়নাটি পেপার দিয়ে মুড়িয়ে উনার টেবিলের ড্রয়ারে রেখে দিলেন।
রাত ১২টা বেজে ১৫মিনিট।
রফিক সাহেব চোখ বুজে আছেন,ঘুম কিছুতেই আসছেনা।ব্যাপারটা কিছুতেই মিলাতে পারছেন না।
ড্রয়ার থেকে আয়নাটি নিয়ে ইজি চেয়ারে বসলেন।
চোখের সামনে আনতেই মেয়েটি ভেসে এল।
এখন তার চোখে আর জল নেই।হাসছে মিট মিট করে।রফিক সাহেব ইশারায় কিছু জিঙ্গেস করার চেষ্টা করে ব্যার্থ হলেন।
অফিসে আসার সময় পেপার মুড়িয়ে আয়নাটি নিয়ে এসেছেন রফিক সাহেব।কাজের ফাকে একটু পর পর আয়নাটি বের করে মেয়েটির সাথে পরম মমতায় ইশারায় কথা বলছেন তিনি।
কেউ রুমে এলেই লুকিয়ে রাখেন আয়নাটি।
অফিস থেকে বের হবার আগে শেষবার আয়নাটি চোখের সামনে ধরলেন।
এ কি!
মেয়েটির মুখ বিষন্ন দেখাচ্ছে কেন!
মা তোমার কি হয়েছে?
ইশারায় জিঙ্গেস করলেন।
মেয়েটি হাত নাড়িয়ে রফিক সাহেবকে কিছু যেন নিষেধ করেই চোখ জলে ডুবালো।
বাসার কাছের গলিতে ঢুকতেই ৫জন ছেলে রফিক সাহেবের পথ আগলে ধরল।
কিছু বুঝে উঠার আগেই প্রচন্ড আঘাতে মাঠিতে লুটিয়ে পড়লেন।
চোখ মেলতেই নিজেকে হসপিটলের বেডে শায়িত দেখলেন রফিক সাহেব।পাশে স্ত্রী মেয়ে অথবা ছেলে কাউকেই দেখলেন না,একপাশে ডাক্তার আর নার্সের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন তার অফিসের সহকর্মি মিনহাজ সাহেবকে।
রফিক সাহেব হন্যে হয়ে আয়নাটি খুঁজছেন।
নড়া চড়া করতে নিষেধ করা সত্বেও।রফিক সাহেবের খুব ইচ্ছে করছে মেয়ে বলে ডাকা আয়নার ঐ মেয়েটি তাকে কি নিষেধ করতে চাইছিল ইশারা দিয়ে!
মিনহাজ সাহেব আয়নাটি ব্যাগ থেকে বের করে রফিক সাহেবের হাতে দিলেন।
মেয়েটি কাঁদছে!
রফিক সাহেব ইশারা দিয়ে জিঙ্গেস করলেন ও তখন কি নিষেধ করতে চাইছিল!
মেয়েটি চোখে জল নিয়ে কাঁটা আন্গুল দিয়ে আয়নায় লিখল-
"তোমার লাইফ ইনসুরেন্সের টাকার জন্যে তোমার ছেলে আবীর তাঁর বন্ধুদের নিয়ে তোমাকে খুন করতে......"
রফিক সাহেবের জানাযায় পরিবারের কেউ এসেছিল কিনা জানা যায়নি।
আয়নাটি হসপিটলের ডাস্টবিনে এখন।
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ