ক'মাস পর আমার বিয়ের ষোলো বছর পূর্ণ হবে। প্রায় বারো বছর দেশে শ্বাশুরীর সাথে ছিলাম।
প্রতি কোরবানে আমি কখনোই পেঁয়াজ কুটিনি, একটা পেঁয়াজ কুটতে গেলেই চোখ দিয়ে পানি পড়ে , এত্তো এত্তো কিভাবে কুটবো! শ্বাশুরী হাত থেকে কেড়ে নিয়েছেন প্রতিবার , তুই পারবিনা , এই বলে।
আমি এখনো অনেক রকম শ্বাক আছে কুটতে জানিনা। যেসবের ডাটা থেকে টেনে আঁশ বের করতে হয়। ছোট কচু, কচুর লতি, ছোট মাছ,ছোট চিংড়ি কিছুই আমাকে ধরতে দেয়নি শ্বাশুরী মা। এসব সময়সাপেক্ষ কাজগুলো থেকে রেহায় দিয়ে ,অন্যান্য কাজ তাড়াতাড়ি সেরে নিতে বলতেন ।
আমি এখনো চালের গুঁড়ার রুটি বানাতেও পারিনা। জা' শ্বাশুরী পারিনা দেখে তুলে দিতেন, সারাবছর রুটিপিটা সেঁকেছি শুধু।
উনি তার কাপড়ও আমাকে ধুতে দিতে চাইতেন না। বেশি কাড়াকাড়ি করলে বলতেন,
-দেখ তোরা প্রতিবার কাপড়ে সাবান দিস,জোরেজোরে ধুয়ে আমার কাপড়ের বারোটা বাজাবি ।
যদি বলতাম,
-সাবান দিবোনা,দেন।
তখন তার আসল কথা বের হতো।
-এখন আমার হাতে যথেষ্ট শক্তি আছে কাপড় ধোয়ার মতো। যখন বিছানায় পড়ে থাকবো, শক্তি থাকবেনা, তখন তো তোকেই ধুতে হবে।
কিন্তু আফসোস, আমি পাশে ছিলামনা! এখন তিনি অসুস্থ, ভালোভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। আমি দেশের বাইরে আসার পরই ,কাপড় ধুতে গিয়ে পড়ে যান।ঐ যে নিজের কাজ নিজে করবেন। অথচ তিনি নব্বই বছর বয়সী! আমার হাজব্যান্ড , তার ছোট ছেলে যেন নাতী সমান!
বিদেশে,এক ভাবী তো আমার মুখে শ্বাশুরীর সুনাম শুনে,উনার অসুস্থতায় আমার চোখের পানি পড়ছে দেখে অবাক হয়ে বলেন,
-শ্বাশুরী অসুস্থ খবর শুনে কাউকে কাঁদতে কখনো দেখিনি!
-আপনি কাঁদবেননা শ্বাশুরী অসুস্থ খবর পেলে! আপনার বিয়ে তো বাইশ বছর,শ্বাশুরীর অনেক সান্নিধ্য পেয়েছেন।
-কি জানি...!
ভাবীটার জবাব ছিলো।
অনেকে বউ শ্বাশুরীর ভালোবাসা যেমন দেখেননি, তেমনি আমি ঝগড়া বিবাদ অল্পই দেখেছি।
আমার দাদী ছিলো,আমার মা অন্ত প্রাণ। মা দাদীর অনেক সেবা করেছেন এবং দাদীর আগেই মারা গেছেন। দাদী তা যেন ঠিক মেনে নিতে পারেননি। মায়ের মৃত্যুর পর আমরা উনাকে দেখতে গেলে, উনি আমার মাকে খুঁজতেন সবখানে!
মা আমাদের কাছে থাকতে চাইতেন না,তার বিনা উপস্থিতিতে শ্বাশুরীর যদি ভালো মন্দ কিছু হয়ে যায়! নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন না তাই, অথচ তিনিই আগে মারা গেলেন!
তেমনি আমার শ্বাশুরীও নাকি তার শ্বাশুরীর অনেক যত্ন নিয়েছেন । এবং বলেন, সেই কারণেই তিনি ভালো পুত্রবধূ আর তাদের সেবা পাচ্ছেন।
আমার জা'ও ভালো শ্বাশুরী। বেয়াল্লিশ কেজি ওজনের প্রেগন্যান্ট ছেলে বউকে আদর করে খাওয়াতে খাওয়াতে সত্তর কিলো করেছিলেন!
বউরা তার কাছে মেয়ের মতোই মর্যাদা পায়।
আমি জানি, এবার দেশে গেলে, আমার শ্বাশুরী ঠিকই আগের মতো হাত থেকে কাজ কেড়ে নিতে চাইবেন । সবাই শুধু শ্বাশুরীর বদনাম করে। আমার শ্বাশুরী, মা, জা'য়ের মতো শ্বাশুরী কি কারোই নেই!
by- বহ্নি শিখা
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ